এনসিপি ছাড়া জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে বিএনপি-জামায়াতসহ ২৫টি দল
‘যেসব বিষয়ে দলগুলো একমত হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হওয়া দরকার এবং আমি আশাবাদী যে তা হবে। না হলে এখনকার পোস্ট-আপরাইজিং সময়ে দলগুলো একে অপরের বিপক্ষে অবস্থান নেবে’
– অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাবি
‘প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের ভিন্ন ভিন্ন গঠনতন্ত্র ও মতাদর্শ রয়েছে। সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে একবিন্দুতে আনার এনসিপি’র ব্যর্থ চেষ্টাই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বড় অন্তরায়’
– শামসুর রহমান, সাংবাদিক-কলামিস্ট ও বিশ্লেষক
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। এরপর থেকেই জুলাই সনদের বাস্তায়ন নিয়ে সরকারের ভেতর-বাইরে ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। জুলাই সনদ প্রণয়নে গঠন করা হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। ইতোমধ্যেই এ নিয়ে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেছে ৩০টি দল ও জোট। গত ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভভনের দক্ষিণ প্লাজায় অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়। ওই সনদের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাক্ষরও করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ওই দিন ওই সনদে স্বাক্ষর করেছিলো বিএনপি-জামায়াতসহ সমমনা ২৫টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। তবে সেখানে স্বাক্ষর করেনি শেখ হাসিনার সরকার পতন আন্দোলনের মূল কারিগর হিসেবে পরিচিত তরুণদের নিয়ে নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এখনও নানা গুঞ্জন চলছে। সেই রেশ এখনও কাটেনি। বরং নানা জটিলতার মধ্যে ঘোরপাক খাচ্ছে জুলাই সনদের আইনিভিত্তি এবং তার বাস্তবায়ন কিসের ভিত্তিতে হবে তা নিয়ে। বিষয়গুলো এনসিপির নেতারাও বুঝতে পারছেন। তাদের শঙ্কাও রয়েছে লোক দেখানো জুলাই সনদ নিয়ে ভবিষ্যতে তেমন কোনো সুফল না আসতে পারে। বিষয়টি অনেকটা অন্ধকারে ঢিল ছুঁড়ে স্থিরলক্ষ্য ঠিক করার মতো অবস্থা। যে কারণে অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলছেন জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলো যেসব বিষয়ে একমত হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা খুবই জরুরি, তা না হলে দলগুলো মুখোমুখি অবস্থানে চলে যেতে পারে। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগও নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদের মতে, যেসব বিষয়ে দলগুলো একমত হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হওয়া দরকার এবং আমি আশাবাদী যে তা হবে। না হলে এখনকার পোস্ট-আপরাইজিং সময়ে দলগুলো একে অপরের বিপক্ষে অবস্থান নেবে। বিশিষ্ট সাংবাদিক-কলামিস্ট ও বিশ্লেষক শামসুর রহমানও এমনটিই বলছেন। তার মতে, প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের ভিন্ন ভিন্ন গঠনতন্ত্র ও মতাদর্শ রয়েছে। সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে একবিন্দুতে আনার এনসিপি’র ব্যর্থ চেষ্টাই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বড় অন্তরায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৈষম্য দূরীকরণে কোটা সংস্কার ইস্যুতে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে আন্দোলনে নামে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জোরদার হয় আন্দোলনের গতি। সেই আন্দোলন দমাতে মরিয়া হয়ে ওঠে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মদদপুষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। রাজপথের আন্দোলন নিবৃত্ত করতে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে চালানো হয় গুলি-টিয়ারশেল আর বেধড়ক লাঠিচার্জ। সে সময় গণগ্রেপ্তারও ছিল নজিরবিহীন। একপর্যায়ে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিনই দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলের পতন ঘটে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় শরীক জোট সরকারের। জনরোষের ভয়ে দেশে-বিদেশে আত্মগোপনে চলে যান শেখ হাসিনার আজ্ঞাবহ মন্ত্রী-এমপি, সরকারি আমলা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মাঠ পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা। এরপর গত বছরের ৮ আগস্ট গঠন করা হয় অন্তর্বর্তী সরকার। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আলোচনায় আসে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে। মূলত, বহুল আলোচিত জুলাই সনদের পটভূমি তৈরি হয়েছে ২০২৪ সালের ‘লাল জুলাই’ এবং তার আগের নানা শ্রেণি-পেশার অসংখ্য আন্দোলন-আকাক্সক্ষায়। গত বছরের ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেরোবি’র শিক্ষার্থী আবু সাঈদ শহীদের পরই দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে শেখ হাসিনার সরকার পতনের আন্দোলন। আন্দোলকারীদের ভাষায় ৩৬ জুলাই নিপীড়িত সরকার হটিয়ে নতুন বাংলাদেশের সূচনা হলো। সেই ক্ষুরধার আন্দোলনে সহস্রাধিক শহীদের আত্মদান যে পরিবর্তন ঘটিয়েছে, যাকে শহীদদের জীবিত সহযোদ্ধারা বলেছেন, ‘বৈষম্যবিরোধী’ গণঅভ্যুত্থান, সেটিই ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবরের স্বাক্ষরানুষ্ঠানের নৈতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি।
জুলাই সনদের ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ বা কার্যপরিধি অবশ্যই ২০২৪ ও তার আগের গণ-আন্দোলনগুলোর মূল চাওয়াগুলো। যে চাওয়া একটি শব্দের ভেতর ঘনীভূত করে রেখে গেছে শহীদদের কাফেলা, সেই শব্দ হলো ‘বৈষম্য’।
বর্তমান অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারের নৈতিক ও নীতিগত কোনো বাধ্যবাধকতা যদি থাকে, তাহলে সেটি অবশ্যই এ-ই যে তাকে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাতে পদক্ষেপ নিতেই হবে। জুলাই সনদকেও কেবল সে আলোকেই দেখতে হবে। সংগত কারণে, কথিত সভ্যতা-অসভ্যতার মানদণ্ড হতে হবে ‘বৈষম্য’। জনগণের সম্মিলিত যৌথ সাধারণ ইচ্ছার আলোকে অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকার যে সর্বতোভাবে একটি বৈধ সরকার, সেটি বহুবার বহুজন বলেছেন এবং সেটিই সত্য। তবে এটা একই সঙ্গে কোনো স্বাভাবিক সরকার নয়। এ সরকারের কাঁধে শহীদদের আকাক্সক্ষা পূরণের আবশ্যক দায় রয়েছে। সরকারের অন্য যাবতীয় ম্যান্ডেটের (বিচার ও নির্বাচন) চেয়েও বৈষম্যের প্রশ্নটি সে কারণেই অগ্রাধিকারমূলক কর্তব্য। ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত হওয়া সনদ সেই অগ্রাধিকারমূলক দায়েরই ফসল। সেভাবেই কেবল এটা ‘ঐতিহাসিক’। কিন্তু সেখানে ‘জুলাই’ এর চাওয়া কতটা ঠাঁই পেয়েছে? এ নিয়েও দেশের সাধারণ জনগণসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছেই। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের কেন্দ্রীয় আকাক্সক্ষা যদি হয় সমাজ ও রাষ্ট্রের সব স্তর থেকে বৈষম্য দূর করা, তাহলে প্রথমেই প্রশ্ন ওঠে বাংলাদেশে সবচেয়ে বৈষম্যপীড়িত জনগোষ্ঠী কারা? এ রকম তালিকার সিরিয়াল বা ক্রম নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে; কিন্তু এটা বোধ হয় সবাই মানবেন- শ্রমিক, চাষি, দলিত, ছোট ছোট জাতিগোষ্ঠীর মানুষ, ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং বিশেষভাবে নারী সমাজ এ দেশে বৈষম্যের শিকার বেশি। কোনো কোনো কৃষক, কোনো কোনো নারী বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কেউ কেউ আর্থিকভাবে ভালো আছেন; কিন্তু এ রকম সব জনগোষ্ঠী সাধারণভাবে সমাজের মূলধারা থেকে পিছিয়ে আছেন; সম্প্রদায়গতভাবে অসম অবস্থার বা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তারাই।

গত ১৭ অক্টোবর বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে, যা আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও সমৃদ্ধির পথে জাতিকে এগিয়ে নেবে এবং গত ১৬ বছরের নৃশংসতার অবসান ঘটাবে। তিনি বলেন, আজ আমাদের নতুন জন্মের দিন। এই স্বাক্ষরের মধ্য দিয়েই আমরা নতুন বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করছি। সকল মতভেদ ভুলে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে সনদের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই পরিবর্তন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।
সেদিন ড. ইউনূস বলেছিলেন, আমাদের জাতীয় জীবনে পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের সংবিধান ও সরকার পরিচালনার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি বলেন, যে তরুণরা এই পরিবর্তনের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে, তারাই নতুন করে দেশকে গড়ে তুলবে। তরুণরাই আমাদের পথ দেখাবে, উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটি তরুণদের। ১৮ কোটি জনসংখ্যার অর্ধেকই ২৭ বছরের নিচে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্যও এক উদাহরণ স্থাপন করেছে। তিনি বলেন, অনেক দেশ আমাদের কাছে জানতে আসবে, কিভাবে আমরা গোটা জাতিকে সম্পৃক্ত করে জুলাই সনদ স্বাক্ষর সম্ভব করেছি। অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চেয়ারম্যান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, কমিশনের সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা একযোগে সনদে স্বাক্ষর করেন।
জানা যায়, জুলাই সনদ প্রণয়নে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেছে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোট। এর মধ্যে ২৫টি দল সনদে স্বাক্ষর করেছে। তবে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত অনেক দল আলোচনায় অংশ নেয়ার সুযোগ পায়নি। পরবর্তীতে গণফোরাম স্বাক্ষর করলেও সরকার পতন আন্দোলনের মূল ভূমিকায় থাকা বহুল আলোচিত তরুণ নেতৃত্ব দিয়ে নবগঠিত রাজনৈতিক দল গড়া এনসিপি এখনও সেই সনদে স্বাক্ষর করেনি। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সনদটি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে? যদিও আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই জুলাই সনদে স্বাক্ষর শেষে চূড়ান্ত পর্যায়ে পরিপত্র জারি করার সিদ্ধান্ত রয়েছে সরকারের। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এখনও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ঐকমত্য কমিশন।
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বলছে, জুলাই সনদে তাদের যৌক্তিক দাবি পূরণ ও আইনি ভিত্তি না থাকলে সনদে স্বাক্ষর করবে না দলটির নেতৃবৃন্দ।
বিশিষ্ট সাংবাদিক-কলামিস্ট ও বিশ্লেষক শামসুর রহমান বলছেন, প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের ভিন্ন ভিন্ন গঠনতন্ত্র ও মতাদর্শ রয়েছে। তাদের গঠনতন্ত্র ও মতাদর্শকে উপেক্ষা করে এনসিপি সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে একবিন্দুতে আনার ব্যর্থ চেষ্টাই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ মোহাম্মদ সাহান বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, কিংবা এখানে থাকা নোট অব ডিসেন্টগুলোর সমাধান কীভাবে হবে, এই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা এখনো কোনো মতৈক্যে পৌঁছাতে পারিনি। এটি আমার কাছে কোনো ঐক্যের প্রতীক মনে হচ্ছে না। বরং যদি আমরা দ্রুত মতৈক্যে না পৌঁছাই, তাহলে এখানে ভাঙাগড়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। তিনি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত দেখছি, জামায়াতে ইসলামী বলছে তাদের দাবিগুলো না মানা হলে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করবে। এই অবস্থান কতদূর পর্যন্ত তারা নেবে, সেটি জামায়াতের সিদ্ধান্ত। তবে যদি তারা ব্যাকট্র্যাক করতে দেরি করে ফেলে, তাহলে তা নতুন এক অস্থিরতার সম্ভাবনা তৈরি করবে। আর আমরা জানি, আগের সরকারের বিভিন্ন ইন্টারেস্ট গ্রুপ তখন এর সুযোগ নিতে পারে।
ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, যেসব বিষয়ে দলগুলো একমত হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হওয়া জরুরি দরকার এবং আমি আশাবাদী যে তা হবে। তহা না হলে এখনকার পোস্ট-আপরাইজিং সময়ে দলগুলো একে অপরের বিপক্ষে অবস্থান নেবে। তিনি আরও বলেন, এখানে দুটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ, একটি হলো- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঠিকভাবে মোতায়েন, অন্যটি হলো- প্রশাসনের যথাযথ পুনর্বিন্যাস। নির্বাচনের প্রস্তুতি সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা, নির্বাচনের দিন সবাই দায়িত্ব পালন করবে কিনা, এ বিষয়ে সরকারের একটি স্পষ্ট কাঠামো থাকা উচিত। এছাড়া আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত না নিলে নির্বাচনে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থানও পরিষ্কার করতে হবে। তবে দলগুলোর বর্তমান অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
এমআর/সবা
























