টানা ছুটিতে ভরপুর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন, শুক্রবার, শনিবার ও থার্টি ফার্স্ট নাইট ঘিরে দেশের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল নেমেছে। স্কুল কলেজ বন্ধ, শীত মৌসুমের শুরু, টানা ছুটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লাখো পর্যটক ছুটে আসছেন এই পর্যটন নগরীতে। পর্যটকের আগমনে কক্সবাজার শহরজুড়ে ফিরেছে চেনা প্রাণচাঞ্চল্য ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
সেন্টমার্টিনে ট্রাভেল পাস নিয়ে যাওয়া আসা ও থাকার সুযোগ থাকাই পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ সেন্টমার্টিনঘিরে। লোকে লোকারণ্য রামুর ঐতিহাসিক রামকোট ও বৌদ্ধ মন্দিরে। মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির ও সোনাদিয়া দ্বীপে দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে। হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউসগুলোতে বেড়েছে ব্যস্ততা। অধিকাংশ মানসম্মত হোটেলের কক্ষ প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে। অগ্রিম বুকিং ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত কক্ষ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। সৈকত এলাকা, হোটেল জোন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রে সতর্কতা মেনে চলার জন্য পর্যটকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কক্সবাজার রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সৈকত, হোটেল জোন, পর্যটন স্পট ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো পর্যটক হয়রানির শিকার হলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করছি। তার টিম নিয়মিত টহল জোরদার রেখেছে। তিনি আরও বলেন, পর্যটন নগরীর সুনাম রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। পর্যটকরা নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে সময় কাটাতে পারবেন এটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
কক্সবাজার হোটেল মোটেল ও গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, এ বছর শীত মৌসুমের শুরুতেই পর্যটকের সংখ্যা আশাব্যঞ্জক। প্রায় সব ক্যাটাগরির হোটেলেই ভালো বুকিং রয়েছে। দীর্ঘদিন পর পর্যটন খাতে আবারও প্রাণ ফিরে এসেছে।
হোটেল মোটেল অফিসার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, পর্যটকদের মানসম্মত সেবা দিয়ে যাচ্ছি। সকল পর্যটকদের সার্বিক সহযোগিতা করছি।
পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটকের আগমনে রেস্তোরাঁ, শপিংমল, পর্যটনপণ্য বিক্রয়কেন্দ্র, যানবাহন ও বিনোদনমূলক ব্যবসায় চাঙ্গাভাব ফিরে এসেছে। এতে করে স্থানীয় অর্থনীতি সচল হচ্ছে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান টিকে থাকছে।
তবে পর্যটকের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজট, অতিরিক্ত ভিড় ও পরিবেশ দূষণ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের মতে, পর্যটক, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই কক্সবাজারের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব। সব মিলিয়ে পর্যটকের ঢলে কক্সবাজার এখন আবারও দেশের অন্যতম প্রধান বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। নীল সমুদ্র, বালুকাবেলা আর মানুষের আনন্দঘন উপস্থিতিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজার যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
শু/সবা

























