`মনের ভাষা, জনের ভাষা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পাহাড়ে শিল্প-সাহিত্যের চর্চা জোরদারের প্রত্যয় নিয়ে খাগড়াছড়িতে উদযাপিত হয়েছে আরণ্যক বাচিকশিল্প চর্চাকেন্দ্রের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) জেলা শহরের মিলনপুরস্থ হোটেল গাইরিংয়ে দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা, আবৃত্তি, কবির কণ্ঠে কবিতা পাঠ, কথামালা ও গুণীজন সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি প্রাপ্তির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে নতুন প্রজন্মকে সাহিত্য-সংস্কৃতিচর্চায় এগিয়ে আসতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, শিল্প-সাহিত্য চর্চা সমাজকে প্রগতিশীলতার পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক এবং তরুণদের মানবিক ও দায়বদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখে।
সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কবি ও সাহিত্যজন হাফিজ রশিদ খান। অতিথি কথক ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম রাইটার্স ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি কবি অংসুই মারমা এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাচিকশিল্পী ফারুক তাহের।
আরণ্যক বাচিকশিল্প চর্চাকেন্দ্রের পরিচালক (প্রচার ও যোগাযোগ) তপু ত্রিপুরার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদকপ্রাপ্ত কবি, লেখক ও ভাষা গবেষক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা। স্বাগত বক্তব্য দেন আরণ্যক বাচিক শিল্প চর্চাকেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ও কবি চিংলামং চৌধুরী।
স্বাগত বক্তব্যে চিংলামং চৌধুরী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বহুভাষিক ও বহুজাতিক বাস্তবতায় শব্দ কেবল উচ্চারণ নয়, পরিচয়েরও বাহক। ভাষা সংরক্ষণ, শুদ্ধ উচ্চারণ চর্চা ও সাহিত্যবোধ জাগ্রত করার পাশাপাশি প্রজন্মের মধ্যে সেতুবন্ধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাচিকশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি জানান, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালে দীর্ঘমেয়াদি আবৃত্তি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে সংগঠনটি। প্রতিষ্ঠালগ্নে মারমা উন্নয়ন সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটি ও মারমা যুব কল্যাণ সংসদের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে আমন্ত্রিত কবি-সাহিত্যিকদের উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করা হয় এবং প্রধান অতিথির হাতে বিশিষ্ট সাহিত্যজন শান্তিলাল দেওয়ান, আর্য্যমিত্র চাকমা ও হাফিজ রশিদ খানের সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে শুদ্ধ উচ্চারণ, সাহিত্যচর্চা ও মানবিক বোধ জাগ্রত করতে ভবিষ্যতেও ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
শু/সবা
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: 
























