জামালপুরের ইসলামপুর পৌরসভার টংগের আগলা গ্রামের পিতৃহারা মেরী আক্তার নামে এক তরুণীর ৩৬ শতাংশ জমি জোরপূর্বক কবরস্থানের নাম করে নামমাত্র মূল্য দিয়ে লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এলাকার কতিপয় ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী তরুণী মোছা. মেরী আক্তার জানান, বিবাদমান ৩৬ শতাংশ জমির এক-তৃতীয়াংশ তিনি পৈতৃকসূত্রে পেয়েছেন এবং বাকি দুই-তৃতীয়াংশ তাঁর জেঠাতো ভাই ও বোনদের নিকট হতে বর্গা নিয়ে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে চাষাবাদ ও কলা বাগান করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। জমির দলিল,নামজারি সহ যাবতীয় বৈধ কাগজপত্র এবং আদালতের ডিক্রি তাঁর কাছে থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি এলাকার কিছু অসাধু দালাল ও চাঁদাবাজ চক্র গোরস্থান স্থাপনের কথা বলে এলাকার লোকদেরকে বোকা বানিয়ে সুকৌশলে অর্থ সংগ্রহ করছে এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে নামমাত্র মূল্যে উক্ত জমি লিখে দেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। বিশেষ করে সম্প্রতি সরকার পরিবর্তনের পর দেশের বিরাজমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র নাম ভাঙিয়ে অভিযুক্তরা তাঁর কলা বাগানের দেড়শ গাছ কেটে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি করছেন।
মামলা সূত্রে ও ভুক্তভোগী তরুণী অভিযোগে জানা যায়, একই এলাকার মান্নান পিতাঃ মৃত শাহ আলম, রুকন পিতাঃ মো. আবুল হাসেম খোকা, জিয়াউল পিতাঃ মৃত খলিল, হযরত আলী পিতাঃ মৃত জসো, ইদ্রিস আলী পিতাঃ মৃত জস, শাজাহান পিতাঃ মৃত রাজা, আসাদ পিতাঃ মৃত জলিল,খাইরুল ইসলাম পিতাঃ মৃত সফিজ উদ্দিন,নুরুল ইসলাম চুন্নু পিতাঃ মৃত সফিজ উদ্দিন, বানেছা স্বামীঃ খাইরুল ইসলাম, সুরমা স্বামীঃ মৃত কবির, রিফাত পিতাঃ সাইদ ও বীরবল পিতা দুলু সহ আরও অনেকই উল্লেখিত ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে।
ইতিপূর্বে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে কাগজপত্র যাচাই করে বিবাদীদের জমিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিলেও বর্তমানে চক্রটি পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী তরুণী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং তাঁর জীবন হুমকির মুখে রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভুক্তভোগী তরুণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় মেরী আক্তার ইসলামপুর সি আর আমলী আদালতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ এর ৩৬ নং আইনের ৪(২)/৭(৩) ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। যার সি আর মোকদ্দমা নং ৯২(১)২০২৬।
শু/মবা


















