প্রতি বছরের মতো চলতি শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই লেক-এর পানির স্তর অনেক কমে গেছে। ফলে কাপ্তাইয়ের পাঁচটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে পানি ছাড়া হচ্ছে না। এর প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসার মোহরা ও মদুনাঘাট পানি শোধনাগারের পানিতে। হালদা নদী থেকে উত্তোলিত পানিতে লবণাক্ততা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, নদীর পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় মোহরা ও মদুনাঘাট পানি শোধনাগারে প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পানি উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এর ফলে নগরীতে পানির উৎপাদন ও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
ওয়াসার এক নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, কাপ্তাই লেকের পানির স্তর কমে যাওয়ায় কর্ণফুলী নদী ও হালদা নদীর সংযোগস্থল থেকে যখন পানি উত্তোলন করা হয়, তখন সেখানে লবণাক্ততার মাত্রা বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
৯ কোটি লিটার উৎপাদন ক্ষমতার মোহরা পানি শোধনাগারে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি লিটার পানি উৎপাদন কমে গেছে। একইভাবে ৯ কোটি লিটার সক্ষমতার মদুনাঘাট পানি শোধনাগারেও প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি লিটার পানি কম উৎপাদন হচ্ছে।
এছাড়া রাঙ্গুনিয়ার পোমরায় অবস্থিত কর্ণফুলী পানি শোধনাগারের দুটি ইউনিটের মোট ২৮ কোটি লিটার উৎপাদন ক্ষমতার বিপরীতে বর্তমানে ২৪ থেকে ২৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদন হচ্ছে। সব মিলিয়ে ওয়াসার দৈনিক উৎপাদন ৫ থেকে ৬ কোটি লিটার কমে গেছে।
এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম ওয়াসা নগরবাসীকে সতর্ক করে পত্রিকায় জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে মোহরা ও মদুনাঘাট পানি শোধনাগারে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা পানি উত্তোলন বন্ধ থাকায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রেশনিং পদ্ধতিতে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কাপ্তাই লেকের পানির স্তর কমে গেছে। এর ফলে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিটগুলো বন্ধ রয়েছে এবং সেখান থেকে হালদা নদীতে পানি সরবরাহও বন্ধ রয়েছে। এতে কর্ণফুলীর উজান থেকে লবণাক্ত পানি হালদা নদীতে প্রবেশ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত হালদা ও কর্ণফুলী নদীর পানির লবণাক্ততা কমার সম্ভাবনা নেই।
শু/সবা
চট্টগ্রাম ব্যুরো: 
























