প্রয়োজনীয় মালামালের সংকটে পড়েছে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা। ফলে ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত কোচ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে পশ্চিমাঞ্চল রেলে ঈদে বাড়তি যাত্রী পরিবহনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এ বছর কারখানাটিতে ১০০টি কোচ মেরামতের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ৮০টি কোচ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী ও লালমনিরহাট ট্রাফিক বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। অথচ গত বছর একই সময়ে ১৬৭টি কোচ মেরামত করা হয়েছিল।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানিতে বিঘ্ন ঘটায় অতিরিক্ত কোচ মেরামতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে সংকটের মধ্যেও সীমিত মালামাল দিয়ে ১০০টি কোচ মেরামতের কাজ চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে ৫৫টি ব্রডগেজ এবং ৪৫টি মিটারগেজ লাইনের কোচ।
আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে সব কোচ রেলওয়ের ট্রাফিক বিভাগে হস্তান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কারখানার ক্যারেজ, বগি, ক্যারেজ কনস্ট্রাকশন, ক্যারেজ হেভি রিপেয়ারিং এবং পেইন্ট শপে চলছে কোচ সচল করার কাজ। এসব শপে কোচের জরাজীর্ণ কাঠামো পরিবর্তন, চাকার ট্রলি মেরামত, আসন বিন্যাস, অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও রং করার কাজ চলছে।
প্রস্তুত কোচগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে ৮০টি কোচ রেলওয়ের পাকশী ও লালমনিরহাট ট্রাফিক বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি কোচ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই হস্তান্তর করা হবে।
কারখানার শিডিউল শপের ইনচার্জ প্রকৌশলী রুহুল আমিন বলেন, ঈদযাত্রায় প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনে কোচের সংখ্যা বাড়ানোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কাঁচামালের সংকট থাকলেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নূর মোহাম্মদ জানান, আমদানিনির্ভর কাঁচামালের সংকটের কারণে এবার কোচ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ১০০টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। নতুন ও পুরোনো কোচের মালামাল ব্যবহার করে কোচ সচল করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত-এর কারণে পাইপলাইনে থাকা কাঁচামালের আমদানি আটকে রয়েছে। ফলে মালামালের অভাবে কোচ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা কমাতে হয়েছে। ঈদে আন্তঃনগর ট্রেনে কোচের ঘাটতি কিছুটা পূরণ করা গেলেও অতিরিক্ত কোচ সরবরাহ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শু/সবা
রংপুর ব্যুরো: 
























