2:37 pm, Saturday, 2 May 2026

রংপুরে ১০০ শয্যার শিশু হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা সাত বছরেও চালু হয়নি

নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার আসে, সরকার যায়। রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রতিশ্রুতির ঘাটতি না থাকলেও, দীর্ঘদিন ধরে রংপুরবাসী উন্নয়নের বৈষম্যের ফাঁদ থেকে মুক্তি পাচ্ছে না। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে রংপুরে সাধারণ মানুষ পাক বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। চব্বিশের ছাত্র জনতার আন্দোলনে দেশের প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে রংপুরের মানুষ রক্ত দিতে দ্বিধা বোধ করেনি।

কিন্তু সেই রংপুরের সুসম্মত উন্নয়নে আজও কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকার এগিয়ে আসেনি। দীর্ঘ আন্দোলনের পর রংপুরে ১০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও, সাত বছরেও সেখানে পূর্ণাঙ্গ সেবা কার্যক্রম শুরু হয়নি। জনমনে প্রশ্ন উঠছে, এটি কি বৈষম্য নাকি রংপুরের প্রতি অবহেলা? বর্তমানে রংপুর শিশু হাসপাতাল এখনো অচলাবস্থায়।

পতিত হাসিনা সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আড়াই বছর আগে ফিতা কেটে হাসপাতালের দ্বার উন্মুক্ত করেছেন ঠিকই, কিন্তু সেবার দ্বার এখনো খোলা হয়নি। কবে খোলা হবে, কে দেখাবে পথ—এমন প্রশ্ন রংপুরের মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে। দীর্ঘসময় ধরে অব্যবহৃত থাকার কারণে হাসপাতালটির দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামোতে এখন ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। এছাড়া, দীর্ঘদিন অযত্ন ও অবহেলায় বাড়ির অন্যান্য সামগ্রীও ক্রমান্বয়ে নষ্ট হচ্ছে।

বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে সীমিত পরিসরে শিশু বহির্বিভাগের কার্যক্রম চালু রয়েছে। তবে সেখানে রোগী বা স্বজনদের আনাগোনা তেমন নেই। শিশুদের জন্য নির্মিত খেলাধুলার রাইডগুলো দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত, ধুলো-ময়লায় ঢাকা। সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। রংপুর বিভাগের প্রায় দুই কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবার এই প্রতিষ্ঠানটি আস্থাহীনতায় ভুগছে।

বিশেষ করে হাসপাতালটিতে জনবল সংকট থাকায় শিশু বিভাগে চাহিদামতো বিশেষজ্ঞদের দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে রংপুরে পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল নির্মাণের দাবিতে আন্দোলন হয়েছে। বর্তমান সরকার ১০০ শয্যাবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করেছে। কিন্তু সাত বছরেও চিকিৎসাসেবা শুরু না হওয়ায় সাধারণ মানুষ হতাশ।

রংপুরের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সাবেক সদর হাসপাতালের ১.৭৮ একর জমির মধ্যে শিশু হাসপাতাল নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর। ৩১ কোটি ৪৮ লক্ষ ৯২ হাজার ৮০৯ টাকার কাজটি করেছে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মল্লিক এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স অণিক ট্রেডিং কর্পোরেশন। ভবন নির্মাণের জন্য দুই বছরের সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও নির্ধারিত সময়ের আড়াই মাস আগে কাজ শেষ হয়।

তিনতলা মূল হাসপাতাল ভবনের প্রতি তলার আয়তন ২০,৮৮২.৯৭ বর্গফুট। এছাড়া নির্মাণ করা হয়েছে চারতলা ভিত্তির তিনতলা সুপারিনটেনডেন্ট কোয়ার্টার, সিঁড়ি বাদে প্রতি তলার আয়তন ১,৫০০ বর্গফুট। ছয়তলা ডক্টরস কোয়ার্টারের নিচতলায় গাড়ি পার্কিং, দ্বিতীয় তলা থেকে ডাবল ইউনিট। এছাড়া রয়েছে ছয়তলা বিশিষ্ট স্টাফ অ্যান্ড নার্স কোয়ার্টার। দুটি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। বিদ্যুৎ সাবস্টেশন স্থাপনের জন্যও ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

মূল ভবনের প্রথম তলায় ইমার্জেন্সি, আউটডোর, চিকিৎসকদের চেম্বার এবং ল্যাব। দ্বিতীয় তলায় অপারেশন থিয়েটার, ব্রোন ইউনিট এবং তৃতীয় তলায় ওয়ার্ড ও কেবিন। নবনির্মিত হাসপাতাল ভবন আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা সিভিল সার্জনকে ২০২০ সালের ৮ মার্চ হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু ওই বছর করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে ভবনটি ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এখন সেখানে করোনা রোগী নেই।

হাসপাতালটি চালু হলে শিশুদের জটিল সার্জারিসহ সাধারণ সব রোগের চিকিৎসা স্বল্পমূল্যে দেওয়া সম্ভব হবে। মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন, বহু বছর ধরে শিশু হাসপাতাল নির্মাণের জন্য আন্দোলন হয়েছে। তবে হস্তান্তরের পর থেকে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু হয়নি, লোকবলও নিয়োগ পাওয়া যায়নি। এটি স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যর্থতা।

নগরবাসী জানান, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হাসপাতাল চালু করতে পারেনি। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবা খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছেন। সরকারি পরিত্যক্ত ভবনগুলো ব্যবহার উপযোগী করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র করার চিন্তাভাবনা করছেন। অথচ নতুন বিশেষায়িত হাসপাতাল দীর্ঘ বছর ধরে জনবলের অভাবে পড়ে আছে।

রংপুরের শিশুদের জন্য এটি অতীব জরুরি। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু চিকিৎসক ডা. মো. মাহফুজার রহমান বাঁধন বলেন, রমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগ দিয়ে এ অঞ্চলের সব শিশুর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল চালু হলে জটিল সার্জারি ও সাধারণ রোগের চিকিৎসা স্বল্পমূল্যে সম্ভব হবে। শিশুদের চিকিৎসায় অভিভাবকদের আর্থিক খরচ ও ভোগান্তি কমবে। এছাড়া চিকিৎসার জন্য ঢাকাসহ দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজনও কমে আসবে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো, অনুমোদন এবং অর্থ বরাদ্দের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে রংপুরের শিশুরা প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একটি তাগাদাপত্র পাঠানো হয়েছে। তবে কার্যকর কোনো আদেশ এখনও পাওয়া যায়নি।

রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বলেন, শিশু হাসপাতাল চালুসহ স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে প্রশাসনিক অনুমোদন, পদ সৃজন এবং অর্থ বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে অভিহিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় একটি পরিদর্শন প্রতিবেদনও প্রেরণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ভবন ও সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মিললেই হাসপাতাল চালু করা সম্ভব।

রংপুর বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গওছুল আজিম চৌধুরী বলেন, শিশু হাসপাতালের পরিচালনার প্রয়োজনীয় জনবল, অর্থ বরাদ্দ এবং অনুমোদনের জন্য চাহিদা নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রক্রিয়া এখনও চলমান। কোনো আদেশ এখনও আসেনি। তিনি আশা করছেন শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

sixteen − five =

About Author Information

Popular Post

ইরানি ড্রোন ঠেকাতে আরব আমিরাতে লেজার সিস্টেম পাঠিয়েছিল ইসরায়েল

রংপুরে ১০০ শয্যার শিশু হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা সাত বছরেও চালু হয়নি

Update Time : ০৫:২২:২০ pm, Sunday, ১৫ মার্চ ২০২৬

নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার আসে, সরকার যায়। রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রতিশ্রুতির ঘাটতি না থাকলেও, দীর্ঘদিন ধরে রংপুরবাসী উন্নয়নের বৈষম্যের ফাঁদ থেকে মুক্তি পাচ্ছে না। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে রংপুরে সাধারণ মানুষ পাক বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। চব্বিশের ছাত্র জনতার আন্দোলনে দেশের প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে রংপুরের মানুষ রক্ত দিতে দ্বিধা বোধ করেনি।

কিন্তু সেই রংপুরের সুসম্মত উন্নয়নে আজও কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকার এগিয়ে আসেনি। দীর্ঘ আন্দোলনের পর রংপুরে ১০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও, সাত বছরেও সেখানে পূর্ণাঙ্গ সেবা কার্যক্রম শুরু হয়নি। জনমনে প্রশ্ন উঠছে, এটি কি বৈষম্য নাকি রংপুরের প্রতি অবহেলা? বর্তমানে রংপুর শিশু হাসপাতাল এখনো অচলাবস্থায়।

পতিত হাসিনা সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আড়াই বছর আগে ফিতা কেটে হাসপাতালের দ্বার উন্মুক্ত করেছেন ঠিকই, কিন্তু সেবার দ্বার এখনো খোলা হয়নি। কবে খোলা হবে, কে দেখাবে পথ—এমন প্রশ্ন রংপুরের মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে। দীর্ঘসময় ধরে অব্যবহৃত থাকার কারণে হাসপাতালটির দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামোতে এখন ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। এছাড়া, দীর্ঘদিন অযত্ন ও অবহেলায় বাড়ির অন্যান্য সামগ্রীও ক্রমান্বয়ে নষ্ট হচ্ছে।

বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে সীমিত পরিসরে শিশু বহির্বিভাগের কার্যক্রম চালু রয়েছে। তবে সেখানে রোগী বা স্বজনদের আনাগোনা তেমন নেই। শিশুদের জন্য নির্মিত খেলাধুলার রাইডগুলো দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত, ধুলো-ময়লায় ঢাকা। সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। রংপুর বিভাগের প্রায় দুই কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবার এই প্রতিষ্ঠানটি আস্থাহীনতায় ভুগছে।

বিশেষ করে হাসপাতালটিতে জনবল সংকট থাকায় শিশু বিভাগে চাহিদামতো বিশেষজ্ঞদের দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে রংপুরে পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল নির্মাণের দাবিতে আন্দোলন হয়েছে। বর্তমান সরকার ১০০ শয্যাবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করেছে। কিন্তু সাত বছরেও চিকিৎসাসেবা শুরু না হওয়ায় সাধারণ মানুষ হতাশ।

রংপুরের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সাবেক সদর হাসপাতালের ১.৭৮ একর জমির মধ্যে শিশু হাসপাতাল নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর। ৩১ কোটি ৪৮ লক্ষ ৯২ হাজার ৮০৯ টাকার কাজটি করেছে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মল্লিক এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স অণিক ট্রেডিং কর্পোরেশন। ভবন নির্মাণের জন্য দুই বছরের সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও নির্ধারিত সময়ের আড়াই মাস আগে কাজ শেষ হয়।

তিনতলা মূল হাসপাতাল ভবনের প্রতি তলার আয়তন ২০,৮৮২.৯৭ বর্গফুট। এছাড়া নির্মাণ করা হয়েছে চারতলা ভিত্তির তিনতলা সুপারিনটেনডেন্ট কোয়ার্টার, সিঁড়ি বাদে প্রতি তলার আয়তন ১,৫০০ বর্গফুট। ছয়তলা ডক্টরস কোয়ার্টারের নিচতলায় গাড়ি পার্কিং, দ্বিতীয় তলা থেকে ডাবল ইউনিট। এছাড়া রয়েছে ছয়তলা বিশিষ্ট স্টাফ অ্যান্ড নার্স কোয়ার্টার। দুটি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। বিদ্যুৎ সাবস্টেশন স্থাপনের জন্যও ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

মূল ভবনের প্রথম তলায় ইমার্জেন্সি, আউটডোর, চিকিৎসকদের চেম্বার এবং ল্যাব। দ্বিতীয় তলায় অপারেশন থিয়েটার, ব্রোন ইউনিট এবং তৃতীয় তলায় ওয়ার্ড ও কেবিন। নবনির্মিত হাসপাতাল ভবন আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা সিভিল সার্জনকে ২০২০ সালের ৮ মার্চ হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু ওই বছর করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে ভবনটি ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এখন সেখানে করোনা রোগী নেই।

হাসপাতালটি চালু হলে শিশুদের জটিল সার্জারিসহ সাধারণ সব রোগের চিকিৎসা স্বল্পমূল্যে দেওয়া সম্ভব হবে। মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন, বহু বছর ধরে শিশু হাসপাতাল নির্মাণের জন্য আন্দোলন হয়েছে। তবে হস্তান্তরের পর থেকে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু হয়নি, লোকবলও নিয়োগ পাওয়া যায়নি। এটি স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যর্থতা।

নগরবাসী জানান, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হাসপাতাল চালু করতে পারেনি। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবা খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছেন। সরকারি পরিত্যক্ত ভবনগুলো ব্যবহার উপযোগী করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র করার চিন্তাভাবনা করছেন। অথচ নতুন বিশেষায়িত হাসপাতাল দীর্ঘ বছর ধরে জনবলের অভাবে পড়ে আছে।

রংপুরের শিশুদের জন্য এটি অতীব জরুরি। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু চিকিৎসক ডা. মো. মাহফুজার রহমান বাঁধন বলেন, রমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগ দিয়ে এ অঞ্চলের সব শিশুর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল চালু হলে জটিল সার্জারি ও সাধারণ রোগের চিকিৎসা স্বল্পমূল্যে সম্ভব হবে। শিশুদের চিকিৎসায় অভিভাবকদের আর্থিক খরচ ও ভোগান্তি কমবে। এছাড়া চিকিৎসার জন্য ঢাকাসহ দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজনও কমে আসবে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো, অনুমোদন এবং অর্থ বরাদ্দের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে রংপুরের শিশুরা প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একটি তাগাদাপত্র পাঠানো হয়েছে। তবে কার্যকর কোনো আদেশ এখনও পাওয়া যায়নি।

রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বলেন, শিশু হাসপাতাল চালুসহ স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে প্রশাসনিক অনুমোদন, পদ সৃজন এবং অর্থ বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে অভিহিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় একটি পরিদর্শন প্রতিবেদনও প্রেরণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ভবন ও সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মিললেই হাসপাতাল চালু করা সম্ভব।

রংপুর বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গওছুল আজিম চৌধুরী বলেন, শিশু হাসপাতালের পরিচালনার প্রয়োজনীয় জনবল, অর্থ বরাদ্দ এবং অনুমোদনের জন্য চাহিদা নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রক্রিয়া এখনও চলমান। কোনো আদেশ এখনও আসেনি। তিনি আশা করছেন শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে।

শু/সবা