বিশ্বের দীর্ততম সমুদ্র সৈকত পর্যটন নগরী কক্সবাজার অবশেষে পর্যটকে মুখরিত ফুরফুরে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজান ঘিরে স্থবিরতা কাটিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ছন্দে ফিরেছে কক্সবাজার। ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে বিশ্বের দীর্ঘতম এই সমুদ্রসৈকতে। আগামী ৩০ মার্চ পযন্ত হোটেল মোটেলের কোন কক্ষ খালি নেই বলে জানিয়েছেন হোটেল মোটেল মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দরা।
গত ১৯ মার্চ ঈদের ছুটির শুরু থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত অন্তত প্রায় ৬ লক্ষের অধিক পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করেছেন বলে জানান পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এসময় পর্যটন খাতে প্রায় ৫ থেকে ৬শ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে এমন ধারনা করা হচ্ছে।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল শুক্কুর জানান, প্রায় গত জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারী মাসের পর ঈদের টানা মাত্র ১সপ্তাহের ছুটিতে পর্যটন খাতে বড় ধরনের গতি ফিরেছে। বলতে গেলে পর্যটন খাতের প্রতিটি সেক্টরে অনেক ভালো ব্যবসা হয়েছে। যেমন আবাসন, পরিবহন, খাদ্য, বিনোদন ও খুচরা ব্যবসাসহ সব খাত থেকে ইতিমধ্যে ৫ থেকে ৬শ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, উন্নত সেবা, সহজ যাতায়াত এবং বিমান ভাড়া কমানো গেলে এই খাত আরও টেকসই হবে।
২৭ মার্চ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সরেজমিনে সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, সব বয়সের পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। কেউ সমুদ্রে গোসল করছেন, কেউবা বালুচরে বসে সূর্যাস্ত উপভোগ করছেন।
হোটেল মোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানিয়েছেন,কক্সবাজার শহরের কোথাও কোনো রুম খালি নেই। ৩০ মার্চ পর্যন্ত বেশির ভাগ হোটেলের অগ্রিম বুকিং রয়েছে।
তিনি বলেন আমরা সব হোটেলকে নির্দেশনা দিয়েছি যেন পর্যটকদের হয়রানি করা না হয় এবং ন্যায্যমূল্য রাখা হয়। যত্ন সহকারে সেবা দেয়ার জন্য।
সৈকতের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ‘সি-সেইফ লাইফ গার্ড’ কর্মী জয়নাল আবেদীন ভুট্টো বলেন, সমুদ্রের প্রতিটি পয়েন্টেই পর্যটকের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।
জেলা ট্যুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কেফায়েত উল্লাহ জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় স্পটগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানান, বাড়তি পর্যটকের চাপ সামাল দিতে সমুদ্রসৈকতে নারী পুলিশসহ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোশাকেও নজরদারি চালানো হচ্ছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান বলেন, পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করাই জেলা প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে মাঠে কাজ করছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এদিকে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমনে হোটেল-মোটেল জোন ও আশপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দূরপাল্লার বাসগুলো টার্মিনালে রাখা হলেও ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাঝারি মানের যানবাহন শহরে প্রবেশ করায় ভোগান্তি বেড়েছে। বিশেষ করে কলাতলী মোড়, বাইপাস সড়ক ও ডলফিন মোড়ে দিনভর যানবাহনের ধীরগতি লক্ষ করা গেছে।
শু/সবা




















