7:48 am, Tuesday, 28 April 2026

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শতাধিক শিশু ভর্তি, তিন দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু

রংপুর অঞ্চলে হামের প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ হামে আক্রান্ত চার শিশুকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃতদের মধ্যে কেউ হাম আক্রান্ত ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রথমে জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলেও পরে শরীরে র‌্যাশ বের হওয়ার মাধ্যমে রোগটি শনাক্ত হচ্ছে।

তিনি জানান, বর্তমানে হামে আক্রান্ত চার শিশুকে শিশু ওয়ার্ড থেকে আলাদা করে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে এবং তাদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে থাকলেও এখনো শঙ্কামুক্ত নয়।

চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় অন্যান্য শিশুদের নিরাপত্তার জন্য আক্রান্তদের পৃথক রাখা হয়েছে। আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে শিশুদের।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের স্বজনরা জানান, আক্রান্তদের প্রথমে উচ্চ জ্বর হয়, এরপর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। পরে শরীরে র‌্যাশ ওঠে এবং অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের জ্ঞান হারানোর ঘটনাও ঘটে।

এদিকে হাসপাতালের ৯ ও ১০ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও সর্দি নিয়ে শতাধিক শিশু ভর্তি রয়েছে। তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে আইসিইউ বেড সংখ্যা মাত্র ১০টি, যা এই পরিস্থিতিতে একেবারেই অপর্যাপ্ত। গুরুতর রোগীদের জন্য আইসিইউ ও সিসিইউ সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসায় আইসোলেশন, অক্সিজেন সরবরাহ এবং জরুরি সেবাসহ সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

eighteen − 16 =

About Author Information

Popular Post

বিমানবন্দরে জোরদার নিরাপত্তা, শাহজালালে বাড়তি নজরদারি

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শতাধিক শিশু ভর্তি, তিন দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু

Update Time : ০৭:২৮:০৯ pm, Wednesday, ১ এপ্রিল ২০২৬

রংপুর অঞ্চলে হামের প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ হামে আক্রান্ত চার শিশুকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃতদের মধ্যে কেউ হাম আক্রান্ত ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রথমে জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলেও পরে শরীরে র‌্যাশ বের হওয়ার মাধ্যমে রোগটি শনাক্ত হচ্ছে।

তিনি জানান, বর্তমানে হামে আক্রান্ত চার শিশুকে শিশু ওয়ার্ড থেকে আলাদা করে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে এবং তাদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে থাকলেও এখনো শঙ্কামুক্ত নয়।

চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় অন্যান্য শিশুদের নিরাপত্তার জন্য আক্রান্তদের পৃথক রাখা হয়েছে। আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে শিশুদের।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের স্বজনরা জানান, আক্রান্তদের প্রথমে উচ্চ জ্বর হয়, এরপর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। পরে শরীরে র‌্যাশ ওঠে এবং অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের জ্ঞান হারানোর ঘটনাও ঘটে।

এদিকে হাসপাতালের ৯ ও ১০ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও সর্দি নিয়ে শতাধিক শিশু ভর্তি রয়েছে। তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে আইসিইউ বেড সংখ্যা মাত্র ১০টি, যা এই পরিস্থিতিতে একেবারেই অপর্যাপ্ত। গুরুতর রোগীদের জন্য আইসিইউ ও সিসিইউ সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসায় আইসোলেশন, অক্সিজেন সরবরাহ এবং জরুরি সেবাসহ সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

শু/সবা