9:18 am, Friday, 12 June 2026

ফারিহা গার্মেন্টসের স্টোর রুমে মিললো এজিএম’র ঝুলন্ত লাশ, হত্যা নাকি আত্মহত্যা!

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অ্যাসরোটেক্স গ্রুপের একটি পোশাক কারখানার ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় এক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে এনায়েতনগর ইউনিয়নের বারৈভোগ এলাকায় অবস্থিত ফারিহা নিট টেক্স লিমিটেড কারখানার স্টোর রুমে তার মরদেহ পাওয়া যায় বলে জানায় ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।
নিহতের নাম ইদ্রিস আলী (৪৩)। তিনি সোনারগাঁ উপজেলার গোয়ালদী গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে এবং কারখানাটির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) পদে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
কারখানাটির সিকিউরিটি ম্যানেজার মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, সকাল দশটার দিকে ইদ্রিসের মরদেহটি দেখতে পান কারখানার একজন শ্রমিক। পরে পুলিশে খবর দেয়া হয়।
তিনি জানান, সোমবার সন্ধ্যায় সাতটায় ছুটি হবার পর তার গাড়িতে করে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার সহকর্মীরা তাকে ফোন দিয়েও পাচ্ছিল না। পরে তাকে ছাড়াই গাড়ি ছেড়ে যায়। মঙ্গলবার তার লাশ পাওয়া যায়।  ইদ্রিসের মরদেহটি যে স্টোর রুমে মিলেছে সেটি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিলেন তিনি নিজেই। ওই রুমের লাইট বন্ধ ছিল বলেও জানান মনির।
প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা গেছে, সকালে কারখানায় কাজে এসে দরজা বন্ধ অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কক্ষ। পরে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। এর পেছনে কোনো ধরনের চাপ, দ্বন্দ্ব বা ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। দ্রুত ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি রহস্যজনক এই মৃত্যুকে ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন সহকর্মী ও শ্রমিকরা। এমন ঘটনায় কারখানা থেকে পালিয়েছে অন্যান্য কর্মকর্তারা।
নিহতের স্ত্রী হাফিজা আক্তার বলেন, বিকেলে ছুটি হবার পর সন্ধ্যায় তিনি কারখানার গাড়িতেই বাড়ি ফেরেন। সোমবার না ফেরায় তার মোবাইলে কল দিলে তা কেউ রিসিভ করেননি। পরে বিষয়টি কারখানার কর্মকর্তাদের জানালে তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইদ্রিস কারখানাতে নেই। আমরা পুলিশকেও জানিয়েছিলাম রাতেই। সকালে শুনি স্টোর রুমে তার লাশ পাওয়া গেছে। উনি নামাজ-কালাম পড়তেন, ভালো মেজাজের মানুষ ছিলেন। তিনি আত্মহত্যা করবেন এমন কোনো কারণ নেই। আমাদের এ মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার কথাও জানান তিনি।
অপরদিকে থানা পুলিশের ওসি মাহবুব বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠাতে কারখানাটির সামনে গেলে নিহতের সহকর্মী ও শ্রমিকদের ক্ষোভের মুখে পড়ে। তাদের নিভৃত করার পর আইনি কার্যক্রম চলছে।
এদিকে, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

4 × one =

About Author Information

বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাক্রেডিটেশন বিষয়ক কর্মশালা

ফারিহা গার্মেন্টসের স্টোর রুমে মিললো এজিএম’র ঝুলন্ত লাশ, হত্যা নাকি আত্মহত্যা!

Update Time : ০৮:১৩:০৮ pm, Tuesday, ১২ মে ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অ্যাসরোটেক্স গ্রুপের একটি পোশাক কারখানার ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় এক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে এনায়েতনগর ইউনিয়নের বারৈভোগ এলাকায় অবস্থিত ফারিহা নিট টেক্স লিমিটেড কারখানার স্টোর রুমে তার মরদেহ পাওয়া যায় বলে জানায় ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।
নিহতের নাম ইদ্রিস আলী (৪৩)। তিনি সোনারগাঁ উপজেলার গোয়ালদী গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে এবং কারখানাটির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) পদে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
কারখানাটির সিকিউরিটি ম্যানেজার মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, সকাল দশটার দিকে ইদ্রিসের মরদেহটি দেখতে পান কারখানার একজন শ্রমিক। পরে পুলিশে খবর দেয়া হয়।
তিনি জানান, সোমবার সন্ধ্যায় সাতটায় ছুটি হবার পর তার গাড়িতে করে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার সহকর্মীরা তাকে ফোন দিয়েও পাচ্ছিল না। পরে তাকে ছাড়াই গাড়ি ছেড়ে যায়। মঙ্গলবার তার লাশ পাওয়া যায়।  ইদ্রিসের মরদেহটি যে স্টোর রুমে মিলেছে সেটি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিলেন তিনি নিজেই। ওই রুমের লাইট বন্ধ ছিল বলেও জানান মনির।
প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা গেছে, সকালে কারখানায় কাজে এসে দরজা বন্ধ অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কক্ষ। পরে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। এর পেছনে কোনো ধরনের চাপ, দ্বন্দ্ব বা ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। দ্রুত ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি রহস্যজনক এই মৃত্যুকে ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন সহকর্মী ও শ্রমিকরা। এমন ঘটনায় কারখানা থেকে পালিয়েছে অন্যান্য কর্মকর্তারা।
নিহতের স্ত্রী হাফিজা আক্তার বলেন, বিকেলে ছুটি হবার পর সন্ধ্যায় তিনি কারখানার গাড়িতেই বাড়ি ফেরেন। সোমবার না ফেরায় তার মোবাইলে কল দিলে তা কেউ রিসিভ করেননি। পরে বিষয়টি কারখানার কর্মকর্তাদের জানালে তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইদ্রিস কারখানাতে নেই। আমরা পুলিশকেও জানিয়েছিলাম রাতেই। সকালে শুনি স্টোর রুমে তার লাশ পাওয়া গেছে। উনি নামাজ-কালাম পড়তেন, ভালো মেজাজের মানুষ ছিলেন। তিনি আত্মহত্যা করবেন এমন কোনো কারণ নেই। আমাদের এ মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার কথাও জানান তিনি।
অপরদিকে থানা পুলিশের ওসি মাহবুব বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠাতে কারখানাটির সামনে গেলে নিহতের সহকর্মী ও শ্রমিকদের ক্ষোভের মুখে পড়ে। তাদের নিভৃত করার পর আইনি কার্যক্রম চলছে।
এদিকে, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
শু/সবা