চলতি সপ্তাহে পাঁচ দিনব্যাপী ‘যুদ্ধের প্রস্তুতি মহড়া’ শুরু করতে যাচ্ছে তাইওয়ান। দ্বীপরাষ্ট্রটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়ন এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এই প্রশিক্ষণ মহড়া আয়োজন করা হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই মহড়া ‘ইমিডিয়েট কমব্যাট রেডিনেস এক্সারসাইজ’ নামে পরিচালিত হবে, যা আগামী শুক্রবার পর্যন্ত চলবে। এটি সশস্ত্র বাহিনীর বার্ষিক যৌথ অভিযান প্রশিক্ষণ পরিকল্পনার অংশ।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, মহড়ার মূল লক্ষ্য হলো সেনা ইউনিটগুলোকে যুদ্ধ পরিস্থিতির সঙ্গে অভ্যস্ত করা, দ্রুত যুদ্ধকালীন অবস্থায় রূপান্তর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জরুরি মোতায়েন প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা। মহড়ায় সরাসরি সেনা সদস্য, যুদ্ধ পরিস্থিতি সিমুলেশন এবং সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে বাস্তবিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এই মহড়ার মাধ্যমে কমান্ড মেকানিজম, যৌথ অভিযান পরিচালনা, রসদ সরবরাহ এবং যুদ্ধক্ষেত্রের সামগ্রিক প্রস্তুতি আরও উন্নত করা হবে।
চীন স্বায়ত্তশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করলেও তাইওয়ান বলছে, তাদের জনগণই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। বেইজিংয়ের চাপের মধ্যে চীনা সামরিক বাহিনী নিয়মিতভাবে দ্বীপটির চারপাশে আকাশ ও সমুদ্রসীমায় টহল দিয়ে আসছে বলেও অভিযোগ করেছে তাইওয়ান।
মহড়ার ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন চীনের ২১টি যুদ্ধবিমান তাইওয়ানের আকাশসীমার কাছাকাছি মহড়া চালায়। এর মধ্যে জে-১৬ ফাইটার, কেজে-৫০০ আগাম সতর্কতা বিমান এবং ওয়াই-২০ আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান অংশ নেয়। এদের মধ্যে ১৯টি বিমান তাইওয়ানের দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশসীমায় প্রবেশ করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মহড়া চালায়।
তাইওয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।
উল্লেখ্য, তাইওয়ান নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সময়ে সামরিক মহড়া পরিচালনা করে থাকে। চলতি মাসের শুরুতেও তাইওয়ান প্রণালিতে নতুন কেনা মার্কিন ‘হিমার্স’ রকেট সিস্টেমের পরীক্ষা চালানো হয়। আগামী আগস্টে বার্ষিক প্রধান মহড়া ‘হান কুয়াং’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
শু/সবা
সবুজ বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
























