10:03 pm, Monday, 29 June 2026

সরকারি স্কুলে ভর্তি করতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে

Oplus_16908288

বদলগাছী সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তির নামে অর্থ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের ভৌত বিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষক আসাদুজ্জামান মামুনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বিভিন্ন শ্রেণিতে ভর্তি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কয়েকজন অভিভাবকের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।
৮৬ বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০১৮ সালের ২১ মে সরকারিকরণের পর থেকে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করে আসছে। প্রতি শ্রেণিতে দুটি শাখায় মোট ১১০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পায়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দীর্ঘদিন ভর্তি কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হলেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পরিবর্তনের পর অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বছরের শুরুতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৫০২ জন। পরে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর মাধ্যমে সেই সংখ্যা বেড়ে ৫৪৬ জনে পৌঁছেছে।
নবম শ্রেণিতে ভর্তি হতে না পারা শিক্ষার্থী মেসকাত জান্নাত মোহনার বাবা মাজেদুল ইসলাম বলেন, আমার মেয়েকে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে শিক্ষক আসাদুজ্জামান মামুন প্রথমে ৫ হাজার টাকা নেন এবং তার কোচিং সেন্টারে ভর্তি হতে বলেন। পরে আরও ২ হাজার টাকা নেন। কিন্তু তিন দিন আগে টাকা ফেরত দিয়ে জানান, ভর্তি করানো সম্ভব নয়। এখন পরীক্ষা সামনে, মেয়েকে কোথায় ভর্তি করাব বুঝতে পারছি না। এ বিষয়ে আমি ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।
আরেক শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকার মা রওশন আরা অভিযোগ করে বলেন, ছয় মাস ধরে ভর্তি করানোর আশ্বাস দিয়ে তার কোচিংয়ে পড়ানো হয়েছে। সেশন ফি বলে ১ হাজার ২০০ টাকা নেওয়া হয়েছে, পরে আরও ৪ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এখন বলা হচ্ছে ভর্তি সম্ভব নয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারী শিক্ষক আসাদুজ্জামান মামুন। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
স্থানীয় একাধিক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোজাফফর হোসেন দায়িত্বে থাকাকালে অন্যান্য শিক্ষকরা এধরণের ভর্তি বাণিজ্যের সুযোগ পায়নি জন্য তাঁর প্রতি অনেক শিক্ষক ও কর্মচারীরা নাখোশ ছিল।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি, তবে কেউ আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। যেহেতু ইউএনওর কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানানো হবে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

1 × 2 =

About Author Information

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ছাত্রশিবিরের ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

সরকারি স্কুলে ভর্তি করতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে

Update Time : ০৪:৩৭:৩৬ pm, Monday, ২৯ জুন ২০২৬
বদলগাছী সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তির নামে অর্থ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের ভৌত বিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষক আসাদুজ্জামান মামুনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বিভিন্ন শ্রেণিতে ভর্তি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কয়েকজন অভিভাবকের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।
৮৬ বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০১৮ সালের ২১ মে সরকারিকরণের পর থেকে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করে আসছে। প্রতি শ্রেণিতে দুটি শাখায় মোট ১১০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পায়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দীর্ঘদিন ভর্তি কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হলেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পরিবর্তনের পর অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বছরের শুরুতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৫০২ জন। পরে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর মাধ্যমে সেই সংখ্যা বেড়ে ৫৪৬ জনে পৌঁছেছে।
নবম শ্রেণিতে ভর্তি হতে না পারা শিক্ষার্থী মেসকাত জান্নাত মোহনার বাবা মাজেদুল ইসলাম বলেন, আমার মেয়েকে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে শিক্ষক আসাদুজ্জামান মামুন প্রথমে ৫ হাজার টাকা নেন এবং তার কোচিং সেন্টারে ভর্তি হতে বলেন। পরে আরও ২ হাজার টাকা নেন। কিন্তু তিন দিন আগে টাকা ফেরত দিয়ে জানান, ভর্তি করানো সম্ভব নয়। এখন পরীক্ষা সামনে, মেয়েকে কোথায় ভর্তি করাব বুঝতে পারছি না। এ বিষয়ে আমি ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।
আরেক শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকার মা রওশন আরা অভিযোগ করে বলেন, ছয় মাস ধরে ভর্তি করানোর আশ্বাস দিয়ে তার কোচিংয়ে পড়ানো হয়েছে। সেশন ফি বলে ১ হাজার ২০০ টাকা নেওয়া হয়েছে, পরে আরও ৪ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এখন বলা হচ্ছে ভর্তি সম্ভব নয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারী শিক্ষক আসাদুজ্জামান মামুন। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
স্থানীয় একাধিক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোজাফফর হোসেন দায়িত্বে থাকাকালে অন্যান্য শিক্ষকরা এধরণের ভর্তি বাণিজ্যের সুযোগ পায়নি জন্য তাঁর প্রতি অনেক শিক্ষক ও কর্মচারীরা নাখোশ ছিল।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি, তবে কেউ আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। যেহেতু ইউএনওর কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানানো হবে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শু/সবা