০৮:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রামেক হাসপাতালে ৩ কোটি ৬২ লাখ টাকায় নির্মিত ওটি কোন কাজে আসছে না!

  • সবুজ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০১:৩৪:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৩
  • 118

রামেক হাসপাতালে ৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত গাইনি বিভাগের নতুন একটি অপারেশন থিয়েটার (ওটি) উদ্বোধন করা হয় গত আগস্ট মাসের ২ তারিখে। কিন্তু প্রায় সাড়ে ৩মাসেও যন্ত্রাংশের অভাবে তিন মাসেও এটি চালু করা সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে পুরোনো ওটিতেই চলছে নারীদের ডেলিভারিসহ নানা ধরনের জটিল অপারেশন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সম্প্রতি তারা নতুন যন্ত্রাংশ হাতে পেয়েছেন। শিগগির অপারেশন থিয়েটার চালু করা হবে। চলতি বছরের জুলাই মাসে এই ওটির অবকাঠামোগত নির্মাণ কাজ শেষ করে রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ-২।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইতোমধ্যেই নতুন ওটির জন্য আনীত অধিকাংশ সরঞ্জাম সেখানে ফেলে রাখা আছে। এমনকি খোলা হয়নি অধিকাংশ যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের প্যাকেটও। তবে ওটি চালু না হলেও নামফলক উদ্বোধন করা হয়েছে।
রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে অনেক রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। তাদের
মধ্যে গড়ে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ নারীর ডেলিভারিসহ জটিল গাইনি অপারেশন করতে হয়। কিন্তু হাসপাতালে মাত্র একটি ওটি থাকায় গুরুতর
রোগীদেরও দীর্ঘ সময় সিরিয়ালের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়। পাশাপাশি রোগীর চাপ বেশি থাকায় ডাক্তার-নার্সদেরও হিমশিম খেতে হয়। এমন
বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পেতে ২০২২ সালে আধুনিক সুবিধা সংবলিত পৃথক গাইনি অপারেশন থিয়েটার নির্মাণের উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টরা জানান, এটি চালু হলে একদিকে যেমন বেশ কয়েকটি ওটি পাওয়া যাবে সেই সঙ্গে চালু হবে লেপারেসকপি ও সপিস্টিকেটে (বিশেষ অপারেশন) ওটি। তবে বর্তমানে মাত্র একটি ওটিতে অপারেশন হওয়ার কারণে রোগীর চাপ সামাল দিতে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ ছাড়া লেপারেসকপি এবং সপিস্টিকেটে অপারেশন না হওয়া রোগীদের পাশাপাশি বিপাকে পড়ছেন চিকিৎসকরাও।

হাসপাতালের গাইনি সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. রোকেয়া খাতুন বলেন, নতুন ওটি চালু না হওয়ায় পুরোনোটিতেই কষ্ট করে ডেলিভারিসহ অনেক জটিল অপারেশন করতে হচ্ছে। এখানে একটি ওটিতে প্রতিদিন ৫০- ৬০ জন নারীর অপারেশন করতে হয়। নতুনটি চালু হলে সেখানে আরও তিনটি ওটি পাওয়া যাবে। পাশাপাশি লেপারেসকপি ও সপিস্টিকেটে অপারেশন হবে। ডা. রোকেয়া বলেন, সপিস্টিকেটে অপারেশন করতে পারলে অনেক কম সময়ে
রোগীদের ছাড়া যাবে। এতে ভোগান্তি কমে যাওয়ার পাশাপাশি রোগীরও চাপ কমবে। পুরোনো ওটিতে এসব সুবিধা না থাকায় অনেক রোগী এখন
বাইরের ক্লিনিকগুলোতে পাঠাতে হয়।

রাজশাহী গণপূর্ত-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী এ বি এম হুমায়ুন কবীর বলেন, রামেক হাসপাতালের গাইনি অপারেশন থিয়েটারের নির্মাণ কাজ
২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে শুরু হয়। শেষ হয় চলতি বছরের জুলাই মাসে। এতে ব্যয় হয় ৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা। সব কাজ শেষে কর্তৃপক্ষের কাছে
অপারেশন থিয়েটারটি হস্তান্তরও করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা হয় রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহাম্মদের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমাদের নবনির্মিত গাইনি
ওটি এখনো চালু হয়নি। গণপূর্ত বিভাগ শুধু অবকাঠামো নির্মাণ শেষ করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে।
তিনি বলেন, ‘এই ওটির নতুন কিছু ডিমান্ড আগের পরিচালক করেননি। পুরোনো ওটির লাইটসহ সব কিছু অনেক আগের হওয়ায় এখানে আনা
যাচ্ছে না। তাই আবারও নতুন বেশ কিছু ডিমান্ড করা হয়েছে। এতদিন আমাদের কাছে লাইট, টেবিল, এনেস্থেসিয়া মেশিনসহ ৫০ শতাংশ মেশিন
রিসিভ করা ছিল। ইতিমধ্যে আমাদের হাতে বাকিগুলো এসে পৌঁছেছে। শিগগির আমরা ওটি চালু করতে পারব। মূলত হরতাল-অবরোধের কারণে যত্রাংশগুলো আসতে দেরি হয়েছে।’

রামেক হাসপাতালে ৩ কোটি ৬২ লাখ টাকায় নির্মিত ওটি কোন কাজে আসছে না!

আপডেট সময় : ০১:৩৪:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৩

রামেক হাসপাতালে ৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত গাইনি বিভাগের নতুন একটি অপারেশন থিয়েটার (ওটি) উদ্বোধন করা হয় গত আগস্ট মাসের ২ তারিখে। কিন্তু প্রায় সাড়ে ৩মাসেও যন্ত্রাংশের অভাবে তিন মাসেও এটি চালু করা সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে পুরোনো ওটিতেই চলছে নারীদের ডেলিভারিসহ নানা ধরনের জটিল অপারেশন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সম্প্রতি তারা নতুন যন্ত্রাংশ হাতে পেয়েছেন। শিগগির অপারেশন থিয়েটার চালু করা হবে। চলতি বছরের জুলাই মাসে এই ওটির অবকাঠামোগত নির্মাণ কাজ শেষ করে রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ-২।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইতোমধ্যেই নতুন ওটির জন্য আনীত অধিকাংশ সরঞ্জাম সেখানে ফেলে রাখা আছে। এমনকি খোলা হয়নি অধিকাংশ যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের প্যাকেটও। তবে ওটি চালু না হলেও নামফলক উদ্বোধন করা হয়েছে।
রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে অনেক রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। তাদের
মধ্যে গড়ে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ নারীর ডেলিভারিসহ জটিল গাইনি অপারেশন করতে হয়। কিন্তু হাসপাতালে মাত্র একটি ওটি থাকায় গুরুতর
রোগীদেরও দীর্ঘ সময় সিরিয়ালের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়। পাশাপাশি রোগীর চাপ বেশি থাকায় ডাক্তার-নার্সদেরও হিমশিম খেতে হয়। এমন
বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পেতে ২০২২ সালে আধুনিক সুবিধা সংবলিত পৃথক গাইনি অপারেশন থিয়েটার নির্মাণের উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টরা জানান, এটি চালু হলে একদিকে যেমন বেশ কয়েকটি ওটি পাওয়া যাবে সেই সঙ্গে চালু হবে লেপারেসকপি ও সপিস্টিকেটে (বিশেষ অপারেশন) ওটি। তবে বর্তমানে মাত্র একটি ওটিতে অপারেশন হওয়ার কারণে রোগীর চাপ সামাল দিতে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ ছাড়া লেপারেসকপি এবং সপিস্টিকেটে অপারেশন না হওয়া রোগীদের পাশাপাশি বিপাকে পড়ছেন চিকিৎসকরাও।

হাসপাতালের গাইনি সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. রোকেয়া খাতুন বলেন, নতুন ওটি চালু না হওয়ায় পুরোনোটিতেই কষ্ট করে ডেলিভারিসহ অনেক জটিল অপারেশন করতে হচ্ছে। এখানে একটি ওটিতে প্রতিদিন ৫০- ৬০ জন নারীর অপারেশন করতে হয়। নতুনটি চালু হলে সেখানে আরও তিনটি ওটি পাওয়া যাবে। পাশাপাশি লেপারেসকপি ও সপিস্টিকেটে অপারেশন হবে। ডা. রোকেয়া বলেন, সপিস্টিকেটে অপারেশন করতে পারলে অনেক কম সময়ে
রোগীদের ছাড়া যাবে। এতে ভোগান্তি কমে যাওয়ার পাশাপাশি রোগীরও চাপ কমবে। পুরোনো ওটিতে এসব সুবিধা না থাকায় অনেক রোগী এখন
বাইরের ক্লিনিকগুলোতে পাঠাতে হয়।

রাজশাহী গণপূর্ত-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী এ বি এম হুমায়ুন কবীর বলেন, রামেক হাসপাতালের গাইনি অপারেশন থিয়েটারের নির্মাণ কাজ
২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে শুরু হয়। শেষ হয় চলতি বছরের জুলাই মাসে। এতে ব্যয় হয় ৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা। সব কাজ শেষে কর্তৃপক্ষের কাছে
অপারেশন থিয়েটারটি হস্তান্তরও করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা হয় রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহাম্মদের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমাদের নবনির্মিত গাইনি
ওটি এখনো চালু হয়নি। গণপূর্ত বিভাগ শুধু অবকাঠামো নির্মাণ শেষ করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে।
তিনি বলেন, ‘এই ওটির নতুন কিছু ডিমান্ড আগের পরিচালক করেননি। পুরোনো ওটির লাইটসহ সব কিছু অনেক আগের হওয়ায় এখানে আনা
যাচ্ছে না। তাই আবারও নতুন বেশ কিছু ডিমান্ড করা হয়েছে। এতদিন আমাদের কাছে লাইট, টেবিল, এনেস্থেসিয়া মেশিনসহ ৫০ শতাংশ মেশিন
রিসিভ করা ছিল। ইতিমধ্যে আমাদের হাতে বাকিগুলো এসে পৌঁছেছে। শিগগির আমরা ওটি চালু করতে পারব। মূলত হরতাল-অবরোধের কারণে যত্রাংশগুলো আসতে দেরি হয়েছে।’