2:06 pm, Thursday, 30 April 2026

ঘন কুয়াশায় সাড়ে ৮ ঘন্টা বন্ধ থাকার পর ফেরি চলাচল শুরু

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌরুটে ঘন কুয়াশার কারণে সাড়ে ৮ ঘণ্টা সাময়িক বন্ধ থাকার পর পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ১টা থেকে রোববার সকাল সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত সাড়ে ৮ ঘন্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। এর জন্য দৌলতদিয়া প্রান্তে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া কফিলউদ্দিন ফিলিং স্টেশন এলাকা পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার জুড়ে যানবাহনের লম্বা লাইন তৈরী হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন আটকে থাকা শত শত যানবাহনের যাত্রী এবং চালকেরা।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয় সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাত ১২ টার পর থেকে নদী অববাহিকায় কুয়াশা পড়তে থাকে। রাত সাড়ে ১২ টার পরে অতি মাত্রায় কুয়াশার ঘনত্ব বাড়ায় নৌদূর্ঘটনা এড়াতে রাত ১ টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয়। কুয়াশার ঘনত্ব কমে এলে সাড়ে ৮ ঘন্টা বন্ধ থাকার পর রোববার সকাল সাড়ে ৯ টায় পুনরায় এই নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু করা হয়।

রোববার (১০ ডিসেম্বর) সকালে দৌলতদিয়া প্রান্তে দেখা যায়, ফেরি ঘাট এলাকায় ২ শতাধিক ঢাকামুখী গাড়ি নদী পাড়ি দিতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া কফিলউদ্দিন ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার লম্বা লাইনে অপেক্ষা করছে। শীত ও কুয়াশায় আটকে থাকা যানবাহনের যাত্রীরা গাড়িতেই বসে আছেন। অনেকে গাড়ি থেকে নেমে বাইরে চায়ের ষ্টলে ভিড় করছেন। অনেকে গাড়ি থেকে নেমে হেটে ফেরিঘাটের দিকে এগোচ্ছেন। ফেরি ঘাটের সংযোগ সড়কসহ পন্টুনে কিছু গাড়ির সাথে বেশকিছু যাত্রী কখন ফেরিতে উঠবে সে জন্য অপেক্ষা করছেন।

শনিবার দিবাগত রাত ১২ টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে এসবি সুপার ডিলাক্সের একটি বাস। বাসটি রাত দেড়টার দিকে ঘাটে এসে সিরিয়ালে আটকা পরে। এসময় তারা জানতে পারেন ফেরি বন্ধ রাখা হয়েছে। তখন থেকে সকাল সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত সিরিয়ালেই থাকতে হয় তাদের।

এদিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যানবাহনগুলোকে সকাল ৯টার দিকেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। রিকশা, অটোরিকশা  ও ভ্যানে করে জরুরি কাজে ছুটে চলা মানুষদেরকে যবুথবু অবস্থায় বসে চলাচল করতে দেখা যায়।

দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট থেকে সকাল ১০ টার দিকে রো রো ফেরি ‘গোলাম মওলা’ থেকে নামছিলেন লালন শাহ পরিবহনের একটি বাস । এসময় বাসের মধ্যে আলাপকালে সুপারভাইজার আসাদুল ইসলাম জানান, তারা ঢাকা টেকনিক্যাল মাজার রোড থেকে রাত ১০ টায়  কুমারখালির উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে। রাত ১২ টার দিকে পাটুরিয়া ঘাটে এসে পৌছায়। এর কিছুক্ষনের মধ্যেই ফেরিয়ে ওঠেন তারা। ১২ টা ২০ এর দিকে ঘাট থেকে ফেরি ছেড়ে দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে। তাদের বহন করা ফেরিটি মাঝ নদী পার হয়ে ঘাট থেকে সামান্য দূরে থাকতেই ঘন কুয়াশার কারনে সেখানেই নোঙর করতে বাধ্য হয়। রাত ১ টা থেকে সকাল সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত ফেরিতেই বসে থাকতে হয় তাদের। দীর্ঘ সাড়ে ৮ ঘন্টা ফেরিতে আটকা থেকে সকাল ১০ টায় ফেরি থেকে নামেন তারা। তাদের রাত ৩ টার মধ্যে কুমারখালি পৌছানোর কথা থাকলেও তারা আজ বেলা ১২ টায় কুমারখালি পৌছাবে বলে তিনি জানান।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানান, কুয়াশার কারণে ঘাটে ফেরিগুলো নোঙর করে ছিল। কুয়াশায় ফেরি বন্ধের সাড়ে ৮ ঘন্টা পর সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ফেরি ছেড়ে যায়। ফেরি বন্ধের কারনে যানবাহন পারাপার ব্যাহত হওয়ায় দৌলতদিয়া প্রান্তে ২ শতাধিক বিভিন্ন ধরনের যানবাহন আটকে ছিলো। বেলা বাড়ার সাথে সাথে সিরিয়াল থাকবে না বলে তিনি জানান।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

three + thirteen =

About Author Information

Tipu Sultan

Popular Post

বিমানবন্দরে জোরদার নিরাপত্তা, শাহজালালে বাড়তি নজরদারি

ঘন কুয়াশায় সাড়ে ৮ ঘন্টা বন্ধ থাকার পর ফেরি চলাচল শুরু

Update Time : ১২:৫৯:১১ pm, Sunday, ১০ ডিসেম্বর ২০২৩

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌরুটে ঘন কুয়াশার কারণে সাড়ে ৮ ঘণ্টা সাময়িক বন্ধ থাকার পর পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ১টা থেকে রোববার সকাল সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত সাড়ে ৮ ঘন্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। এর জন্য দৌলতদিয়া প্রান্তে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া কফিলউদ্দিন ফিলিং স্টেশন এলাকা পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার জুড়ে যানবাহনের লম্বা লাইন তৈরী হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন আটকে থাকা শত শত যানবাহনের যাত্রী এবং চালকেরা।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয় সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাত ১২ টার পর থেকে নদী অববাহিকায় কুয়াশা পড়তে থাকে। রাত সাড়ে ১২ টার পরে অতি মাত্রায় কুয়াশার ঘনত্ব বাড়ায় নৌদূর্ঘটনা এড়াতে রাত ১ টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয়। কুয়াশার ঘনত্ব কমে এলে সাড়ে ৮ ঘন্টা বন্ধ থাকার পর রোববার সকাল সাড়ে ৯ টায় পুনরায় এই নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু করা হয়।

রোববার (১০ ডিসেম্বর) সকালে দৌলতদিয়া প্রান্তে দেখা যায়, ফেরি ঘাট এলাকায় ২ শতাধিক ঢাকামুখী গাড়ি নদী পাড়ি দিতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া কফিলউদ্দিন ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার লম্বা লাইনে অপেক্ষা করছে। শীত ও কুয়াশায় আটকে থাকা যানবাহনের যাত্রীরা গাড়িতেই বসে আছেন। অনেকে গাড়ি থেকে নেমে বাইরে চায়ের ষ্টলে ভিড় করছেন। অনেকে গাড়ি থেকে নেমে হেটে ফেরিঘাটের দিকে এগোচ্ছেন। ফেরি ঘাটের সংযোগ সড়কসহ পন্টুনে কিছু গাড়ির সাথে বেশকিছু যাত্রী কখন ফেরিতে উঠবে সে জন্য অপেক্ষা করছেন।

শনিবার দিবাগত রাত ১২ টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে এসবি সুপার ডিলাক্সের একটি বাস। বাসটি রাত দেড়টার দিকে ঘাটে এসে সিরিয়ালে আটকা পরে। এসময় তারা জানতে পারেন ফেরি বন্ধ রাখা হয়েছে। তখন থেকে সকাল সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত সিরিয়ালেই থাকতে হয় তাদের।

এদিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যানবাহনগুলোকে সকাল ৯টার দিকেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। রিকশা, অটোরিকশা  ও ভ্যানে করে জরুরি কাজে ছুটে চলা মানুষদেরকে যবুথবু অবস্থায় বসে চলাচল করতে দেখা যায়।

দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট থেকে সকাল ১০ টার দিকে রো রো ফেরি ‘গোলাম মওলা’ থেকে নামছিলেন লালন শাহ পরিবহনের একটি বাস । এসময় বাসের মধ্যে আলাপকালে সুপারভাইজার আসাদুল ইসলাম জানান, তারা ঢাকা টেকনিক্যাল মাজার রোড থেকে রাত ১০ টায়  কুমারখালির উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে। রাত ১২ টার দিকে পাটুরিয়া ঘাটে এসে পৌছায়। এর কিছুক্ষনের মধ্যেই ফেরিয়ে ওঠেন তারা। ১২ টা ২০ এর দিকে ঘাট থেকে ফেরি ছেড়ে দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে। তাদের বহন করা ফেরিটি মাঝ নদী পার হয়ে ঘাট থেকে সামান্য দূরে থাকতেই ঘন কুয়াশার কারনে সেখানেই নোঙর করতে বাধ্য হয়। রাত ১ টা থেকে সকাল সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত ফেরিতেই বসে থাকতে হয় তাদের। দীর্ঘ সাড়ে ৮ ঘন্টা ফেরিতে আটকা থেকে সকাল ১০ টায় ফেরি থেকে নামেন তারা। তাদের রাত ৩ টার মধ্যে কুমারখালি পৌছানোর কথা থাকলেও তারা আজ বেলা ১২ টায় কুমারখালি পৌছাবে বলে তিনি জানান।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানান, কুয়াশার কারণে ঘাটে ফেরিগুলো নোঙর করে ছিল। কুয়াশায় ফেরি বন্ধের সাড়ে ৮ ঘন্টা পর সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ফেরি ছেড়ে যায়। ফেরি বন্ধের কারনে যানবাহন পারাপার ব্যাহত হওয়ায় দৌলতদিয়া প্রান্তে ২ শতাধিক বিভিন্ন ধরনের যানবাহন আটকে ছিলো। বেলা বাড়ার সাথে সাথে সিরিয়াল থাকবে না বলে তিনি জানান।