9:43 pm, Tuesday, 28 April 2026

গুড়ায স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. জিয়াউল হক মোল্লার ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল হামলা

বগুড়ায় দুর্বৃত্তরা এবার বগুড়া-৪ (কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলা) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী সাবেক বিএনপি নেতা ডা. জিয়াউল হক মোল্লার মালিকানাধীন ‘হক এন্ড কোং’ নামে একটি ফিলিং স্টেশনে (পেট্রোল পাম্প) পেট্রোল বোমা হামলা চালানো হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৪৯ মিনিটে শহরের বনানী এলাকায় ওই হামলায় ফিলিং স্টেশনের ৬টি ডিসপেন্সার (জ¦ালানী উত্তোলনকারী যন্ত্র) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ডা. জিয়াউল হক মোল্লার অভিযোগ, ফিলিং স্টেশনে হামলার পেছনে বগুড়া-৪ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন জড়িত। তিনি বলেন, হামলার ঘটনাটি সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে। জড়িতদের সনাক্তের পর মামলা করা হবে।
এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর বিকেলে গণসংযোগকালে জেলার কাহালু উপজেলার তিনদীঘি এলাকায় ডা. ‘জিয়াউল হক মোল্লাকে বহনকারী গাড়িতে হামলা চালানো হয়। তাতে সাবেক সংসদ সদস্য ডা. জিয়াউল হক মোল্লাসহ অন্তত ৫জন আহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১২ ডিসেম্বর রাতে একই আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেনসহ দলটির ৪২ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে পুলিশ ৫জনকে গ্রেফতারও করে।
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির প্রয়াত যুগ্ম মহাসচিব সাবেক সংসদ সদস্য আজিজুল হক মোল্লার ছেলে ডা. জিয়াউল হক মোল্লা তার বাবার মৃত্যুর পর ১৯৯৪ সালে বগুড়া-৪ আসনে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর আরও ৩বার বিএনপি’র টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত সরকারের শাসনামলে তিনি দলে সংস্কারপন্থীদের সঙ্গে যোগ দেন।
সেই থেকে ডা. জিয়াউল হক মোল্লা বিএনপিতে উপেক্ষিত। যে কারণে ২০০৮ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এভাবে দীর্ঘদিন উপেক্ষিত থাকার পর ডা. জিয়াউল হক মোল্লা অনেকটা আকস্মিকভাবেই ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সংসদ নির্বচানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন। তিনি গত ২৯ নভেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিল করে জনসংযোগেও নেমে পড়েন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দলের হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে ডা. জিয়াউল হক মোল্লাকে নির্বাচন থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তাতে কর্ণপাত না করায় দলটির নেতা-কর্মীরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হন।
শুক্রবার রাতে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে ডা. জিয়াউল হক মোল্লা বলেন, বগুড়া শহরের বনানী এলাকায় তার মালিকানাধীন হক এন্ড কোং নামে ফিলিং স্টেশন রয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৪৯ মিনিটে একদল দুর্বৃত্ত সেখানে গিয়ে প্রথম লাঠি দিয়ে ভাংচুর করে। এরপর পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। আগুনে পেট্রোল এবং ডিজেল উত্তোলনকারী ৬টি ডিসপেন্সার মেশিন আগুনে পুড়ে যায়। এতে তার প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।
হামলাকারীদের চিনতে পেরেছেন কি’না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সিসিটিভিতে হামলাকারীদের দেখা গেছে। তাদের চিহ্নিত করার পর মামলা করা হবে। তবে আমরা ধারণা করছি বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন দলীয় হাইকমান্ডের কাছে নিজের আনুগত্য প্রমাণের জন্যই পরিকল্পিতভাবে লোকজন দিয়ে ওই হামলা চালিয়েছে।’
বগুড়ার শাজাহানপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, আমরা শনিবার বিকেল পৌণে ৪টা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে করোছি। এখনও মামলা কিংবা কোন লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

eight − 1 =

About Author Information

Tipu Sultan

Popular Post

বিমানবন্দরে জোরদার নিরাপত্তা, শাহজালালে বাড়তি নজরদারি

গুড়ায স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. জিয়াউল হক মোল্লার ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল হামলা

Update Time : ০৯:৫৩:৪৮ pm, Saturday, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩
বগুড়ায় দুর্বৃত্তরা এবার বগুড়া-৪ (কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলা) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী সাবেক বিএনপি নেতা ডা. জিয়াউল হক মোল্লার মালিকানাধীন ‘হক এন্ড কোং’ নামে একটি ফিলিং স্টেশনে (পেট্রোল পাম্প) পেট্রোল বোমা হামলা চালানো হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৪৯ মিনিটে শহরের বনানী এলাকায় ওই হামলায় ফিলিং স্টেশনের ৬টি ডিসপেন্সার (জ¦ালানী উত্তোলনকারী যন্ত্র) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ডা. জিয়াউল হক মোল্লার অভিযোগ, ফিলিং স্টেশনে হামলার পেছনে বগুড়া-৪ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন জড়িত। তিনি বলেন, হামলার ঘটনাটি সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে। জড়িতদের সনাক্তের পর মামলা করা হবে।
এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর বিকেলে গণসংযোগকালে জেলার কাহালু উপজেলার তিনদীঘি এলাকায় ডা. ‘জিয়াউল হক মোল্লাকে বহনকারী গাড়িতে হামলা চালানো হয়। তাতে সাবেক সংসদ সদস্য ডা. জিয়াউল হক মোল্লাসহ অন্তত ৫জন আহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১২ ডিসেম্বর রাতে একই আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেনসহ দলটির ৪২ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে পুলিশ ৫জনকে গ্রেফতারও করে।
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির প্রয়াত যুগ্ম মহাসচিব সাবেক সংসদ সদস্য আজিজুল হক মোল্লার ছেলে ডা. জিয়াউল হক মোল্লা তার বাবার মৃত্যুর পর ১৯৯৪ সালে বগুড়া-৪ আসনে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর আরও ৩বার বিএনপি’র টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত সরকারের শাসনামলে তিনি দলে সংস্কারপন্থীদের সঙ্গে যোগ দেন।
সেই থেকে ডা. জিয়াউল হক মোল্লা বিএনপিতে উপেক্ষিত। যে কারণে ২০০৮ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এভাবে দীর্ঘদিন উপেক্ষিত থাকার পর ডা. জিয়াউল হক মোল্লা অনেকটা আকস্মিকভাবেই ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সংসদ নির্বচানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন। তিনি গত ২৯ নভেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিল করে জনসংযোগেও নেমে পড়েন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দলের হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে ডা. জিয়াউল হক মোল্লাকে নির্বাচন থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তাতে কর্ণপাত না করায় দলটির নেতা-কর্মীরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হন।
শুক্রবার রাতে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে ডা. জিয়াউল হক মোল্লা বলেন, বগুড়া শহরের বনানী এলাকায় তার মালিকানাধীন হক এন্ড কোং নামে ফিলিং স্টেশন রয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৪৯ মিনিটে একদল দুর্বৃত্ত সেখানে গিয়ে প্রথম লাঠি দিয়ে ভাংচুর করে। এরপর পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। আগুনে পেট্রোল এবং ডিজেল উত্তোলনকারী ৬টি ডিসপেন্সার মেশিন আগুনে পুড়ে যায়। এতে তার প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।
হামলাকারীদের চিনতে পেরেছেন কি’না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সিসিটিভিতে হামলাকারীদের দেখা গেছে। তাদের চিহ্নিত করার পর মামলা করা হবে। তবে আমরা ধারণা করছি বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন দলীয় হাইকমান্ডের কাছে নিজের আনুগত্য প্রমাণের জন্যই পরিকল্পিতভাবে লোকজন দিয়ে ওই হামলা চালিয়েছে।’
বগুড়ার শাজাহানপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, আমরা শনিবার বিকেল পৌণে ৪টা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে করোছি। এখনও মামলা কিংবা কোন লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।