কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-৪ আসন। এবার আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শাহীন আক্তারের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে ঈগল প্রতীকের আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব নুরুল বশরের।
প্রথম থেকে এই আসনে আওয়ামী লীগের শাহীন আক্তারের সাথে মুল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলনা। তবে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নুরুল বশর প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ায় বদলে গেলো এই সমীকরণ।
শাহীন আক্তার সাবেক সাংসদ আব্দুর রহমান বদির স্ত্রী ও বর্তমান এমপি। আলহাজ্ব নুরুল বশর টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান সভাপতি।
নৌকার প্রার্থী শাহিন আক্তারের চেয়ে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল বশর তথা ঈগলের দিকেই নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটার বেশি ঝুঁকছেন। দলের হাইকমান্ড থেকে অনুমোদন দেওয়া হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ‘গলার কাঁটা’ বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা। শুধু নৌকার প্রার্থীর কাছে নয়, এই স্বতন্ত্র প্রার্থী ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন অন্য দলের প্রার্থীদের কাছেও।
হাতে আর মাত্র ১২ দিন বাকি থাকলেও কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের ভোটের সমীকরণ বদলে যাচ্ছে। উচ্চ আদালতের আদেশে এই আসনে প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন আওয়ামী লীগের নৌকা মনোনয়ন বঞ্চিত নুরুল বশর। গত বৃহস্পতিবার ঈগল প্রতীক নিয়ে ফিরেছেন নির্বাচনী মাঠে।
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে আগের ৬ জন প্রার্থীর সাথে সংযুক্ত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নুরুল বশর (ঈগল)। আগের ৬ জন ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য শাহীন আক্তার (নৌকা), জাতীয় পার্টির নুরুল আমিন চৌধুরী ভুট্টো (লাঙ্গল), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ফরিদুল আলম (আম), তৃণমূল বিএনপির মুজিবুল হক মুজিব (সোনালী আঁশ), ইসলামী ঐক্যজোটের মোহাম্মদ ওসমান গনি চৌধুরী (মিনার), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোহাম্মদ ইসমাইল (ডাব)।
তবে উখিয়া-টেকনাফ আসনের জনগণ এবার মনে প্রাণে চাচ্ছেন একজন সৎ, মেধাবী ও ক্লিন ইমেজের (মাদক কলঙ্ক মুক্ত) যোগ্য জনপ্রতিনিধি।
এদিকে সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদির স্ত্রী শাহীন আক্তারের বিপক্ষে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব নুরুল বশর ঈগল মার্কা নিয়ে শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছেন। আবার টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বর্তমানে সাবেক সাংসদ বদির স্ত্রীর ঘোর বিরোধী অবস্থানে রয়েছে। গত নির্বাচনে বিতর্কিত নানা ঘটনায় নাম আসার পর আব্দুর রহমান বদি ভোটে দাঁড়াননি। তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বদির পরিবর্তে তার স্ত্রীকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। এবারও ঘটেছে তাই।
কিন্তু উখিয়া-টেকনাফ আওয়ামী লীগে ত্যাগী নেতাকর্মী থাকার পরও গেল জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক সাংসদ আব্দুর রহমান বদির স্ত্রী শাহিন আক্তারকে দল মনোনয়ন দেয়ায় ভুল প্রার্থী বাছাই হয়েছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল মার্কার আলহাজ্ব নুরুল বশর গণমাধ্যমকে জানিয়েছে- আমি নির্বাচিত হলে আমার জীবনের সর্বস্ব দিয়ে উখিয়া-টেকনাফের বেকার যুব সমাজকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তাদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করবো। আমি উখিয়া-টেকনাফের কলঙ্ক মুছে দিয়ে ভবিষ্যত প্রজন্মকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি।
তিনি আরো জানিয়েছে- ‘যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে উখিয়া টেকনাফের তৃণমূল নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। আমি তাদেরকে যোগ্য নেতৃত্ব ও যথাযোগ্য মূল্য দিতে এসেছি মাঠে।
আরো জানান- গত ২০১৭ সালে বিশাল এক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আগমণ ঘটেছিল উখিয়া-টেকনাফে। যার কারনে অনেক চাকরির সুযোগ হয়। কিন্তু এই জনপদের অযোগ্য প্রতিনিধিদের অসহযোগিতার কারনে উখিয়া-টেকনাফের হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার যুবকরা চাকরির সুযোগ পাইনি। আগামি ৭ জানুয়ারী সৃষ্টিকর্তা যদি আমাকে কবুল করে তাহলে আমি আমার জীবনের সর্বস্ব দিয়ে উখিয়া-টেকনাফের বেকার যুব সমাজকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তাদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করবো।


























