নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় রানীনগর থানায় দুইপক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাণীনগর থানায় এই দু’টি মামলা দায়ের হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে মো. সবুজ নামে এক সমর্থক বাদী হয়ে নৌকা প্রার্থীর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নেতাসহ এজাহারনামীয় ১৬জন নেতাকর্মী ও অজ্ঞাতনামা ১০জনকে আসামি করে মামলা করেন। একইদিন সন্ধ্যায় নৌকা প্রার্থীর পক্ষে আওয়ামী লীগ কর্মী মো. বাদল বাদি হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকসহ এজাহারনামীয় ১১জনকে ও অজ্ঞাতনামা ৪০জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে থানা পুলিশ বুধবার দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকের দায়ের করা মামলায় এজাহারনামীয় আসামি কাশিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনায়েতপুর গ্রামের এনায়েতুর রহমান সেন্টু (৫৮) ও অজ্ঞাতনামা আসামি আওয়ামী লীগ কর্মী খট্টেশ্বর পশ্চিমপাড়া গ্রামের রোস্তম আলী (৪৮) কে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া নৌকা প্রার্থীর কর্মীর দায়ের করা মামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক কাশিমপুর গ্রামের আফেল উদ্দীন (৪৫) কে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত তিনজনকে বুধবার বিকেলে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত সোমবার সন্ধ্যায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র করে নওগাঁ-৬ আসনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হেলাল এবং ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ওমর ফারুক সুমনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলা সদরের বাসট্যান্ড এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর রাত ৮টার দিকে আবারও রাজাপুর গ্রামে সংঘর্ষ হয়। ওইদিন সন্ধ্যা থেকে শুরু করে রাত ৮টা পর্যন্ত দফায় দফায় কয়েকস্থানে হামলা-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ৭জন সমর্থক ও নৌকা প্রার্থীর ৩ জন নেতাকর্মী আহত হন।
রানীনগর থানার ওসি আবু ওবায়েদ বলেন, থানায় দু’পক্ষের মামলা হয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।


























