০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে সাড়া ফেলেছে সঞ্জুর বিদেশী ঘোড়ার ফার্ম

ময়মসনসিংহ সদর উপজেলার শরিফুল ইসলাম সঞ্জুর (৩৫) বিদেশী হর্স ফার্মটি
এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সঞ্জু তার ওই খামারটি নিয়ে দেখছেন ব্যাপক
সম্ভাবনাও। খামারে রয়েছে তার দেশ ও বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা দ্রুতগতির রেসের
প্রায় ১২টি ঘোড়া।
ময়মনসিংহ সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পশ্চিম ও উত্তর দিকে লাগুয়া গ্রাম
বেগুনবাড়ী। সেখানকার একটি ছোট্ট গ্রাম কোকিল। ওই গ্রামেরই ছেলে সঞ্জু।
আজ থেকে ৫ বছর আগে শখের বসে রেসের জন্য একটি ঘোড়া কেনেন তিনি।
এরপর তিন বছর ওই ঘোড়াটিকে তিনি লালন পালনসহ বিভিন্ন রেসে অংশ নেয়। গত
দুই বছর হয় নিজ বাড়িতেই তিনি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সঞ্জু হর্স ফার্ম নামে
প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে ঘোড়া পালন শুরু করেন। এটি মুলত প্রজনন খামার হিসেবে
গড়ে তোলছেন। ঘোড়া রাখার জন্য আধাপাকা শেড নির্মাণ করেছেন। শেডের
ভিটি পাকা না করে বালি বিছিয়ে দিয়েছেন। ফার্মে তিনি নিজে ছাড়াও
একজন শ্রমিক কাজ করেন। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের লোকজন ফার্মটির
ব্যাপারে খোঁজ খবর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে
যাচ্ছেন। ঘোড়া পালন করা কঠিন কিছু নয়, সহজ বললেই চলে। এর তেমন কোনো
রোগ বালাই হয় না। কলিক নামে একটি রোগ আছে। এছাড়া কঠিন কোনো
ভাইরাসে আক্রান্তও হয় না। বর্তমানে তার কাছে ১২টি ঘোড়ার মধ্যে ৬টি সিন্দি ও
৬টি মারওয়ারী জাতের ঘোড়া রয়েছে। এর মাঝে একটি নোকড়া প্রজাতির ঘোড়াও
রয়েছে। এসব ঘোড়া তিনি ভারতের রাজস্থান ও গুজরাট থেকে সংগ্রহ করেন। ঘোড়ার
খাবার হিসেবে খৈল, কুড়া, ভূষি ও নেপিয়ার ঘাস দিয়ে থাকেন তিনি। সময়মতো
খাবার দেওয়া, গোসল করানো, বাইরে বের করা, শেডে তোলা এসব কাজ ফার্মের
শ্রমিক সোহেল করে থাকে। খামার থেকে এ যাবত অনেকগুলো ঘোড়াই বিক্রি
করেছেন। ব্যবসায়ী স্বার্থে ফার্মের আয় ব্যয় প্রকাশ করেননি তিনি। তবে তিনি
ওই ফার্ম থেকে ব্যাপক লাভের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।
সঞ্জুর প্রতিবেশি মুঞ্জু জানায়, সঞ্জু ভাইয়ের খামারে কাজ করা ছেলের নাম
সোহেল। সে কথা বলতে পারেনা, বোবা। তিনি আরও জানান, এই ঘোড়ার খামারটি
দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসে। ঘোড়ার সাথে ছবি তোলে। খুব
আনন্দ পায়।
খামারী শরিফুল ইসলাম সঞ্জু বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে রেস প্রতিযোগিতা
হয়। তাছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার, সেনাবাহিনীতে রাষ্ট্রীয় কাজে অনেক
ঘোড়া ব্যবহার হয়ে থাকে। দেশে ভালো মানের ঘোড়া না থাকায় সরকারকে দেশের
বাহির থেকে ঘোড়া আমদানী করতে হয়। যদি ভালো মানের ঘোড়াগুলো আমরাই
উৎপাদন করতে পারি, তাহলে দেশের টাকা দেশেই থাকবে। তাছাড়া আমরাও লাভবান
হবো।

ময়মনসিংহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল জলিল বলেন, বেগুনবাড়ীতে
সঞ্জুর একটি হর্স ফার্ম রয়েছে। মূলত এটি ব্রিডিং ফার্ম। শুরুতেই আমরা
তাকে ঘোড়ার চিকিৎসা, ম্যানেজমেন্ট, ফিডিংসহ সবরকম পরামর্শ দিয়ে
আসছি। যদি ফার্মটি আমাদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিচালনা করতে পারে তাহলে এ
থেকে লাভের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

কমিশনার সংকটে বেরোবির প্রথম ব্রাকসু নির্বাচনে অনিশ্চয়তা

ময়মনসিংহে সাড়া ফেলেছে সঞ্জুর বিদেশী ঘোড়ার ফার্ম

আপডেট সময় : ১১:৫৪:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৪

ময়মসনসিংহ সদর উপজেলার শরিফুল ইসলাম সঞ্জুর (৩৫) বিদেশী হর্স ফার্মটি
এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সঞ্জু তার ওই খামারটি নিয়ে দেখছেন ব্যাপক
সম্ভাবনাও। খামারে রয়েছে তার দেশ ও বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা দ্রুতগতির রেসের
প্রায় ১২টি ঘোড়া।
ময়মনসিংহ সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পশ্চিম ও উত্তর দিকে লাগুয়া গ্রাম
বেগুনবাড়ী। সেখানকার একটি ছোট্ট গ্রাম কোকিল। ওই গ্রামেরই ছেলে সঞ্জু।
আজ থেকে ৫ বছর আগে শখের বসে রেসের জন্য একটি ঘোড়া কেনেন তিনি।
এরপর তিন বছর ওই ঘোড়াটিকে তিনি লালন পালনসহ বিভিন্ন রেসে অংশ নেয়। গত
দুই বছর হয় নিজ বাড়িতেই তিনি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সঞ্জু হর্স ফার্ম নামে
প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে ঘোড়া পালন শুরু করেন। এটি মুলত প্রজনন খামার হিসেবে
গড়ে তোলছেন। ঘোড়া রাখার জন্য আধাপাকা শেড নির্মাণ করেছেন। শেডের
ভিটি পাকা না করে বালি বিছিয়ে দিয়েছেন। ফার্মে তিনি নিজে ছাড়াও
একজন শ্রমিক কাজ করেন। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের লোকজন ফার্মটির
ব্যাপারে খোঁজ খবর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে
যাচ্ছেন। ঘোড়া পালন করা কঠিন কিছু নয়, সহজ বললেই চলে। এর তেমন কোনো
রোগ বালাই হয় না। কলিক নামে একটি রোগ আছে। এছাড়া কঠিন কোনো
ভাইরাসে আক্রান্তও হয় না। বর্তমানে তার কাছে ১২টি ঘোড়ার মধ্যে ৬টি সিন্দি ও
৬টি মারওয়ারী জাতের ঘোড়া রয়েছে। এর মাঝে একটি নোকড়া প্রজাতির ঘোড়াও
রয়েছে। এসব ঘোড়া তিনি ভারতের রাজস্থান ও গুজরাট থেকে সংগ্রহ করেন। ঘোড়ার
খাবার হিসেবে খৈল, কুড়া, ভূষি ও নেপিয়ার ঘাস দিয়ে থাকেন তিনি। সময়মতো
খাবার দেওয়া, গোসল করানো, বাইরে বের করা, শেডে তোলা এসব কাজ ফার্মের
শ্রমিক সোহেল করে থাকে। খামার থেকে এ যাবত অনেকগুলো ঘোড়াই বিক্রি
করেছেন। ব্যবসায়ী স্বার্থে ফার্মের আয় ব্যয় প্রকাশ করেননি তিনি। তবে তিনি
ওই ফার্ম থেকে ব্যাপক লাভের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।
সঞ্জুর প্রতিবেশি মুঞ্জু জানায়, সঞ্জু ভাইয়ের খামারে কাজ করা ছেলের নাম
সোহেল। সে কথা বলতে পারেনা, বোবা। তিনি আরও জানান, এই ঘোড়ার খামারটি
দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসে। ঘোড়ার সাথে ছবি তোলে। খুব
আনন্দ পায়।
খামারী শরিফুল ইসলাম সঞ্জু বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে রেস প্রতিযোগিতা
হয়। তাছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার, সেনাবাহিনীতে রাষ্ট্রীয় কাজে অনেক
ঘোড়া ব্যবহার হয়ে থাকে। দেশে ভালো মানের ঘোড়া না থাকায় সরকারকে দেশের
বাহির থেকে ঘোড়া আমদানী করতে হয়। যদি ভালো মানের ঘোড়াগুলো আমরাই
উৎপাদন করতে পারি, তাহলে দেশের টাকা দেশেই থাকবে। তাছাড়া আমরাও লাভবান
হবো।

ময়মনসিংহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল জলিল বলেন, বেগুনবাড়ীতে
সঞ্জুর একটি হর্স ফার্ম রয়েছে। মূলত এটি ব্রিডিং ফার্ম। শুরুতেই আমরা
তাকে ঘোড়ার চিকিৎসা, ম্যানেজমেন্ট, ফিডিংসহ সবরকম পরামর্শ দিয়ে
আসছি। যদি ফার্মটি আমাদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিচালনা করতে পারে তাহলে এ
থেকে লাভের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।