সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে প্রচন্ড শীতে জনজীবন রীতিমতো কাবু হয়ে পড়েছে। ব্যাহত হচ্ছে বোরো জমি আবাদ ও দৈনন্দিনের স্বাভাবিক কর্মকান্ড। হাট-বাজারে কমে গেছে লোক সমাগম। এতে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন দিনমজুর শ্রমজীবি মানুষজন। তারা না পারছেন কাজে যেতে আবার কাজে না গেলেও অনেকের না খেয়ে থাকতে হবে। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে কাজে যাচ্ছেন। গায়ে বড় গরম কাপড় পরিধান করে ঘরে থেকেও রক্ষা হচ্ছে না। এরমধ্যে জমির পানিতে নেমে ধান রোপন সহ কৃষি কাজ করছেন কৃষক-শ্রমিকরা। জেলেরা শীতল পানিতে নেমে ধরছেন মাছ। দিনমজুররা করছেন নানা কাজ।
গত কয়েক দিন ধরে জেঁকে বসেছে শীত। মিলছে না সূর্য্যরে দেখা। ঘনকুয়াশা শৈত্যপ্রবাহের হিমেল বাতাস শীতকে আরো উস্কে দিয়েছে। ফলে সর্বত্র বেড়েছে প্রচন্ড শীতের মাত্রা। এতে বেড়েছে শীতবাহিত রোগ। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হতে চাইছেন না। শুধু জীবন-জীবিকার তাগিদে মানুষজন হাড় কাঁপানো শীতকে উপেক্ষা করে ঘর থেকে বের হচ্ছেন। এছাড়া যাদের পর্যাপ্ত শীত নিবারনের বড় গরম কাপড় নেই, সেই দরিদ্র পরিবারের মানুষজন শীতে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। প্রকৃতিও দরিদ্র মানুষদের বিরুদ্ধাচরণ করে। বন্যা হলেও সবার আগে গরীবদের বাড়িঘর তলিয়ে যায়। ঘুর্ণিঝড় হলেও সবার আগে গরীবদের কুঁড়েঘর উড়িয়ে নিয়ে যায়। প্রচন্ড শীতেও গরীব মানুষগুলো কষ্ট পায়। যাদের অভাব-অনটন নিত্যসঙ্গী। সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। কাজে গেলে খাওয়া, না হলে উপোষ থাকা। প্রতিদিন অভাব নামের দানবের সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকা। তার উপর প্রকৃতির নিঠুর আচরণ মোকাবেলা করেই বেঁচে আছেন তারা। যারা কখনোই পরিবারের সকল সদস্যের চাহিদা পূরণ করতে পারেন না।
যদিও বেশ কয়েকদিন পর ১৩ জানুয়ারি শনিবার মিলেছে সূর্য্যরে দেখা। এতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে। এ বিষয়ে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের বেশ কয়েকজন পথচারী প্রবীণ ও নবীন জীবন সংগ্রামী মানুষের সাথে আলাপ হয়। আলাপকালে তারা তুলে ধরেন তাদের কষ্টেগাঁতা জীবনের কিছু কথা। নিপেন্দ্র দাস, গৌর দাস, অনকুল দাস সহ কয়েকজন জেলে বলেন, এই শীতে খাল, বিল ও নদীর শীতল পানিতে নেমে জাল দিয়ে মাছ ধরা যে কি কষ্টের কাউকে তা বুঝাতে পারবো না। মাছ না ধরলে সংসার চলবে না। তাই অনেকটা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানিতে নেমে মাছ ধরছি। শহিদুল ইসলাম, বুরহান উদ্দিন, এনামুল হক সহ কয়েকজন কৃষি কাজের শ্রমিক বলেন, ভোরে কাজের যেতে মন চায় না। এরপরও মনকে শক্ত করে অন্যের জমি রোপন করতে যেতে হয়। না হলে অভাবের সংসার চলবে না। আবদুল্লাহ মিয়া, শফিক আলী, এলাইছ মিয়া সহ কয়েকজন দিনমজুর জানান, কাজে গিয়ে টাকা রোজগার করে আনলে বিকেলে বাজার খরচ করবো। না হলে উপোষ থাকবো বউ-বাচ্চাকে নিয়ে। তারা আক্ষেপ করে বলেন, বন্যা হলেও আগে আমাদের বাড়ি ডুবে, ঝড়-তুফানেও আমাদের ঘর উড়ে, শীতেও আমাদের কষ্ট। এই হচ্ছে আমাদের জীবন। এটা নতুন কিছু নয়। তবে সচেতন মহলের অনেকে জানান, জীবন সংগ্রামী শ্রমজীবি দরিদ্র পরিবারের মানুষজন কেমন আছেন, তাদের খোঁজ-খবর রাখা উচিত।


























