মানিকগঞ্জে প্রেমিক ও তার পরিবারের লোকজন মেনে না নেওয়ায় ২মাসের অন্তঃসত্ত্বা ৭ম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার অভিযোগে ওঠেছে। তবে পরিবার ও স্থানীয়দের ধারনা ওই স্কুলছাত্রী পরিবার ও তার নিজের লজ্জা ঢাকতে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নিতে বাধ্য হয়েছে।
গত সোমবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার গড়পাগা ইউনিয়নের চান্দর টেনারীমোড় এলাকায় নিজের ঘরের আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
নিহত আফরোজা আক্তার সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের আজগর আলীর মেয়ে। সে স্থানীয় গড়পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীতের পড়ালেখা করতো। অভিযুক্ত সাব্বির হোসেন একই এলাকার মকুল মিয়ার ছেলে। সে মানিকগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের পড়ালেখা করছে।
নিহতের বড় বোন সুরমা আক্তার সবুজ বাংলাকে জানান, প্রায় দুই বছর ধরে আফরোজা আক্তারের সাথে প্রতিবেশি মকুল মিয়ার ছেলে ১৩ বছরের সাব্বির হোসেনের সাথে প্রেমের সর্ম্পক চলছিল। প্রেমের সম্পর্কের জেরে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয় এবং শারীরিক সম্পর্কের ফলে আফরোজা আক্তার ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যায়। প্রেগনেন্সি কীটের মাধ্যমে অন্তঃসত্ত্বা ধরা পরলে অন্তাঃসত্ত্বার বিষয়টি প্রেমিক সাব্বির হোসেনকে জানায় আফরোজা। কিন্তু অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি শুনে সাব্বির হোসেন ও তার পরিবারের লোকজন বিষয়টি অস্বীকার করে এবং আফরোজাসহ আমাদেরকে পরিবারকে উল্টো শাসন করে। তখনও অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি আমাদের পরিবারের বাহিরে কেউ জানতো না।
তিনি আরও জানান, এ ধরনের ঘটনার জন্য এবং সাব্বির ও তার পরিবার অস্বীকার করায় আফরোজাকে বকাঝকা হয়। আমাদের মনে হচ্ছে মানসম্মান ও লজ্জার ভয়ে আফরোজা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মতহ্যা করেছে। আমার বোনকে সাব্বির ফুসিলিয়ে প্রেমের কথা বলে অন্তঃসত্ত্বা করছে এবং সাব্বিরের কারনেই আমার বোন মারা গেছে। আমি আমার বোনের সঠিক বিচার চাই।
নিহতের দাদী মানিকজান বেগম জানান, আমার নাতীনের মা না থাকায় অভাব অনটনের মাধ্যমে আমরা সবাই মিলে আদর-যত্নে করে পড়ালেখা করাচ্ছি। কিন্তু মকুল মিয়ার ছেলে সাব্বিরের কারনে অল্প বয়সে অকালে নাতীনরে মরতে হলো। আমার নাতীনের কি দোষ ছিল? আমি এর সঠিক বিচার চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাব্বির হোসেনের বাবা মকুল মিয়ার দাবী, আফরোজার সাথে সাব্বির হোসেনের কোন ধরনের সর্ম্পক ছিলনা। তবে আফরোজার সাথে আমার মেয়েরা খেলাধূলা করতো। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সাব্বির হোসেনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীদের ধারনা আফজোরা নিহতের খবর পেয়ে সাব্বির পালিয়ে গেছে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.হাবিল হোসেন সবুজ বাংলাকে জানান, খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গের প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে নিহতের বাবা আজগর আলী দাবি হয়ে সদর থানায় একটি মামলা করেছেন। আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।

























