চুয়াডাঙ্গায় শিশুকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যার ঘটনার এক মাস পার হলেও আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। পুলিশের দাবি, সন্দেহভাজন আসামি ফটিক ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এদিকে, এ ঘটনায় খুঁজে পেলেই নিজের ছেলেকে মেরে ফেলতে বলতে বলেছেন ফটিকের মা।
এর আগে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামে শাক তুলে দেয়ার নাম করে ভুট্টার খেতে নিয়ে শিশু মরিয়মকে (১০) ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যার ঘটনা ঘটে। এই হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন অভিযুক্ত হিসেবে ভুক্তভোগীর পরিবার ও পুলিশ একই ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের আবুল হোসেন ফটিক (৩০) নামের এক যুবককে শনাক্ত করে। ফটিক এর আগেও নিজ গ্রামের এক ছেলেকে বলৎকার করে ১০ বছর জেল খেটেছেন।
শিশু মরিয়মের মা জোবেদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে এক মাস আগে হত্যা করা হলেও পুলিশ এখনো ফটিককে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। সে আমার মেয়েকে খুব কষ্ট দিয়ে মেরেছে। আমি তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবি জানাই।’
সন্দেহভাজন ফটিকের বাড়িতে গেলে তার মা বলেন, ‘ওমন ছেলে আমার দরকার নেই। ১০ বছর জেলে ছিল, সেখান থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসলাম। আবার শুনছি একটা মেয়েকে গলাকেটে হত্যা করেছে।’ এসময় তিনি নিজের ছেলেকে খুঁজে পেলে বাঁচিয়ে না রেখে হত্যা করতে বলেন।
জীবননগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, শিশু মরিয়ম হত্যার ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এখনো মামলার তদন্ত চলছে। আসামিকে ধরতে পুলিশ চেষ্টা করে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) জাকিয়া সুলতানা জানান, মরিয়ম হত্যার ঘটনায় ফটিক নামের একজনকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তিনি বারবার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করছেন। তবে খুব দ্রুতই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে তিনি জানান।
স/ম






















