০৯:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

সম্মিলিত সিন্ডিকেট হলো প্রজাতন্ত্রের কর্মীরা : গয়েশ্বর

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, জনগণের নিরাপত্তার জন্য যারা প্রজাতন্ত্রের বেতন নেয় এবং সচিবালয়ে যারা বসেন, এসব প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা একটি সম্মিলিত সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট ১৮ কোটি মানুষের অধিকার হরণ এবং তাদের নাগরিক অধিকার বলতে যা আছে, সব অধিকার খর্ব করে একটি কর্তৃত্ববাদ চায়। এই কর্তৃত্ববাদী সরকারের চরিত্র কখনো গণমুখী হয় না।

মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ কারাবন্দি পেশাজীবী ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ডামি সংসদ বাতিলের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি)।

তিনি বলেন, কর্তৃত্ববাদীরা কখনো মানুষের চোখের ভাষা ও মনের ভাষা বুঝতে রাজি না। কারণ কর্তৃত্ববাদীরা কখনোই জনগণের সমর্থিত হয় না। সেই কারণে জনগণের প্রতি তাদের কোনো মায়া, মমতা অথবা সাংবিধানিক দায়িত্ববোধ জন্মায় না। এদের কর্তৃত্ববাদ মনেই হলো দেশের অর্থ সম্পদ লুটপাট করা।

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের সরকার নয় মন্তব্য করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এই সরকার ভারত, চীন ও রাশিয়ার সরকার। চীন ও রাশিয়ায় তো গণতন্ত্রের বালাই নেই। আর ভারতে এখন যা চলছে, সেই আগের রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য নেই। আজকে সরকার এমনভাবে সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতিবাজ বানিয়েছে যে, এখন তারা দুর্নীতি না করলে চাকরি যায় অথবা দুর্নীতিতে সহায়তা না করলে চাকরি যায়। সুতরাং, আজকে সংসদ সদস্য আর দুর্নীতিবাজরা যখন একাকার হয়ে যায়, তখন বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান চিত্র এটাই হওয়া স্বাভাবিক। বাংলাদেশের কোষাগার কেন শূন্য? ব্যাংকগুলোতে কেন টাকা নেই? উন্নয়নের মধ্যে এত স্বাদ কেন? উন্নয়নের অপর নাম দুর্নীতি-লুটপাট।

বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন করে যাচ্ছে এবং করে যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা রেকর্ড করতে পারিনি, এক সরকারের মেয়াদে ১৭৩ দিন হরতাল দেওয়ার। আমরা রেকর্ড করতে পারিনি, গান পাউডার দিয়ে শেরাটনের সামনে বাসে মানুষ মারা। আমরা এখনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারিনি, চলমান পথিককে বিবস্ত্র করা। আমরা এখনো পারিনি, লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ মেরে তার ওপর নাচ-গান করা। এসবের সংস্কৃতি কাদের মনে? যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি কাদের মনে? যারা জোর করে ক্ষমতায় থাকে।

সদ্য সমাপ্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর আসনে দুইটি না তিনটি কেন্দ্রে ১০০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। তার মানে টুঙ্গিপাড়ায় মানুষ মরে না, অথবা গত পাঁচ বছরে কেউ মারা যায়নি, বিদেশে যায়নি ও অসুস্থ হয়নি। আপনারা (সরকার) কিন্তু আপনাদের ফাঁদে পড়েছেন, আপনাদের কথার ফাঁদে পড়েছেন।

সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকে আপনারা (সরকার) সংসদে বসবেন, বসেন। আপনাদের কাজ আপনারা করেন। আমাদেরকে (বিরোধী দল) আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় করতে দেন। আমাদের তো প্রতিবাদ জানানোর অধিকার আছে। আপনি শোনেন বা না শোনেন সেটি আপনার বিষয়। কিন্তু আজকে আমাদের কোথাও কালো পতাকা মিছিল করতে দেবেন না। এ দেশের মানুষ ভালোর ভালো, খারাপের খারাপ। তাই মানুষকে খারাপ করার চেষ্টা করবেন না। আমরা শান্তিপ্রিয়… শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে চাই।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বিএসপিপির আহ্বায়ক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব কাদের গণি চৌধুরী।

এ সময় জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আব্দুল কুদ্দুস, এ্যাবের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম রিজু, প্রফেসর ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমীন গাজী, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র অ্যাড. আবেদ রেজা, কৃষিবিদ শফিকুর রহমান, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মাহতাব, ন্যাবের সভাপতি বেগম জাহানারা সিদ্দিকী, ড্যাবের সাবেক মহাসচিব ডা. ওবায়দুল কবির খান, ডিইউজের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

স/ম

ফুটপাত থেকে হকার মুক্ত করতে চসিকের ফের অভিযান

সম্মিলিত সিন্ডিকেট হলো প্রজাতন্ত্রের কর্মীরা : গয়েশ্বর

আপডেট সময় : ০৩:৪১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৪

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, জনগণের নিরাপত্তার জন্য যারা প্রজাতন্ত্রের বেতন নেয় এবং সচিবালয়ে যারা বসেন, এসব প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা একটি সম্মিলিত সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট ১৮ কোটি মানুষের অধিকার হরণ এবং তাদের নাগরিক অধিকার বলতে যা আছে, সব অধিকার খর্ব করে একটি কর্তৃত্ববাদ চায়। এই কর্তৃত্ববাদী সরকারের চরিত্র কখনো গণমুখী হয় না।

মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ কারাবন্দি পেশাজীবী ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ডামি সংসদ বাতিলের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি)।

তিনি বলেন, কর্তৃত্ববাদীরা কখনো মানুষের চোখের ভাষা ও মনের ভাষা বুঝতে রাজি না। কারণ কর্তৃত্ববাদীরা কখনোই জনগণের সমর্থিত হয় না। সেই কারণে জনগণের প্রতি তাদের কোনো মায়া, মমতা অথবা সাংবিধানিক দায়িত্ববোধ জন্মায় না। এদের কর্তৃত্ববাদ মনেই হলো দেশের অর্থ সম্পদ লুটপাট করা।

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের সরকার নয় মন্তব্য করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এই সরকার ভারত, চীন ও রাশিয়ার সরকার। চীন ও রাশিয়ায় তো গণতন্ত্রের বালাই নেই। আর ভারতে এখন যা চলছে, সেই আগের রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য নেই। আজকে সরকার এমনভাবে সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতিবাজ বানিয়েছে যে, এখন তারা দুর্নীতি না করলে চাকরি যায় অথবা দুর্নীতিতে সহায়তা না করলে চাকরি যায়। সুতরাং, আজকে সংসদ সদস্য আর দুর্নীতিবাজরা যখন একাকার হয়ে যায়, তখন বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান চিত্র এটাই হওয়া স্বাভাবিক। বাংলাদেশের কোষাগার কেন শূন্য? ব্যাংকগুলোতে কেন টাকা নেই? উন্নয়নের মধ্যে এত স্বাদ কেন? উন্নয়নের অপর নাম দুর্নীতি-লুটপাট।

বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন করে যাচ্ছে এবং করে যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা রেকর্ড করতে পারিনি, এক সরকারের মেয়াদে ১৭৩ দিন হরতাল দেওয়ার। আমরা রেকর্ড করতে পারিনি, গান পাউডার দিয়ে শেরাটনের সামনে বাসে মানুষ মারা। আমরা এখনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারিনি, চলমান পথিককে বিবস্ত্র করা। আমরা এখনো পারিনি, লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ মেরে তার ওপর নাচ-গান করা। এসবের সংস্কৃতি কাদের মনে? যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি কাদের মনে? যারা জোর করে ক্ষমতায় থাকে।

সদ্য সমাপ্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর আসনে দুইটি না তিনটি কেন্দ্রে ১০০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। তার মানে টুঙ্গিপাড়ায় মানুষ মরে না, অথবা গত পাঁচ বছরে কেউ মারা যায়নি, বিদেশে যায়নি ও অসুস্থ হয়নি। আপনারা (সরকার) কিন্তু আপনাদের ফাঁদে পড়েছেন, আপনাদের কথার ফাঁদে পড়েছেন।

সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকে আপনারা (সরকার) সংসদে বসবেন, বসেন। আপনাদের কাজ আপনারা করেন। আমাদেরকে (বিরোধী দল) আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় করতে দেন। আমাদের তো প্রতিবাদ জানানোর অধিকার আছে। আপনি শোনেন বা না শোনেন সেটি আপনার বিষয়। কিন্তু আজকে আমাদের কোথাও কালো পতাকা মিছিল করতে দেবেন না। এ দেশের মানুষ ভালোর ভালো, খারাপের খারাপ। তাই মানুষকে খারাপ করার চেষ্টা করবেন না। আমরা শান্তিপ্রিয়… শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে চাই।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বিএসপিপির আহ্বায়ক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব কাদের গণি চৌধুরী।

এ সময় জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আব্দুল কুদ্দুস, এ্যাবের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম রিজু, প্রফেসর ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমীন গাজী, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র অ্যাড. আবেদ রেজা, কৃষিবিদ শফিকুর রহমান, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মাহতাব, ন্যাবের সভাপতি বেগম জাহানারা সিদ্দিকী, ড্যাবের সাবেক মহাসচিব ডা. ওবায়দুল কবির খান, ডিইউজের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

স/ম