১০:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

সম্প্রচার সাংবাদিকতার মূল আকর্ষণই হচ্ছে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা : চয়ন রহমান

  • সবুজ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০৫:২৬:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • 54

সম্প্রচার সাংবাদিকতার মূল আকর্ষণই হচ্ছে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা। রহস্য ভেদ করা, যেকোনো অপরাধের আদ্যপান্ত খুঁজে বের করে তা সম্প্রচার মাধ্যমে রিপোর্ট প্রচারের যে তৃপ্তি, অন্য কোনো মাধ্যমে এমনটি মেলে না। ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে কথাগুলো বলছিলেন টেলিভিশনের অনুসন্ধানী সাংবাদিক চয়ন রহমান। তার প্রকৃত নাম মোহাম্মদ মোকছেদুর রহমান ওয়ালী। চয়ন রহমান নামেই টেলিভিশন সাংবাদিকতায় পরিচিত। অনেকের কাছে তিনি টেলিভিশনে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ হিসেবেও পরিচিত। অনুসন্ধানী টেলিভিশন সাংবাদিকতার বর্তমান অবস্থা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি কথা বলেছেন সবুজ বাংলার সঙ্গে।

সবুজ বাংলা : টেলিভিশন সাংবাদিকতায় কীভাবে এলেন?

চয়ন রহমান : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ বিভাগের ছাত্র ছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে করতেই ২০০৪ সালে জাতীয় দৈনিক যুগান্তরের ব্যুরো রিপোর্টার হিসেবে যোগ দিই। রাজশাহীর বিভিন্ন অপরাধ, দুর্নীতির বেশ কিছু রিপোর্ট করি আমি। বিশেষ করে রাজশাহী কারাগারের নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির সিরিজ রিপোর্ট তখন বেশ আলোচিত ছিল। এসব কাজের পুরস্কার হিসেবে দেশের অন্যতম সেরা টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভির ঢাকার মূল অফিসে যোগ দিই ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি। সেই থেকে টানা ১৮ বছর টেলিভিশন সাংবাদিকতায় পার করেছি। স্টাফ রিপোর্টার থেকে ধাপে ধাপে বার্তা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছি।

সবুজ বাংলা : অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার যাত্রাটি কেমন করে হলো?

চয়ন রহমান : এনটিভিতে যোগদানের মাত্র ছয় মাসের মাথায় ‘বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে’ শিরোনামে ক্রাইম ওয়াচের একটি পর্ব অনুসন্ধানের দায়িত্ব পড়ে আমার উপর। সেই থেকে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের উপর আমার বিশেষ আগ্রহ।

সবুজ বাংলা : আপনার উল্লেখযাগ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কি কি?

চয়ন রহমান : শুধুমাত্র এনটিভি’র ১২ বছরের ক্যারিয়ারে আমি প্রায় দেড়শ’ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছি। নানান চ্যালেঞ্জকে সঙ্গে করে অদম্য সাহস আর অনুসন্ধানের তীব্র আকাক্সক্ষা থেকে করেছি আন্তর্জাতিক পুরস্কার জয়ী সিরিজ ‘কাঁদে নদী কাঁদে সাগর’ শিরোনামে সারা দেশ নদী দখলদারদের চিত্র নিয়ে সিরিজ রিপোর্ট। এছাড়া দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের চরমপন্থীদের উত্থান ও তাদের আশ্রয়দাতা গডফাদারদের নিয়ে পাঁচ পর্বের সিরিজ ‘চরমপন্থী জনপদ’, সুন্দরবনের জলদস্যু, প্রকাশ্যে বন্যপ্রাণি বিক্রি, নকল ওষুধ ও সীমান্তে চোরাকারবার ও সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্ত্রের কেনাবেচা রিপোর্ট দর্শকপ্রিয়তা পায়। এর মাধ্যমে দুটি আন্তর্জাতিক ও একটি জাতীয় পুরস্কারও পাই। এছাড়া চ্যানেল নাইনে আমার উপস্থাপনায় করা ‘নাইন ইনভেস্টিগেশন’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এর ৯০টিরও বেশি পর্বের উপস্থাপনা করেছি আমি। আমার করা একটি পর্ব বাঘের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি-দর্শকপ্রিয়তায় এখনও রয়েছে সবার মুখে মুখে।

সবুজ বাংলা : প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ ঠিক কতটা?

চয়ন রহমান : অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাই মূলত চ্যালেঞ্জিং। সেটা যে মাধ্যমেই হোক না কেন। বোধ-বুদ্ধি, জ্ঞান, সাহসের পাশাপাশি অসীম ধৈর্যের পরিচয় দিতে হয়। ব্রডকাস্ট মিডিয়ায় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা একটু বেশি চ্যালেঞ্জিং।

সবুজ বাংলা : নবীন অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জন্য আপনার বার্তা কি?

চয়ন রহমান : সম্প্রচার সাংবাদিকতার মূল আকর্ষণই হচ্ছে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা। রহস্য ভেদ করা, যেকোনো অপরাধের আদ্যপান্ত খুঁজে বের করে তা সম্প্রচার মাধ্যমে রিপোর্ট প্রচারের যে তৃপ্তি, অন্য কোনো মাধ্যমে এমনটি মেলে না। আমি নবীন সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের বলব, মনকে অনুসন্ধিৎসু করুন পাশাপাশি বোধ-বুদ্ধি, জ্ঞান, সাহস আর ধৈর্যের মিশেলে নিজেকে গড়ে তুলুন একজন প্রকৃত অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে।

সবুজ বাংলা : আপনার মূল্যবান সময়ের জন্য ধন্যবাদ।

চয়ন রহমান : আপনাকেও ধন্যবাদ।

সম্প্রচার সাংবাদিকতার মূল আকর্ষণই হচ্ছে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা : চয়ন রহমান

আপডেট সময় : ০৫:২৬:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

সম্প্রচার সাংবাদিকতার মূল আকর্ষণই হচ্ছে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা। রহস্য ভেদ করা, যেকোনো অপরাধের আদ্যপান্ত খুঁজে বের করে তা সম্প্রচার মাধ্যমে রিপোর্ট প্রচারের যে তৃপ্তি, অন্য কোনো মাধ্যমে এমনটি মেলে না। ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে কথাগুলো বলছিলেন টেলিভিশনের অনুসন্ধানী সাংবাদিক চয়ন রহমান। তার প্রকৃত নাম মোহাম্মদ মোকছেদুর রহমান ওয়ালী। চয়ন রহমান নামেই টেলিভিশন সাংবাদিকতায় পরিচিত। অনেকের কাছে তিনি টেলিভিশনে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ হিসেবেও পরিচিত। অনুসন্ধানী টেলিভিশন সাংবাদিকতার বর্তমান অবস্থা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি কথা বলেছেন সবুজ বাংলার সঙ্গে।

সবুজ বাংলা : টেলিভিশন সাংবাদিকতায় কীভাবে এলেন?

চয়ন রহমান : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ বিভাগের ছাত্র ছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে করতেই ২০০৪ সালে জাতীয় দৈনিক যুগান্তরের ব্যুরো রিপোর্টার হিসেবে যোগ দিই। রাজশাহীর বিভিন্ন অপরাধ, দুর্নীতির বেশ কিছু রিপোর্ট করি আমি। বিশেষ করে রাজশাহী কারাগারের নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির সিরিজ রিপোর্ট তখন বেশ আলোচিত ছিল। এসব কাজের পুরস্কার হিসেবে দেশের অন্যতম সেরা টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভির ঢাকার মূল অফিসে যোগ দিই ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি। সেই থেকে টানা ১৮ বছর টেলিভিশন সাংবাদিকতায় পার করেছি। স্টাফ রিপোর্টার থেকে ধাপে ধাপে বার্তা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছি।

সবুজ বাংলা : অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার যাত্রাটি কেমন করে হলো?

চয়ন রহমান : এনটিভিতে যোগদানের মাত্র ছয় মাসের মাথায় ‘বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে’ শিরোনামে ক্রাইম ওয়াচের একটি পর্ব অনুসন্ধানের দায়িত্ব পড়ে আমার উপর। সেই থেকে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের উপর আমার বিশেষ আগ্রহ।

সবুজ বাংলা : আপনার উল্লেখযাগ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কি কি?

চয়ন রহমান : শুধুমাত্র এনটিভি’র ১২ বছরের ক্যারিয়ারে আমি প্রায় দেড়শ’ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছি। নানান চ্যালেঞ্জকে সঙ্গে করে অদম্য সাহস আর অনুসন্ধানের তীব্র আকাক্সক্ষা থেকে করেছি আন্তর্জাতিক পুরস্কার জয়ী সিরিজ ‘কাঁদে নদী কাঁদে সাগর’ শিরোনামে সারা দেশ নদী দখলদারদের চিত্র নিয়ে সিরিজ রিপোর্ট। এছাড়া দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের চরমপন্থীদের উত্থান ও তাদের আশ্রয়দাতা গডফাদারদের নিয়ে পাঁচ পর্বের সিরিজ ‘চরমপন্থী জনপদ’, সুন্দরবনের জলদস্যু, প্রকাশ্যে বন্যপ্রাণি বিক্রি, নকল ওষুধ ও সীমান্তে চোরাকারবার ও সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্ত্রের কেনাবেচা রিপোর্ট দর্শকপ্রিয়তা পায়। এর মাধ্যমে দুটি আন্তর্জাতিক ও একটি জাতীয় পুরস্কারও পাই। এছাড়া চ্যানেল নাইনে আমার উপস্থাপনায় করা ‘নাইন ইনভেস্টিগেশন’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এর ৯০টিরও বেশি পর্বের উপস্থাপনা করেছি আমি। আমার করা একটি পর্ব বাঘের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি-দর্শকপ্রিয়তায় এখনও রয়েছে সবার মুখে মুখে।

সবুজ বাংলা : প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ ঠিক কতটা?

চয়ন রহমান : অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাই মূলত চ্যালেঞ্জিং। সেটা যে মাধ্যমেই হোক না কেন। বোধ-বুদ্ধি, জ্ঞান, সাহসের পাশাপাশি অসীম ধৈর্যের পরিচয় দিতে হয়। ব্রডকাস্ট মিডিয়ায় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা একটু বেশি চ্যালেঞ্জিং।

সবুজ বাংলা : নবীন অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জন্য আপনার বার্তা কি?

চয়ন রহমান : সম্প্রচার সাংবাদিকতার মূল আকর্ষণই হচ্ছে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা। রহস্য ভেদ করা, যেকোনো অপরাধের আদ্যপান্ত খুঁজে বের করে তা সম্প্রচার মাধ্যমে রিপোর্ট প্রচারের যে তৃপ্তি, অন্য কোনো মাধ্যমে এমনটি মেলে না। আমি নবীন সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের বলব, মনকে অনুসন্ধিৎসু করুন পাশাপাশি বোধ-বুদ্ধি, জ্ঞান, সাহস আর ধৈর্যের মিশেলে নিজেকে গড়ে তুলুন একজন প্রকৃত অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে।

সবুজ বাংলা : আপনার মূল্যবান সময়ের জন্য ধন্যবাদ।

চয়ন রহমান : আপনাকেও ধন্যবাদ।