১১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

৩৫ দেশে ই-সিগারেট বন্ধ হলেও উদ্যোগ নেই বাংলাদেশে

●সর্বশেষ নিষিদ্ধ করছে যুক্তরাজ্য
●ধূমপানবিরোধী বৈশিক আন্দোলনে প্রথম স্বাক্ষরকারী দেশ বাংলাদেশ

অপ্রাপ্তবয়স্কদের ধূমপান থেকে বিরত রাখতে ডিসপোজেবল ভ্যাপ বা একক ব্যবহারের ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দেশটির প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ নিয়ে বিশে^র ৩৫তম দেশ হিসেবে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করছে যুক্তরাজ্য। বাংলাদেশের কিশোর-তরুণেরা ই-ভ্যাপিংয়ের মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও এখন পর্যন্ত এটি নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলেই সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে, প্রজন্মকে রক্ষায় দ্রুত ই-ভ্যাপিং নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ই-সিগারেট ব্যান করা দেশগুলোর তালিকায় আছে ভারত, ইরান, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভুটানম ব্রাজিল, ব্রুনাই, ইজিপ্ট, কুয়েত, মেক্সিকো, নেপাল, ওমান, কাতার, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, সিরিয়া, থাইল্যাণ্ড, ফিলিস্তিন প্রভৃতি। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, ই-সিগারেট কোনোভাবেই সিগারেটের চেয়ে কম ক্ষতিকর নয়। তাই বাংলাদেশে ই-সিগারেটের ভয়াবহতা বন্ধে ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকোসহ সব ধরনের ই-সিগারেট এখনই নিষিদ্ধ করার সঠিক সময়।

ধূমপানবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশুদের রক্ষায় জরুরিভিত্তিতে ই-সিগারেট বাতিল করা প্রয়োজন। কারণ, এটি খোলা বাজারে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে। তামাক কোম্পানিগুলোর প্রচারের কারণে মানুষ এটাকে ততটা অনিরাপদ মনে করছে না। হু’র তথ্যমতে, এরমধ্যে ৩৫টি দেশ ই-সিগারেট বিক্রি বন্ধ করেছে। ৮৮ দেশে এই সিগারেট কেনার ক্ষেত্রে বয়সের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ৭৪ দেশে এই পণ্যের ক্ষতিকর ঝুঁকি সম্পর্কে কোনো প্রচার নেই। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)’র মহাপরিচালক টেড্রোস আধানোম ঘিব্রেসাস বলেছেন, শিশুরা এই পণ্য কেনার জন্য টার্গেট হচ্ছে এবং তাদেরকে ফাঁদ দিয়ে এই ব্যবহারে বাধ্য করা হচ্ছে। হু তার গবেষণায় দেখেছে, ১৩-১৫ বছরের শিশুরাই বড়দের চেয়ে বেশি ই-সিগারেট ব্যবহার করছে। কানাডায় ১৬-১৯ বছর বয়সিদের মধ্যে এই সিগারেট কেনার হার দ্বিগুণ হয়েছে। যুক্তরাজ্যে গত তিন বছরে তিনগুণ বেড়েছে ই-সিগারেট ব্যবহারকারী শিশুদের সংখ্যা। হু’র তথ্যমতে, ধূমপান ও ভেপিংয়ের কারণে বিশ^জুড়ে প্রতিদিন প্রাণ যাচ্ছে ২১ হাজার ৯১৭ জনের। বাংলাদেশে সংখ্যাটা ৪৪২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সারা বিশে^ সমন্বিতভাবে তামাক নিয়ন্ত্রণ ও তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ২০০৩ সালের মে মাসে জেনেভায় অনুষ্ঠিত ৫৬তম বিশ^ স্বাস্থ্য সম্মেলনে ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) চুক্তি অনুমোদিত হয়। বাংলাদেশ এই চুক্তির প্রথম স্বাক্ষরকারী দেশ এবং ২০০৪ সালে বাংলাদেশ এই চুক্তিতে অনুস্বাক্ষর করে। তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই চুক্তি স্বাক্ষরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকার এফসিটিসির আলোকে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩) এবং ২০১৫ সালে এ সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন করে। আইনটির যথাযথ বাস্তবায়ন সম্ভবপর হলে ধূমপানজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং চিকিৎসা খাতের বিশাল ব্যয় হ্রাস পাবে। ২০১৬ সালের ৩০-৩১ জানুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ঠ অর্জন শীর্ষক সাউথ এশিয়ান স্পিকারস সামিটের সমাপনীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪০ সালে বাংলাদেশ থেকে তামাকের ব্যবহার নির্মূলের ঘোষণা দেন। ধূমপানবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ সরকার ঠিক যেভাবে ধূমপানবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তার তেমন প্রভাব ই-সিগারেটের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে না। ই-সিগারেট পুরো প্রজন্মকে ধ্বংস করছে।

ধূমপানবিরোধী সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ই-ভ্যাপিং এখন দেশে এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। বিশেষ করে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিশুরা এর প্রধান শিকার হওয়ায় এটি নিয়ে অভিভাবক, সচেতন শিক্ষক সমাজ এবং তামাকবিরোধীদের মধ্যে রীতিমতো আতঙ্ক তৈরি করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ই-ভেপিং সিগারেটের মতো অত ক্ষতিকর নয়, এমন প্রচার চালাচ্ছে তামাক কোম্পানিগুলো। আর এর ফাঁদেই পা দিয়ে নিজের ফুসফুসের বারোটা বাজাচ্ছে দেশের কোমলমতি শিশুকিশোররা। ই-ভেপিং বা ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম’ বা ‘ইলেকট্রনিক সিগারেট’ ব্যাটারিচালিত একটি ডিভাইস বা যন্ত্র। ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে এই সিগারেট পণ্য গ্রহণ করা হয় বলে এর নাম ই-ভেপিং। ই-ভেপিং ডিভাইসটি দেখতে কলম, পেনড্রাইভ, লিপস্টিক, লাইটার, পারফিউমের ছোট শিশির মতো। আকার অনুযায়ী এর নামও আলাদা। যেমন- ভেপ পেন, মোড, ই-হুকা, সাব-ওহ্ম, ট্যাংক সিস্টেম, জুল ইত্যাদি। দেখতে যেমন বহুরূপী, তেমনি এ থেকে নির্গত ধোঁয়ার গন্ধও হতে পারে বহুরকম। পুদিনা পাতা, ভ্যানিলা, স্ট্রবেরি, আম, কলা, লেবু, আঙুর, আনারস, বাদাম, চকোলেট, কফি, দারুচিনি, মধু, শসা, অ্যালোভেরা-এমন সব ফ্লেভার আছে এর তালিকায়। ফলে, খুব সচেতন মানুষ না হলে বোঝার উপায় নেই যে, এটি ই-ভ্যাপিংয়ের পণ্য। গবেষকরা বলছেন, একটি ই-ভেপিংয়ে থাকে দুই প্যাকেট সিগারেটের সমান নিকোটিন! এটি সিগারেটের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর। জাপানের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ই-সিগারেট সাধারণ সিগারেটের চেয়ে ১০ গুণ বেশি ক্ষতিকারক। যুক্তরাষ্ট্রের দ্য সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে হাইস্কুল পড়ুয়া ১৪ দশমিক ১ শতাংশ মার্কিন শিক্ষার্থী ই-সিগারেট বা ভেপিংয়ে আসক্ত। অর্থাৎ প্রতি পাঁচজনে একজন ই-সিগারেটে আসক্ত। বাংলাদেশেও ই-সিগারেট গ্রহণকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

৩৫ দেশে ই-সিগারেট বন্ধ হলেও উদ্যোগ নেই বাংলাদেশে

আপডেট সময় : ০৯:০০:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

●সর্বশেষ নিষিদ্ধ করছে যুক্তরাজ্য
●ধূমপানবিরোধী বৈশিক আন্দোলনে প্রথম স্বাক্ষরকারী দেশ বাংলাদেশ

অপ্রাপ্তবয়স্কদের ধূমপান থেকে বিরত রাখতে ডিসপোজেবল ভ্যাপ বা একক ব্যবহারের ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দেশটির প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ নিয়ে বিশে^র ৩৫তম দেশ হিসেবে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করছে যুক্তরাজ্য। বাংলাদেশের কিশোর-তরুণেরা ই-ভ্যাপিংয়ের মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও এখন পর্যন্ত এটি নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলেই সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে, প্রজন্মকে রক্ষায় দ্রুত ই-ভ্যাপিং নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ই-সিগারেট ব্যান করা দেশগুলোর তালিকায় আছে ভারত, ইরান, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভুটানম ব্রাজিল, ব্রুনাই, ইজিপ্ট, কুয়েত, মেক্সিকো, নেপাল, ওমান, কাতার, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, সিরিয়া, থাইল্যাণ্ড, ফিলিস্তিন প্রভৃতি। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, ই-সিগারেট কোনোভাবেই সিগারেটের চেয়ে কম ক্ষতিকর নয়। তাই বাংলাদেশে ই-সিগারেটের ভয়াবহতা বন্ধে ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকোসহ সব ধরনের ই-সিগারেট এখনই নিষিদ্ধ করার সঠিক সময়।

ধূমপানবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশুদের রক্ষায় জরুরিভিত্তিতে ই-সিগারেট বাতিল করা প্রয়োজন। কারণ, এটি খোলা বাজারে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে। তামাক কোম্পানিগুলোর প্রচারের কারণে মানুষ এটাকে ততটা অনিরাপদ মনে করছে না। হু’র তথ্যমতে, এরমধ্যে ৩৫টি দেশ ই-সিগারেট বিক্রি বন্ধ করেছে। ৮৮ দেশে এই সিগারেট কেনার ক্ষেত্রে বয়সের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ৭৪ দেশে এই পণ্যের ক্ষতিকর ঝুঁকি সম্পর্কে কোনো প্রচার নেই। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)’র মহাপরিচালক টেড্রোস আধানোম ঘিব্রেসাস বলেছেন, শিশুরা এই পণ্য কেনার জন্য টার্গেট হচ্ছে এবং তাদেরকে ফাঁদ দিয়ে এই ব্যবহারে বাধ্য করা হচ্ছে। হু তার গবেষণায় দেখেছে, ১৩-১৫ বছরের শিশুরাই বড়দের চেয়ে বেশি ই-সিগারেট ব্যবহার করছে। কানাডায় ১৬-১৯ বছর বয়সিদের মধ্যে এই সিগারেট কেনার হার দ্বিগুণ হয়েছে। যুক্তরাজ্যে গত তিন বছরে তিনগুণ বেড়েছে ই-সিগারেট ব্যবহারকারী শিশুদের সংখ্যা। হু’র তথ্যমতে, ধূমপান ও ভেপিংয়ের কারণে বিশ^জুড়ে প্রতিদিন প্রাণ যাচ্ছে ২১ হাজার ৯১৭ জনের। বাংলাদেশে সংখ্যাটা ৪৪২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সারা বিশে^ সমন্বিতভাবে তামাক নিয়ন্ত্রণ ও তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ২০০৩ সালের মে মাসে জেনেভায় অনুষ্ঠিত ৫৬তম বিশ^ স্বাস্থ্য সম্মেলনে ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) চুক্তি অনুমোদিত হয়। বাংলাদেশ এই চুক্তির প্রথম স্বাক্ষরকারী দেশ এবং ২০০৪ সালে বাংলাদেশ এই চুক্তিতে অনুস্বাক্ষর করে। তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই চুক্তি স্বাক্ষরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকার এফসিটিসির আলোকে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩) এবং ২০১৫ সালে এ সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন করে। আইনটির যথাযথ বাস্তবায়ন সম্ভবপর হলে ধূমপানজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং চিকিৎসা খাতের বিশাল ব্যয় হ্রাস পাবে। ২০১৬ সালের ৩০-৩১ জানুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ঠ অর্জন শীর্ষক সাউথ এশিয়ান স্পিকারস সামিটের সমাপনীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪০ সালে বাংলাদেশ থেকে তামাকের ব্যবহার নির্মূলের ঘোষণা দেন। ধূমপানবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ সরকার ঠিক যেভাবে ধূমপানবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তার তেমন প্রভাব ই-সিগারেটের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে না। ই-সিগারেট পুরো প্রজন্মকে ধ্বংস করছে।

ধূমপানবিরোধী সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ই-ভ্যাপিং এখন দেশে এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। বিশেষ করে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিশুরা এর প্রধান শিকার হওয়ায় এটি নিয়ে অভিভাবক, সচেতন শিক্ষক সমাজ এবং তামাকবিরোধীদের মধ্যে রীতিমতো আতঙ্ক তৈরি করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ই-ভেপিং সিগারেটের মতো অত ক্ষতিকর নয়, এমন প্রচার চালাচ্ছে তামাক কোম্পানিগুলো। আর এর ফাঁদেই পা দিয়ে নিজের ফুসফুসের বারোটা বাজাচ্ছে দেশের কোমলমতি শিশুকিশোররা। ই-ভেপিং বা ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম’ বা ‘ইলেকট্রনিক সিগারেট’ ব্যাটারিচালিত একটি ডিভাইস বা যন্ত্র। ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে এই সিগারেট পণ্য গ্রহণ করা হয় বলে এর নাম ই-ভেপিং। ই-ভেপিং ডিভাইসটি দেখতে কলম, পেনড্রাইভ, লিপস্টিক, লাইটার, পারফিউমের ছোট শিশির মতো। আকার অনুযায়ী এর নামও আলাদা। যেমন- ভেপ পেন, মোড, ই-হুকা, সাব-ওহ্ম, ট্যাংক সিস্টেম, জুল ইত্যাদি। দেখতে যেমন বহুরূপী, তেমনি এ থেকে নির্গত ধোঁয়ার গন্ধও হতে পারে বহুরকম। পুদিনা পাতা, ভ্যানিলা, স্ট্রবেরি, আম, কলা, লেবু, আঙুর, আনারস, বাদাম, চকোলেট, কফি, দারুচিনি, মধু, শসা, অ্যালোভেরা-এমন সব ফ্লেভার আছে এর তালিকায়। ফলে, খুব সচেতন মানুষ না হলে বোঝার উপায় নেই যে, এটি ই-ভ্যাপিংয়ের পণ্য। গবেষকরা বলছেন, একটি ই-ভেপিংয়ে থাকে দুই প্যাকেট সিগারেটের সমান নিকোটিন! এটি সিগারেটের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর। জাপানের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ই-সিগারেট সাধারণ সিগারেটের চেয়ে ১০ গুণ বেশি ক্ষতিকারক। যুক্তরাষ্ট্রের দ্য সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে হাইস্কুল পড়ুয়া ১৪ দশমিক ১ শতাংশ মার্কিন শিক্ষার্থী ই-সিগারেট বা ভেপিংয়ে আসক্ত। অর্থাৎ প্রতি পাঁচজনে একজন ই-সিগারেটে আসক্ত। বাংলাদেশেও ই-সিগারেট গ্রহণকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।