০১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ইশতেহারে গুরুত্ব নতুন সরকারের

◉ মন্ত্রিসভা ও সচিবদের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর
◉ উন্নয়ন পরিকল্পনায় নির্বাচনি ইশতেহার
◉ নবম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ইশতেহারের আলোকে

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরুঙ্কুশ জয় লাভের মাধ্যমে টানা চতুর্থ দফায় সরকারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সরকার গঠনের পরপরই নজর দেওয়া হয়েছে দলটির ইশতেহার বাস্তবায়নে। এখানেই সীমাবদ্ধ নয়, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায়ও গুরুত্ব পাবে দলটির নির্বাচনি ইশতেহার। এরই মধ্যে মন্ত্রিসভাকে নির্দেশনা দিয়েছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে অনুযায়ী শুরু হয়েছে পদক্ষেপও। গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত সচিব সভায়ও দেওয়া হয়েছে একই নির্দেশনা।

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহারে সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পরিকল্পনা যুক্ত করতে বেশ আগেই কাজ শুরু করে দলটি। ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে উত্তরণ করার অঙ্গীকারে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ উন্নয়ন দৃশ্যমান বাড়বে এবার কর্মসংস্থান’ স্লোগান নিয়ে ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। ২০৪১-সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে চার মূল স্তম্ভ হিসেবে স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট প্রশাসন, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে ইশতেহারে। ১১টি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে ইশতেহারে। যার প্রথমটিই দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা। এ ছাড়াও আছে কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা সুলভ করা, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় সবাইকে যুক্ত করা, জবাবদিহি নিশ্চিত।

দলীয় সূত্র বলছে, মন্ত্রীসভা থেকে দলীয় ফোরামে ইশতেহার সবাস্তবায়নে প্রাধন্য দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন শেখ হাসিনা। সেক্ষেত্রে কঠোর হওয়ার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। গত ২৯ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বেঠকে পবিত্র রমজানকে সামনে রেখেই চার পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এসব পণ্য হলো চাল, ভোজ্যতেল, চিনি ও খেজুর।

এছাড়া আগামী বছরের জুনে শেষ হচ্ছে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নবম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ। নতুন পরিকল্পনায়ও জায়গা পচ্ছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার। সূত্র জানিয়েছে ইশতেহারের আলোকে উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যকে প্রাধান্য দিয়ে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার নতুন এই দলিল তৈরির জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)।
গতকাল সোমবার গণভবনে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী সভায় দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে আনাসহ একগুচ্ছ বার্তা দিয়েছেন। যার অধিকাংশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার সংশ্লিষ্ট।

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মানুষের জীবনমান স্বাচ্ছন্দ্য ও সুন্দর করতে দ্রব্যমূল্য কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন। প্রথমে নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়ুদল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে যে ইশতেহার দিয়েছে সেটাকে গুরুত্ব দিয়ে ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। মানুষের জন্যই এই নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। মানুষের কষ্ট লাঘবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখার বিষয়টি আমাদের কাজ।

ইশতেহারে গুরুত্ব নতুন সরকারের

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

◉ মন্ত্রিসভা ও সচিবদের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর
◉ উন্নয়ন পরিকল্পনায় নির্বাচনি ইশতেহার
◉ নবম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ইশতেহারের আলোকে

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরুঙ্কুশ জয় লাভের মাধ্যমে টানা চতুর্থ দফায় সরকারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সরকার গঠনের পরপরই নজর দেওয়া হয়েছে দলটির ইশতেহার বাস্তবায়নে। এখানেই সীমাবদ্ধ নয়, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায়ও গুরুত্ব পাবে দলটির নির্বাচনি ইশতেহার। এরই মধ্যে মন্ত্রিসভাকে নির্দেশনা দিয়েছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে অনুযায়ী শুরু হয়েছে পদক্ষেপও। গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত সচিব সভায়ও দেওয়া হয়েছে একই নির্দেশনা।

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহারে সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পরিকল্পনা যুক্ত করতে বেশ আগেই কাজ শুরু করে দলটি। ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে উত্তরণ করার অঙ্গীকারে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ উন্নয়ন দৃশ্যমান বাড়বে এবার কর্মসংস্থান’ স্লোগান নিয়ে ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। ২০৪১-সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে চার মূল স্তম্ভ হিসেবে স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট প্রশাসন, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে ইশতেহারে। ১১টি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে ইশতেহারে। যার প্রথমটিই দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা। এ ছাড়াও আছে কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা সুলভ করা, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় সবাইকে যুক্ত করা, জবাবদিহি নিশ্চিত।

দলীয় সূত্র বলছে, মন্ত্রীসভা থেকে দলীয় ফোরামে ইশতেহার সবাস্তবায়নে প্রাধন্য দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন শেখ হাসিনা। সেক্ষেত্রে কঠোর হওয়ার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। গত ২৯ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বেঠকে পবিত্র রমজানকে সামনে রেখেই চার পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এসব পণ্য হলো চাল, ভোজ্যতেল, চিনি ও খেজুর।

এছাড়া আগামী বছরের জুনে শেষ হচ্ছে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নবম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ। নতুন পরিকল্পনায়ও জায়গা পচ্ছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার। সূত্র জানিয়েছে ইশতেহারের আলোকে উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যকে প্রাধান্য দিয়ে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার নতুন এই দলিল তৈরির জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)।
গতকাল সোমবার গণভবনে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী সভায় দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে আনাসহ একগুচ্ছ বার্তা দিয়েছেন। যার অধিকাংশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার সংশ্লিষ্ট।

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মানুষের জীবনমান স্বাচ্ছন্দ্য ও সুন্দর করতে দ্রব্যমূল্য কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন। প্রথমে নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়ুদল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে যে ইশতেহার দিয়েছে সেটাকে গুরুত্ব দিয়ে ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। মানুষের জন্যই এই নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। মানুষের কষ্ট লাঘবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখার বিষয়টি আমাদের কাজ।