০৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

প্রাণ বাঁচাতে জান্তার ২৬৪ জন বাংলাদেশে আশ্রয়

মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলে বাংলাদেশে দুজন নিহত হওয়ার ১২ ঘণ্টা পার না হতেই গতকাল আবারও একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ওই ব্যক্তির নাম সৈয়দ আলম (৩৮)। গতকাল নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের পশ্চিমকুল পাহাড়পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বাংলাদেশের ঘুমধুম এলাকায় এক ব্যক্তির বাড়ির উঠানে মিয়ানমারের মর্টার শেল এসে পড়েছে। এদিন সকালে ঘুমধুম ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ড মধ্যমপাড়ার সৈয়দ নূরের বাগানে এসে পড়ে মর্টার শেলটি। এমন পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকার শত শত পরিবারকে প্রশাসনের উদ্যোগে এরই মধ্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে গতকাল দুপুরে মিয়ানমার থেকে আসা গোলায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের পশ্চিমকুল পাহাড়পাড়া এলাকায় সৈয়দ আলম নামের এক বাংলাদেশি যুবক আহত হয়েছেন। তিনি ওই এলাকার কাদের হোসেনের ছেলে।
আহত সৈয়দ আলম জানান, দুপুরে বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া একটি গোলা গাছের সঙ্গে লেগে কপালে আঘাত করে। এতে কপাল ফেটে রক্তক্ষরণ শুরু হলে ক্ষতস্থান চেপে হাসপাতালে আসি। এর আগে সোমবার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জলপাইতলি এলাকায় এক বাংলাদেশি নারীসহ দুজন নিহত হন।
এ সময় আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। ঘুমধুম ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, সোমবার মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলে এক বাংলাদেশিসহ দুজন নিহত হন। এ ঘটনার পর গতকাল মঙ্গলবার ভোরে মধ্যমপাড়ার সৈয়দ নূরের আমবাগানে বেশ কিছু গুলি ও একটি মর্টার শেল এসে পড়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নানও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ২৪০ পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক (ডিসি) শাহ মুজাহিদ উদ্দিন। গতকাল দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত পরিদর্শনকালে জেলা তিনি এ নির্দেশ দেন।
ডিসি বলেন, বান্দরবান-মিয়ানমার সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান পরিস্থিতির কারণে ছাত্রছাত্রী ও সীমান্তে অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী ২৪০ পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সীমান্তবর্তী স্কুলগুলো বন্ধ ও সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে সজাগ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মো. রায়হান কাজেমী জানান, সোমবার মর্টার শেলের আঘাতে নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা হবে।
আমাদের চট্টগ্রাম ব্যুরো জানান, মিয়ানমার অভ্যন্তরের রাখাইন ও আরকান রাজ্যে বিদ্রোহী আরকান আর্মিরা মারমুখী হয়ে হামলা অব্যাহত রাখায় মিয়ানমার সেনা, সীমান্ত রক্ষা বাহিনী ও পুলিশ অনেকটাই বিপর্যস্ত। ফলে বিজিপি, সেনাসহ মিয়ানমারের জান্তা প্রশাসনের সদস্যরা প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছেন। এ পর্যন্ত দেশটির সেনা-বিজিপি ও পুলিশ সদস্যসহ জান্তা সরকারের অনুগত ২৬৪ জন বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। এ অবস্থায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত শত শত পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
বিজিবির তথ্যমতে এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের ১৮৩ জন বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) সদস্য, চার সেনাসদস্য, চার সিআইডি সদস্য, পাঁচ পুলিশ সদস্য, স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্য নয় জন, ইমিগ্রেশনের ২০ জন ও বেসামরিক চার নাগরিক পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। এর মধ্যে গতকাল সন্ধ্যায় নতুন করে মিয়ানমারের ৩৫ নাগরিক বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে বলে বিজিবি সূত্রে থেকে জানা গেছে। তাদের নাম, পদবীসহ বিস্তারিত তথ্যের তালিকা প্রস্তুত করছেন বিজিবি সদস্যরা।
বিজিবির নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, যারা অস্ত্রসহ বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছেন, তাদের অস্ত্র জমা নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল ও চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে। কোনো রোহিঙ্গাকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। দেশের স্বার্থে সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি। রাত-দিন সমানে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি সদস্যরা টহল দিয়ে অনুপ্রবেশ বন্ধ রাখার চেষ্টা করছেন।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ১৮৩ সদস্যের মধ্যে তমব্রু বিওপির ৭৬ জন, ঘুমধুমের ৩৭ জন ও বালুখালী এলাকার ৭০ জন রয়েছেন। এ নিয়ে মোট ২২৭ জন বিজিপি সদস্য কক্সবাজার বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং বিওপিতে আরও দুই বিজিপি সদস্য রয়েছেন। এদিকে মিয়ানমারের বিজিপির আহত চার সদস্যকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন ইউপিও (৪৮), কিয়া থান সিন (২৯), কিন মং (২০) ওলানি মং (৩০)। সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে বিজিবি সদস্যরা তাদের চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তারা চারজনই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।
কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে তীব্র সংঘর্ষের মধ্যে সেখানে চাকমা সম্প্রদায়ের প্রায় ৪০০ জন এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কিছু লোক জড়ো হয়েছেন। এ অবস্থায় ওই চাকমা-রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের আশঙ্কা করছেন তিনি।
সীমান্তে গোলাগুলি কমলেও উত্তেজনা কমেনি
আমাদের কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, গতকাল বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ঘুমধুম তমব্রু ও কুতুপালং রহমতের বিল এলাকা ঘুরে জানা গেছে, সকাল থেকে মর্টার শেল ও গোলাগুলি শব্দ শোনা গেলেও বিকাল থেকে আর কোনো গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাওয়া যায়নি। তবে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখা গেলেও এলাকাবাসীর আতঙ্ক কমেনি।
রাখাইনে আরো দুই ঘাঁটি আরাকান আর্মির দখলে
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ম্রাউক ইউ ও কিয়াউকতাও শহরে জান্তা বাহিনীর আরও দুটি ঘাঁটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে আরাকান আর্মি (এএ)। গতকাল থাইল্যান্ডভিত্তিক মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতীর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয় সশস্ত্র এ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে রাজ্যের অন্য কয়েকটি এলাকায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের তুমুল লড়াই চলছে।
আরাকান আর্মি জানিয়েছে, বেশ কয়েক দিন লড়াইয়ের পর সোমবার সকালে ম্রাউক ইউ শহরে জান্তার পদাতিক বাহিনীর একটি ব্যাটালিয়নের (লাইট ইনফ্যানট্রি ব্যাটালিয়ন-এলআইবি ৩৭৮) সদর দপ্তর দখল করেছে তারা। এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি কাছের এলআইবি ৫৪০ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর দখল করা হয়। এ ছাড়া শহরের এলআইবি ৩৭৭-এর ঘাঁটিতে হামলা চালানো হচ্ছে।

 

 

 

স/ম

কাপ্তাইয়ে সড়ক দূর্ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু : আহত ২ জন

প্রাণ বাঁচাতে জান্তার ২৬৪ জন বাংলাদেশে আশ্রয়

আপডেট সময় : ০১:৪৯:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলে বাংলাদেশে দুজন নিহত হওয়ার ১২ ঘণ্টা পার না হতেই গতকাল আবারও একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ওই ব্যক্তির নাম সৈয়দ আলম (৩৮)। গতকাল নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের পশ্চিমকুল পাহাড়পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বাংলাদেশের ঘুমধুম এলাকায় এক ব্যক্তির বাড়ির উঠানে মিয়ানমারের মর্টার শেল এসে পড়েছে। এদিন সকালে ঘুমধুম ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ড মধ্যমপাড়ার সৈয়দ নূরের বাগানে এসে পড়ে মর্টার শেলটি। এমন পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকার শত শত পরিবারকে প্রশাসনের উদ্যোগে এরই মধ্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে গতকাল দুপুরে মিয়ানমার থেকে আসা গোলায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের পশ্চিমকুল পাহাড়পাড়া এলাকায় সৈয়দ আলম নামের এক বাংলাদেশি যুবক আহত হয়েছেন। তিনি ওই এলাকার কাদের হোসেনের ছেলে।
আহত সৈয়দ আলম জানান, দুপুরে বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া একটি গোলা গাছের সঙ্গে লেগে কপালে আঘাত করে। এতে কপাল ফেটে রক্তক্ষরণ শুরু হলে ক্ষতস্থান চেপে হাসপাতালে আসি। এর আগে সোমবার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জলপাইতলি এলাকায় এক বাংলাদেশি নারীসহ দুজন নিহত হন।
এ সময় আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। ঘুমধুম ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, সোমবার মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলে এক বাংলাদেশিসহ দুজন নিহত হন। এ ঘটনার পর গতকাল মঙ্গলবার ভোরে মধ্যমপাড়ার সৈয়দ নূরের আমবাগানে বেশ কিছু গুলি ও একটি মর্টার শেল এসে পড়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নানও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ২৪০ পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক (ডিসি) শাহ মুজাহিদ উদ্দিন। গতকাল দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত পরিদর্শনকালে জেলা তিনি এ নির্দেশ দেন।
ডিসি বলেন, বান্দরবান-মিয়ানমার সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান পরিস্থিতির কারণে ছাত্রছাত্রী ও সীমান্তে অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী ২৪০ পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সীমান্তবর্তী স্কুলগুলো বন্ধ ও সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে সজাগ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মো. রায়হান কাজেমী জানান, সোমবার মর্টার শেলের আঘাতে নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা হবে।
আমাদের চট্টগ্রাম ব্যুরো জানান, মিয়ানমার অভ্যন্তরের রাখাইন ও আরকান রাজ্যে বিদ্রোহী আরকান আর্মিরা মারমুখী হয়ে হামলা অব্যাহত রাখায় মিয়ানমার সেনা, সীমান্ত রক্ষা বাহিনী ও পুলিশ অনেকটাই বিপর্যস্ত। ফলে বিজিপি, সেনাসহ মিয়ানমারের জান্তা প্রশাসনের সদস্যরা প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছেন। এ পর্যন্ত দেশটির সেনা-বিজিপি ও পুলিশ সদস্যসহ জান্তা সরকারের অনুগত ২৬৪ জন বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। এ অবস্থায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত শত শত পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
বিজিবির তথ্যমতে এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের ১৮৩ জন বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) সদস্য, চার সেনাসদস্য, চার সিআইডি সদস্য, পাঁচ পুলিশ সদস্য, স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্য নয় জন, ইমিগ্রেশনের ২০ জন ও বেসামরিক চার নাগরিক পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। এর মধ্যে গতকাল সন্ধ্যায় নতুন করে মিয়ানমারের ৩৫ নাগরিক বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে বলে বিজিবি সূত্রে থেকে জানা গেছে। তাদের নাম, পদবীসহ বিস্তারিত তথ্যের তালিকা প্রস্তুত করছেন বিজিবি সদস্যরা।
বিজিবির নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, যারা অস্ত্রসহ বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছেন, তাদের অস্ত্র জমা নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল ও চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে। কোনো রোহিঙ্গাকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। দেশের স্বার্থে সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি। রাত-দিন সমানে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি সদস্যরা টহল দিয়ে অনুপ্রবেশ বন্ধ রাখার চেষ্টা করছেন।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ১৮৩ সদস্যের মধ্যে তমব্রু বিওপির ৭৬ জন, ঘুমধুমের ৩৭ জন ও বালুখালী এলাকার ৭০ জন রয়েছেন। এ নিয়ে মোট ২২৭ জন বিজিপি সদস্য কক্সবাজার বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং বিওপিতে আরও দুই বিজিপি সদস্য রয়েছেন। এদিকে মিয়ানমারের বিজিপির আহত চার সদস্যকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন ইউপিও (৪৮), কিয়া থান সিন (২৯), কিন মং (২০) ওলানি মং (৩০)। সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে বিজিবি সদস্যরা তাদের চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তারা চারজনই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।
কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে তীব্র সংঘর্ষের মধ্যে সেখানে চাকমা সম্প্রদায়ের প্রায় ৪০০ জন এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কিছু লোক জড়ো হয়েছেন। এ অবস্থায় ওই চাকমা-রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের আশঙ্কা করছেন তিনি।
সীমান্তে গোলাগুলি কমলেও উত্তেজনা কমেনি
আমাদের কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, গতকাল বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ঘুমধুম তমব্রু ও কুতুপালং রহমতের বিল এলাকা ঘুরে জানা গেছে, সকাল থেকে মর্টার শেল ও গোলাগুলি শব্দ শোনা গেলেও বিকাল থেকে আর কোনো গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাওয়া যায়নি। তবে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখা গেলেও এলাকাবাসীর আতঙ্ক কমেনি।
রাখাইনে আরো দুই ঘাঁটি আরাকান আর্মির দখলে
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ম্রাউক ইউ ও কিয়াউকতাও শহরে জান্তা বাহিনীর আরও দুটি ঘাঁটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে আরাকান আর্মি (এএ)। গতকাল থাইল্যান্ডভিত্তিক মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতীর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয় সশস্ত্র এ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে রাজ্যের অন্য কয়েকটি এলাকায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের তুমুল লড়াই চলছে।
আরাকান আর্মি জানিয়েছে, বেশ কয়েক দিন লড়াইয়ের পর সোমবার সকালে ম্রাউক ইউ শহরে জান্তার পদাতিক বাহিনীর একটি ব্যাটালিয়নের (লাইট ইনফ্যানট্রি ব্যাটালিয়ন-এলআইবি ৩৭৮) সদর দপ্তর দখল করেছে তারা। এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি কাছের এলআইবি ৫৪০ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর দখল করা হয়। এ ছাড়া শহরের এলআইবি ৩৭৭-এর ঘাঁটিতে হামলা চালানো হচ্ছে।

 

 

 

স/ম