বিআইডব্লিউটিএর উচ্ছেদ অভিযানের দ্বিতীয় দিনের মত মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে।গজারিয়ার ফুলদি নদীর তীরে বিআইডব্লিউটিএর অভিযানে দুই দিনের ধারাবাহিক অভিযানে কাঁচা পাকা মোট ১০০ টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে সক্ষম হন।
গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের রসূলপুর খেয়াঘাট এলাকায় ফুলদি নদীর তীরের আশপাশের অবৈধ অবকাঠামোর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে বিআইডব্লিউটিএ।
বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাছলিমা আক্তার এর নেতৃত্বে বৃহঃস্পতিবার সকালে থেকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বিকেল ৪ টা পর্যন্ত।
এ সময় বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্টেট তাছলিমা আক্তার জানান,গজারিয়া উপজেলার মেঘনা নদী শাখা নদীর তীরবর্তী এলাকা ফুলদি নদীর মোহনায় রসুলপুর খেয়াঘাটের আশেপাশে অবৈধভাবে দখল করে রাখা নদীর তীরে স্থাপনা উদ্ধার করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনায় সারাদেশে বিআইডব্লিউটিএ অধীনে নদীর তীরবর্তী এলাকা রক্ষায় প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।বুধবার ও বৃহস্পতিবার টানা দুইদিনের অভিযানে সর্বমোট ১০০টি স্থাপনা ভেঙে জমি উদ্ধার করেছি।যে যত ক্ষমতাসীন হোক না কেনো, কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা। এখানে যারাই দখলদার থাকুক না কেন কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
রসুলপুর খেয়াঘাটের পাশে আওয়ামী লীগের অস্থায়ী পার্টি অফিসটিও বিআইডব্লিউটিএর তালিকায় নদীর সীমানার আওতায় পরে,বিআইডব্লিউটিএর কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে অপসারণের জন্য তিন দিনের সময় চেয়ে নেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনসুর আহমেদ খান জিন্নাহ।মনসুর আহমেদ খান জিন্নাহ আরো বলেন,আমরাও চাই সরকারের কাজে সহায়তা করতে,তাই অতি দ্রুত আমাদের উপজেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী পার্টি অফিসটি নির্দিষ্ট স্থানে সরিয়ে নেব।
বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনায় অভিযান পরিচালনা করছি,গতকাল এবং আজ বৃহস্পতিবার মোট ১০০টি কাচা পাকা বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা উচ্ছেদ করে জমি উদ্ধার করেছি। দুই দিনে দুটি ড্রেজিং এর পাইব ও একটি ড্রেজার ভেঙে ঘুরিয়ে পানিতে ডুবিয়ে দেয়া হয়েছে।তাছাড়া নদীর প্রবাহ রুদ করে নদীতে মাছ শিকারের জন্য অবৈধ ঝোপ তৈরি করায় একাধিক ঝোপ(ছোপ)ভেঙে দিয়েছি।যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছি, কর্মসূচি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাজ অব্যাহত থাকবে।
এ সময় মেঘনা হিমাগারের কর্মচারীদের থাকার বাসস্থান একটি সেট ভেঙে দেয়া হয়েছে।উদ্ধার অভিযানের এক পর্যায়ে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কান্নায় ভেঙে পরেন।তিনি অভিযোগ করে তারা বাবা এবং সে মিলে ৪০ বছর যাবত একি স্থানে ব্যবসা করে আসছি।আমাদের যদি দোকান গুলো ভেঙে দেয়া হবে আগে জানাতো তাহলে আমরা সব কিছু সরিয়ে নিতাম।তারা বলেছে রাস্তার পাশের নদীর সাইটের দোকান গুলো ভাঙবে।আমি ১০ মিনিট সময় চাইলাম আমাকে ১০ মিনিট সময় ও দিলো না তারা।এখন আমার পরিবার নিয়ে কোথায় যাবো কি খাবো!এ বলে কান্নায় ঢলে পরে সে।
বিআইডব্লউটিএ এর এই অভিযান পরিচালনা করার জন্য সার্বিক আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে গজারিয়া থানার সেকেন্ড অফিসার নুরুল হুদা নৌ পুলিশ,ফায়ার ফাইটার ফোর্স উপস্থিত ছিল।





















