১১:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

এক স্কুলে এক শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম, ঝড়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থী

জামালপুরের মেলান্দহে নয়ানগর ইউনিয়নে অবস্থিত  পাঁচ নং চর উওর রুস্তম আলী মাস্টার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই বিদ্যালয়টি শিক্ষট সংকট দিয়ে যাত্রা শুরু করে। এরপর সংকট কেবল বেড়েছে কোনো সুরাহা হয়নি। মাঝখানে অন্য বিদ্যালয় থেকে ডেপুটেশনে আসা এক শিক্ষক দিয়ে ক্লাস কার্যক্রম শুরু করলেও ২০২২ সালের ডিসেম্বর  তিনি বদলি হয়ে যান। এখন শিক্ষক মাত্র একজন তিনি প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহ জামাল। সকালে এসে স্কুলের তালা খোলা, পতাকা টানানো এবং স্কুল ছুটির পর বন্ধের কাজটিও তাকে করতে হয়। এলাকার কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না করার জন্য নিজের শত কষ্ট হলেও পর্যায়ক্রমে ৫ জন শিক্ষকের কাজ একাই করছেন তিনি। তবে তা মান সম্পন্ন হচ্ছে না বলে স্বীকার করলেন।

বিদ্যালয়টি চরাঞ্চল এলাকায় ও দুই কিলোমিটার রাস্তার বেহাল অবস্থায় কোন শিক্ষক আসতে চায় না ওই বিদ্যালয়ে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শূন্য রয়েছে   ৪ জন সহকারী শিক্ষকের পদ ।এমতাবস্থায় একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে সব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ফলে অর্ধেক শিক্ষার্থীই চলে যাচ্ছে অন্য প্রতিষ্ঠানে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির এই বেহাল অবস্থা থাকলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি উপজেলা শিক্ষা অফিস। এতে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

তবে, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন, ‘আমাদের নজরে আসছে বিষয়টি। এ নিয়ে আমরা কাজ করছি। এ বিষয়ে একটা প্রস্তাব প্রেরণ করলে আশা করি শিক্ষক সংকটের সমাধান হয়ে যাবে’দু’একদিনের মধ্যেই ডেপুটেশনে শিক্ষক আমরা দিয়ে দিব ওই বিদ্যালয়ে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ,’নিরব নিস্তব্ধ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ও দুটি শ্রেণীর কক্ষ তালাবদ্ধ, তবে একটি শ্রেণিকক্ষ খোলা রয়েছে।শ্রেণিকক্ষের ভিতর ঢুকতেই দেখা যায় ১০ জন শিক্ষার্থী ও প্রধান শিক্ষককে। শ্রেণিকক্ষে তৃতীয় শ্রেণীর চার জন শিক্ষার্থী, চতুর্থ শ্রেণীর দুইজন শিক্ষার্থী ও পঞ্চম শ্রেণির চারজন শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে পাঠদান দিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক শাহ জামাল। এ তিন ক্লাসের শিক্ষার্থীরা এক শ্রেণিকক্ষে পাশাপাশি বসে ক্লাস করছেন। যদিও স্কুলের হাজিরা খাতা অনুযায়ী বিদ্যালয়টির মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭০ জন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে,’২০১৬ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ হওয়ার পর থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। শুরু থেকেই প্রধান শিক্ষক মাঝ শাহ জামাল ও মাঝ সময়ে অন্য বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক শিক্ষক ডেপুটেশনে এখানে ছিলেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে সহকারী শিক্ষক বদলি হয়ে চলে যান। তাঁর পরে বিদ্যালয়ে আর কোন সহকারী শিক্ষক আসেনি। ৪ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বিদ্যালয়ে খাতা কলমে ছয়টি শ্রেণীতে মোট শিক্ষার্থী রয়েছেন ৭২ জন। এদের মধ্যে  প্রাক-প্রাথমিকে ১০ জন শিক্ষার্থী, প্রথম শ্রেণীতে ১০ জন, দ্বিতীয় শ্রেণীতে ১২ জন, তৃতীয় শ্রেণীতে ১২ জন, চতুর্থ শ্রেণীতে ১৩ জন ও পঞ্চম শ্রেণিতে ১২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

এ নিয়ে স্থানীয়রা জানান,’ এ স্কুলটি চর এলাকায়। স্কুলে আসার রাস্তাঘাট একদমই খারাপ। কোন শিক্ষক স্কুলে আসতে চান না কাঁচা রাস্তা দেখে। বর্ষার সময় পায়ে হেটেও চলাচল করা যায় না। তাই কোন শিক্ষকও এই স্কুলে চাকরি করতে চান না। প্রধান শিক্ষক শাহ জামাল ছাড়া কেউ নেই। প্রধান শিক্ষক একাই স্কুলের সকল কাজ করেন।

চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোছাঃ জান্নাতুল তিথি বলেন,’আগে ছাত্র-ছাত্রী বেশি ছিল, স্যার নাই দেইখা অন্য স্কুলে চলে গেছে। আমাদের স্যার একজন আছে, আর স্যার কেউ নাই। একাই আমাদের সব ক্লাস নেন।

তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী আল সাফি বলেন,’আমাদের ক্লাসে আমরা দুইজন ছাত্রছাত্রী আজ স্কুল আইছি, ক্লাস থ্রি ,ফোর ফাইভ সবার একসাথে ক্লাস নেন স্যারে।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও ছাত্র অভিভাবক আনোয়ার হোসেন বলেন,’ বছরের পর বছর ধরেই শিক্ষক সংকট চলছে। কর্তৃপক্ষের কাছে বহুবার এ সমস্যার কথা বলেছি কিন্তু কোনো সুরাহ হয়নি। শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার আগে শিক্ষকেরা আগেই এসে স্কুল দেখে আসতে চায় না, কারণ স্কুলে আসার রাস্তাঘাট খারাপ এবং স্কুলটি চর অঞ্চলে হওয়ায় কোন শিক্ষক এই স্কুলে আসতে চায় না। শিক্ষক সংকটে চরম কষ্টে আমরা দিন পার করছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহ জামাল বলেন,’খুব কষ্টে রয়েছি, বিদ্যালয়ে আমি ছাড়া আর কেউ নাই। আমার একাই সব কাজ করতে হয়। ২০১৬ সালের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৭ সাল থেকে ডেপুটেশনের মাধ্যমে দুইজন শিক্ষক ছিলাম। ২০২২ সালের শেষের দিকে সে  শিক্ষক বদলি হয়ে অন্য জায়গায় চলে যান। তারপর থেকে আমি একাই রয়েছি। প্রতিদিন আমার একাই ক্লাস নিতে হয়। কষ্ট হলেও বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে যাচ্ছি। এদিকে শিক্ষক না থাকাই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কমে গেছে।

তিনি আরো বলেন,’শিক্ষকেরা আসতে চান না মূল কারণ হচ্ছে বিদ্যালয়ে আসার রাস্তাঘাট খুবই খারাপ, এ বিদ্যালয়টি চর অঞ্চল এলাকায়। বর্ষার সময় পায়ে দুই কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে আসতে হয়। এসময় মোটরসাইকেল দিয়ে কোনরকম আসা যায় এছাড়া কোন গাড়ি-ঘোড়া চলে না। বর্তমানে রাস্তার দুই পাশেই ভুট্টা খেত রাস্তা দিয়ে একা আসাও ভীতিকর পরিবেশ।

আমাদের স্কুলে শিক্ষক দেওয়া অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করবেন বলে আশা করি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী চকদার বলেন,’আমি নতুন এসেছি পরে আমাদের নজরে আসছে বিষয়টি, এ নিয়ে আমরা কাজ করছি। এ বিষয়ে একটা প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে আশা করি শিক্ষক সংকটের সমাধান হয়ে যাবে। দু’একদিনের মধ্যেই ডেপুটেশনে শিক্ষক আমরা দিয়ে দিব ওই বিদ্যালয়ে।’

এ বিষয়ে জামালপুরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এম এম মিজানুর রহমান বলেন,’এই বিষয় নিয়ে আমি না জেনে কিছু বলতে পারব না এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকে জানতে হবে।’

এক স্কুলে এক শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম, ঝড়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থী

আপডেট সময় : ০৫:৩০:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

জামালপুরের মেলান্দহে নয়ানগর ইউনিয়নে অবস্থিত  পাঁচ নং চর উওর রুস্তম আলী মাস্টার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই বিদ্যালয়টি শিক্ষট সংকট দিয়ে যাত্রা শুরু করে। এরপর সংকট কেবল বেড়েছে কোনো সুরাহা হয়নি। মাঝখানে অন্য বিদ্যালয় থেকে ডেপুটেশনে আসা এক শিক্ষক দিয়ে ক্লাস কার্যক্রম শুরু করলেও ২০২২ সালের ডিসেম্বর  তিনি বদলি হয়ে যান। এখন শিক্ষক মাত্র একজন তিনি প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহ জামাল। সকালে এসে স্কুলের তালা খোলা, পতাকা টানানো এবং স্কুল ছুটির পর বন্ধের কাজটিও তাকে করতে হয়। এলাকার কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না করার জন্য নিজের শত কষ্ট হলেও পর্যায়ক্রমে ৫ জন শিক্ষকের কাজ একাই করছেন তিনি। তবে তা মান সম্পন্ন হচ্ছে না বলে স্বীকার করলেন।

বিদ্যালয়টি চরাঞ্চল এলাকায় ও দুই কিলোমিটার রাস্তার বেহাল অবস্থায় কোন শিক্ষক আসতে চায় না ওই বিদ্যালয়ে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শূন্য রয়েছে   ৪ জন সহকারী শিক্ষকের পদ ।এমতাবস্থায় একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে সব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ফলে অর্ধেক শিক্ষার্থীই চলে যাচ্ছে অন্য প্রতিষ্ঠানে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির এই বেহাল অবস্থা থাকলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি উপজেলা শিক্ষা অফিস। এতে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

তবে, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন, ‘আমাদের নজরে আসছে বিষয়টি। এ নিয়ে আমরা কাজ করছি। এ বিষয়ে একটা প্রস্তাব প্রেরণ করলে আশা করি শিক্ষক সংকটের সমাধান হয়ে যাবে’দু’একদিনের মধ্যেই ডেপুটেশনে শিক্ষক আমরা দিয়ে দিব ওই বিদ্যালয়ে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ,’নিরব নিস্তব্ধ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ও দুটি শ্রেণীর কক্ষ তালাবদ্ধ, তবে একটি শ্রেণিকক্ষ খোলা রয়েছে।শ্রেণিকক্ষের ভিতর ঢুকতেই দেখা যায় ১০ জন শিক্ষার্থী ও প্রধান শিক্ষককে। শ্রেণিকক্ষে তৃতীয় শ্রেণীর চার জন শিক্ষার্থী, চতুর্থ শ্রেণীর দুইজন শিক্ষার্থী ও পঞ্চম শ্রেণির চারজন শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে পাঠদান দিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক শাহ জামাল। এ তিন ক্লাসের শিক্ষার্থীরা এক শ্রেণিকক্ষে পাশাপাশি বসে ক্লাস করছেন। যদিও স্কুলের হাজিরা খাতা অনুযায়ী বিদ্যালয়টির মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭০ জন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে,’২০১৬ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ হওয়ার পর থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। শুরু থেকেই প্রধান শিক্ষক মাঝ শাহ জামাল ও মাঝ সময়ে অন্য বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক শিক্ষক ডেপুটেশনে এখানে ছিলেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে সহকারী শিক্ষক বদলি হয়ে চলে যান। তাঁর পরে বিদ্যালয়ে আর কোন সহকারী শিক্ষক আসেনি। ৪ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বিদ্যালয়ে খাতা কলমে ছয়টি শ্রেণীতে মোট শিক্ষার্থী রয়েছেন ৭২ জন। এদের মধ্যে  প্রাক-প্রাথমিকে ১০ জন শিক্ষার্থী, প্রথম শ্রেণীতে ১০ জন, দ্বিতীয় শ্রেণীতে ১২ জন, তৃতীয় শ্রেণীতে ১২ জন, চতুর্থ শ্রেণীতে ১৩ জন ও পঞ্চম শ্রেণিতে ১২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

এ নিয়ে স্থানীয়রা জানান,’ এ স্কুলটি চর এলাকায়। স্কুলে আসার রাস্তাঘাট একদমই খারাপ। কোন শিক্ষক স্কুলে আসতে চান না কাঁচা রাস্তা দেখে। বর্ষার সময় পায়ে হেটেও চলাচল করা যায় না। তাই কোন শিক্ষকও এই স্কুলে চাকরি করতে চান না। প্রধান শিক্ষক শাহ জামাল ছাড়া কেউ নেই। প্রধান শিক্ষক একাই স্কুলের সকল কাজ করেন।

চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোছাঃ জান্নাতুল তিথি বলেন,’আগে ছাত্র-ছাত্রী বেশি ছিল, স্যার নাই দেইখা অন্য স্কুলে চলে গেছে। আমাদের স্যার একজন আছে, আর স্যার কেউ নাই। একাই আমাদের সব ক্লাস নেন।

তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী আল সাফি বলেন,’আমাদের ক্লাসে আমরা দুইজন ছাত্রছাত্রী আজ স্কুল আইছি, ক্লাস থ্রি ,ফোর ফাইভ সবার একসাথে ক্লাস নেন স্যারে।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও ছাত্র অভিভাবক আনোয়ার হোসেন বলেন,’ বছরের পর বছর ধরেই শিক্ষক সংকট চলছে। কর্তৃপক্ষের কাছে বহুবার এ সমস্যার কথা বলেছি কিন্তু কোনো সুরাহ হয়নি। শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার আগে শিক্ষকেরা আগেই এসে স্কুল দেখে আসতে চায় না, কারণ স্কুলে আসার রাস্তাঘাট খারাপ এবং স্কুলটি চর অঞ্চলে হওয়ায় কোন শিক্ষক এই স্কুলে আসতে চায় না। শিক্ষক সংকটে চরম কষ্টে আমরা দিন পার করছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহ জামাল বলেন,’খুব কষ্টে রয়েছি, বিদ্যালয়ে আমি ছাড়া আর কেউ নাই। আমার একাই সব কাজ করতে হয়। ২০১৬ সালের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৭ সাল থেকে ডেপুটেশনের মাধ্যমে দুইজন শিক্ষক ছিলাম। ২০২২ সালের শেষের দিকে সে  শিক্ষক বদলি হয়ে অন্য জায়গায় চলে যান। তারপর থেকে আমি একাই রয়েছি। প্রতিদিন আমার একাই ক্লাস নিতে হয়। কষ্ট হলেও বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে যাচ্ছি। এদিকে শিক্ষক না থাকাই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কমে গেছে।

তিনি আরো বলেন,’শিক্ষকেরা আসতে চান না মূল কারণ হচ্ছে বিদ্যালয়ে আসার রাস্তাঘাট খুবই খারাপ, এ বিদ্যালয়টি চর অঞ্চল এলাকায়। বর্ষার সময় পায়ে দুই কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে আসতে হয়। এসময় মোটরসাইকেল দিয়ে কোনরকম আসা যায় এছাড়া কোন গাড়ি-ঘোড়া চলে না। বর্তমানে রাস্তার দুই পাশেই ভুট্টা খেত রাস্তা দিয়ে একা আসাও ভীতিকর পরিবেশ।

আমাদের স্কুলে শিক্ষক দেওয়া অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করবেন বলে আশা করি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী চকদার বলেন,’আমি নতুন এসেছি পরে আমাদের নজরে আসছে বিষয়টি, এ নিয়ে আমরা কাজ করছি। এ বিষয়ে একটা প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে আশা করি শিক্ষক সংকটের সমাধান হয়ে যাবে। দু’একদিনের মধ্যেই ডেপুটেশনে শিক্ষক আমরা দিয়ে দিব ওই বিদ্যালয়ে।’

এ বিষয়ে জামালপুরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এম এম মিজানুর রহমান বলেন,’এই বিষয় নিয়ে আমি না জেনে কিছু বলতে পারব না এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকে জানতে হবে।’