কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা ডাকঘর ভবনটি যে কোনো সময় ধ্বসে পড়ে প্রাণহানীর আশংকায় আতঙ্কিত কর্মকর্তা কর্মচারীরা। ইতোপূর্বে ২টি কক্ষ ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ার বিষয়টি জানালেও তা নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের।
জানা গেছে, উপজেলা সদরের কুড়িগ্রাম চিলমারী সড়ক লাগোয়া সরকারী প্রায় ২০ শতক জমির উপর ১৯৮০ সালে নির্মীত হয়েছে ডাকঘর ভবনটি। মাঝে মাঝে সংস্কার করলেও এখন ভবনটি ধ্বসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ভবনে ছোট বড় মিলে ৫টি কক্ষ থাকলেও ছাদ হতে পানি চুইয়ে পড়ার কারণে ২টি কক্ষ ইতোপূর্বে ব্যবহার অনুপযোগী হয়েছে। অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জায়গা না থাকায় সেখানে রয়ে গেছে সরকারী মূল্যবান কাগজপত্র। ছাদের অধিকাংশ স্থান হতে সিমেন্ট সুরকী খসে পড়েছে। রডে মড়িচা ধরে কিছু কিছু ভেঙ্গে গেছে। ভবনের উত্তর দিকের ওয়ালে দেখে দিয়েছে ফাঁটল। চরম নিরাপত্তাহীনতায় থেকে সেবা প্রত্যাশীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে ১৪/১৫ জন কর্মকর্তা কর্মচারী।
উপজেলার ডাকঘর ভবনের এমন ভগ্নদশার স্থির চিত্র পাঠিয়ে ডাক বিভাগের রাজশাহী উত্তরাঞ্চল পোস্টমাস্টার জেনারেল এর কাছে ২০২২ সালের ৪ অক্টোবরে একটি আবেদন করেন তৎকালীন উপজেলা পোস্টমাস্টার আবু সাঈদ। দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর ওই দপ্তরে আবারও একটি চিঠি লিখেন বর্তমানে কর্মরত পোস্টমাস্টার শহিদুল হক।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিনের মতো সেবা নিতে আসা সেবা প্রত্যাশীদের ভীড়। পাশেই সড়ক দিয়ে একটি মালবাহী ট্রাক যাওয়ার সময় কেঁপে ওঠে ডাকঘর ভবন। ভুমিকম্প ভেবে বাইরে দৌড় দেন ২ সেবা প্রত্যাশী। জানা যায়, এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে। ডাকঘরে কর্মরতদের মাঝেও এমন আতঙ্ক থাকে সব সময়। তাদের চাকুরীর কারণে আতঙ্ক মাথায় নিয়েই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা।
এ ব্যপারে ডাক বিভাগ উত্তরাঞ্চল রাজশাহীর পোস্টমাস্টার জেনারেল কাজী আসাদুল ইসলাম সবুজ বাংলাকে জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে ডাক অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আগামী প্রকল্পে অন্যান্য ভবনের সাথে উলিপুর ডাকঘর ভবন নির্মাণের দরপত্র হবে।
স/মিফা





















