◉ নগরবাসীর যাতায়াতে দুর্ভোগ
◉ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহন, দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে
মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ফ্লাইওভারের মতো মেগা প্রকল্পের ফলে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দীর্ঘদিন যান চলাচলে বাধা ছিল। এসব মেগা প্রকল্পে বাস্তবায়িত হওয়ার পর উপর দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের সুযোগ মিলছে নগরবাসীর। তবে নিচের সড়কগুলোর সংস্কার করা যান চলাচলে বাধা ছিল। এসব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার পর উপর দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের সুযোগ মিলছে নগরবাসীর। তবে নিচের সড়কগুলোর সংস্কার করা হয়েছে জোড়াতালি দিয়ে। ফলে অধিকাংশ সড়কেই দেখা যায় উঁচু-নিচু। অমসৃণ সড়কে নগরবাসীর দুর্ভোগের পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহন, দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
রাজধানীর উত্তরা-মতিঝিল অংশে মেট্রোরেলের কাজ শেষ হওয়ার পর সড়কের মাঝ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় নিরাপত্তা ব্যারিকেড। পরে সড়কগুলো সংস্কার ও বিভিন্ন জায়গায় প্রশস্ত করা হয়েছে। তবে নতুন সংস্কার কাজের পরও সড়কগুলো মসৃণ হয়নি। একই অবস্থা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায়ও। মিরপুর রোড, বনানী থেকে মহাখালী রোড, দৈনিক বাংলা থেকে প্রেস ক্লাব, কাকরাইল মসজিদ থেকে নাইটিংগেল মোড়, তেজগাঁও রোড, কারওয়ানবাজার থেকে হাতিরঝিল, নতুন বাজার, আবুল হোটেল থেকে টিভি সেন্টার, কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের সড়কসহ অধিকাংশ সড়কই অমসৃণ।
বিভিন্ন বাহনের চালকরা বলছেন, উঁচু-নিচুর কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, যার বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছেন বাইক চালকরা। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে বাইক স্লিপ করে দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে। বাস ও গাড়ির যন্ত্রাপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া, ঝাকুনিতে প্রভাব পড়ছে শরীরেও। বিশেষ করে রাতে ফাঁকা রাস্তায় দ্রুত গাড়ি চালিয়ে আসার সময় বা দিনে ওভার টেকিংয়ের সময় সমস্যায় পড়তে হয় তাদের। এছাড়া অমসৃণ সড়কের কারণে অন্যান্য গাড়িচালকরাও এদিক-সেদিক করে চালালে বাস চালকদের সমস্যা হয়।
আর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপরের কাজ সুন্দরভাবে করলেও নিচের কাজে দেওয়া হয়েছে জোড়তালি। দ্রুত টাকা তুলতে দায়সারাভাবে কাজ করা হয়েছে এসব। ফলে উপরে স্বস্তি মিললেও নিচের রাস্তায় স্বস্তি নেই।
দৈনিক বাংলা মোড়ে কথা হয় পাঠাও চালক দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, গাড়িতে গতি তুলতে ভয় লাগে। এই উঁচু আবার এই নিচু। রাস্তার এক পাশ সমান, আরেকপাশ পুরোপুরি ঢালু। বাইকের চাকা স্লিপে কেটে বেশি দূরে সরে যায়। পেছন থেকে গাড়ি আসলে সামলানো কঠিন হয়।
শাহবাগ মোড়ে কথা হয় রিকশাচালক সানোয়ারের সঙ্গে। তিনি বলেন, রাস্তা উঁচু আর নিচু। না দেখলে রিকশা লাফ দেয়। যাত্রীরা রাগারাগি করে। শরীরে ব্যথা লাগে তাদের। এ কারণে চোখ খুলে চালাতে হয়।
পল্টন মোড়ে কথা হয় আজমেরি গ্লোরি বাসের চালক সাইফুলের সঙ্গে। তিনি বলেন, বাইক চালকদের রাস্তার উঁচু ভাঁজে স্লিপ কেটে পড়ে যেতে দেখেছি অনেকবার। আর সিএনজি, রিকশা, প্রাইভেটকার এদিক-ওদিক করে ফলে এক্সিডেন্টে হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
আর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মাহাবুব আলম তালুকদার বলেন, ঢাকায় যানজটের কারণে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কম। কিন্তু দুর্ঘটনা হবে না বলা যাবে না। আর অমসৃণ সড়কের মূল ক্ষতি হলো গাড়ির। বিশেষ করে ঢাকার অধিকাংশ বাস ফিটনেসবিহীন। এসব বাসের যন্ত্রপাতি নষ্ট হবে।
এ বিষয়ে নৌ, সড়ক, রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে বলেন, এই কাজগুলো যারা করেছে দায়সারাভাবে করেছে। বিদেশি প্রকল্পের কাজ, দ্রুত টাকা তুলতে কোনোরকমে জোড়াতালি দিয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এতে যেমন চালকরা অসুবিধায় পড়ছেন, দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেশি থাকছে। আর যাদের দায়িত্ব ছিল দেখভাল করার তারাও ঠিকঠাকভাবে কাজ বুঝে নেয়নি। নাহলে এমন হওয়ার কথা না।

























