•রমজানে আকসায় নামাজ পড়তে পারবেন ফিলিস্তিনিরা
টানা পাঁচ মাস ধরে দখলদার ইসরায়েলের আগ্রাসনে অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় তীব্র মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় খাদ্য সরবরাহকারী গাড়ীগুলো ইসরায়েলি বাহিনী অবরুদ্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। সংস্থাটি বলেছে, ত্রাণবাহী ১৪টি লরির কনভয়কে একটি চেকপয়েন্ট থেকে ‘ফিরিয়ে’ দেওয়া হয়েছে এবং পরে ‘উন্মত্ত একদল লোক’ এগুলো লুট করে। যার পরিমাণ প্রায় ২০০ টন খাবার লুট করে। এদিকে বিগত বছরগুলোর মতো চলতি বছরেও আসন্ন রমজানে পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ফিলিস্তিনি মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে পারবেন বলে জানিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এক বিবৃতি দিেেছ। তবে প্রতি সপ্তাহে জেরুজালেম ও টেম্পল মাউন্ট এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে।
গতকাল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবদনে বলা হয়েছে, দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো উত্তর গাজায় খাদ্য সহায়তা আনার প্রচেষ্টা চালানো হলেও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সেটি অবরুদ্ধ করে দিয়েছে বলে ডব্লিউএফপি জানিয়েছে। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন একদিন আগেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানায়, উত্তর গাজায় শিশুরা অনাহারে মারা যাচ্ছে।
এক বিবৃতিতে ডব্লিউএফপি বলেছে, গাজার উত্তরাঞ্চলে ব্যাপকভাবে প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করার প্রচেষ্টা মঙ্গলবার থেকে আবার শুরু হয়েছে। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা অনেকাংশেই ব্যর্থ হয়েছে। ওয়াদি গাজা চেকপয়েন্টে তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ১৪টি লরির ওই কনভয়টিকে ফিরিয়ে দেয়। এরপর ট্রাকগুলোকে অন্য রুটে যেতে বলা হয় এবং একপর্যায়ে ‘পরে বিশাল সংখ্যক উন্মত্ত মানুষ কনভয়টিকে থামিয়ে দেয় এবং পরে তারা ট্রাকগুলো থেকে প্রায় ২০০ টন খাবার লুট করে। এর আগে, গত ১৫ দিনের মধ্যে উত্তর গাজায় খাদ্য সরবরাহের জন্য এটিই ছিল ডব্লিউএফপির প্রথম কোনো প্রচেষ্টা। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে গাজার উত্তরাঞ্চলে খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয় ডব্লিউএফপি।
রমজানে আকসায় নামাজ পড়তে পারবেন ফিলিস্তিনিরা : গত মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিগত বছরগুলোতে রমজানের প্রথম সপ্তাহে যত সংখ্যক মুসল্লি টেম্পল মাউন্টে (আল-আকসা) আসতেন, এ বছরও তাতে কোনো ব্যতিক্রম হবে না। তবে প্রতি সপ্তাহে জেরুজালেম ও টেম্পল মাউন্ট এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। তার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বার্তাসংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আসন্ন রমজানে আল-আকসায় মুসল্লিদের প্রবেশের পক্ষে ছিলো না ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতামার বেন গিভির বলেছিলেন, এবারের রমজানে আল-আকসায় পশ্চিম তীরের মুসল্লিদের প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত হবে না। প্রথমত, এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ, আমরা এখন এই ঝুঁকি নিতে পারি না। দ্বিতীয়ত, যেখানে আমাদের নারী ও শিশুরা গাজায় জিম্মি হিসেবে আটক রয়েছে, সেখানে টেম্পল মাউন্টে হামাস তা উদযাপন করবে- এাও আমরা হতে দিতে পারি না। তার এই মন্তব্যের পর সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র রমজানে আল আকসায় মুসল্লিদের নামাজ পড়তে দিতে ইসলায়েলকে আহ্বান জানায়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, এটি কেবল মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়াই নয়, বরং ইসরায়েলের নিরাপত্তার সঙ্গেও ব্যাপারটি সম্পর্কিত। পশ্চিম তীরে বা বৃহত্তর অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়ালে তা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হবে।
এবার গাজায় সমুদ্রপথে ত্রাণ পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্র : ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় সাগরপথে (মেরিটাইম করিডোর) ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মেরিটাইম করিডোর গঠনের জন্য ইতোমধ্যে তৎরতা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি গাজায় বিমান থেকে খাদ্যদ্রব্য ফেলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা জন কিরবি বলেন, আমাদের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনে আগে বেশ কয়েক বার গাজায় ত্রাণ ও মানবিক সহায়তার প্রবাহ বৃদ্ধির বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়েছেন। মেরিটাইম করিডোরের মাধ্যমে গাজায় ত্রাণ সরবরাহের চিন্তাটিও তার মন থেকেই এসেছে। গাজার বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের জীবন বাঁচাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিভিন্ন তৎপরতা চলছে। এটিও সেসব তৎপরতার অংশ।
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৩০,৭১৭ : গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরো ৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ৭ অক্টোবরের সন্ত্রাসী হামলার পর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৩০ হাজার ৭১৭ জন এবং আহত হয়েছেন ৭২ হাজার ১৫৬ জন। গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি: কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা : ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির বিষয়ে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলির বিরুদ্ধে মামলা করছেন ফিলিস্তিনি কানাডিয়ান ও মানবাধিকার আইনজীবীরা। তারা বলছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্ত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে কানাডার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করে বলে প্রতীয়মান হয়। গত মঙ্গলবার মেলানি জোলির বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের হয়। মামলায় কানাডার ফেডারেল আদালতের প্রতি ইসরায়েলের জন্য নির্ধারিত সামরিক পণ্য ও প্রযুক্তি রপ্তানিতে সরকারের অনুমতি দেওয়া বন্ধ করতে আবেদন করে বাদীপক্ষ। তারা আদালতের কাছে এ ধরনের অনুমতি দেওয়াকে বেআইনি বলে গণ্য করতেও আহ্বান জানান। খবর আল জাজিরার। সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২২ সালে ইসরায়েলে কানাডিয়ান অস্ত্র রপ্তানি মোট ১৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। কানাডিয়ান ডলারের হিসাবে এটি ২১ দশমিক ৩ মিলিয়ন। সরকারি তথ্য উদ্ধৃত করে, দ্য ম্যাপেল নিউজ ওয়েবসাইট গত ফেব্রুয়ারিতে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে উল্লেখ করা হয়, গাজায় সংঘটিত যুদ্ধে কানাডা প্রথম দুই মাসে ইসরায়েলে নতুন সামরিক রপ্তানির জন্য কমপক্ষে ২০ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার (২৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন কানাডিয়ান) অনুমোদন করেছে। প্রতিবেদনটি কানাডাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এ নিয়ে বিক্ষোভও হয়। বিক্ষোভকারীরা এমন রপ্তানি বন্ধ করার আহ্বান জানান।
























