০২:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পিএইচডি ডিগ্রি চালুর অপেক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

➤কার্যকর উদ্যোগ নেই ইউজিসির
➤ পিছিয়ে পড়ছে বিশ্বর‌্যাঙ্কিংয়ে

উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়নে গবেষণার প্রতি জোর দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট সব মহল। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) পক্ষ থেকেও দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও মেধাবীদের গবেষণায় বৃত্তি প্রদান করে থাকে। অনেকে গবেষণার জন্য বিদেশের বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়েও পাড়ি জমান। তবে এখনো পিএইচডি ডিগ্রি চালু হয়নি দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা দাবি-দাওয়া জানিয়ে আসছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে বেশ আগ্রহ দেখানো হয়েছে। তবে বাস্তবে এই বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ে পিএইচডি ডিগ্রি চালুর কোন অগ্রগতি নেই বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান অনেক পেছনে। তবে তুলনামূলক কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় অন্যদিক থেকে মান ভালো করলেও পিএইচডি ডিগ্রি চালু না থাকায় সার্বিক মানে পিছিয়ে যাচ্ছে। তাই অন্তত প্রথম সারির বিশ^বিদ্যালয়গুলোকে দ্রুত এই ডিগ্রি চালুর সুযোগ দেয়ার দাবি উঠেছে। এজন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

দেশের কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রির অনুমোদন দেওয়ার সময় এসেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর আফতাবনগর খেলার মাঠে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩তম সমাবর্তনে বক্তব্যকালে তিনি এ কথা জানান।
সমাবর্তনে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানের কথা উল্লেখ করে এমফিল এবং পিএইচডি গবেষণার সুযোগ দেয়ার দাবি জানান।

পরবর্তীতে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, সরকার পাবলিক বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির মতো দেশের কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এখন এমন মানে উত্তীর্ণ হয়েছে যে, তাদের আরো উচ্চতর গবেষণা অর্থাৎ এমফিল/পিএইচডি ডিগ্রির অনুমতি দেয়ার সময় এসেছে। একই সঙ্গে দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মূল্যবোধ, দক্ষতা এবং জ্ঞানের সমন্বয়ে এমন গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে হবে যেন তারা সারা পৃথিবীর যে কোন জায়গায় কাজ করার সামর্থ্য রাখে। পাশাপাশি সরকার আরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
ইউজিসির সর্বশেষ প্রতিবেদন সূত্রমতে, উচ্চ শিক্ষাকার্যক্রমের জন্য দেশে ৫৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ১১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি চালু নেই।

এ বিষয়ে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইচ-চ্যান্সেলর সবুজ বাংলাকে বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক পিএইচডি ডিগ্রিধারীসহ মানসম্মত শিক্ষক আছেন। আমাদের স্নাতক-স্নাতকোত্তর ডিগ্রির অনেক মান থাকলেও পিএইচডি ডিগ্রি চালু না থাকায় বিশ্বর‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে যাচ্ছি। তাছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে পিএইচডি ডিগ্রি চালু না থাকায় অনেকে বিদেশে চলে যাচ্ছেন। প্রথম সারির অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এই ডিগ্রি দিতে সক্ষম বলে তিনি মনে করেন।

এই উপাচার্য আরও বলেন, দেশের সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পিএইচডি ডিগ্রি চালুর যোগ্য ও আগ্রহী না হলেও যাদের সক্ষমতা আছে তাদের এ সুযোগ দেয়া উচিত। এজন্য সরকার প্রয়োজনীয় নীতিমালা করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনুমতি দিতে পারে।

জানা গেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ডিগ্রি চালুর বিষয়ে ইউজিসি কর্তৃপক্ষও আগ্রহী। এ বিষয়ে নীতিমালা তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে সেই উদ্যোগের কোনো অগ্রগতি নেই বলে গতকাল ইউজিসির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্র সংসদে ভোটের ফল জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না: মির্জা ফখরুল

পিএইচডি ডিগ্রি চালুর অপেক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট সময় : ০৭:১২:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মার্চ ২০২৪

➤কার্যকর উদ্যোগ নেই ইউজিসির
➤ পিছিয়ে পড়ছে বিশ্বর‌্যাঙ্কিংয়ে

উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়নে গবেষণার প্রতি জোর দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট সব মহল। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) পক্ষ থেকেও দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও মেধাবীদের গবেষণায় বৃত্তি প্রদান করে থাকে। অনেকে গবেষণার জন্য বিদেশের বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়েও পাড়ি জমান। তবে এখনো পিএইচডি ডিগ্রি চালু হয়নি দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা দাবি-দাওয়া জানিয়ে আসছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে বেশ আগ্রহ দেখানো হয়েছে। তবে বাস্তবে এই বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ে পিএইচডি ডিগ্রি চালুর কোন অগ্রগতি নেই বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান অনেক পেছনে। তবে তুলনামূলক কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় অন্যদিক থেকে মান ভালো করলেও পিএইচডি ডিগ্রি চালু না থাকায় সার্বিক মানে পিছিয়ে যাচ্ছে। তাই অন্তত প্রথম সারির বিশ^বিদ্যালয়গুলোকে দ্রুত এই ডিগ্রি চালুর সুযোগ দেয়ার দাবি উঠেছে। এজন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

দেশের কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রির অনুমোদন দেওয়ার সময় এসেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর আফতাবনগর খেলার মাঠে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩তম সমাবর্তনে বক্তব্যকালে তিনি এ কথা জানান।
সমাবর্তনে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানের কথা উল্লেখ করে এমফিল এবং পিএইচডি গবেষণার সুযোগ দেয়ার দাবি জানান।

পরবর্তীতে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, সরকার পাবলিক বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির মতো দেশের কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এখন এমন মানে উত্তীর্ণ হয়েছে যে, তাদের আরো উচ্চতর গবেষণা অর্থাৎ এমফিল/পিএইচডি ডিগ্রির অনুমতি দেয়ার সময় এসেছে। একই সঙ্গে দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মূল্যবোধ, দক্ষতা এবং জ্ঞানের সমন্বয়ে এমন গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে হবে যেন তারা সারা পৃথিবীর যে কোন জায়গায় কাজ করার সামর্থ্য রাখে। পাশাপাশি সরকার আরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
ইউজিসির সর্বশেষ প্রতিবেদন সূত্রমতে, উচ্চ শিক্ষাকার্যক্রমের জন্য দেশে ৫৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ১১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি চালু নেই।

এ বিষয়ে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইচ-চ্যান্সেলর সবুজ বাংলাকে বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক পিএইচডি ডিগ্রিধারীসহ মানসম্মত শিক্ষক আছেন। আমাদের স্নাতক-স্নাতকোত্তর ডিগ্রির অনেক মান থাকলেও পিএইচডি ডিগ্রি চালু না থাকায় বিশ্বর‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে যাচ্ছি। তাছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে পিএইচডি ডিগ্রি চালু না থাকায় অনেকে বিদেশে চলে যাচ্ছেন। প্রথম সারির অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এই ডিগ্রি দিতে সক্ষম বলে তিনি মনে করেন।

এই উপাচার্য আরও বলেন, দেশের সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পিএইচডি ডিগ্রি চালুর যোগ্য ও আগ্রহী না হলেও যাদের সক্ষমতা আছে তাদের এ সুযোগ দেয়া উচিত। এজন্য সরকার প্রয়োজনীয় নীতিমালা করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনুমতি দিতে পারে।

জানা গেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ডিগ্রি চালুর বিষয়ে ইউজিসি কর্তৃপক্ষও আগ্রহী। এ বিষয়ে নীতিমালা তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে সেই উদ্যোগের কোনো অগ্রগতি নেই বলে গতকাল ইউজিসির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।