০৬:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সিভিল সার্জন আসে, সিভিল সার্জন যায় ঢাকাবাসীর সুলভে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের বালাই নেই

 

● বর্তমানে ১৬টি সরকারি ডিসপেনসারি ও ৩টি স্কুল হেলথ ক্লিনিক আছে
● ৯০টি ওয়ার্ডে ৯০টি সরকারি ডিসপেনসারির চাহিদা সংশ্লিষ্টদের
●বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম সরকারি ডিসপেনসারি
●এগুলোর সক্ষমতা আরো বাড়ানোর পরামর্শ

বিশ্বের সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ শহর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী ঢাকার জনসংখ্যা ১ কোটি ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ জন। যদিও এ সংখ্যা প্রায় ২ কোটি বলে অনেকের ধারণা। এই শহরের জনসংখ্যা যখন আরো কম ছিল সেই সময়ে সবার সুস্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের জন্য মোট ১৯টি সরকারি চিকিৎসালয় বা গভর্নমেন্ট আউটডোর ডিসপেনসারি (জিওডি) চালু করে সরকার। সেগুলোর মধ্যে কোনো কোনোটি এখনো আছে। কোনো কোনোটি প্রায় বন্ধের পথে। চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্ট দিয়ে চালানো এই জিওডিগুলো চালু থাকলেও সেখানে গেলে মিলছে না কাক্সিক্ষত সেবা। ফলে দিন দিন বেড়ে চলা বহুতল সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও বেসরকারি ক্লিনিক হাসপাতালের ভিড়ে এই জিওডিগুলো তার প্রাণ হারাচ্ছে। আর এ কারণে ঢাকাবাসীর সামান্য জ¦রে আক্রান্ত হলেই সুচিকিৎসা প্রাপ্তির জন্য হাসপাতালে দৌড়াতে ভোগান্তির পাশাপাশি ব্যয় করতে হচ্ছে প্রচুর অর্থও। যেখানে হাতের কাছেই এই জিওডির মাধ্যমে সুযোগ ছিল ভালো চিকিৎসা পাওয়ার। তাই এই জিওডিগুলোকে আরো আধুনিক ও মানসম্মত করে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পারলে সরকারি হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে যেমন রোগীর চাপ কমবে তেমনি রোগীরাও হাতের নাগালেই বিনামূল্যে সহজেই সুচিকিৎসা পাবে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যবিশ্লেষকেরা।

এই জিওডিগুলোর সঙ্গে এই প্রতিবেদকের পরিচয় ঘটে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে। তখন তিনি নগরীর আজিমপুরের স্কুল হেলথ ক্লিনিক, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জনসন রোড জিওডি, ১০ নম্বর গোল চক্করের কাছে রাড্ডা কার্যালয়ে মিরপুর-১০ জিওডি, নবাবগঞ্জ পার্কের মধ্যে হাজারীবাগ জিওডি, আগারগাঁও পাকা মাকের্টে শেরেবাংলা নগর জিওডি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ভিতরে মিরপুর-১ জিওডি ভ্রমণে যান। সেখানে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট এবং চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা হয়। রোগীরা যেহেতু এখানে সম্পূর্ণ ফ্রিতে কোনো টিকিট ছাড়াই সরাসরি এমবিবিএস চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা পান। তাদের দিক থেকে তেমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এখানে চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র লিখে দেওয়ার পর ফার্মাসিস্টের কাছে সাধারণ জ¦র, ব্যথা, ডায়রিয়াসহ বেশকিছু রোগের ঔষধ ফ্রিতে পাওয়া যায়। এখানে এন্টিবায়োটিক ও ভিটামিন, স্যালাইন রোগী ফ্রিতে পায়। এসময় দেখা যায়, আজিমপুর, জনসন রোড, নবাবগঞ্জ পার্ক, মীরপুর এই জিওডিগুলোর অবস্থা বেশ জীর্ণ। কোথাও কোথাও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। কোথাও এই ভবন ঝুঁকিপুর্ণ বলে নোটিসও টাঙানো হয়েছে। সেই ২০১৭ থেকে ২০২৪ কেটে গেছে টানা ৭ বছর। ২০১৭ সালে তৎকালীন ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন ছিলেন ডা. মো. এহ্সানুল করিম। তিনি এসময় এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, কমিউনিটি বেজড হেলথ কেয়ার প্রকল্পের আওতায় ঢাকা শহরে ১৭টি সরকারি আউটডোর ডিসপেনসারি আছে। এগুলো খুবই জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। আমরা বেশ কয়েকবার এগুলো ভিজিট করেছি। জাইকার প্রতিনিধিরাও আমাদের সঙ্গে জিওডিগুলো ভিজিট করেছে তারা এই জিওডিগুলো আধুনিকীকরণ করতে আগ্রহী।
তৎকালীন সিভিল সার্জন বলেন, আমি তো চাই ঢাকা সিটি কপোরেশনের ৯০টি ওয়ার্ডে ৯০টি সরকারি ডিসপেনসারি হোক। তবে, জাইকার আপাতত সিদ্ধান্ত হচ্ছে, যে কয়টা ডিসপেনসারি রিকনস্ট্রাকশন করে চালানো যাবে সেগুলো রিকনস্ট্রাকশন করবে আর নয়ত নতুনভাবে বিল্ডিং করবে।

তিনি তখন বলেছিলেন, আমরা জাইকার সহায়তা নিয়ে চারতলা বিল্ডিং করতে চাই। এতে রোগীদের জন্য ওয়েটিংরুম ও টয়লেটের ব্যবস্থা থাকবে। এখানে ডাক্তারের চিকিৎসা সেবা, বিভিন্ন পরীক্ষা এবং ঔষধ পাওয়া যাবে। এখন ডাক্তার ও ঔষধ ফ্রি (তবে সব ঔষধ এখানে থাকে না!)। তখন প্যাথলজি টেস্টগুলোও ফ্রি থাকবে।
তিনি তখন বলেছিলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৯০টি ওয়ার্ডে একটি করে সরকারি ডিসপেনসারি থাকা উচিত। স্বাস্থ্যসেবা আমরা যে ব্যাপারেই দেই না কেন নগর স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে সবাইকে সরকারি সেবার আওতায় আনতে হবে। নগর স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন করতে চাইলে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে সরকারি ডিসপেনসারি থাকতে হবে। মাল্টিপারপাস হেলথ ওয়ার্কার রাখা প্রয়োজন যেন বাড়ি বাড়ি গিয়ে তারা তথ্য নিতে পারে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, সেই সিভিল সার্জনের পরে ৭ জন সিভিল সার্জন পরিবর্তন হয়েছেন। ডা. মো. মিজানুর রহমান আরিফ (ভারপ্রাপ্ত), ডা. মো. শামস উদ্দিন, ডা. আবুল ফজল মো, সাহাবুদ্দিন খান (ভারপ্রাপ্ত), ডা. মো. বিল্লাল হোসেন (ভারপ্রাপ্ত), ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান, ডা. ইয়াসমিন নাহার (ভারপ্রাপ্ত) এবং বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান। সিভিল সার্জনদের দায়িত্ব নিজ জেলার নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে কাজ করা। কিন্তু জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করে বিদায় নিলেও নগরবাসীর ভাগ্যের কাক্সিক্ষত সুলভে স্বাস্থ্যসেবা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

সাত বছর পর এই প্রতিবেদক আবারও জিওডিগুলো ঘুরে দেখেন। বর্তমানে এই জিওডি ঘুরে পূর্বের দৃশ্যই দেখা যায়। কোথাও কোথাও ভবন সংস্কারের সামান্য কাজ হলেও সেগুলোর আর কোনো মানোন্নয়নের কাজ হয়নি। চিকিৎসকদের অভিযোগ এখনো আগের মতোই আছে। এই জিওডিগুলোতে শুধু রোগীকে প্রেসক্রাইব করার সুযোগ রয়েছে এবং সামান্য কিছু ঔষধের ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে নেই কোনো আল্ট্রাসনোগ্রাম, এক্সরে, ইসিজি, রক্ত পরীক্ষার সুযোগ। যা এখনকার বেসরকারি বহু ছোট ক্লিনিকগুলোতেও পাওয়া যায়। এখানে লোকবলের খুবই অভাব। বেশিরভাগ সময়ই জিওডি থেকে চিকিৎসককে কোনো না কোনো ভিভিআইপি টিমের সঙ্গে দায়িত্বে পাঠানো হয় যা সাধারণ রোগী দেখার কাজকে ব্যাহত করে।

জনশুমারি ও জাতীয় গৃহগণনা-২০২২ অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকার দুই সিটির প্রায় ৩৪ লাখ মানুষ ভাসমান অবস্থায় রাস্তায় থাকে। এদের পক্ষে বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেয়া একেবারেই সম্ভব নয়। আর সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোতে টিকিট কেটে চিকিৎসা নেওয়াও সম্ভব নয়। এই ভাসমান মানুষগুলোসহ নগরীর দরিদ্র মানুষদের জন্য এই জিওডিগুলো খুবই কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে বলে জনপ্রতিনিধিরাও মনে করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আমার এলাকায় দুটি জিওডি থাকার কথা। একটি ঝিগাতলা, অন্যটি নবাবগঞ্জ পার্কে। কিন্তু আমি এগুলোর কার্যকারিতা তেমনভাবে দেখতে পাই না। আমার এলাকার বেশিরভাগ মানুষই দরিদ্র। তাদের জন্য অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয়না। যদি আমার এলাকার দরিদ্র জনগণ এই জিওডিগুলোর মাধ্যমে চিকিৎসা পায় সেটা আমাদের জন্য খুবই ভালো হবে। আমার মতে, শুধু আমার ওয়ার্ডে নয়, সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে জিওডি থাকা দরকার বলে আমি মনে করি। তিনি বলেন, আমি আমাদের পরবর্তী বোর্ড মিটিংয়ে এই বিষয়টি নিয়েও কথা বলব। মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য, যেন এই ব্যবস্থা করা হয়।

জিওডিগুলো ঘুরে দেখা যায়, সব জিওডির সক্ষমতা একরকম নয়, যেমন মিরপুর-১০ এ অবস্থিত জিওডির লোকবল সংখ্যা তিনজন চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট ২ জন, আয়া ১ জন, মেডিক্যাল এসিস্ট্যান্ট ৪ জন, এমএলএসএস ও আয়া ২ জন। প্ল্যানিং কমিশনের ভেতরের জিওডিতে তিনজন মেডিক্যাল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট, ১ জন আয়া ও ১ জন এমএলএসএস ও ১ জন ক্লিনার কর্মরত আছেন। আজিমপুর স্কুল হেলথ ক্লিনিক জিওডিতে ২ জন চিকিৎসক, ১ জন ফার্মাসিস্ট ও ১ জন আয়া রয়েছেন। রাজধানীতে বর্তমানে মোট ১৯টি সরকারি বহির্বিভাগ চিকিৎসালয়/ গভর্নমেন্ট ডিসপেনসারি (জিওডি) রয়েছে। এরমধ্যে তিনটি স্কুল হেলথ ক্লিনিক এবং ১৬ টি জিওডি। এ বিষয়গুলো নিয়ে ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খানের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, ভিভিআইপি মুভমেন্টের জন্য ব্যস্ত আছি। এখন কথা বলা সম্ভব নয়। কথা বলতে চাইলে পরে আসুন। বিষয়টি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলন সম্পর্কিত জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, এই জিওডিগুলো তখনকার সময়ে করা হয়েছে রোগীকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেবার জন্য। কিন্তু এখন এত বেশি বেসরকারি হাসপাতাল হয়েছে মানুষ হাসপাতালে ছুটছে। তারা তো জানে না যে কোথায় গেলে বিনামূল্যে সহজে সেবা পাবে। সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর আউটডোরগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। এই ডিসপেনসারিগুলো সম্পর্কে মানুষ জানলে তো আউটডোরে এত ভিড় হবে না। এই ডিসপেনসারিগুলোকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে সবার চিকিৎসা পাবার ব্যবস্থা করা দরকার। এগুলো যে আছে এই তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। তাহলে মানুষ সামান্য জ¦র হলে মেডিক্যাল কলেজের আউটডোরে তখন আর যাবে না। আমাদের দেশের তৃণমূলে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আছে। এগুলোতে মানুষ সহজেই তাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে। একারণে এখন দেখা যাচ্ছে, গ্রামে যারা থাকছে তারা তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে। কিন্তু রাজধানীতে বা বিভাগীয় শহরগুলোতে যারা থাকছে তাদের পক্ষে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হচ্ছে। তারা তখন বাধ্য হয়ে চিকিৎসকের প্রাইভেট চেম্বারে যাচ্ছে বা কোন বেসরকারি ক্লিনিকে যাচ্ছে। এতে তার খরচ বেশি হচ্ছে। ঘরের কাছেও সেবা নিশ্চিত হচ্ছে না। এই বিষয়গুলো নিয়ে যাদের কাজ করা দরকার তাদের আরও সচেতন হতে হবে। তাহলে নগরে বসবাসকারি সকলের সুচিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে। এরজন্য এই জিওডিগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এগুলোর সংখ্যা বাড়াতে হবে। এগুলো যে এখানে আছে, এগুলোতে মানুষ গেলে কি ধরণের সেবা পাবে সেটা তাকে জানাতে হবে। তাহলে সে উপকৃত হবে। না হলে, বিল্ডিং হলো, লোকবল বাড়ল কিন্তু আসল উপকার কিছু হবেনা।

জিওডিগুলো হচ্ছে  এজিবি কলোনী হাসপাতাল জোনে অবস্থিত মতিঝিল জিওডি, সেগুনবাগিচায় ১২ তলা অফিস সংলগ্ন এজিবি জিওডি, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জনসন রোড জিওডি, ধুপখোলা মাঠের পাশে গেন্ডারিয়া জিওডি, স্টাফ কোয়ার্টারের পাশে খিলগাঁও জিওডি, মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নয়াটোলা জিওডি, তেজগাঁও সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের ভিতরে বি.জি. প্রেস জিওডি, নবাবগঞ্জ পার্কের মধ্যে হাজারীবাগ জিওডি, সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের মধ্যে ঝিগাতলা জিওডি, সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের ভিতর মোহাম্মদপুর জিওডি, সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের ভিতর গ্রীন রোড জিওডি, আগারগাঁও পাকা মাকের্টে শেরেবাংলা নগর জিওডি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ভিতরে মিরপুর-১ জিওডি, ১০ নম্বর গোল চক্করের কাছে রাড্ডা কার্যালয়ে মিরপুর-১০ জিওডি, বাউনিয়া বাঁধ ইসলাম এইড এনজিও অফিসের কাছে পলাশী ব্যারাক জিওডি, লালকুঠি বাজার মাজার রোডে মিরপুর পুরাতন কলোনী জিওডি। স্কুল হেলথ ক্লিনিকগুলো হচ্ছে রাজধানীর পুরান ঢাকার আরমানিটোলা স্কুল, আজিমপুর গার্লস স্কুল ও শেরেবাংলানগর স্কুলে অবস্থিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিভিল সার্জন আসে, সিভিল সার্জন যায় ঢাকাবাসীর সুলভে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের বালাই নেই

আপডেট সময় : ০৯:০৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০২৪

 

● বর্তমানে ১৬টি সরকারি ডিসপেনসারি ও ৩টি স্কুল হেলথ ক্লিনিক আছে
● ৯০টি ওয়ার্ডে ৯০টি সরকারি ডিসপেনসারির চাহিদা সংশ্লিষ্টদের
●বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম সরকারি ডিসপেনসারি
●এগুলোর সক্ষমতা আরো বাড়ানোর পরামর্শ

বিশ্বের সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ শহর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী ঢাকার জনসংখ্যা ১ কোটি ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ জন। যদিও এ সংখ্যা প্রায় ২ কোটি বলে অনেকের ধারণা। এই শহরের জনসংখ্যা যখন আরো কম ছিল সেই সময়ে সবার সুস্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের জন্য মোট ১৯টি সরকারি চিকিৎসালয় বা গভর্নমেন্ট আউটডোর ডিসপেনসারি (জিওডি) চালু করে সরকার। সেগুলোর মধ্যে কোনো কোনোটি এখনো আছে। কোনো কোনোটি প্রায় বন্ধের পথে। চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্ট দিয়ে চালানো এই জিওডিগুলো চালু থাকলেও সেখানে গেলে মিলছে না কাক্সিক্ষত সেবা। ফলে দিন দিন বেড়ে চলা বহুতল সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও বেসরকারি ক্লিনিক হাসপাতালের ভিড়ে এই জিওডিগুলো তার প্রাণ হারাচ্ছে। আর এ কারণে ঢাকাবাসীর সামান্য জ¦রে আক্রান্ত হলেই সুচিকিৎসা প্রাপ্তির জন্য হাসপাতালে দৌড়াতে ভোগান্তির পাশাপাশি ব্যয় করতে হচ্ছে প্রচুর অর্থও। যেখানে হাতের কাছেই এই জিওডির মাধ্যমে সুযোগ ছিল ভালো চিকিৎসা পাওয়ার। তাই এই জিওডিগুলোকে আরো আধুনিক ও মানসম্মত করে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পারলে সরকারি হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে যেমন রোগীর চাপ কমবে তেমনি রোগীরাও হাতের নাগালেই বিনামূল্যে সহজেই সুচিকিৎসা পাবে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যবিশ্লেষকেরা।

এই জিওডিগুলোর সঙ্গে এই প্রতিবেদকের পরিচয় ঘটে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে। তখন তিনি নগরীর আজিমপুরের স্কুল হেলথ ক্লিনিক, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জনসন রোড জিওডি, ১০ নম্বর গোল চক্করের কাছে রাড্ডা কার্যালয়ে মিরপুর-১০ জিওডি, নবাবগঞ্জ পার্কের মধ্যে হাজারীবাগ জিওডি, আগারগাঁও পাকা মাকের্টে শেরেবাংলা নগর জিওডি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ভিতরে মিরপুর-১ জিওডি ভ্রমণে যান। সেখানে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট এবং চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা হয়। রোগীরা যেহেতু এখানে সম্পূর্ণ ফ্রিতে কোনো টিকিট ছাড়াই সরাসরি এমবিবিএস চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা পান। তাদের দিক থেকে তেমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এখানে চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র লিখে দেওয়ার পর ফার্মাসিস্টের কাছে সাধারণ জ¦র, ব্যথা, ডায়রিয়াসহ বেশকিছু রোগের ঔষধ ফ্রিতে পাওয়া যায়। এখানে এন্টিবায়োটিক ও ভিটামিন, স্যালাইন রোগী ফ্রিতে পায়। এসময় দেখা যায়, আজিমপুর, জনসন রোড, নবাবগঞ্জ পার্ক, মীরপুর এই জিওডিগুলোর অবস্থা বেশ জীর্ণ। কোথাও কোথাও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। কোথাও এই ভবন ঝুঁকিপুর্ণ বলে নোটিসও টাঙানো হয়েছে। সেই ২০১৭ থেকে ২০২৪ কেটে গেছে টানা ৭ বছর। ২০১৭ সালে তৎকালীন ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন ছিলেন ডা. মো. এহ্সানুল করিম। তিনি এসময় এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, কমিউনিটি বেজড হেলথ কেয়ার প্রকল্পের আওতায় ঢাকা শহরে ১৭টি সরকারি আউটডোর ডিসপেনসারি আছে। এগুলো খুবই জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। আমরা বেশ কয়েকবার এগুলো ভিজিট করেছি। জাইকার প্রতিনিধিরাও আমাদের সঙ্গে জিওডিগুলো ভিজিট করেছে তারা এই জিওডিগুলো আধুনিকীকরণ করতে আগ্রহী।
তৎকালীন সিভিল সার্জন বলেন, আমি তো চাই ঢাকা সিটি কপোরেশনের ৯০টি ওয়ার্ডে ৯০টি সরকারি ডিসপেনসারি হোক। তবে, জাইকার আপাতত সিদ্ধান্ত হচ্ছে, যে কয়টা ডিসপেনসারি রিকনস্ট্রাকশন করে চালানো যাবে সেগুলো রিকনস্ট্রাকশন করবে আর নয়ত নতুনভাবে বিল্ডিং করবে।

তিনি তখন বলেছিলেন, আমরা জাইকার সহায়তা নিয়ে চারতলা বিল্ডিং করতে চাই। এতে রোগীদের জন্য ওয়েটিংরুম ও টয়লেটের ব্যবস্থা থাকবে। এখানে ডাক্তারের চিকিৎসা সেবা, বিভিন্ন পরীক্ষা এবং ঔষধ পাওয়া যাবে। এখন ডাক্তার ও ঔষধ ফ্রি (তবে সব ঔষধ এখানে থাকে না!)। তখন প্যাথলজি টেস্টগুলোও ফ্রি থাকবে।
তিনি তখন বলেছিলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৯০টি ওয়ার্ডে একটি করে সরকারি ডিসপেনসারি থাকা উচিত। স্বাস্থ্যসেবা আমরা যে ব্যাপারেই দেই না কেন নগর স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে সবাইকে সরকারি সেবার আওতায় আনতে হবে। নগর স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন করতে চাইলে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে সরকারি ডিসপেনসারি থাকতে হবে। মাল্টিপারপাস হেলথ ওয়ার্কার রাখা প্রয়োজন যেন বাড়ি বাড়ি গিয়ে তারা তথ্য নিতে পারে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, সেই সিভিল সার্জনের পরে ৭ জন সিভিল সার্জন পরিবর্তন হয়েছেন। ডা. মো. মিজানুর রহমান আরিফ (ভারপ্রাপ্ত), ডা. মো. শামস উদ্দিন, ডা. আবুল ফজল মো, সাহাবুদ্দিন খান (ভারপ্রাপ্ত), ডা. মো. বিল্লাল হোসেন (ভারপ্রাপ্ত), ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান, ডা. ইয়াসমিন নাহার (ভারপ্রাপ্ত) এবং বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান। সিভিল সার্জনদের দায়িত্ব নিজ জেলার নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে কাজ করা। কিন্তু জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করে বিদায় নিলেও নগরবাসীর ভাগ্যের কাক্সিক্ষত সুলভে স্বাস্থ্যসেবা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

সাত বছর পর এই প্রতিবেদক আবারও জিওডিগুলো ঘুরে দেখেন। বর্তমানে এই জিওডি ঘুরে পূর্বের দৃশ্যই দেখা যায়। কোথাও কোথাও ভবন সংস্কারের সামান্য কাজ হলেও সেগুলোর আর কোনো মানোন্নয়নের কাজ হয়নি। চিকিৎসকদের অভিযোগ এখনো আগের মতোই আছে। এই জিওডিগুলোতে শুধু রোগীকে প্রেসক্রাইব করার সুযোগ রয়েছে এবং সামান্য কিছু ঔষধের ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে নেই কোনো আল্ট্রাসনোগ্রাম, এক্সরে, ইসিজি, রক্ত পরীক্ষার সুযোগ। যা এখনকার বেসরকারি বহু ছোট ক্লিনিকগুলোতেও পাওয়া যায়। এখানে লোকবলের খুবই অভাব। বেশিরভাগ সময়ই জিওডি থেকে চিকিৎসককে কোনো না কোনো ভিভিআইপি টিমের সঙ্গে দায়িত্বে পাঠানো হয় যা সাধারণ রোগী দেখার কাজকে ব্যাহত করে।

জনশুমারি ও জাতীয় গৃহগণনা-২০২২ অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকার দুই সিটির প্রায় ৩৪ লাখ মানুষ ভাসমান অবস্থায় রাস্তায় থাকে। এদের পক্ষে বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেয়া একেবারেই সম্ভব নয়। আর সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোতে টিকিট কেটে চিকিৎসা নেওয়াও সম্ভব নয়। এই ভাসমান মানুষগুলোসহ নগরীর দরিদ্র মানুষদের জন্য এই জিওডিগুলো খুবই কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে বলে জনপ্রতিনিধিরাও মনে করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আমার এলাকায় দুটি জিওডি থাকার কথা। একটি ঝিগাতলা, অন্যটি নবাবগঞ্জ পার্কে। কিন্তু আমি এগুলোর কার্যকারিতা তেমনভাবে দেখতে পাই না। আমার এলাকার বেশিরভাগ মানুষই দরিদ্র। তাদের জন্য অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয়না। যদি আমার এলাকার দরিদ্র জনগণ এই জিওডিগুলোর মাধ্যমে চিকিৎসা পায় সেটা আমাদের জন্য খুবই ভালো হবে। আমার মতে, শুধু আমার ওয়ার্ডে নয়, সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে জিওডি থাকা দরকার বলে আমি মনে করি। তিনি বলেন, আমি আমাদের পরবর্তী বোর্ড মিটিংয়ে এই বিষয়টি নিয়েও কথা বলব। মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য, যেন এই ব্যবস্থা করা হয়।

জিওডিগুলো ঘুরে দেখা যায়, সব জিওডির সক্ষমতা একরকম নয়, যেমন মিরপুর-১০ এ অবস্থিত জিওডির লোকবল সংখ্যা তিনজন চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট ২ জন, আয়া ১ জন, মেডিক্যাল এসিস্ট্যান্ট ৪ জন, এমএলএসএস ও আয়া ২ জন। প্ল্যানিং কমিশনের ভেতরের জিওডিতে তিনজন মেডিক্যাল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট, ১ জন আয়া ও ১ জন এমএলএসএস ও ১ জন ক্লিনার কর্মরত আছেন। আজিমপুর স্কুল হেলথ ক্লিনিক জিওডিতে ২ জন চিকিৎসক, ১ জন ফার্মাসিস্ট ও ১ জন আয়া রয়েছেন। রাজধানীতে বর্তমানে মোট ১৯টি সরকারি বহির্বিভাগ চিকিৎসালয়/ গভর্নমেন্ট ডিসপেনসারি (জিওডি) রয়েছে। এরমধ্যে তিনটি স্কুল হেলথ ক্লিনিক এবং ১৬ টি জিওডি। এ বিষয়গুলো নিয়ে ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খানের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, ভিভিআইপি মুভমেন্টের জন্য ব্যস্ত আছি। এখন কথা বলা সম্ভব নয়। কথা বলতে চাইলে পরে আসুন। বিষয়টি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলন সম্পর্কিত জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, এই জিওডিগুলো তখনকার সময়ে করা হয়েছে রোগীকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেবার জন্য। কিন্তু এখন এত বেশি বেসরকারি হাসপাতাল হয়েছে মানুষ হাসপাতালে ছুটছে। তারা তো জানে না যে কোথায় গেলে বিনামূল্যে সহজে সেবা পাবে। সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর আউটডোরগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। এই ডিসপেনসারিগুলো সম্পর্কে মানুষ জানলে তো আউটডোরে এত ভিড় হবে না। এই ডিসপেনসারিগুলোকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে সবার চিকিৎসা পাবার ব্যবস্থা করা দরকার। এগুলো যে আছে এই তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। তাহলে মানুষ সামান্য জ¦র হলে মেডিক্যাল কলেজের আউটডোরে তখন আর যাবে না। আমাদের দেশের তৃণমূলে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আছে। এগুলোতে মানুষ সহজেই তাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে। একারণে এখন দেখা যাচ্ছে, গ্রামে যারা থাকছে তারা তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে। কিন্তু রাজধানীতে বা বিভাগীয় শহরগুলোতে যারা থাকছে তাদের পক্ষে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হচ্ছে। তারা তখন বাধ্য হয়ে চিকিৎসকের প্রাইভেট চেম্বারে যাচ্ছে বা কোন বেসরকারি ক্লিনিকে যাচ্ছে। এতে তার খরচ বেশি হচ্ছে। ঘরের কাছেও সেবা নিশ্চিত হচ্ছে না। এই বিষয়গুলো নিয়ে যাদের কাজ করা দরকার তাদের আরও সচেতন হতে হবে। তাহলে নগরে বসবাসকারি সকলের সুচিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে। এরজন্য এই জিওডিগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এগুলোর সংখ্যা বাড়াতে হবে। এগুলো যে এখানে আছে, এগুলোতে মানুষ গেলে কি ধরণের সেবা পাবে সেটা তাকে জানাতে হবে। তাহলে সে উপকৃত হবে। না হলে, বিল্ডিং হলো, লোকবল বাড়ল কিন্তু আসল উপকার কিছু হবেনা।

জিওডিগুলো হচ্ছে  এজিবি কলোনী হাসপাতাল জোনে অবস্থিত মতিঝিল জিওডি, সেগুনবাগিচায় ১২ তলা অফিস সংলগ্ন এজিবি জিওডি, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জনসন রোড জিওডি, ধুপখোলা মাঠের পাশে গেন্ডারিয়া জিওডি, স্টাফ কোয়ার্টারের পাশে খিলগাঁও জিওডি, মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নয়াটোলা জিওডি, তেজগাঁও সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের ভিতরে বি.জি. প্রেস জিওডি, নবাবগঞ্জ পার্কের মধ্যে হাজারীবাগ জিওডি, সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের মধ্যে ঝিগাতলা জিওডি, সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের ভিতর মোহাম্মদপুর জিওডি, সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের ভিতর গ্রীন রোড জিওডি, আগারগাঁও পাকা মাকের্টে শেরেবাংলা নগর জিওডি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ভিতরে মিরপুর-১ জিওডি, ১০ নম্বর গোল চক্করের কাছে রাড্ডা কার্যালয়ে মিরপুর-১০ জিওডি, বাউনিয়া বাঁধ ইসলাম এইড এনজিও অফিসের কাছে পলাশী ব্যারাক জিওডি, লালকুঠি বাজার মাজার রোডে মিরপুর পুরাতন কলোনী জিওডি। স্কুল হেলথ ক্লিনিকগুলো হচ্ছে রাজধানীর পুরান ঢাকার আরমানিটোলা স্কুল, আজিমপুর গার্লস স্কুল ও শেরেবাংলানগর স্কুলে অবস্থিত।