০৮:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নগণ্য শিক্ষার্থী নিয়ে চলা প্রাথমিক স্কুলকে একীভূত করা হবে

তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা হবে না

 

 

 

 

ব্যাংকের পর এবার একীভূত হতে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১০ বছর ধরে অতি নগণ্য শিক্ষার্থী নিয়ে চলা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে পাশের অন্য বিদ্যালয়ের সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরইমধ্যে এই ধরনের ৩০০-এর মতো বিদ্যালয়ের তালিকা করা হয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে স্থানীয় বাস্তবতার নিরিখে একীভূত করার কাজ করা হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ। তিনি বলেন, সব ক্ষেত্রেই (ইন জেনারেল) এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। স্থানীয় বাস্তবতা, প্রেক্ষাপট ও পারিপার্শ্বিকতা সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বরিশালের একটি বিদ্যালয়ের উদাহরণ দিয়ে সচিব ফরিদ আহাম্মদ বলেন, ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাত থেকে আট। পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে সাত থেকে আটজন শিক্ষার্থী দিয়ে চলছে। এরকম বিদ্যালয়ের সংখ্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। এরকম বিদ্যালয়ের সংখ্যা আছে ৩০০-এর কাছাকাছি। এই বিদ্যালয়গুলোকে একীভূত করে দেওয়া হবে। যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০-এর নিচে, সেগুলোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেগুলোতে ১০ বছর ধরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০-এর নিচে, সেগুলোকে পার্শ্ববর্তী অন্য ভালো বিদ্যালয়ের সঙ্গে একীভূত করে দেওয়া হবে।
ফরিদ আহাম্মদ বলেন, আমরা চাই, যে বিদ্যালয়গুলোয় ৫ জন, ১০ জন শিক্ষার্থী আছে, সেগুলোকে একীভূত করে দেব। আর যে বিদ্যালয়গুলোর চাহিদা আছে, সেই বিদ্যালয়গুলোয় যা যা সুবিধা দেওয়ার, আমরা সেগুলো দেব।

পরে এক প্রশ্নের জবাবে ফরিদ আহাম্মদ এ বিষয়ে আরও ব্যাখ্য দেন। তার ব্যাখ্যার মূল কথা হলো, ৫০-এর নিচে শিক্ষার্থী থাকা সব বিদ্যালয়কেই একীভূত করা হবে না। স্থানীয় বাস্তবতা, প্রেক্ষাপট ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় নিয়ে এই কাজ করা হবে। তিনি বলেন, ৩০০-এর কাছাকাছি বিদ্যালয়ের তালিকা পাওয়া গেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। গত ১০ বছরের প্রবণতাটি দেখা হবে।

তবে এই ধরনের সব বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাবে না। এ বিষয়ে ফরিদ আহাম্মদ উদাহরণ দিয়ে বলেন, রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ৪২। কয়েক বছর ধরেই এ সংখ্যা ৪২। কিন্তু এই বিদ্যালয় একীভূত করা হবে না। কারণ, এই ৪২ জন শিক্ষার্থী ৭ থেকে ৮ কিলোমিটারের জায়গার মধ্যে থেকে আসে। ওই প্রেক্ষাপটটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা হবে না : নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে এখন থেকে প্রথম-তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা হবে না। করা হবে ধারাবাহিক মূল্যায়ণ। এমন তথ্য জানিয়েছেন প্রাথমিক ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

গত বছর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ২০২৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণিতে (উচ্চমাধ্যমিক) বাস্তবায়িত হবে নতুন শিক্ষাক্রম। নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের বড় অংশ হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে (শিখনকালীন)।

নতুন শিক্ষাক্রমের প্রথম বছর প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন এই শিক্ষাক্রম শুরু হয়। আর গত জানুয়ারি শুরু হওয়া নতুন শিক্ষাবর্ষে ওই তিন শ্রেণি ছাড়াও নতুন করে দ্বিতীয়, তৃতীয়, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে চালু হয়েছে এই শিক্ষাক্রম।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বছরে তিনটি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হতো। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত আগের মতো প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক বা বার্ষিক পরীক্ষা হবে কি না। উত্তরে সচিব বলেন, পরীক্ষা নেয় বিষয়টি তেমন নয়। মূল্যায়ন পদ্ধতিটা ভিন্ন। এটা হলো ধারাবাহিক মূল্যায়ন। ধারাবাহিক মূল্যায়ন মানে একটা শিক্ষার্থীর সামগ্রিক আচরণ অবজার্ভ করে, এটি মূল্যায়নের মাধ্যমে মূল্যায়ন। কিন্তু তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত আমরা লিখিত পরীক্ষা, বইয়ের বোঝা থেকে আমরা তাদেরকে মুক্ত করেছি।

তিনি বলেন, মূল কথা হলো তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত প্রথম সাময়িক, দ্বিতীয় সাময়িক এটি আর থাকবে না। মূল্যায়নের পদ্ধতি ভিন্ন হবে, যেহেতু ধারাবাহিক মূল্যায়ন। মূল্যায়ন হবে, কিন্তু আগের মতো গতানুগতিক না। ধারাবাহিক মূল্যায়ন থাকবে।

সচিব বলেন, এ মূল্যায়ন একটা অ্যাপসের মাধ্যমে করা হবে। অ্যাপসটি এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে। এটা আমরা সহসায় পেয়ে যাবো। মূল কথা হলো তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত প্রথম সাময়িক, দ্বিতীয় সাময়িক এটি আর থাকবে না। শিক্ষকরা যাতে দ্রুত মূল্যায়ন করতে পারে এ জন্য এনসিটিবি অ্যাপস করছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নগণ্য শিক্ষার্থী নিয়ে চলা প্রাথমিক স্কুলকে একীভূত করা হবে

আপডেট সময় : ০৪:৩১:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০২৪

 

 

 

 

ব্যাংকের পর এবার একীভূত হতে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১০ বছর ধরে অতি নগণ্য শিক্ষার্থী নিয়ে চলা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে পাশের অন্য বিদ্যালয়ের সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরইমধ্যে এই ধরনের ৩০০-এর মতো বিদ্যালয়ের তালিকা করা হয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে স্থানীয় বাস্তবতার নিরিখে একীভূত করার কাজ করা হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ। তিনি বলেন, সব ক্ষেত্রেই (ইন জেনারেল) এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। স্থানীয় বাস্তবতা, প্রেক্ষাপট ও পারিপার্শ্বিকতা সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বরিশালের একটি বিদ্যালয়ের উদাহরণ দিয়ে সচিব ফরিদ আহাম্মদ বলেন, ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাত থেকে আট। পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে সাত থেকে আটজন শিক্ষার্থী দিয়ে চলছে। এরকম বিদ্যালয়ের সংখ্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। এরকম বিদ্যালয়ের সংখ্যা আছে ৩০০-এর কাছাকাছি। এই বিদ্যালয়গুলোকে একীভূত করে দেওয়া হবে। যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০-এর নিচে, সেগুলোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেগুলোতে ১০ বছর ধরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০-এর নিচে, সেগুলোকে পার্শ্ববর্তী অন্য ভালো বিদ্যালয়ের সঙ্গে একীভূত করে দেওয়া হবে।
ফরিদ আহাম্মদ বলেন, আমরা চাই, যে বিদ্যালয়গুলোয় ৫ জন, ১০ জন শিক্ষার্থী আছে, সেগুলোকে একীভূত করে দেব। আর যে বিদ্যালয়গুলোর চাহিদা আছে, সেই বিদ্যালয়গুলোয় যা যা সুবিধা দেওয়ার, আমরা সেগুলো দেব।

পরে এক প্রশ্নের জবাবে ফরিদ আহাম্মদ এ বিষয়ে আরও ব্যাখ্য দেন। তার ব্যাখ্যার মূল কথা হলো, ৫০-এর নিচে শিক্ষার্থী থাকা সব বিদ্যালয়কেই একীভূত করা হবে না। স্থানীয় বাস্তবতা, প্রেক্ষাপট ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় নিয়ে এই কাজ করা হবে। তিনি বলেন, ৩০০-এর কাছাকাছি বিদ্যালয়ের তালিকা পাওয়া গেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। গত ১০ বছরের প্রবণতাটি দেখা হবে।

তবে এই ধরনের সব বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাবে না। এ বিষয়ে ফরিদ আহাম্মদ উদাহরণ দিয়ে বলেন, রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ৪২। কয়েক বছর ধরেই এ সংখ্যা ৪২। কিন্তু এই বিদ্যালয় একীভূত করা হবে না। কারণ, এই ৪২ জন শিক্ষার্থী ৭ থেকে ৮ কিলোমিটারের জায়গার মধ্যে থেকে আসে। ওই প্রেক্ষাপটটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা হবে না : নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে এখন থেকে প্রথম-তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা হবে না। করা হবে ধারাবাহিক মূল্যায়ণ। এমন তথ্য জানিয়েছেন প্রাথমিক ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

গত বছর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ২০২৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণিতে (উচ্চমাধ্যমিক) বাস্তবায়িত হবে নতুন শিক্ষাক্রম। নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের বড় অংশ হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে (শিখনকালীন)।

নতুন শিক্ষাক্রমের প্রথম বছর প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন এই শিক্ষাক্রম শুরু হয়। আর গত জানুয়ারি শুরু হওয়া নতুন শিক্ষাবর্ষে ওই তিন শ্রেণি ছাড়াও নতুন করে দ্বিতীয়, তৃতীয়, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে চালু হয়েছে এই শিক্ষাক্রম।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বছরে তিনটি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হতো। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত আগের মতো প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক বা বার্ষিক পরীক্ষা হবে কি না। উত্তরে সচিব বলেন, পরীক্ষা নেয় বিষয়টি তেমন নয়। মূল্যায়ন পদ্ধতিটা ভিন্ন। এটা হলো ধারাবাহিক মূল্যায়ন। ধারাবাহিক মূল্যায়ন মানে একটা শিক্ষার্থীর সামগ্রিক আচরণ অবজার্ভ করে, এটি মূল্যায়নের মাধ্যমে মূল্যায়ন। কিন্তু তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত আমরা লিখিত পরীক্ষা, বইয়ের বোঝা থেকে আমরা তাদেরকে মুক্ত করেছি।

তিনি বলেন, মূল কথা হলো তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত প্রথম সাময়িক, দ্বিতীয় সাময়িক এটি আর থাকবে না। মূল্যায়নের পদ্ধতি ভিন্ন হবে, যেহেতু ধারাবাহিক মূল্যায়ন। মূল্যায়ন হবে, কিন্তু আগের মতো গতানুগতিক না। ধারাবাহিক মূল্যায়ন থাকবে।

সচিব বলেন, এ মূল্যায়ন একটা অ্যাপসের মাধ্যমে করা হবে। অ্যাপসটি এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে। এটা আমরা সহসায় পেয়ে যাবো। মূল কথা হলো তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত প্রথম সাময়িক, দ্বিতীয় সাময়িক এটি আর থাকবে না। শিক্ষকরা যাতে দ্রুত মূল্যায়ন করতে পারে এ জন্য এনসিটিবি অ্যাপস করছে।