০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রতিদিন গড়ে গাজায় প্রাণ হারাচ্ছেন ৩৭ ‘মা’

◆ রমজানের প্রথম ১০ দিনে নিহত ৮৭৬
◆ পদত্যাগ করছেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান
◆ জুমার দিনে আল আকসায় প্রবেশে বাধা

 

গাজা উপত্যকায় চলমান দখলাদার ইসরায়েলের হামলার কারণে প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে ৩৭ জন মা প্রাণ হারাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিন রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি। এদিকে পবিত্র রমজানের প্রথম ১০ দিনে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন মোট ৮৭৬ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন আরো এক হাজার ৪২৮ জন। গতকাল জুমার নামাজের সময় ইসরায়েলি বাহিনী কয়েকশ মুসলমানকে আল আকসা মসজিদে প্রবেশে বাধা দিয়েছে। যদিও এর আগের দিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই আল-আকসা মসজিদে তারাবি নামাজ আদায় করেছেন প্রায় ৫০ হাজার ফিলিস্তিনি মুসল্লি।

ইইউ নেতাদের গাজায় দ্বৈতনীতি পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। গত বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এক প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছে। দি কমিশন অব ডিটেনিজ অ্যান্ড এক্স ডিটেনিজ আ্যাফিয়ার্স ইন প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন এবং প্যালেস্টাইন প্রিজনার্স ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, গত অক্টোবরে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গ্রুপ হামাসের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজা উপত্যকায় নারীদের গণ-গ্রেপ্তার করছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে মা’সহ ফিলিস্তিনের মহিলা বন্দিদের ওপর ইসরায়েলি অপরাধ এবং লঙ্ঘন নাটকীয়ভাবে অনেক বেড়ে গেছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলোÑ তাদের স্বামী বা ছেলেদের চাপ দেওয়ার জন্য মায়েদের জিম্মি হিসেবে গ্রেপ্তার করা এবং খুব কঠোর পরিস্থিতিতে তাদের আটক করা। সামাজিক কর্মীসহ মহিলা ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকাংশকে উসকানি সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রমজানের প্রথম ১০ দিন, অর্থাৎ ১১ মার্চ ভোর থেকে ২১ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন মোট ৮৭৬ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন আরো এক হাজার ৪২৮ জন। হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে আল-শিফা অভিযানে নিহতদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাই নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। হতাহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক এবং কতজন হামাস যোদ্ধাÑ তা এখনও স্পষ্ট নয়। রমজানের প্রথম দশ দিনে দৈনিক হিসেবে গত ১৪ মার্চ বৃহস্পতিবার গাজায় সবচেয়ে বেশি নিহত ও আহতের ঘটনা ঘটেছে। এ দিন ইসরায়েলি হামলায় গাজায় মোট নিহত হয়েছেন ১৪৯ জন এবং আহত হয়েছেন ৩০০ জন।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) দাবি, রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহে গাজার আল শিয়া হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ৯০ জন ‘সন্ত্রাসীকে’ হত্যা করেছে সেনারা। রমজানের গত ১০ দিনে গাজায় অভিযান চালানোর সময় নিহত হয়েছে তিন ইসরায়েলি সেনা এবং আহত হয়েছে আরো ২২ জন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত গাজায় নিহত হয়েছে মোট ২৫১ জন ইসরায়েলি সেনা এবং আহত হয়েছে এক হাজার ৪৯৬ জন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত উপত্যকায় নিহত হয়েছেন মোট ৩১ হাজার ৯৮৮ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন আরো ৭৪ হাজার ১৮৮ জন। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, হামাসের হামলায় নিহত হয়েছিলেন এক হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি ও অন্যান্য দেশের নাগরিক। ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে হত্যার পাশাপাশি ২৪০ জনকে জিম্মি হিসেবে গাজায় নিয়ে গেছে হামাস যোদ্ধারা। এই জিম্মিদের মধ্যে এ পর্যন্ত মুক্তি দেওয়া হয়েছে ১০৮ জনকে।

অন্যদিকে ওয়াফা নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, গতকাল জুমার নামাজের সময় ইসরায়েলি বাহিনী কয়েকশ মুসলমানকে আল আকসা মসজিদে প্রবেশে বাধা দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুসলমানদের পবিত্র এ মসজিদে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে কালান্দিয়া, জায়তুনা ও বেথেলহেমে চেকপয়েন্ট বসায় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। অনুমতি নেই দাবি করে ইসরায়েলি বাহিনী এসব চেকপয়েন্ট থেকে নামাজ আদায় করতে আসা কয়েকশ মুসলিমকে ফেরত পাঠিয়েছে। শুধু তাই নয়, জুমার নামাজ কেন্দ্র করে মসজিদের চারপাশে কয়েকশ সৈন্য মোতায়েন করা হয়। ইসরায়েল ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি মুসলিমদের পবিত্র রমজান মাসে এ মসজিদে প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে প্রায় ৫০ হাজার ফিলিস্তিন মুসল্লি তারাবিহ নামাজ আদায় করেন বলে জানিয়েছে জেরুজালেমের ইসলামিক এনডাউমেন্টস বিভাগ।

অন্যদিকে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পদত্যাগ করতে চান বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল হারজে হালেভি। শুধু তিনিই নয় বরং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিশাল অংশও এ সময় পদত্যাগ করতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। ঠিক কী কারণে সেনাপ্রধানসহ এসব সেনা কর্মকর্তা পদত্যাগ করবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা সম্পর্কে অগ্রিম সতর্ক না থাকায় এবং হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার দায় নিয়ে তারা পদ ছাড়তে যাচ্ছেন। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সামরিক এই অভিযানকে ইসরায়েলের ইতিহাসের অন্যতম বড় নিরাপত্তা ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে ইসরায়েলি সরকার। মনে করা হচ্ছে, ৭ অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতা অনুসন্ধানে করা তদন্তের ফলাফল সামনে আসার আগেই দায় স্বীকার করে সরে যেতে চাইছেন এই কর্মকর্তারা। যুদ্ধ থামলে কিংবা সুবিধাজনক সময় পেলে এর আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন তারা।

এদিকে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইইউর শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতাদের গাজায় দ্বৈত নীতি পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মূলনীতি হলো- বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা। আমাদের অবশ্যই দ্বৈত নীতি পরিহার করে ইউক্রেনের মত গাজাতেও একই নীতি মেনে চলতে হবে। ইইউ নেতাদের জাতিসংঘের চার্টার এবং আন্তর্জাতিক আইনে অন্তর্ভুক্ত মানগুলোর প্রতি তাদের সম্মান বজায় রাখা এবং সে বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিদিন গড়ে গাজায় প্রাণ হারাচ্ছেন ৩৭ ‘মা’

আপডেট সময় : ০৪:৫১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মার্চ ২০২৪

◆ রমজানের প্রথম ১০ দিনে নিহত ৮৭৬
◆ পদত্যাগ করছেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান
◆ জুমার দিনে আল আকসায় প্রবেশে বাধা

 

গাজা উপত্যকায় চলমান দখলাদার ইসরায়েলের হামলার কারণে প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে ৩৭ জন মা প্রাণ হারাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিন রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি। এদিকে পবিত্র রমজানের প্রথম ১০ দিনে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন মোট ৮৭৬ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন আরো এক হাজার ৪২৮ জন। গতকাল জুমার নামাজের সময় ইসরায়েলি বাহিনী কয়েকশ মুসলমানকে আল আকসা মসজিদে প্রবেশে বাধা দিয়েছে। যদিও এর আগের দিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই আল-আকসা মসজিদে তারাবি নামাজ আদায় করেছেন প্রায় ৫০ হাজার ফিলিস্তিনি মুসল্লি।

ইইউ নেতাদের গাজায় দ্বৈতনীতি পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। গত বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এক প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছে। দি কমিশন অব ডিটেনিজ অ্যান্ড এক্স ডিটেনিজ আ্যাফিয়ার্স ইন প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন এবং প্যালেস্টাইন প্রিজনার্স ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, গত অক্টোবরে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গ্রুপ হামাসের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজা উপত্যকায় নারীদের গণ-গ্রেপ্তার করছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে মা’সহ ফিলিস্তিনের মহিলা বন্দিদের ওপর ইসরায়েলি অপরাধ এবং লঙ্ঘন নাটকীয়ভাবে অনেক বেড়ে গেছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলোÑ তাদের স্বামী বা ছেলেদের চাপ দেওয়ার জন্য মায়েদের জিম্মি হিসেবে গ্রেপ্তার করা এবং খুব কঠোর পরিস্থিতিতে তাদের আটক করা। সামাজিক কর্মীসহ মহিলা ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকাংশকে উসকানি সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রমজানের প্রথম ১০ দিন, অর্থাৎ ১১ মার্চ ভোর থেকে ২১ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন মোট ৮৭৬ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন আরো এক হাজার ৪২৮ জন। হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে আল-শিফা অভিযানে নিহতদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাই নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। হতাহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক এবং কতজন হামাস যোদ্ধাÑ তা এখনও স্পষ্ট নয়। রমজানের প্রথম দশ দিনে দৈনিক হিসেবে গত ১৪ মার্চ বৃহস্পতিবার গাজায় সবচেয়ে বেশি নিহত ও আহতের ঘটনা ঘটেছে। এ দিন ইসরায়েলি হামলায় গাজায় মোট নিহত হয়েছেন ১৪৯ জন এবং আহত হয়েছেন ৩০০ জন।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) দাবি, রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহে গাজার আল শিয়া হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ৯০ জন ‘সন্ত্রাসীকে’ হত্যা করেছে সেনারা। রমজানের গত ১০ দিনে গাজায় অভিযান চালানোর সময় নিহত হয়েছে তিন ইসরায়েলি সেনা এবং আহত হয়েছে আরো ২২ জন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত গাজায় নিহত হয়েছে মোট ২৫১ জন ইসরায়েলি সেনা এবং আহত হয়েছে এক হাজার ৪৯৬ জন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত উপত্যকায় নিহত হয়েছেন মোট ৩১ হাজার ৯৮৮ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন আরো ৭৪ হাজার ১৮৮ জন। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, হামাসের হামলায় নিহত হয়েছিলেন এক হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি ও অন্যান্য দেশের নাগরিক। ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে হত্যার পাশাপাশি ২৪০ জনকে জিম্মি হিসেবে গাজায় নিয়ে গেছে হামাস যোদ্ধারা। এই জিম্মিদের মধ্যে এ পর্যন্ত মুক্তি দেওয়া হয়েছে ১০৮ জনকে।

অন্যদিকে ওয়াফা নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, গতকাল জুমার নামাজের সময় ইসরায়েলি বাহিনী কয়েকশ মুসলমানকে আল আকসা মসজিদে প্রবেশে বাধা দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুসলমানদের পবিত্র এ মসজিদে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে কালান্দিয়া, জায়তুনা ও বেথেলহেমে চেকপয়েন্ট বসায় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। অনুমতি নেই দাবি করে ইসরায়েলি বাহিনী এসব চেকপয়েন্ট থেকে নামাজ আদায় করতে আসা কয়েকশ মুসলিমকে ফেরত পাঠিয়েছে। শুধু তাই নয়, জুমার নামাজ কেন্দ্র করে মসজিদের চারপাশে কয়েকশ সৈন্য মোতায়েন করা হয়। ইসরায়েল ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি মুসলিমদের পবিত্র রমজান মাসে এ মসজিদে প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে প্রায় ৫০ হাজার ফিলিস্তিন মুসল্লি তারাবিহ নামাজ আদায় করেন বলে জানিয়েছে জেরুজালেমের ইসলামিক এনডাউমেন্টস বিভাগ।

অন্যদিকে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পদত্যাগ করতে চান বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল হারজে হালেভি। শুধু তিনিই নয় বরং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিশাল অংশও এ সময় পদত্যাগ করতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। ঠিক কী কারণে সেনাপ্রধানসহ এসব সেনা কর্মকর্তা পদত্যাগ করবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা সম্পর্কে অগ্রিম সতর্ক না থাকায় এবং হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার দায় নিয়ে তারা পদ ছাড়তে যাচ্ছেন। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সামরিক এই অভিযানকে ইসরায়েলের ইতিহাসের অন্যতম বড় নিরাপত্তা ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে ইসরায়েলি সরকার। মনে করা হচ্ছে, ৭ অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতা অনুসন্ধানে করা তদন্তের ফলাফল সামনে আসার আগেই দায় স্বীকার করে সরে যেতে চাইছেন এই কর্মকর্তারা। যুদ্ধ থামলে কিংবা সুবিধাজনক সময় পেলে এর আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন তারা।

এদিকে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইইউর শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতাদের গাজায় দ্বৈত নীতি পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মূলনীতি হলো- বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা। আমাদের অবশ্যই দ্বৈত নীতি পরিহার করে ইউক্রেনের মত গাজাতেও একই নীতি মেনে চলতে হবে। ইইউ নেতাদের জাতিসংঘের চার্টার এবং আন্তর্জাতিক আইনে অন্তর্ভুক্ত মানগুলোর প্রতি তাদের সম্মান বজায় রাখা এবং সে বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।