০৭:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভারতকে ‘ঘনিষ্ঠ সহযোগী’ বললেন মুইজ্জু

 

 

ভারতবিরোধী বক্তব্যের জন্য বারবার শিরোনাম হয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু। দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই মালে ও নয়াদিল্লির মধ্যকার সম্পর্ক ক্রমশ শীতল হচ্ছে। তবে এবার ভারতকেই মালদ্বীপের ‘ঘনিষ্ঠতম’ সহযোগী বলে উল্লেখ করেছেন মুইজ্জু। মালদ্বীপের সংবাদপত্র দ্য মিহারুর প্রতিবেদনে বলা হয়, মালদ্বীপের সর্বদক্ষিণের এলাকা আদ্দুতে মোতায়েন ২৫ ভারতীয় সেনা ১০ মার্চের আগেই ভারতে ফিরেছে। এই আবহের মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় মুইজ্জু বলেন, ভারত বরাবরই মালদ্বীপকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। বহু প্রকল্প দ্বীপরাষ্ট্রেই করেছে নয়াদিল্লি।

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু জানান, তার আশা ভারত থেকে আগের সরকার যা ঋণ নিয়েছিল তা মওকুফ করে দেবে মোদি সরকার। গত বছরের শেষে ভারত থেকে ৪০ কোটি ডলার ঋণ নিয়েছিল মলদ্বীপ। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৯০০ কোটি রুপি। মালদ্বীপকে সাহায্যের বিষয়ে ভারত অগ্রগণ্য। ‘বহু সংখ্যক’ প্রকল্প বাস্তবায়িত করেছে। ভারত মালদ্বীপের ঘনিষ্ঠ সহযোগী থাকবে। এই নিয়ে কোনো প্রশ্নই নেই। পূর্বসূরীদের শাসনামলে ভারত থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া হয়েছে। সে কারণে আমরা আলোচনা করছি, যাতে ঋণ মেটানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ভারত এই ঋণ মেটানোর বিষয়টি আরো সহজতর করে তুলবে। এ নিয়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে কথাও বলেছেন তিনি।

মুইজ্জুর আগে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ইব্রাহিম মোহম্মদ সলিহ্। তিনি ভারত-বন্ধু বলেই পরিচিত ছিলেন। মুইজ্জু জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গেও এ ঋণের বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। তার কথায়, প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বলেছি আমি কোনো বর্তমান প্রকল্পের কাজ বন্ধ করতে চাই না। বরং সেগুলো আরো মজবুতের ইচ্ছা প্রকাশ করেছি। ভারতের সঙ্গে তার একমাত্র ‘বিরোধের’ বিষয় হলো মালদ্বীপে ভারতীয় সেনার অবস্থান। তার দাবি, ভারত সেনা সরাতে রাজি হয়েছে। এটা মলদ্বীপের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ‘ইন্ডিয়া আউট’ স্লোগান দিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন মুইজ্জু। এরপর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ভারতীয় সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া চলতি বছরের শুরুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লাক্ষা দ্বীপ সফরকে কেন্দ্র করে মালদ্বীপের কয়েকজন সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘অবমাননাকর মন্তব্য’ করেন। এতে দুই দেশের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে। ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে বৈঠকে বসেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। সেখানে ভারত জানায়, আগামী ১০ মের মধ্যে মলদ্বীপের তিনটি বিমান ঘাঁটি থেকেই সেনা সরিয়ে নেবে ভারত। এরই মধ্যে মালদ্বীপ থেকে ভারতের সেনা প্রত্যাহার শুরু হয়েছে। দ্বীপদেশটির সঙ্গে সম্পর্কের ক্রমশ অবনতির মধ্যে দেশটিতে মোতায়েন ভারতীয় সেনা সরিয়ে নিতে শুরু করেছে নয়াদিল্লি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতকে ‘ঘনিষ্ঠ সহযোগী’ বললেন মুইজ্জু

আপডেট সময় : ০৭:০০:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মার্চ ২০২৪

 

 

ভারতবিরোধী বক্তব্যের জন্য বারবার শিরোনাম হয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু। দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই মালে ও নয়াদিল্লির মধ্যকার সম্পর্ক ক্রমশ শীতল হচ্ছে। তবে এবার ভারতকেই মালদ্বীপের ‘ঘনিষ্ঠতম’ সহযোগী বলে উল্লেখ করেছেন মুইজ্জু। মালদ্বীপের সংবাদপত্র দ্য মিহারুর প্রতিবেদনে বলা হয়, মালদ্বীপের সর্বদক্ষিণের এলাকা আদ্দুতে মোতায়েন ২৫ ভারতীয় সেনা ১০ মার্চের আগেই ভারতে ফিরেছে। এই আবহের মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় মুইজ্জু বলেন, ভারত বরাবরই মালদ্বীপকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। বহু প্রকল্প দ্বীপরাষ্ট্রেই করেছে নয়াদিল্লি।

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু জানান, তার আশা ভারত থেকে আগের সরকার যা ঋণ নিয়েছিল তা মওকুফ করে দেবে মোদি সরকার। গত বছরের শেষে ভারত থেকে ৪০ কোটি ডলার ঋণ নিয়েছিল মলদ্বীপ। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৯০০ কোটি রুপি। মালদ্বীপকে সাহায্যের বিষয়ে ভারত অগ্রগণ্য। ‘বহু সংখ্যক’ প্রকল্প বাস্তবায়িত করেছে। ভারত মালদ্বীপের ঘনিষ্ঠ সহযোগী থাকবে। এই নিয়ে কোনো প্রশ্নই নেই। পূর্বসূরীদের শাসনামলে ভারত থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া হয়েছে। সে কারণে আমরা আলোচনা করছি, যাতে ঋণ মেটানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ভারত এই ঋণ মেটানোর বিষয়টি আরো সহজতর করে তুলবে। এ নিয়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে কথাও বলেছেন তিনি।

মুইজ্জুর আগে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ইব্রাহিম মোহম্মদ সলিহ্। তিনি ভারত-বন্ধু বলেই পরিচিত ছিলেন। মুইজ্জু জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গেও এ ঋণের বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। তার কথায়, প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বলেছি আমি কোনো বর্তমান প্রকল্পের কাজ বন্ধ করতে চাই না। বরং সেগুলো আরো মজবুতের ইচ্ছা প্রকাশ করেছি। ভারতের সঙ্গে তার একমাত্র ‘বিরোধের’ বিষয় হলো মালদ্বীপে ভারতীয় সেনার অবস্থান। তার দাবি, ভারত সেনা সরাতে রাজি হয়েছে। এটা মলদ্বীপের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ‘ইন্ডিয়া আউট’ স্লোগান দিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন মুইজ্জু। এরপর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ভারতীয় সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া চলতি বছরের শুরুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লাক্ষা দ্বীপ সফরকে কেন্দ্র করে মালদ্বীপের কয়েকজন সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘অবমাননাকর মন্তব্য’ করেন। এতে দুই দেশের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে। ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে বৈঠকে বসেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। সেখানে ভারত জানায়, আগামী ১০ মের মধ্যে মলদ্বীপের তিনটি বিমান ঘাঁটি থেকেই সেনা সরিয়ে নেবে ভারত। এরই মধ্যে মালদ্বীপ থেকে ভারতের সেনা প্রত্যাহার শুরু হয়েছে। দ্বীপদেশটির সঙ্গে সম্পর্কের ক্রমশ অবনতির মধ্যে দেশটিতে মোতায়েন ভারতীয় সেনা সরিয়ে নিতে শুরু করেছে নয়াদিল্লি।