০৮:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জবিতে যৌননিপীড়নের বিচার দাবি জোরদার

 

➤ আম্মানের জামিন না মঞ্জুর
➤ বিচার দাবিতে প্লাকার্ড হাতে মিম
➤ অঙ্কন হত্যার বিচার চেয়ে গণস্বাক্ষর

 

 

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বিচারের দাবি জোরদার হচ্ছে জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ে (জবি)। যৌন নিপীড়নের দায়ে সাময়িক বহিষ্কৃত ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের প্রভাষক আবু শাহেদ ইমনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। এদিকে শিক্ষক-সহপাঠীকে দায়ী করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আত্মহত্যা করা আনি বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনায় প্ররোচনার মামলায় সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী আম্মানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। এর আগে ২০২২ সালে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী অঙ্কন বিশ^াসের মৃত্যুর বিচারের দাবিতে গণ স্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

 

আম্মানের জামিন না মঞ্জুর : ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী আম্মানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। গতকাল রোববার দুপুরে আম্মানের পক্ষে তার আইনজীবী জামিন আবেদন করলে বিচারক মো. আবু বকর সিদ্দিক তা নামঞ্জুর করেন। এর আগে ২ দিনের রিমান্ড শেষে গত বুধবার আম্মানকে একই আদালতে হাজির করার পর জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু আদালত জামিন মঞ্জুর না করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

বাদী পক্ষের আইনজীবী সৈয়দ নুর উর রহমান বলেন, অবন্তিকার আত্মহত্যার বিষয়টি একটি স্পর্শকাতর মামলা। মামলার তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। আম্মান এ মামলার প্রধান আসামি। সে জামিনে বের হলে মামলার তদন্ত কার্যক্রম প্রভাবিত করার চেষ্টাসহ মামলার সাক্ষীদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। আমরা আদালতকে বিষয়টি বুঝাতে সক্ষম হয়েছি। আদালত তা বিবেচনায় নিয়ে আসামির জামিন না মঞ্জুর করেন।

 

তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. আবু তাহের বলেন, আম্মান এখনও তদন্তে দোষী প্রমাণিত হয়নি। জামিন পাওয়া তার অধিকার। সে (আম্মান) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। জামিন পেলে সে কোথাও পালিয়ে যাবে না। আমরা বিধি মোতাবেক আবারও তার জামিন চাইব।

 

বিচার দাবিতে প্লাকার্ড হাতে মিম : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের প্রভাষক আবু শাহেদ ইমনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ছাত্রী কাজী ফারজানা মিম। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে প্লাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে এ দাবি জানান তিনি। এদিন দুপুরে ‘পূর্ণাঙ্গ শাস্তি চাই, সাময়িক নয়’ লেখা সংবলিত একটি প্লাকার্ড হাতে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে।

 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, সাময়িক বহিষ্কার তো দুই বছর আগে হওয়ার কথা। এই বিচারটা হয়েছে দুই বছর আগের বিচার। এখন আমি ওনার স্থায়ী বহিষ্কার চাই। আজ আমার নামে কোর্ট থেকে বিভাগে একটা চিঠি এসেছে। বিভাগ আমাকে ডেকে ওই চিঠি হাতে ধরিয়ে দিয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের প্রভাষক আবু শাহেদ ইমনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীকে অসহযোগিতা করায় বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জুনায়েদ হালিমকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

 

অঙ্কন হত্যার বিচার চেয়ে গণস্বাক্ষর : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইংরেজি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অংকন বিশ্বাসের রহস্যজনক মৃত্যু ও বিচারের দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন এবং উপাচার্য বরাবর অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়’ ব্যানারে আন্দেলনরত শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের উদ্যোগে এ অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে শিক্ষার্থীরা জানান, অংকন বিশ্বাস জবির আইন বিভাগের ছাত্র শাকিল আহমেদের দ্বারা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিল। অবশেষে শাকিল আহমেদের নিজ গৃহে অবস্থানকালে অংকন ভয়াবহ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। টানা ১৫ দিন লাইফ সাপোর্টে অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করে অংকন মৃত্যুবরণ করে।

 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী এবং অংকনের সহপাঠীরা চেষ্টা চালিয়েছি অংকনের প্রশ্নবিদ্ধ এ মৃত্যুর রহস্য জানার। এ যাত্রায় ইংরেজি বিভাগও আমাদের সঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু অংকনের পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ধরনের সহায়তা করেনি বিধায় আজও অংকন ন্যায়বিচার পায়নি।

 

গত ২০২২ সালের ৮ মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অংকন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার মৃত্যুর পর বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় আসে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জবিতে যৌননিপীড়নের বিচার দাবি জোরদার

আপডেট সময় : ০৫:২০:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মার্চ ২০২৪

 

➤ আম্মানের জামিন না মঞ্জুর
➤ বিচার দাবিতে প্লাকার্ড হাতে মিম
➤ অঙ্কন হত্যার বিচার চেয়ে গণস্বাক্ষর

 

 

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বিচারের দাবি জোরদার হচ্ছে জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ে (জবি)। যৌন নিপীড়নের দায়ে সাময়িক বহিষ্কৃত ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের প্রভাষক আবু শাহেদ ইমনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। এদিকে শিক্ষক-সহপাঠীকে দায়ী করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আত্মহত্যা করা আনি বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনায় প্ররোচনার মামলায় সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী আম্মানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। এর আগে ২০২২ সালে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী অঙ্কন বিশ^াসের মৃত্যুর বিচারের দাবিতে গণ স্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

 

আম্মানের জামিন না মঞ্জুর : ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী আম্মানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। গতকাল রোববার দুপুরে আম্মানের পক্ষে তার আইনজীবী জামিন আবেদন করলে বিচারক মো. আবু বকর সিদ্দিক তা নামঞ্জুর করেন। এর আগে ২ দিনের রিমান্ড শেষে গত বুধবার আম্মানকে একই আদালতে হাজির করার পর জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু আদালত জামিন মঞ্জুর না করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

বাদী পক্ষের আইনজীবী সৈয়দ নুর উর রহমান বলেন, অবন্তিকার আত্মহত্যার বিষয়টি একটি স্পর্শকাতর মামলা। মামলার তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। আম্মান এ মামলার প্রধান আসামি। সে জামিনে বের হলে মামলার তদন্ত কার্যক্রম প্রভাবিত করার চেষ্টাসহ মামলার সাক্ষীদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। আমরা আদালতকে বিষয়টি বুঝাতে সক্ষম হয়েছি। আদালত তা বিবেচনায় নিয়ে আসামির জামিন না মঞ্জুর করেন।

 

তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. আবু তাহের বলেন, আম্মান এখনও তদন্তে দোষী প্রমাণিত হয়নি। জামিন পাওয়া তার অধিকার। সে (আম্মান) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। জামিন পেলে সে কোথাও পালিয়ে যাবে না। আমরা বিধি মোতাবেক আবারও তার জামিন চাইব।

 

বিচার দাবিতে প্লাকার্ড হাতে মিম : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের প্রভাষক আবু শাহেদ ইমনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ছাত্রী কাজী ফারজানা মিম। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে প্লাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে এ দাবি জানান তিনি। এদিন দুপুরে ‘পূর্ণাঙ্গ শাস্তি চাই, সাময়িক নয়’ লেখা সংবলিত একটি প্লাকার্ড হাতে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে।

 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, সাময়িক বহিষ্কার তো দুই বছর আগে হওয়ার কথা। এই বিচারটা হয়েছে দুই বছর আগের বিচার। এখন আমি ওনার স্থায়ী বহিষ্কার চাই। আজ আমার নামে কোর্ট থেকে বিভাগে একটা চিঠি এসেছে। বিভাগ আমাকে ডেকে ওই চিঠি হাতে ধরিয়ে দিয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের প্রভাষক আবু শাহেদ ইমনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীকে অসহযোগিতা করায় বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জুনায়েদ হালিমকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

 

অঙ্কন হত্যার বিচার চেয়ে গণস্বাক্ষর : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইংরেজি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অংকন বিশ্বাসের রহস্যজনক মৃত্যু ও বিচারের দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন এবং উপাচার্য বরাবর অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়’ ব্যানারে আন্দেলনরত শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের উদ্যোগে এ অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে শিক্ষার্থীরা জানান, অংকন বিশ্বাস জবির আইন বিভাগের ছাত্র শাকিল আহমেদের দ্বারা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিল। অবশেষে শাকিল আহমেদের নিজ গৃহে অবস্থানকালে অংকন ভয়াবহ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। টানা ১৫ দিন লাইফ সাপোর্টে অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করে অংকন মৃত্যুবরণ করে।

 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী এবং অংকনের সহপাঠীরা চেষ্টা চালিয়েছি অংকনের প্রশ্নবিদ্ধ এ মৃত্যুর রহস্য জানার। এ যাত্রায় ইংরেজি বিভাগও আমাদের সঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু অংকনের পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ধরনের সহায়তা করেনি বিধায় আজও অংকন ন্যায়বিচার পায়নি।

 

গত ২০২২ সালের ৮ মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অংকন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার মৃত্যুর পর বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় আসে।