০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

স্মারকলিপি গ্রহণে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনিহা প্রকাশ

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র উদ্যোগে  আজ বুধবার সকাল ১১টায়, “বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও জরুরী ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের”-দাবিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিসে স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি বিষয়ে সকালে অবহিত করা হলে অফিস থেকে জানানো হয় ডিজি মহোদয় না থাকায় উনার অনুমতি ছাড়া তা গ্রহণ করা হবে না। বাপা নেতৃবৃন্দ অফিসে গিয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নিকট তা হস্তান্তর করতে চাইলে প্রথমে বাপা নেতৃবৃন্দকে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি, এক পর্যায়ে তারা শর্তসাপেক্ষে সাংবাদিক ছাড়া ৩-৪ জনকে প্রবেশের অনুমতি দেয়।

 

বাপা’র সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার এর নেতৃত্বে বাপা’র একটি প্রতিনিধি দল সংগঠনের পক্ষ থেকে পরিবেশ অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নিকট গেলে তারা মহাপরিচালক ব্যস্ত আছে ফোনে কথা বলছেন বলে রুমের গেটে বাপা নেতৃবৃন্দ ২০ মি. দাঁড় করিয়ে রাখেন। প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার পরে রুমে যাওয়ার পরে একপর্যায়ে বাপা নেতৃবৃন্দ অতিরিক্ত মহাপরিচালকের রোষাণলের শিকার হয় যা, সত্যিই দুঃখজনক। নানাভাবে অনাগ্রহ প্রকাশ করার পরে বাপা নেতৃবৃন্দের নিকট থেকে অতিরিক্তি মহাপরিচালক স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন।

 

বাপা’র সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির এর সালনায় “বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও জরুরী ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের”-দাবিতে অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচি উপস্থিত ছলেন, বাপা’র সহ-সভাপতি মহিদুল হক খান, বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক যথাক্রমে অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার, বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক, আমিনুর রসুল, হাসান ইউসুফ খান ও হুমায়ুন কবির সুমন, আরডিআরএস এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ, মানবাধিকার উন্নয়ন কেন্দ্রের মহাসচিব, মাহবুল হক, বাপা’র জাতীয় কমিটির সদস্য যথাক্রমে মো. হাফিজুল ইসলাম, হাজী শেখ আনছার আলী, শাকিল কবির, মোনছেফা তৃপ্তি ও তিতলি নাজনিন এবং বাপা ও গ্রীন ভয়েসের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

 

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, সারা বিশ্বের মধ্যে বায়ুদূষণে শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ, যা জাতীর জন্য লজ্জাজনক। দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মকে বায়ুদূষণের কারনে পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি সকল জনগণকে বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
মহিদুল হক খান বলেন, সরকার দায়িত্ববান হলে এই বায়ুধষণ রোধ করা সম্ভব। জনগণের ট্যাক্সে পরিচালিত পরিবেশ অধিদপ্তর সেখানে সাংবাদিক কেন প্রবেশ করাতে পারেনা জাতি তা জানতে চায়।

 

আলমগীর কবির বলেন, বায়ুদূষণরোধে পরিবেশ অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় সম্পুর্ণ ব্যর্থ। তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর অকার্যকার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও নির্মাণ কাজের ফলে ঢাকার দূষণ বেশি হচ্ছে এবং এই দূষণ কমানোর জন্য ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করার দাবী জানান। এক দশক ধরে ব্যবহৃত সকল প্রকার মোবাইল এবং ইলেক্ট্রনিকস সামগ্রীর যে ব্যাটারিগুলো রয়েছে সেটা কিভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয় এবং সেগুলো থেকে কি পরিমাণ দূষণ হয় তার সঠিক হিসাব বের করতে তিনি সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোকে অনুরোধ জানান।

 

 

অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি পলিসি ইনস্টিটিউট থেকে প্রকাশিত বায়ু দূষণ বিষয়ক এক বৈশ্বিক প্রতিবেদন অনুযায়ী বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বের সব মানুষের গড় আয়ু দুই বছর চার মাস কমছে। অপরপক্ষে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের গড় আয়ু কমছে ৬ বছর ৮ মাস। পরিবেশ মন্ত্রীর ১০০ দিনের কর্ম পরিকল্পানার কথা বলা হলেও কার্যত কোন কর্মসূচি দেখা যাচ্ছেনা। পরিবেশগত সুশাসন প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

 

মোহাম্মদ এজাজ বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর এখন পর্যন্ত গত একবছরে বায়ুদূষণ রোধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে মনে হয়না। তারা শুধু নিত্য নতুন প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত। কার্যত পরিবেশ ভালো রাখার জন্য কার্যকরি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

স্মারকলিপিতে বলা হয় যে, বিশ্বের সম্প্রতি বায়ুদূষণের দেশ হিসেবে শীর্ষে বাংলাদেশ, নগর হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। গত ১৯ মার্চ সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের ‘বৈশ্বিক বায়ু মান প্রতিবেদন ২০২৩’এ এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক আইকিউএয়ারের সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় ও সতর্ক করে। বায়ুদূষণের অন্যতম উপাদান পিএম ২.৫ বা অতিক্ষুদ্র বস্তুকণার উপাদান ধরেই এই বায়ুর মান নির্ণয় করা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের ১৩৪টি দেশ ও অ লের প্রায় ৩০ হাজার নজরদারি স্টেশন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইকিউএয়ার প্রতিবেদনটি তৈরি করে। সেখানে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশের প্রতি ঘনমিটার বায়ুতে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণার (পিএম ২.৫) উপস্থিতি ছিল ৭৯ দশমিক ৯ মাইক্রোগ্রাম। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বেঁধে দেওয়া মানদণ্ডের চেয়ে অন্তত ১৬ গুণ বেশি। বাপা মনে করে বিশ্বের দরবারে বাংঙ্গালী জাতির জন্য এটি অত্যন্ত অপমান ও লজ্জাজনক ঘটনা।

 

মাত্রারিক্ত বায়ুদূষণের কারণে এয়ার কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্স-২০২৩ প্রতিবেদন অনুযায়ী বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বের সব মানুষের গড় আয়ু দুই বছর চার মাস কমছে। অপরপক্ষে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের গড় আয়ু কমছে ৬ বছর ৮ মাস। এছাড়া ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডিজিজেস অফ দ্য চেস্ট অ্যান্ড হসপিটাল ২০২১ সালে আউটডোর এবং জরুরী বিভাগ মিলিয়ে ২ লাখ ১০ হাজার রোগী চিকিৎসাধীন ছিলো। সাত বছর আগে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৮৫ হাজার (ঢাকা মেইল)। অন্যদিকে রাজধানীর জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটের হিসাবে দেখা গেছে, গত বছরের জুলাই মাসে হাসপাতালে ভর্তি, আউটডোর ও জরুরি বিভাগ মিলে রোগীর সংখ্যা ছিল ১২ হাজারের কিছু বেশি এবারের (২০২৩) জুলাইয়ে সে সংখ্যা ১৪ হাজার পার হয়েছে। আয়ুষ্কালের পরিপ্রেক্ষিতে বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা ২.৫ দূষণ বাংলাদেশে মানব স্বাস্থ্যের জন্য দ্বিতীয় বৃহত্তম হুমকি বলে জানিয়েছে কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্স-২০২৩। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুসারে, সীসা দূষণের ফলে বাংলাদেশে প্রতিবছর হৃদরোগে আক্রান্ত ১ লাখ ৩৮ হাজারও বেশি মানুষ এবং এই কারণে শিশুদের আইকিউ কমে যাচ্ছে এবং ফলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

 

পর পর গত কয়েক বছর ধরে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে আপনার প্রতিষ্ঠান কার্যত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় আমরা হতাশা প্রকাশ করছি। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, উদ্যোগ ও যথাযথ তদারকির অভাবে দেশের বৃক্ষশোভিত বন, গ্রাম ও শহরের সবুজ এলাকাগুলো এখন নানা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে আপনি এই দায় এড়াতে পারেন না। দেশের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ করা আপনার গুরু দায়িত্ব।
পরিবেশ অক্ষুন্ন রাখা এবং তার যথাযথ সংরক্ষণে যথোপযুক্ত ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, এ আমাদের প্রত্যাশা। এ বিষয়ে আপনার সুনির্দিষ্ট ও ত্বরিৎ পদক্ষেপ দেশের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করে সবুজায়নে আপনার অঙ্গীকারের দৃঢ়তা নিশ্চিত করবে বলে আমরা আশাবাদী। আমরা একই সাথে প্রত্যাশা করি এই বছর বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করে বিশ্বের দরবারে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের শীর্ষ দেশে হিসেবে বাংলাদেশের নাম থাকবে।

 

বায়ু দূষণ রোধে বাপা’র পক্ষ থেকে নিম্মোক্ত সুপারিশ ও দাবিসমূহ তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হচ্ছে – নির্মল বায়ু আইন-২০১৯ দ্রুত প্রণয়ন করা, নির্মাণ কাজের সময় নির্মাণ স্থান ঘেরাও দিয়ে রাখতে হবে ও নির্মাণ সামগ্রী পরিবহনের সময় ঢেকে নিতে হবে, শুষ্ক মৌসুমে সিটি কর্পোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, ওয়াসা এবং পরিবেশ অধিদপ্তর এর সমন্বয়ে দূষিত শহরগুলোতে প্রতি দিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর পর পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করতে হবে, অবৈধ ইটভাটা গুলো বন্ধ করে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিকল্প ইটের প্রচলন বাড়াতে হবে, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং ফিটনেস বিহীন গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যত্রতত্র বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ করতে হবে, সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, ডেসাসহ অন্যান্য সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে, নগরের বিভিন্ন ব্যস্ততম স্থানে তাৎক্ষনিক বায়ুমাণ প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে, পরিবেশ ক্যাডার সার্ভিস এবং পরিবেশ পুলিশ চালু ও পরিবেশ আদালত আরো কার্যকর করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্মারকলিপি গ্রহণে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনিহা প্রকাশ

আপডেট সময় : ০৫:৩৭:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মার্চ ২০২৪

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র উদ্যোগে  আজ বুধবার সকাল ১১টায়, “বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও জরুরী ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের”-দাবিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিসে স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি বিষয়ে সকালে অবহিত করা হলে অফিস থেকে জানানো হয় ডিজি মহোদয় না থাকায় উনার অনুমতি ছাড়া তা গ্রহণ করা হবে না। বাপা নেতৃবৃন্দ অফিসে গিয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নিকট তা হস্তান্তর করতে চাইলে প্রথমে বাপা নেতৃবৃন্দকে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি, এক পর্যায়ে তারা শর্তসাপেক্ষে সাংবাদিক ছাড়া ৩-৪ জনকে প্রবেশের অনুমতি দেয়।

 

বাপা’র সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার এর নেতৃত্বে বাপা’র একটি প্রতিনিধি দল সংগঠনের পক্ষ থেকে পরিবেশ অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নিকট গেলে তারা মহাপরিচালক ব্যস্ত আছে ফোনে কথা বলছেন বলে রুমের গেটে বাপা নেতৃবৃন্দ ২০ মি. দাঁড় করিয়ে রাখেন। প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার পরে রুমে যাওয়ার পরে একপর্যায়ে বাপা নেতৃবৃন্দ অতিরিক্ত মহাপরিচালকের রোষাণলের শিকার হয় যা, সত্যিই দুঃখজনক। নানাভাবে অনাগ্রহ প্রকাশ করার পরে বাপা নেতৃবৃন্দের নিকট থেকে অতিরিক্তি মহাপরিচালক স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন।

 

বাপা’র সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির এর সালনায় “বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও জরুরী ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের”-দাবিতে অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচি উপস্থিত ছলেন, বাপা’র সহ-সভাপতি মহিদুল হক খান, বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক যথাক্রমে অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার, বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক, আমিনুর রসুল, হাসান ইউসুফ খান ও হুমায়ুন কবির সুমন, আরডিআরএস এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ, মানবাধিকার উন্নয়ন কেন্দ্রের মহাসচিব, মাহবুল হক, বাপা’র জাতীয় কমিটির সদস্য যথাক্রমে মো. হাফিজুল ইসলাম, হাজী শেখ আনছার আলী, শাকিল কবির, মোনছেফা তৃপ্তি ও তিতলি নাজনিন এবং বাপা ও গ্রীন ভয়েসের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

 

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, সারা বিশ্বের মধ্যে বায়ুদূষণে শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ, যা জাতীর জন্য লজ্জাজনক। দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মকে বায়ুদূষণের কারনে পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি সকল জনগণকে বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
মহিদুল হক খান বলেন, সরকার দায়িত্ববান হলে এই বায়ুধষণ রোধ করা সম্ভব। জনগণের ট্যাক্সে পরিচালিত পরিবেশ অধিদপ্তর সেখানে সাংবাদিক কেন প্রবেশ করাতে পারেনা জাতি তা জানতে চায়।

 

আলমগীর কবির বলেন, বায়ুদূষণরোধে পরিবেশ অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় সম্পুর্ণ ব্যর্থ। তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর অকার্যকার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও নির্মাণ কাজের ফলে ঢাকার দূষণ বেশি হচ্ছে এবং এই দূষণ কমানোর জন্য ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করার দাবী জানান। এক দশক ধরে ব্যবহৃত সকল প্রকার মোবাইল এবং ইলেক্ট্রনিকস সামগ্রীর যে ব্যাটারিগুলো রয়েছে সেটা কিভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয় এবং সেগুলো থেকে কি পরিমাণ দূষণ হয় তার সঠিক হিসাব বের করতে তিনি সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোকে অনুরোধ জানান।

 

 

অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি পলিসি ইনস্টিটিউট থেকে প্রকাশিত বায়ু দূষণ বিষয়ক এক বৈশ্বিক প্রতিবেদন অনুযায়ী বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বের সব মানুষের গড় আয়ু দুই বছর চার মাস কমছে। অপরপক্ষে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের গড় আয়ু কমছে ৬ বছর ৮ মাস। পরিবেশ মন্ত্রীর ১০০ দিনের কর্ম পরিকল্পানার কথা বলা হলেও কার্যত কোন কর্মসূচি দেখা যাচ্ছেনা। পরিবেশগত সুশাসন প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

 

মোহাম্মদ এজাজ বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর এখন পর্যন্ত গত একবছরে বায়ুদূষণ রোধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে মনে হয়না। তারা শুধু নিত্য নতুন প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত। কার্যত পরিবেশ ভালো রাখার জন্য কার্যকরি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

স্মারকলিপিতে বলা হয় যে, বিশ্বের সম্প্রতি বায়ুদূষণের দেশ হিসেবে শীর্ষে বাংলাদেশ, নগর হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। গত ১৯ মার্চ সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের ‘বৈশ্বিক বায়ু মান প্রতিবেদন ২০২৩’এ এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক আইকিউএয়ারের সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় ও সতর্ক করে। বায়ুদূষণের অন্যতম উপাদান পিএম ২.৫ বা অতিক্ষুদ্র বস্তুকণার উপাদান ধরেই এই বায়ুর মান নির্ণয় করা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের ১৩৪টি দেশ ও অ লের প্রায় ৩০ হাজার নজরদারি স্টেশন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইকিউএয়ার প্রতিবেদনটি তৈরি করে। সেখানে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশের প্রতি ঘনমিটার বায়ুতে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণার (পিএম ২.৫) উপস্থিতি ছিল ৭৯ দশমিক ৯ মাইক্রোগ্রাম। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বেঁধে দেওয়া মানদণ্ডের চেয়ে অন্তত ১৬ গুণ বেশি। বাপা মনে করে বিশ্বের দরবারে বাংঙ্গালী জাতির জন্য এটি অত্যন্ত অপমান ও লজ্জাজনক ঘটনা।

 

মাত্রারিক্ত বায়ুদূষণের কারণে এয়ার কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্স-২০২৩ প্রতিবেদন অনুযায়ী বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বের সব মানুষের গড় আয়ু দুই বছর চার মাস কমছে। অপরপক্ষে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের গড় আয়ু কমছে ৬ বছর ৮ মাস। এছাড়া ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডিজিজেস অফ দ্য চেস্ট অ্যান্ড হসপিটাল ২০২১ সালে আউটডোর এবং জরুরী বিভাগ মিলিয়ে ২ লাখ ১০ হাজার রোগী চিকিৎসাধীন ছিলো। সাত বছর আগে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৮৫ হাজার (ঢাকা মেইল)। অন্যদিকে রাজধানীর জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটের হিসাবে দেখা গেছে, গত বছরের জুলাই মাসে হাসপাতালে ভর্তি, আউটডোর ও জরুরি বিভাগ মিলে রোগীর সংখ্যা ছিল ১২ হাজারের কিছু বেশি এবারের (২০২৩) জুলাইয়ে সে সংখ্যা ১৪ হাজার পার হয়েছে। আয়ুষ্কালের পরিপ্রেক্ষিতে বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা ২.৫ দূষণ বাংলাদেশে মানব স্বাস্থ্যের জন্য দ্বিতীয় বৃহত্তম হুমকি বলে জানিয়েছে কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্স-২০২৩। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুসারে, সীসা দূষণের ফলে বাংলাদেশে প্রতিবছর হৃদরোগে আক্রান্ত ১ লাখ ৩৮ হাজারও বেশি মানুষ এবং এই কারণে শিশুদের আইকিউ কমে যাচ্ছে এবং ফলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

 

পর পর গত কয়েক বছর ধরে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে আপনার প্রতিষ্ঠান কার্যত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় আমরা হতাশা প্রকাশ করছি। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, উদ্যোগ ও যথাযথ তদারকির অভাবে দেশের বৃক্ষশোভিত বন, গ্রাম ও শহরের সবুজ এলাকাগুলো এখন নানা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে আপনি এই দায় এড়াতে পারেন না। দেশের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ করা আপনার গুরু দায়িত্ব।
পরিবেশ অক্ষুন্ন রাখা এবং তার যথাযথ সংরক্ষণে যথোপযুক্ত ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, এ আমাদের প্রত্যাশা। এ বিষয়ে আপনার সুনির্দিষ্ট ও ত্বরিৎ পদক্ষেপ দেশের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করে সবুজায়নে আপনার অঙ্গীকারের দৃঢ়তা নিশ্চিত করবে বলে আমরা আশাবাদী। আমরা একই সাথে প্রত্যাশা করি এই বছর বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করে বিশ্বের দরবারে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের শীর্ষ দেশে হিসেবে বাংলাদেশের নাম থাকবে।

 

বায়ু দূষণ রোধে বাপা’র পক্ষ থেকে নিম্মোক্ত সুপারিশ ও দাবিসমূহ তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হচ্ছে – নির্মল বায়ু আইন-২০১৯ দ্রুত প্রণয়ন করা, নির্মাণ কাজের সময় নির্মাণ স্থান ঘেরাও দিয়ে রাখতে হবে ও নির্মাণ সামগ্রী পরিবহনের সময় ঢেকে নিতে হবে, শুষ্ক মৌসুমে সিটি কর্পোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, ওয়াসা এবং পরিবেশ অধিদপ্তর এর সমন্বয়ে দূষিত শহরগুলোতে প্রতি দিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর পর পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করতে হবে, অবৈধ ইটভাটা গুলো বন্ধ করে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিকল্প ইটের প্রচলন বাড়াতে হবে, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং ফিটনেস বিহীন গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যত্রতত্র বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ করতে হবে, সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, ডেসাসহ অন্যান্য সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে, নগরের বিভিন্ন ব্যস্ততম স্থানে তাৎক্ষনিক বায়ুমাণ প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে, পরিবেশ ক্যাডার সার্ভিস এবং পরিবেশ পুলিশ চালু ও পরিবেশ আদালত আরো কার্যকর করতে হবে।