০৮:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গাজার দুই-তৃতীয়াংশ হাসপাতাল বন্ধ

ইসরায়েলের হামলা থামছে না। প্রতিদিনই বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। আহত এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হচ্ছে হাসপাতালে। গত বুধবার গাজার আহিল আরব হাসপাতাল চত্বরে

 

 

◆ দুর্ভিক্ষ ঠেকাতে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ আইসিজের
◆ গাজার নারীদের অন্তর্বাস নিয়ে অশ্লীল খেলা সেনাদের
◆ ঈদের পর রাফাহতে হামলার পরিকল্পনা ইসরায়েলের

 

 

গত ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। মূলত ইসরায়েলি আক্রমণ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। ইসরায়েলের বর্বর হামলায় এখন পর্যন্ত সাড়ে ৩২ হাজারেও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া গত অক্টোবর থেকে চলা বর্বর এই আগ্রাসনে অন্তত ৭৪ হাজার ৯৮০ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অনতিবিলম্বে গাজায় যুদ্ধবিরতি চেয়ে তোলা প্রস্তাব পাস হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি সেনারা। তাদের হামলায় এ উপত্যকায় প্রতিদিন প্রায় শতাধিক মৃত্যু হচ্ছে।
গাজার হাসপাতালগুলোর পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ক সংস্থা ইউএনওসিএইচএ বলেছে, ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার হামলায় গাজার দুই-তৃতীয়াংশ হাসপাতাল সেবাদানের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে করে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন পার করছেন বোমা-গুলিতে আহত হাজারো ফিলিস্তিনি। উপত্যকাটির যেসব হাসপাতাল এখনো চালু আছে, সেগুলোও পূর্ণ মাত্রায় চিকিৎসাসেবা দিতে পারছে না। দক্ষিণের হাসপাতালগুলোর অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।

 

ফিলিস্তিনি এ ভূখণ্ডের ৩৬টি হাসপাতালের দুই-তৃতীয়াংশই ইসরায়েলের হামলায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কোনোরকমে সেবা দিতে পারছে মাত্র ১২টি হাসপাতাল।
ইউএনওসিএইচএর তথ্য অনুযায়ী, ১০ দিন ধরে গাজার দক্ষিণে রাফা এলাকার আল-শিফা হাসপাতাল অবরোধ করে রেখেছেন ইসরায়েলি বাহিনীর সদস্যরা। হাসপাতালে চিকিৎসাকর্মী ও রোগীদের এমন একটি ভবনে আটকে রাখা হয়েছে, যেটি আগে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার কাজে ব্যবহার করা হতো। ওই ভবনে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। খাবার ও পানির অভাবে রাফার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে তীব্র মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সেখানে প্রতিদিন গড়ে অপুষ্টির শিকার ১৫ শিশু ভর্তি হচ্ছে। দক্ষিণে খান ইউনিসের আল-আমাল হাসপাতালের প্রবেশপথগুলো আবর্জনা ফেলে বন্ধ করে দিয়েছেন ইসরায়েলি সেনারা। এই এলাকার ইউরোপিয়ান গাজা হাসপাতালের অবস্থাকে ‘বর্ণনার অতীত’ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

ইসরায়েল বলেছে, গত ১০ দিনে আল-শিফা হাসপাতাল ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায় ২০০ ফিলিস্তিনি যোদ্ধাকে হত্যা করেছে তারা। হাসপাতাল থেকে বেসামরিক মানুষ, রোগী ও চিকিৎসাকর্মীদের ‘বিকল্প স্থাপনায়’ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে জেনেভাভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটরের ভাষ্য, ১০ দিনের অবরুদ্ধ অবস্থার মধ্যে অন্তত ১৩ শিশুসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

 

এদিকে ফিলিস্তিনের গাজার বাসিন্দাদের কাছে দেরি না করে মৌলিক খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ইসরায়েলকে নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। আইসিজে বলেছেন, গাজার ফিলিস্তিনিরা দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছেন। সেখানে দুর্ভিক্ষ ও ক্ষুধা ছড়িয়ে পড়ছে। গত বৃহস্পতিবার আইসিজের বিচারকেরা সর্বসম্মতিক্রমে এ নির্দেশ দেন। আদেশে বিচারকেরা বলেছেন, ‘আদালতের পর্যবেক্ষণ হলো গাজার ফিলিস্তিনিরা আর দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতেই কেবল নেই, বরং এরই মধ্যে সেখানে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়ে গেছে।’

 

এর আগে ইসরায়েল গাজায় রাষ্ট্রীয়ভাবে গণহত্যা চালাচ্ছে অভিযোগ করে আইসিজেতে মামলা করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ওই মামলার অধীনে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণে আদালতে আবেদন জানিয়েছিল দেশটি। জানুয়ারিতে আইসিজে ইসরায়েলকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, গণহত্যা কনভেনশনের আওতায় পড়তে পারে এমন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকতে এবং দেশটির সেনারা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যাতে কোনো গণহত্যামূলক কাজ না করে তা নিশ্চিত করতে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনারা মত্ত অন্য কাজে। তারা ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে পাওয়া নারীদের অন্তর্বাসের সঙ্গে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে খেলা করছে। আর সেই কাজের ছবি এবং ভিডিও অনলাইনে পোস্টও করছে ইসরায়েলি সৈন্যরা।

 

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সৈন্যরা ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে পাওয়া নারীদের অন্তর্বাসের সাথে অশ্লীলভাবে নিজেদের খেলা করার ছবি এবং ভিডিও পোস্ট করছে। একটি ভিডিওতে, একজন ইসরায়েলি সৈন্যকে গাজার একটি ঘরে আর্মচেয়ারে বসে হাসতে দেখা যায়। তার এক হাতে বন্দুক এবং অন্য হাতে সাদা সাটিনের অন্তর্বাস ঝুলছে। তিনি মূলত পাশের সোফায় শুয়ে থাকা আরেক সেনার খোলা মুখের ওপর সেই অন্তর্বাস নাড়াচাড়া করছেন। অন্য এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ইসরায়েলি এক সেনা ট্যাংকের ওপর বসে আছে। এ সময় নারীদের একটি ম্যানিকুইনকে (পোশাকের দোকানের পুতুল) কালো ব্রা এবং হেলমেট পরিয়ে ধরে রেখে সেই সেনা বলছে, ‘আমি সুন্দর স্ত্রী পেয়েছি। গাজায় সম্পর্কে জড়িয়ে গেছি, সুন্দরী নারী।’ রয়টার্স বলছে, ইসরায়েলি সৈন্যদের ধারণ করা অনেকগুলো ভিডিও ও ছবির মধ্যে এ দুটি ভিডিও রয়েছে। এ রকম বহু পোস্ট রয়েছে যেখানে ইসরায়েলি সৈন্যদের ফিলিস্তিনি নারীদের অন্তর্বাস, ম্যানিকুইনকে এবং কিছু ক্ষেত্রে দুটোই প্রদর্শন করতে দেখা যাচ্ছে। অন্তর্বাসের এসব ছবি অনলাইনে দেখা হয়েছে কয়েক হাজারবার। জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেছেন, ‘এই ধরনের ছবি পোস্ট করা ফিলিস্তিনি নারীদের এবং সমস্ত নারীদের জন্য অবমাননাকর।’

 

এদিকে ঈদুল ফিতরের আগে ফিলিস্তিনের রাফাহতে ইসরায়েল কোনো ধরনের স্থল হামলা চালাবে না বলে জানিয়েছে মিশর। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউ আরব নিউজকে এ তথ্য জানিয়ে মিশরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, রাফাহতে ঈদের পর হামলার পরিকল্পনা করছে দখলদার ইসরায়েল। হামলার নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বলছে না। তবে ঈদের আগে তারা কোনো হামলা চালাবে না বলে জানিয়েছে। ইসরায়েল তাদের আশ্বস্ত করেছে রাফাহতে যদি কোনো ধরনের হামলা তারা চালায়ও; তাহলে সেটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে চালানো হবে। ইসরায়েলি সেনাদের হামলা থেকে বাঁচতে গাজার ১৩ লাখ বাসিন্দা বর্তমানে রাফাহতে অবস্থান করছেন। তবে এখন সেখানে হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে আসছে ইসরায়েল। এর আগে ইসরায়েল হুমকি দিয়েছিল যদি জিম্মিদের ছেড়ে না দেওয়া হয় তাহলে রমজানের শুরুর দিন থেকেই রাফাহতে বর্বরতা শুরু করবে তারা। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে পড়ে রাফাহতে হামলা থেকে বিরত থাকে ইসরায়েল।

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজার দুই-তৃতীয়াংশ হাসপাতাল বন্ধ

আপডেট সময় : ০৭:৪৫:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মার্চ ২০২৪

ইসরায়েলের হামলা থামছে না। প্রতিদিনই বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। আহত এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হচ্ছে হাসপাতালে। গত বুধবার গাজার আহিল আরব হাসপাতাল চত্বরে

 

 

◆ দুর্ভিক্ষ ঠেকাতে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ আইসিজের
◆ গাজার নারীদের অন্তর্বাস নিয়ে অশ্লীল খেলা সেনাদের
◆ ঈদের পর রাফাহতে হামলার পরিকল্পনা ইসরায়েলের

 

 

গত ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। মূলত ইসরায়েলি আক্রমণ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। ইসরায়েলের বর্বর হামলায় এখন পর্যন্ত সাড়ে ৩২ হাজারেও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া গত অক্টোবর থেকে চলা বর্বর এই আগ্রাসনে অন্তত ৭৪ হাজার ৯৮০ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অনতিবিলম্বে গাজায় যুদ্ধবিরতি চেয়ে তোলা প্রস্তাব পাস হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি সেনারা। তাদের হামলায় এ উপত্যকায় প্রতিদিন প্রায় শতাধিক মৃত্যু হচ্ছে।
গাজার হাসপাতালগুলোর পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ক সংস্থা ইউএনওসিএইচএ বলেছে, ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার হামলায় গাজার দুই-তৃতীয়াংশ হাসপাতাল সেবাদানের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে করে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন পার করছেন বোমা-গুলিতে আহত হাজারো ফিলিস্তিনি। উপত্যকাটির যেসব হাসপাতাল এখনো চালু আছে, সেগুলোও পূর্ণ মাত্রায় চিকিৎসাসেবা দিতে পারছে না। দক্ষিণের হাসপাতালগুলোর অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।

 

ফিলিস্তিনি এ ভূখণ্ডের ৩৬টি হাসপাতালের দুই-তৃতীয়াংশই ইসরায়েলের হামলায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কোনোরকমে সেবা দিতে পারছে মাত্র ১২টি হাসপাতাল।
ইউএনওসিএইচএর তথ্য অনুযায়ী, ১০ দিন ধরে গাজার দক্ষিণে রাফা এলাকার আল-শিফা হাসপাতাল অবরোধ করে রেখেছেন ইসরায়েলি বাহিনীর সদস্যরা। হাসপাতালে চিকিৎসাকর্মী ও রোগীদের এমন একটি ভবনে আটকে রাখা হয়েছে, যেটি আগে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার কাজে ব্যবহার করা হতো। ওই ভবনে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। খাবার ও পানির অভাবে রাফার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে তীব্র মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সেখানে প্রতিদিন গড়ে অপুষ্টির শিকার ১৫ শিশু ভর্তি হচ্ছে। দক্ষিণে খান ইউনিসের আল-আমাল হাসপাতালের প্রবেশপথগুলো আবর্জনা ফেলে বন্ধ করে দিয়েছেন ইসরায়েলি সেনারা। এই এলাকার ইউরোপিয়ান গাজা হাসপাতালের অবস্থাকে ‘বর্ণনার অতীত’ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

ইসরায়েল বলেছে, গত ১০ দিনে আল-শিফা হাসপাতাল ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায় ২০০ ফিলিস্তিনি যোদ্ধাকে হত্যা করেছে তারা। হাসপাতাল থেকে বেসামরিক মানুষ, রোগী ও চিকিৎসাকর্মীদের ‘বিকল্প স্থাপনায়’ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে জেনেভাভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটরের ভাষ্য, ১০ দিনের অবরুদ্ধ অবস্থার মধ্যে অন্তত ১৩ শিশুসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

 

এদিকে ফিলিস্তিনের গাজার বাসিন্দাদের কাছে দেরি না করে মৌলিক খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ইসরায়েলকে নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। আইসিজে বলেছেন, গাজার ফিলিস্তিনিরা দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছেন। সেখানে দুর্ভিক্ষ ও ক্ষুধা ছড়িয়ে পড়ছে। গত বৃহস্পতিবার আইসিজের বিচারকেরা সর্বসম্মতিক্রমে এ নির্দেশ দেন। আদেশে বিচারকেরা বলেছেন, ‘আদালতের পর্যবেক্ষণ হলো গাজার ফিলিস্তিনিরা আর দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতেই কেবল নেই, বরং এরই মধ্যে সেখানে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়ে গেছে।’

 

এর আগে ইসরায়েল গাজায় রাষ্ট্রীয়ভাবে গণহত্যা চালাচ্ছে অভিযোগ করে আইসিজেতে মামলা করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ওই মামলার অধীনে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণে আদালতে আবেদন জানিয়েছিল দেশটি। জানুয়ারিতে আইসিজে ইসরায়েলকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, গণহত্যা কনভেনশনের আওতায় পড়তে পারে এমন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকতে এবং দেশটির সেনারা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যাতে কোনো গণহত্যামূলক কাজ না করে তা নিশ্চিত করতে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনারা মত্ত অন্য কাজে। তারা ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে পাওয়া নারীদের অন্তর্বাসের সঙ্গে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে খেলা করছে। আর সেই কাজের ছবি এবং ভিডিও অনলাইনে পোস্টও করছে ইসরায়েলি সৈন্যরা।

 

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সৈন্যরা ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে পাওয়া নারীদের অন্তর্বাসের সাথে অশ্লীলভাবে নিজেদের খেলা করার ছবি এবং ভিডিও পোস্ট করছে। একটি ভিডিওতে, একজন ইসরায়েলি সৈন্যকে গাজার একটি ঘরে আর্মচেয়ারে বসে হাসতে দেখা যায়। তার এক হাতে বন্দুক এবং অন্য হাতে সাদা সাটিনের অন্তর্বাস ঝুলছে। তিনি মূলত পাশের সোফায় শুয়ে থাকা আরেক সেনার খোলা মুখের ওপর সেই অন্তর্বাস নাড়াচাড়া করছেন। অন্য এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ইসরায়েলি এক সেনা ট্যাংকের ওপর বসে আছে। এ সময় নারীদের একটি ম্যানিকুইনকে (পোশাকের দোকানের পুতুল) কালো ব্রা এবং হেলমেট পরিয়ে ধরে রেখে সেই সেনা বলছে, ‘আমি সুন্দর স্ত্রী পেয়েছি। গাজায় সম্পর্কে জড়িয়ে গেছি, সুন্দরী নারী।’ রয়টার্স বলছে, ইসরায়েলি সৈন্যদের ধারণ করা অনেকগুলো ভিডিও ও ছবির মধ্যে এ দুটি ভিডিও রয়েছে। এ রকম বহু পোস্ট রয়েছে যেখানে ইসরায়েলি সৈন্যদের ফিলিস্তিনি নারীদের অন্তর্বাস, ম্যানিকুইনকে এবং কিছু ক্ষেত্রে দুটোই প্রদর্শন করতে দেখা যাচ্ছে। অন্তর্বাসের এসব ছবি অনলাইনে দেখা হয়েছে কয়েক হাজারবার। জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেছেন, ‘এই ধরনের ছবি পোস্ট করা ফিলিস্তিনি নারীদের এবং সমস্ত নারীদের জন্য অবমাননাকর।’

 

এদিকে ঈদুল ফিতরের আগে ফিলিস্তিনের রাফাহতে ইসরায়েল কোনো ধরনের স্থল হামলা চালাবে না বলে জানিয়েছে মিশর। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউ আরব নিউজকে এ তথ্য জানিয়ে মিশরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, রাফাহতে ঈদের পর হামলার পরিকল্পনা করছে দখলদার ইসরায়েল। হামলার নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বলছে না। তবে ঈদের আগে তারা কোনো হামলা চালাবে না বলে জানিয়েছে। ইসরায়েল তাদের আশ্বস্ত করেছে রাফাহতে যদি কোনো ধরনের হামলা তারা চালায়ও; তাহলে সেটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে চালানো হবে। ইসরায়েলি সেনাদের হামলা থেকে বাঁচতে গাজার ১৩ লাখ বাসিন্দা বর্তমানে রাফাহতে অবস্থান করছেন। তবে এখন সেখানে হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে আসছে ইসরায়েল। এর আগে ইসরায়েল হুমকি দিয়েছিল যদি জিম্মিদের ছেড়ে না দেওয়া হয় তাহলে রমজানের শুরুর দিন থেকেই রাফাহতে বর্বরতা শুরু করবে তারা। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে পড়ে রাফাহতে হামলা থেকে বিরত থাকে ইসরায়েল।