০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কসবায় ছুরিকাঘাতে এক কৃষককে হত্যা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সেচের ইরিক্ষেতের এক হাজার টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে সেই ইরিক্ষেতেই আজ শনিবার সকালে মুছা মিয়া (৪০) নামের এক কৃষককে ছুরিকাঘাতে খুন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কৃষক মুছা মিয়ার মারা যাওয়ার খবরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারটিতে দেখা দিয়েছে শোকের মাতম।

নিহত মুছা মিয়া(৪০) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের দক্ষিণখার গ্রামের মৃত জজু মিয়ার্ ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক। মৃত কালে তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক প্রতিবন্ধি ছেলে রেখে গেছেন।
পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের দক্ষিণখার গ্রামের কৃষক মুছা মিয়ার নিজস্ব্ জমি—জমা নেই। অন্যের জমি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। একই গ্রামের তৌহিদ মিয়ার ছেলে রুহুল আমিনের (২৫) নিজস্ব জমি—জমা এবং একটি সেচ মেশিন রয়েছে। রুহুল আমিনের কাছ থেকে মুছা মিয়া দেড় একর জমি জমি বন্ধক নিয়েছেন। সেই জমিগুলিতে ইরি ধানের চাষ করেছেন। রুহুল আমিনের সেচ থেকে জমিগুলিতে সেচের পানি দেন। মুছা মিয়ার কাছে সেচের পানির তিন হাজার টাকা পাওনা ছিলেন রহুল আমিন। কয়েকদিন আগে দুই হাজার  টাকা পরিশোধ করেছেন। তার কাছে সেচের আরো এক হাজার  টাকা পায় রুহুল আমিন।
আজ শনিবার সকালে ওই ইরি জমিতে কাজ করছিলেন কৃষক মুছা মিয়া। ওই সময় রুহুল আমিন তাঁর কাছে সেচের এক হাজার টাকা চায়। এ সময় মুছা মিয়া এক হাজার টাকা পরিশোধ করতে কিছু দিনের সময় চায়। রুহুল আমিন  এ নিয়ে মুছা মিয়ার সাথে বাকবিতন্ডায় জড়ায়। এক পর্যায়ে রহুল আমিনের কাছে থাকা একটি ছুরি দিয়ে মুছা মিয়ার পেটে আঘাত করে। মুছা মিয়া চিৎকার করতে করতে ধান ক্ষেতে পড়ে যায়। রুহুল আমি দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় মুছা মিয়ার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও বাড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে মুছা মিয়াকে উদ্ধার  করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
মুছা মিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসে। মুছা মিয়ার বাড়িতে দেখা দেয় শোকের মাতম । তার স্ত্রী ছোট মেয়ে ও প্রতিবন্ধি ছেলেটি কান্নায় ভেঙে পড়েন।  এ সময় নিহতের বড় বোন স্বপ্না আক্তার বলেন, আমার ভাই একজন সহজ সরল মানুষ। তার একটি মেয়ে আর একটি প্রতিবন্ধি ছেলে আছে।  নিজের কোন জমি নেই। অন্যের জমি বন্ধক নিয়ে কোন রকমে দিনাতিপাত করে। রহুল আমিন আমার ভাইয়ের কাছে সেচের  তিন হাজার টাকা পাওনা ছিল। এর মধ্যে দুই হাজার টাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর মাত্র এক হাজার টাকা পাওনা ছিল। ওই এক হাজার টাকার জন্য জমিতে গিয়ে আমার ভাইকে ছুরিকাঘাত করে খুন করেছে রহুল আমিন । আমরা আমার ভাইয়ে খুনের বিচার চাই।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাজু আহমেদ বলেন, জমির সেচ ও পত্তনের জমি টাকাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে মুছা মিয়া নামের এক কৃষককে খুন করা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের সুরোতহালে দেখা গেছে পেটের মধ্যে একটি ছুরির আঘাত রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকা রুহুল আমিন পালিয়ে গেছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
জনপ্রিয় সংবাদ

কসবায় ছুরিকাঘাতে এক কৃষককে হত্যা

আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মার্চ ২০২৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সেচের ইরিক্ষেতের এক হাজার টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে সেই ইরিক্ষেতেই আজ শনিবার সকালে মুছা মিয়া (৪০) নামের এক কৃষককে ছুরিকাঘাতে খুন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কৃষক মুছা মিয়ার মারা যাওয়ার খবরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারটিতে দেখা দিয়েছে শোকের মাতম।

নিহত মুছা মিয়া(৪০) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের দক্ষিণখার গ্রামের মৃত জজু মিয়ার্ ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক। মৃত কালে তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক প্রতিবন্ধি ছেলে রেখে গেছেন।
পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের দক্ষিণখার গ্রামের কৃষক মুছা মিয়ার নিজস্ব্ জমি—জমা নেই। অন্যের জমি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। একই গ্রামের তৌহিদ মিয়ার ছেলে রুহুল আমিনের (২৫) নিজস্ব জমি—জমা এবং একটি সেচ মেশিন রয়েছে। রুহুল আমিনের কাছ থেকে মুছা মিয়া দেড় একর জমি জমি বন্ধক নিয়েছেন। সেই জমিগুলিতে ইরি ধানের চাষ করেছেন। রুহুল আমিনের সেচ থেকে জমিগুলিতে সেচের পানি দেন। মুছা মিয়ার কাছে সেচের পানির তিন হাজার টাকা পাওনা ছিলেন রহুল আমিন। কয়েকদিন আগে দুই হাজার  টাকা পরিশোধ করেছেন। তার কাছে সেচের আরো এক হাজার  টাকা পায় রুহুল আমিন।
আজ শনিবার সকালে ওই ইরি জমিতে কাজ করছিলেন কৃষক মুছা মিয়া। ওই সময় রুহুল আমিন তাঁর কাছে সেচের এক হাজার টাকা চায়। এ সময় মুছা মিয়া এক হাজার টাকা পরিশোধ করতে কিছু দিনের সময় চায়। রুহুল আমিন  এ নিয়ে মুছা মিয়ার সাথে বাকবিতন্ডায় জড়ায়। এক পর্যায়ে রহুল আমিনের কাছে থাকা একটি ছুরি দিয়ে মুছা মিয়ার পেটে আঘাত করে। মুছা মিয়া চিৎকার করতে করতে ধান ক্ষেতে পড়ে যায়। রুহুল আমি দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় মুছা মিয়ার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও বাড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে মুছা মিয়াকে উদ্ধার  করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
মুছা মিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসে। মুছা মিয়ার বাড়িতে দেখা দেয় শোকের মাতম । তার স্ত্রী ছোট মেয়ে ও প্রতিবন্ধি ছেলেটি কান্নায় ভেঙে পড়েন।  এ সময় নিহতের বড় বোন স্বপ্না আক্তার বলেন, আমার ভাই একজন সহজ সরল মানুষ। তার একটি মেয়ে আর একটি প্রতিবন্ধি ছেলে আছে।  নিজের কোন জমি নেই। অন্যের জমি বন্ধক নিয়ে কোন রকমে দিনাতিপাত করে। রহুল আমিন আমার ভাইয়ের কাছে সেচের  তিন হাজার টাকা পাওনা ছিল। এর মধ্যে দুই হাজার টাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর মাত্র এক হাজার টাকা পাওনা ছিল। ওই এক হাজার টাকার জন্য জমিতে গিয়ে আমার ভাইকে ছুরিকাঘাত করে খুন করেছে রহুল আমিন । আমরা আমার ভাইয়ে খুনের বিচার চাই।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাজু আহমেদ বলেন, জমির সেচ ও পত্তনের জমি টাকাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে মুছা মিয়া নামের এক কৃষককে খুন করা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের সুরোতহালে দেখা গেছে পেটের মধ্যে একটি ছুরির আঘাত রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকা রুহুল আমিন পালিয়ে গেছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।