◆রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র
◆মস্কোর কনসার্টে হামলায় গ্রেপ্তার ১২
◆ রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কোন্নয়ন অসম্ভব
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, কংগ্রেসে বিরোধের কারণে মার্কিন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সামরিক সহায়তা না পেলে ইউক্রেন বাহিনীকে রণক্ষেত্র থেকে কিছুটা পিছু হটতে হবে। এদিকে মধ্য ও পশ্চিম ইউক্রেনে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে সেখানকার তাপ এবং জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত শুক্রবার ওয়াশিংটন পোস্টকে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, মার্কিন সমর্থন না থাকা মানে আমাদের কাছে কোনো বিমান প্রতিরক্ষা নেই, কোনো প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র নেই, ইলেকট্রনিক যুদ্ধের জন্য কোনো জ্যামার নেই। এমনকি, নেই কোনো ১৫৫ মিলিমিটার গোলাবারুদ। এর মানে দাঁড়ায় আমরা পিছু হটব। ধাপে ধাপে, ছোট ছোট পদক্ষেপে। তবে যাতে পিছু হটা না লাগে এমন কিছু উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি আমরা।
তিনি আরো বলেন, রণক্ষেত্রে যুদ্ধাস্ত্রের ঘাটতির মানে হলো ‘আপনাকে অল্প সরঞ্জামে কাজ চালাতে হবে। যদি প্রশ্ন করুন কীভাবে? অবশ্যই তা ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে। যুদ্ধক্ষেত্রের সম্মুখভাগে সেনা কমাতে হবে। আর যদি এই লাইনটি ভেঙে যায় তবে রুশ সেনারা বড় শহরে ঢুকে যাবে। ইউক্রেন দেশীয় অস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রের অভাব পূরণ করছে। তবে এটি পর্যাপ্ত নয়।
রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ অনুমোদনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট দলের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে দেশের অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে কয়েক মাস ধরে এটি ঝুলিয়ে রেখেছেন হাউস স্পিকার মাইক জনসন। গত মাসে পূর্বাঞ্চলীয় শহর আভদিভকা দখলে নিয়েছে রুশ বাহিনী। এর পরই অল্পই অগ্রগতি করেছে বাহিনীটি। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের সম্মুখভাগে কয়েক মাসে সামান্য কিছু পরিবর্তন এসেছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এর মধ্যে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও অন্যান্য অবকাঠামোতে আক্রমণের গতি তীব্র করেছে দেশটি।
গত শুক্রবার টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে দেশটির বৃহত্তম পাওয়ার গ্রিড অপারেটর ইউক্রেনারগো জানিয়েছে, রাতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে একটি ব্যাপক সম্মিলিত হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলের তাপ ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিনিপ্রো শহরের কাছে কামিয়ানস্ক জেলার অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। ডিনিপ্রোপেট্রোভস্ক, পোলতাভা এবং চেরকাসি অঞ্চলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাগুলোতেও হামলা হওয়ার কথা জানিয়েছেন ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী জার্মান গালুশচেঙ্কো।
এদিকে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বলেছে, তাদের বিমানবাহিনী এক রাতের মধ্যেই রাশিয়ার ছোড়া ৩৯টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ২৬টি এবং ৬০টি ড্রোনের মধ্যে ৫৮টিই ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে, শুক্রবার রাশিয়ার একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, ইউক্রেনের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা অর্থহীন। কেননা, এটি দখলকৃত এলাকা থেকে রাশিয়ার সেনা প্রত্যাহারের মতো অগ্রহণযোগ্য ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এসব ধারণাকে রাশিয়া সমর্থন করে না।
এদিকে আট দিন আগে মস্কোর ক্রোকাস সিটি হলে বন্দুক হামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে নাজিরমাদ লুৎফুল্লোই নামের এক ব্যক্তিকে। রুশ গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, নাজিরমাদ লুৎফুল্লোইসহ এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার ১২ জনের সবাই তাজিকিস্তানের নাগরিক। রাশিয়ার প্রতিবেশী এই মধ্য এশীয় দেশটি এক সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের অঙ্গরাজ্য ছিল।
গ্রেপ্তার ১২ জনের মধ্যে নয় জনকে ‘প্রি ট্রায়াল ডিটেনশন’ বা বিচারপূর্ব কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছেন মস্কোর এক আদালত। এই নয় জনের মধ্যে নাজিরমাদও রয়েছেন। বাকি তিন জনের ভাগ্যে কী ঘটেছে- এখনো জানা যায়নি।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অধীন রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের উন্নয়নের প্রত্যাশা করাটা অর্থহীন বলে মন্তব্য করেছেন ওয়াশিংটনে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আনাতোলি আন্তোনোভ। রুশ বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ওয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনাতোলি আন্তোনোভ বলেছেন, অদূর ভবিষ্যতে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের উন্নয়ন অসম্ভব মনে হচ্ছে। বর্তমানের প্রশাসনের (মার্কিন) নজর এখন কীভাবে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে টিকে থাকা যায়। তারা তাদের রাশিয়া নীতি পর্যালোচনা করবে না। কারণ, তাতে তাদের এই নীতি ব্যর্থ হবে বলে প্রতীয়মান হবে। মস্কোর কনসার্ট হলে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো একজন সিনেটর বা কংগ্রেস সদস্য সমবেদনা জানাতে রুশ দূতাবাস সফর করবেন বলে আশা করেছিলেন, কিন্তু সে রকম কিছুই ঘটেনি। সেখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছেন, ওই কর্মকর্তা মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ নন।
























