০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দেশের উন্নয়ন-অভিযাত্রা সুগমে তৎপর জননিরাপত্তা বিভাগ

দেশের চলমান উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। নিরাপদ জীবন ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ নিশ্চিত করাই হলো বিভাগটির লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জননিরাপত্তা বিষয়ক আইন, বিধি ও নীতিমালা প্রণয়ন; আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে জননিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে কাজ করে যাচ্ছে বিভাগটি। এর ধারাবাহিকতায় বিগত ১৫ বছরে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে জননিরাপত্তা বিভাগ। বিশেষ করে চরমপন্থী, জলদস্যু/বনদস্যুদের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন, বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সঙ্গে নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমন বিষয়ে নানা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর এবং মানবপাচার প্রতিরোধ কার্যক্রমে সফলতা দেখিয়েছে এ বিভাগ। সব মিলিয়ে দেশের উন্নয়ন অভিযাত্রা সুগম ও বাধামুক্ত রাখার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বিগত ১৫ বছরে জননিরাপত্তা বিভাগের সাফল্য প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনায় দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা এবং সেবা নিশ্চিত করার জন্য জননিরাপত্তা বিভাগ বদ্ধপরিকর। এরই মধ্যে সরকারের ‘রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং সরকারের ‘ভিশন ২০৪১’ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ এবং ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ গ্রহণের মাধ্যমে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টা এখন বিশ্বের দরবারে মাইলফলক। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন অভিযাত্রা সুগম ও বাধা- মুক্ত রাখার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। জননিরাপত্তা বিভাগের বিগত ১৫ বছরের উন্নয়ন ও অর্জন জনজীবনের নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের প্রতিচ্ছবি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ বাংলাদেশ আজ শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির গতিপথে অগ্রসরমান। শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত। জননিরাপত্তা বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এর তদন্ত সংস্থা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠু ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছে। জননিরাপত্তা বিভাগের ‘বদলে যাওয়ার ১৫ বছর’ শীর্ষক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রতিবেদন সূত্রমতে, জননিরাপত্তা বিভাগের কৌশলগত উদ্দেশ্যসমূহ হলো দেশে অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিতকরণ; আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা; আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সীমান্ত নিরাপত্তার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থরক্ষা।

আর প্রধান কার্যাবলীর মধ্যে রয়েছে-জননিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত নীতিনির্ধারণী প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং এতদসংক্রান্ত আইন, বিধি ও নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন; কৌশলগত গোয়েন্দা কার্যাবলি পরিচালনা: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দেশের স্থিতিশীল উন্নয়ন সুসংহতকরণ; সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধ কার্যক্রম; সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দমনে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সঙ্গে সম্মিলিত কার্যক্রম গ্রহণ; জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগণের প্রয়োজনীয় অস্ত্র, সরঞ্জাম, রসদ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাকরণ; যুদ্ধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার যথাযথ প্রসিকিউশন দাখিল এবং ভিকটিম ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা বিধান এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ও চুক্তি সম্পাদন। প্রতিবেদনটিতে চরমপন্থী, জলদস্যু/বনদস্যুদের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন বিষয়ে ১৫ বছরের সাফল্য প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ১৩টি জেলার ৪৬২ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা ও তাদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে এরই মধ্যে মোট ১৭ কোটি ৬২ লাখ ১৯ হাজার ১৬০ টাকা ৯টি জেলার জেলা প্রশাসকগণের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুকূলে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও ২০১৮ সালে র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণকৃত ৩৪০ জন জলদস্যু/বনদস্যুদের বিরুদ্ধে ১৪০টি খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ ব্যতীত অন্যান্য মামলা হতে আসামিদের নাম প্রত্যাহার করার লক্ষ্যে জননিরাপত্তা বিভাগ হতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে ২০০৯ সাল হতে এ পর্যন্ত পাঁচটি সন্ত্রাসী সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সংগঠনগুলো হচ্ছে-হিজবুত তাহরীর বাংলাদেশ; আনসারুলাহ বাংলা টিম (এবিটি); আনসার-আল-ইসলাম; আল্লা’র দল ও জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারকীয়া। হলি আর্টিজানে ভয়াবহ হামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্তদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও সাক্ষ্য প্রমাণাদি উপস্থাপন করায় সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল জেএমবির সাত সদস্যকে ফাঁসির আদেশ প্রদান করেছে। হলি আর্টিজানে ভয়াবহ হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি, একজন ভারতীয়, নয়জন ইতালীয় ৩০৬ জন জাপানি নিহত নাগরিকদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে ২০০৯ সাল হতে এ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সঙ্গে নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমন বিষয়ে বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত সীমান্ত চুক্তির (মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি ১৯৭২) ধারাবাহিকতায় সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে ভারতের সঙ্গে ‘প্রটোকল টু দ্য এগ্রিমেন্ট কানেক্টিং দ্য ডিমারসেশন অব দ্য ল্যান্ড বাউন্ডারি বিটুইন ইন্ডিয়া অ্যান্ড বাংলাদেশ অ্যান্ড রিলেটেড ম্যাটারস’ স্বাক্ষরিত হয়। এ প্রটোকলের আওতায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১ ছিটমহল এবং ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল বিনিময় সম্পন্ন হয় এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলায় অবস্থিত। তিন বিঘা করিডোর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য চব্বিশ ঘণ্টা বাধাহীনভাবে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। উল্লেখযোগ্য চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকসমূহ হলো- মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রিটি (এমএলএটি)ভারত (২০১০), দক্ষিণ আফ্রিকা (২০১৯); এক্সট্রাডিশন থাইল্যান্ড (২০০১), ভারত (২০১৩/২০১৬) দক্ষিণ আফ্রিকা (২০১৯); ট্রান্সফার অব সেনটেন্সড পারসন্স ভারত (২০১০), সংযুক্ত আরব আমিরাত (২০১৪); সিকিউরিটি কোঅপারেশন তুরস্ক (২০২২), সংযুক্ত আরব আমিরাত (২০১৪) ও সৌদি আরব (২০২২); কমব্যাটিং ইন্টারন্যাশনাল টেররিজম, অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড ইলিসিট ড্রাগ ভারত (২০১০), কোঅর্ডিনেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট প্লান (সিবিএমপি) ভারত (২০১১) কাউন্টার টেররিজম চীন (২০১৬), যুক্তরাষ্ট্র (২০১৩), রাশিয়া (২০১৩) জার্মানি (২০১৭); প্রিভেনটিং অ্যান্ড কম্বেটিং ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমস মালয়েশিয়া (২০১২), অস্ট্রেলিয়া (২০১৫)।

এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সমুদ্রে ‘ট্রান্সন্যাশনাল ইলিগ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ’ প্রতিরোধ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি, জাল নোট পাচার ও বিজ্ঞর প্রতিরোধ, মানব পাচার প্রতিরোধ, কোস্টাল সার্ভিলেস সিস্টেম সরবরাহ শীর্ষক সমঝোতা স্মারক এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি ও ভারতের সরদার বলবভাই প্যাটেল ন্যাশনাল পুলিশ একাডেমির মধ্যে মেমোর‍্যান্ডাম অব কোঅপারেশন (এমওসি) স্বাক্ষরিত হয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে নিরাপত্তা সংলাপ ও সহযোগিতা এবং বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস প্রতিষ্ঠাবিষয়ক দুইটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটানকে নিয়ে গঠিত বিআইএমএসটিইসির এর চিহ্নিত ১৪টি সহযোগিতার ক্ষেত্রের মধ্যে অন্যতম সিকিউরিটি রিলেটেড ম্যাটারসের আওতায় এ অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাস, সঙ্গবদ্ধ অপরাধ ও মাদক চোরাচালানের হুমকি যৌথভাবে মোকাবেলার লক্ষ্যে বিআইএমএসটিইসি কনভেনশন অন কোঅপারেশন ইন কম্বেটিং ইন্টারন্যাশনাল টেররিজম, ট্র্যান্সন্যাশনাল, অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড ইলিসিট ড্রাগ ট্রাফিকিং প্রণয়ন করা হয়। বিআইএমএসটিইসি সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে সাক্ষরিত ‘বিআইএমএসটিইসি কনভেনশন অন মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ক্রিমিনাল ম্যাটারস’ বিষয়ক চুক্তিটি বর্তমান সরকারের সময় অনুসমর্থিত হয়ে কার্যকর হয়। এছাড়া অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে পারস্পরিক আইনি সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সার্ক কনভেনশন অন মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ক্রিমিনাল ম্যাটারস বিষয়ক চুক্তিটি বর্তমান সরকারের সময় অনুসমর্থিত হয়ে কার্যকর হয়।

বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক (এফডিএমএন) ক্যাম্পের নিরাপত্তা: এফডিএমএন ক্যাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে কক্সবাজার জেলার উখিয়ায় অবস্থিত ৩৩টি ক্যাম্পসহ ভাসানচরে ১টি ক্যাম্পে এপিবিএনসহ অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য: বাংলাদেশ- মিয়ানমার সীমান্তে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের উপস্থিতি বৃদ্ধি, বাচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক ক্যাম্প ও সংশ্লিষ্ট এলাকাসমূহে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন, নাফ নদীর তীর বরাবর বাঁধ ও বাঁধের ওপর সড়ক নির্মাণ ইত্যাদি। এছাড়া বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক ক্যাম্পের অভ্যন্তরে ও বাহিরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদকদ্রব্যের চোরাচালান এবং নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত ও সুষ্ঠু রাখার স্বার্থে প্রয়োজন মোতাবেক ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা’ অনুযায়ী বাচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক ক্যাম্পের অভ্যন্তরে ও বাহিরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি এবং আনসার ও ভিডিপি সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর টহল/অভিযান এবং চেকপোস্ট পরিচালনা, তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়ের যথাযথ ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটগণকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র নীতিমালা ও ডিজিটাল আর্মস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ডিএমএস) সফটওয়‍্যার আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের নিমিত্ত ২০১২ সালে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তীকালে অস্ত্র আইন, ১৮৭৮ এবং আগ্নেয়াস্ত্র বিধিমালা-১৯২৪ অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে জারিকৃত পূর্বের নীতিমালা সংশোধন করে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স কার্যক্রম অধিকতর সহজীকরণের নিমিত্ত ২০১৬ সালে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০১৬ প্রণয়ন করা হয়। বর্তমানে এই নীতিমালা অধিকতর সংশোধনপূর্বক নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন, ব্যবহার, ক্রয়-বিক্রয়, সংগ্রহ, আমদানি, পরিবহন, সংরক্ষণ, হস্তান্তর সহজীকরণের নিমিত্ত ডিজিটাল আর্মস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ডিএমএস)- এর সফটওয়‍্যার প্রস্তুত করা হয়েছে, যা স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মানবাধিকার সংক্রান্ত কার্যাবলী: বিগত ১৫ বছরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কর্তৃক প্রেরিত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ এবং মানবাধিকার বিষয়ে কমিশন কর্তৃক সুপারিশকৃত যৌক্তিক নির্দেশনাসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সর্বস্তরের জনগণের মানবাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে নির্যাতিত গৃহকর্মী খাদিজাকে নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং বিএসএফ এর গুলিতে চোখ হারানো রাসেল মিয়াকে এক লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছ। এছাড়া, একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় মারাত্মকভাবে আহত ১১ জন ব্যক্তিকে ২৫ হাজার টাকা করে মোট তিন লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কোনো ব্যক্তির মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় এমন কার্যক্রমসমূহের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং জাতির পিতার হত্যাকারী দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ: ২০১০ সালের ২৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সদয় নির্দেশনায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাদসমূহ বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, প্রসিকিউশন টিম ও তদন্ত সংস্থা গঠিত হয়। মুক্তিযুদ্ধকালীন সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত স মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ৫৩টি মামলার বিচা সম্পন্ন করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। ৮৯টি মা তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ১৬টি মামলা তদব রয়েছে। ৩৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সম্পন্ন ৩৩৪ জন আসামির মধ্যে আমৃত্যু ক দেওয়া আসামির সংখ্যা ৩৬ জন। মৃত্যুদ আসামির সংখ্যা ৯৭ জন। ২০ বছর সাত্ত আসামির সংখ্যা ছয়জন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর আঃ সংখ্যা ছয়জন। খালাসপ্রাপ্ত দুইজন। বর্ত গ্রেপ্তারকৃত আসামি ১৪২ জন এবং পলাতক অ ১০১ জন। সাক্ষী নেওয়া হয়েছে ১৯২ জনের। ১৩ বছরে পলাতক এবং জেলহাজতে মৃত্যুর এমন আসামির সংখ্যা ১২ জন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ পরিবারবর্গের হত্যাকারী সাজাপ্রাপ্ত পর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়ো পদক্ষেপ গ্রহণের নিমিত্ত আইন, বিচার ও বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকার গঠিত টাস্কফোর্সের কার্যক্রম অব্যাহত রে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত রাশেদ চৌধুরী ও কান অবস্থানরত নূর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার। এরই মধ্যে যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্রে ও কানাডায় ল’ নিয়োগ করা হয়েছে। আসামি লে. কর্নেল ( খন্দকার আব্দুর রশিদ এবং রাশেদ চৌ মালিকানাধীন ভূমি বাজেয়াপ্তকরণ ও খাস খতিয়া করা হয়েছে।

মানব পাচার প্রতিরোধ কার্যক্রম মানব প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার জিরো টলারেন্স অনুসরণ করে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন আইন ও বিি প্রণয়ন করা হয়েছে। মানব পাচার প্রতিরোধ ও ভারতের সঙ্গে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের হয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, লিবি ওমানের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়া চলমান। প্রতি মানবপাচার প্রতিরোধ সম্পর্কিত কান্ট্রি রি প্রকাশিত হচ্ছে। এছাড়া ২০২২ সালে ‘ফার্স্ট ন্যা স্টাডি অন ট্রাফিকিং ইন পারসন’ প্রকাশিত হে ২০১৯ সাল থেকে মানবপাচার প্রতিরোধে বাংল টায়ার-২ অবস্থানে রয়েছে। ২০০৪ সালে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমনে জাতীয় কর্মপরি প্রণয়ন করা হয়, সর্বশেষ ২০১৮-২০২৫ কর্মপরি চূড়ান্ত হয়েছে। ভিকটিম চিহ্নিতকরণ নির্দেশিকা এ করা হয়েছে। মানব পাচারের ভিকটিমদের উদ্ব পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে আরআরআর সেল গঠন হয়েছে। প্রতি বছর ৩০ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণা নেতৃত্বে মানবপাচার প্রতিরোধ দিবস পালন হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সি সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বিপিএএ ২ বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে ব সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার ‘রূ ২০২১’ বাস্তবায়ন করেছে এবং ‘ভিশন-২০৪১’। দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ সামনে রেখে বহুম কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ কর্মপরি বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হলো অভ্যন্তরীণ শান্তি ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ। এবং আইনশৃঙ্খলা পরি স্বাভাবিক রাখা। দুর্নীতি, মাদক দ্রব্য, জঙ্গি ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত জিরো টল নীতি অনুসরণ করে জননিরাপত্তা বিভাগের নিরাপদ জীবন ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গঠন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জননিরাপত্তা বিভাগের। দপ্তর/সংস্থাসমূহ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে কাজে গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যুগোপযোগী ও বিধি ও নীতিমালা প্রণয়নসহ বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয় করে কাজ করছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের উন্নয়ন-অভিযাত্রা সুগমে তৎপর জননিরাপত্তা বিভাগ

আপডেট সময় : ১২:১২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মার্চ ২০২৪

দেশের চলমান উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। নিরাপদ জীবন ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ নিশ্চিত করাই হলো বিভাগটির লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জননিরাপত্তা বিষয়ক আইন, বিধি ও নীতিমালা প্রণয়ন; আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে জননিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে কাজ করে যাচ্ছে বিভাগটি। এর ধারাবাহিকতায় বিগত ১৫ বছরে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে জননিরাপত্তা বিভাগ। বিশেষ করে চরমপন্থী, জলদস্যু/বনদস্যুদের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন, বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সঙ্গে নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমন বিষয়ে নানা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর এবং মানবপাচার প্রতিরোধ কার্যক্রমে সফলতা দেখিয়েছে এ বিভাগ। সব মিলিয়ে দেশের উন্নয়ন অভিযাত্রা সুগম ও বাধামুক্ত রাখার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বিগত ১৫ বছরে জননিরাপত্তা বিভাগের সাফল্য প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনায় দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা এবং সেবা নিশ্চিত করার জন্য জননিরাপত্তা বিভাগ বদ্ধপরিকর। এরই মধ্যে সরকারের ‘রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং সরকারের ‘ভিশন ২০৪১’ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ এবং ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ গ্রহণের মাধ্যমে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টা এখন বিশ্বের দরবারে মাইলফলক। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন অভিযাত্রা সুগম ও বাধা- মুক্ত রাখার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। জননিরাপত্তা বিভাগের বিগত ১৫ বছরের উন্নয়ন ও অর্জন জনজীবনের নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের প্রতিচ্ছবি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ বাংলাদেশ আজ শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির গতিপথে অগ্রসরমান। শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত। জননিরাপত্তা বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এর তদন্ত সংস্থা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠু ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছে। জননিরাপত্তা বিভাগের ‘বদলে যাওয়ার ১৫ বছর’ শীর্ষক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রতিবেদন সূত্রমতে, জননিরাপত্তা বিভাগের কৌশলগত উদ্দেশ্যসমূহ হলো দেশে অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিতকরণ; আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা; আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সীমান্ত নিরাপত্তার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থরক্ষা।

আর প্রধান কার্যাবলীর মধ্যে রয়েছে-জননিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত নীতিনির্ধারণী প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং এতদসংক্রান্ত আইন, বিধি ও নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন; কৌশলগত গোয়েন্দা কার্যাবলি পরিচালনা: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দেশের স্থিতিশীল উন্নয়ন সুসংহতকরণ; সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধ কার্যক্রম; সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দমনে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সঙ্গে সম্মিলিত কার্যক্রম গ্রহণ; জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগণের প্রয়োজনীয় অস্ত্র, সরঞ্জাম, রসদ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাকরণ; যুদ্ধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার যথাযথ প্রসিকিউশন দাখিল এবং ভিকটিম ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা বিধান এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ও চুক্তি সম্পাদন। প্রতিবেদনটিতে চরমপন্থী, জলদস্যু/বনদস্যুদের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন বিষয়ে ১৫ বছরের সাফল্য প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ১৩টি জেলার ৪৬২ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা ও তাদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে এরই মধ্যে মোট ১৭ কোটি ৬২ লাখ ১৯ হাজার ১৬০ টাকা ৯টি জেলার জেলা প্রশাসকগণের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুকূলে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও ২০১৮ সালে র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণকৃত ৩৪০ জন জলদস্যু/বনদস্যুদের বিরুদ্ধে ১৪০টি খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ ব্যতীত অন্যান্য মামলা হতে আসামিদের নাম প্রত্যাহার করার লক্ষ্যে জননিরাপত্তা বিভাগ হতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে ২০০৯ সাল হতে এ পর্যন্ত পাঁচটি সন্ত্রাসী সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সংগঠনগুলো হচ্ছে-হিজবুত তাহরীর বাংলাদেশ; আনসারুলাহ বাংলা টিম (এবিটি); আনসার-আল-ইসলাম; আল্লা’র দল ও জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারকীয়া। হলি আর্টিজানে ভয়াবহ হামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্তদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও সাক্ষ্য প্রমাণাদি উপস্থাপন করায় সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল জেএমবির সাত সদস্যকে ফাঁসির আদেশ প্রদান করেছে। হলি আর্টিজানে ভয়াবহ হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি, একজন ভারতীয়, নয়জন ইতালীয় ৩০৬ জন জাপানি নিহত নাগরিকদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে ২০০৯ সাল হতে এ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সঙ্গে নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমন বিষয়ে বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত সীমান্ত চুক্তির (মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি ১৯৭২) ধারাবাহিকতায় সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে ভারতের সঙ্গে ‘প্রটোকল টু দ্য এগ্রিমেন্ট কানেক্টিং দ্য ডিমারসেশন অব দ্য ল্যান্ড বাউন্ডারি বিটুইন ইন্ডিয়া অ্যান্ড বাংলাদেশ অ্যান্ড রিলেটেড ম্যাটারস’ স্বাক্ষরিত হয়। এ প্রটোকলের আওতায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১ ছিটমহল এবং ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল বিনিময় সম্পন্ন হয় এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলায় অবস্থিত। তিন বিঘা করিডোর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য চব্বিশ ঘণ্টা বাধাহীনভাবে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। উল্লেখযোগ্য চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকসমূহ হলো- মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রিটি (এমএলএটি)ভারত (২০১০), দক্ষিণ আফ্রিকা (২০১৯); এক্সট্রাডিশন থাইল্যান্ড (২০০১), ভারত (২০১৩/২০১৬) দক্ষিণ আফ্রিকা (২০১৯); ট্রান্সফার অব সেনটেন্সড পারসন্স ভারত (২০১০), সংযুক্ত আরব আমিরাত (২০১৪); সিকিউরিটি কোঅপারেশন তুরস্ক (২০২২), সংযুক্ত আরব আমিরাত (২০১৪) ও সৌদি আরব (২০২২); কমব্যাটিং ইন্টারন্যাশনাল টেররিজম, অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড ইলিসিট ড্রাগ ভারত (২০১০), কোঅর্ডিনেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট প্লান (সিবিএমপি) ভারত (২০১১) কাউন্টার টেররিজম চীন (২০১৬), যুক্তরাষ্ট্র (২০১৩), রাশিয়া (২০১৩) জার্মানি (২০১৭); প্রিভেনটিং অ্যান্ড কম্বেটিং ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমস মালয়েশিয়া (২০১২), অস্ট্রেলিয়া (২০১৫)।

এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সমুদ্রে ‘ট্রান্সন্যাশনাল ইলিগ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ’ প্রতিরোধ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি, জাল নোট পাচার ও বিজ্ঞর প্রতিরোধ, মানব পাচার প্রতিরোধ, কোস্টাল সার্ভিলেস সিস্টেম সরবরাহ শীর্ষক সমঝোতা স্মারক এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি ও ভারতের সরদার বলবভাই প্যাটেল ন্যাশনাল পুলিশ একাডেমির মধ্যে মেমোর‍্যান্ডাম অব কোঅপারেশন (এমওসি) স্বাক্ষরিত হয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে নিরাপত্তা সংলাপ ও সহযোগিতা এবং বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস প্রতিষ্ঠাবিষয়ক দুইটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটানকে নিয়ে গঠিত বিআইএমএসটিইসির এর চিহ্নিত ১৪টি সহযোগিতার ক্ষেত্রের মধ্যে অন্যতম সিকিউরিটি রিলেটেড ম্যাটারসের আওতায় এ অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাস, সঙ্গবদ্ধ অপরাধ ও মাদক চোরাচালানের হুমকি যৌথভাবে মোকাবেলার লক্ষ্যে বিআইএমএসটিইসি কনভেনশন অন কোঅপারেশন ইন কম্বেটিং ইন্টারন্যাশনাল টেররিজম, ট্র্যান্সন্যাশনাল, অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড ইলিসিট ড্রাগ ট্রাফিকিং প্রণয়ন করা হয়। বিআইএমএসটিইসি সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে সাক্ষরিত ‘বিআইএমএসটিইসি কনভেনশন অন মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ক্রিমিনাল ম্যাটারস’ বিষয়ক চুক্তিটি বর্তমান সরকারের সময় অনুসমর্থিত হয়ে কার্যকর হয়। এছাড়া অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে পারস্পরিক আইনি সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সার্ক কনভেনশন অন মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ক্রিমিনাল ম্যাটারস বিষয়ক চুক্তিটি বর্তমান সরকারের সময় অনুসমর্থিত হয়ে কার্যকর হয়।

বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক (এফডিএমএন) ক্যাম্পের নিরাপত্তা: এফডিএমএন ক্যাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে কক্সবাজার জেলার উখিয়ায় অবস্থিত ৩৩টি ক্যাম্পসহ ভাসানচরে ১টি ক্যাম্পে এপিবিএনসহ অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য: বাংলাদেশ- মিয়ানমার সীমান্তে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের উপস্থিতি বৃদ্ধি, বাচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক ক্যাম্প ও সংশ্লিষ্ট এলাকাসমূহে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন, নাফ নদীর তীর বরাবর বাঁধ ও বাঁধের ওপর সড়ক নির্মাণ ইত্যাদি। এছাড়া বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক ক্যাম্পের অভ্যন্তরে ও বাহিরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদকদ্রব্যের চোরাচালান এবং নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত ও সুষ্ঠু রাখার স্বার্থে প্রয়োজন মোতাবেক ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা’ অনুযায়ী বাচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক ক্যাম্পের অভ্যন্তরে ও বাহিরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি এবং আনসার ও ভিডিপি সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর টহল/অভিযান এবং চেকপোস্ট পরিচালনা, তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়ের যথাযথ ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটগণকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র নীতিমালা ও ডিজিটাল আর্মস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ডিএমএস) সফটওয়‍্যার আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের নিমিত্ত ২০১২ সালে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তীকালে অস্ত্র আইন, ১৮৭৮ এবং আগ্নেয়াস্ত্র বিধিমালা-১৯২৪ অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে জারিকৃত পূর্বের নীতিমালা সংশোধন করে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স কার্যক্রম অধিকতর সহজীকরণের নিমিত্ত ২০১৬ সালে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০১৬ প্রণয়ন করা হয়। বর্তমানে এই নীতিমালা অধিকতর সংশোধনপূর্বক নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন, ব্যবহার, ক্রয়-বিক্রয়, সংগ্রহ, আমদানি, পরিবহন, সংরক্ষণ, হস্তান্তর সহজীকরণের নিমিত্ত ডিজিটাল আর্মস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ডিএমএস)- এর সফটওয়‍্যার প্রস্তুত করা হয়েছে, যা স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মানবাধিকার সংক্রান্ত কার্যাবলী: বিগত ১৫ বছরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কর্তৃক প্রেরিত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ এবং মানবাধিকার বিষয়ে কমিশন কর্তৃক সুপারিশকৃত যৌক্তিক নির্দেশনাসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সর্বস্তরের জনগণের মানবাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে নির্যাতিত গৃহকর্মী খাদিজাকে নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং বিএসএফ এর গুলিতে চোখ হারানো রাসেল মিয়াকে এক লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছ। এছাড়া, একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় মারাত্মকভাবে আহত ১১ জন ব্যক্তিকে ২৫ হাজার টাকা করে মোট তিন লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কোনো ব্যক্তির মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় এমন কার্যক্রমসমূহের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং জাতির পিতার হত্যাকারী দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ: ২০১০ সালের ২৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সদয় নির্দেশনায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাদসমূহ বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, প্রসিকিউশন টিম ও তদন্ত সংস্থা গঠিত হয়। মুক্তিযুদ্ধকালীন সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত স মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ৫৩টি মামলার বিচা সম্পন্ন করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। ৮৯টি মা তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ১৬টি মামলা তদব রয়েছে। ৩৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সম্পন্ন ৩৩৪ জন আসামির মধ্যে আমৃত্যু ক দেওয়া আসামির সংখ্যা ৩৬ জন। মৃত্যুদ আসামির সংখ্যা ৯৭ জন। ২০ বছর সাত্ত আসামির সংখ্যা ছয়জন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর আঃ সংখ্যা ছয়জন। খালাসপ্রাপ্ত দুইজন। বর্ত গ্রেপ্তারকৃত আসামি ১৪২ জন এবং পলাতক অ ১০১ জন। সাক্ষী নেওয়া হয়েছে ১৯২ জনের। ১৩ বছরে পলাতক এবং জেলহাজতে মৃত্যুর এমন আসামির সংখ্যা ১২ জন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ পরিবারবর্গের হত্যাকারী সাজাপ্রাপ্ত পর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়ো পদক্ষেপ গ্রহণের নিমিত্ত আইন, বিচার ও বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকার গঠিত টাস্কফোর্সের কার্যক্রম অব্যাহত রে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত রাশেদ চৌধুরী ও কান অবস্থানরত নূর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার। এরই মধ্যে যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্রে ও কানাডায় ল’ নিয়োগ করা হয়েছে। আসামি লে. কর্নেল ( খন্দকার আব্দুর রশিদ এবং রাশেদ চৌ মালিকানাধীন ভূমি বাজেয়াপ্তকরণ ও খাস খতিয়া করা হয়েছে।

মানব পাচার প্রতিরোধ কার্যক্রম মানব প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার জিরো টলারেন্স অনুসরণ করে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন আইন ও বিি প্রণয়ন করা হয়েছে। মানব পাচার প্রতিরোধ ও ভারতের সঙ্গে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের হয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, লিবি ওমানের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়া চলমান। প্রতি মানবপাচার প্রতিরোধ সম্পর্কিত কান্ট্রি রি প্রকাশিত হচ্ছে। এছাড়া ২০২২ সালে ‘ফার্স্ট ন্যা স্টাডি অন ট্রাফিকিং ইন পারসন’ প্রকাশিত হে ২০১৯ সাল থেকে মানবপাচার প্রতিরোধে বাংল টায়ার-২ অবস্থানে রয়েছে। ২০০৪ সালে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমনে জাতীয় কর্মপরি প্রণয়ন করা হয়, সর্বশেষ ২০১৮-২০২৫ কর্মপরি চূড়ান্ত হয়েছে। ভিকটিম চিহ্নিতকরণ নির্দেশিকা এ করা হয়েছে। মানব পাচারের ভিকটিমদের উদ্ব পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে আরআরআর সেল গঠন হয়েছে। প্রতি বছর ৩০ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণা নেতৃত্বে মানবপাচার প্রতিরোধ দিবস পালন হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সি সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বিপিএএ ২ বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে ব সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার ‘রূ ২০২১’ বাস্তবায়ন করেছে এবং ‘ভিশন-২০৪১’। দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ সামনে রেখে বহুম কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ কর্মপরি বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হলো অভ্যন্তরীণ শান্তি ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ। এবং আইনশৃঙ্খলা পরি স্বাভাবিক রাখা। দুর্নীতি, মাদক দ্রব্য, জঙ্গি ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত জিরো টল নীতি অনুসরণ করে জননিরাপত্তা বিভাগের নিরাপদ জীবন ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গঠন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জননিরাপত্তা বিভাগের। দপ্তর/সংস্থাসমূহ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে কাজে গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যুগোপযোগী ও বিধি ও নীতিমালা প্রণয়নসহ বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয় করে কাজ করছে।