০৮:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি, কমবে প্রবৃদ্ধি : বিশ্বব্যাংক

 

চলতি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে ৫ দশমিক ৬, যা ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ছিল ৫ দশমিক ৮। আগামী ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৫.৭ শতাংশের পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক এই দাতা সংস্থা। জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে বছর শেষে দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে বাংলাদেশ। ভারতের পরেই সর্বোচ্চ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বাংলাদেশ। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট বা বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে বিশ্বব্যাংক।

 

বিশ্বব্যাংক জানায়, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে ভারত। এর পরেই জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হারের দেশ হবে বাংলাদেশ। অর্থবছর শেষে বাংলাদেশ ৫.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। ভুটান ৪.৯ শতাংশ, মালদ্বীপ ৪.৭ শতাংশ, নেপাল ৩.৩ শতাংশ, শ্রীলঙ্কা ২.২ শতাংশ এবং পাকিস্তান ১.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। দক্ষিণ এশিয়ায় সামগ্রিকভাবে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে বলে অনুমান করছে সংস্থাটি।
বিশ্বব্যাংক মনে করছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী দিনেও উচ্চ মূল্যস্ফীতির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি নির্ভর করবে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য কেমন থাকে, তার ওপর। মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে পারলে এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক করা সম্ভব হলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে।

 

বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুল্লায়ে সেক বলেছেন, সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, সুদহার বৃদ্ধি, মুদ্রার বিনিময় হার, আর্থিক খাতে সংস্কার তথা বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি তুলে নেওয়াসহ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। ২০২৬ সাল নাগাদ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে কোনো বাধা দেখছে না বিশ্বব্যাংক।

 

আবদৌলায়ে সেক বলেন, বাংলাদেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী দিনেও উচ্চ মূল্যস্ফীতির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এই অঞ্চলের দেশগুলোকে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য নীতি গ্রহণ করতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় কর্মক্ষম বয়সের জনসংখ্যা বৃদ্ধি অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের অঞ্চলের তুলনায় বেশি। ২০০০ সাল থেকে কর্মজীবী জনসংখ্যার অংশ হ্রাস পাচ্ছে। অন্যান্য উদীয়মান উন্নয়নশীল অর্থনীতি অঞ্চলে ৭০ শতাংশের তুলনায় ২০২৩ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় কর্মসংস্থানের অনুপাত ছিল ৫৯ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়াই একমাত্র অঞ্চল যেখানে কর্ম বয়সি পুরুষদের হার গত দুই দশকে কমেছে এবং এই অঞ্চলে সবচেয়ে কম কর্মজীবী নারী রয়েছে।

 

দক্ষিণ এশিয়ায় বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রানজিস্কা ওনসর্গ এই প্রতিবেদনে জানান, দক্ষিণ এশিয়া তার জনশক্তিকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হচ্ছে। এটি সুযোগ হাতছাড়া করার মতো। যদি এই অঞ্চল অন্যান্য উদীয়মান বাজার এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতির মতো কর্মক্ষম বয়সের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ নিযুক্ত করে, তাহলে এর আউটপুট ১৬ শতাংশের বেশি হতে পারে।

 

 

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রাইসার জানান, দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা স্বল্পমেয়াদে উজ্জ্বল থাকবে। ভঙ্গুর আর্থিক অবস্থান এবং ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ধাক্কার কারণে কালো মেঘ দেখা দেবে। প্রবৃদ্ধি আরও বাড়াতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি জোরদার করতে হবে।

 

তিনি জানান, এ অঞ্চলের দেশগুলোকে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে নীতি গ্রহণ করতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ার কর্মক্ষম বয়সের জনসংখ্যা বৃদ্ধি অন্যান্য উন্নয়নশীল অঞ্চলের তুলনায় বেশি। ২০০০ সাল থেকে কর্মরত কর্মজীবী জনসংখ্যার অংশ কমছে। অন্যান্য উদীয়মান উন্নয়নশীল অর্থনীতির অঞ্চলের ৭০ শতাংশের তুলনায় ২০২৩ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় কর্মসংস্থানের অনুপাত ছিল ৫৯ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়াই একমাত্র অঞ্চল যেখানে কর্মরত বয়সি পুরুষদের হার গত দুই দশকে কমেছে এবং এ অঞ্চলে সবচেয়ে কম কর্মজীবী নারী রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি, কমবে প্রবৃদ্ধি : বিশ্বব্যাংক

আপডেট সময় : ০৭:৩৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ এপ্রিল ২০২৪

 

চলতি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে ৫ দশমিক ৬, যা ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ছিল ৫ দশমিক ৮। আগামী ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৫.৭ শতাংশের পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক এই দাতা সংস্থা। জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে বছর শেষে দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে বাংলাদেশ। ভারতের পরেই সর্বোচ্চ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বাংলাদেশ। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট বা বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে বিশ্বব্যাংক।

 

বিশ্বব্যাংক জানায়, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে ভারত। এর পরেই জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হারের দেশ হবে বাংলাদেশ। অর্থবছর শেষে বাংলাদেশ ৫.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। ভুটান ৪.৯ শতাংশ, মালদ্বীপ ৪.৭ শতাংশ, নেপাল ৩.৩ শতাংশ, শ্রীলঙ্কা ২.২ শতাংশ এবং পাকিস্তান ১.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। দক্ষিণ এশিয়ায় সামগ্রিকভাবে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে বলে অনুমান করছে সংস্থাটি।
বিশ্বব্যাংক মনে করছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী দিনেও উচ্চ মূল্যস্ফীতির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি নির্ভর করবে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য কেমন থাকে, তার ওপর। মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে পারলে এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক করা সম্ভব হলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে।

 

বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুল্লায়ে সেক বলেছেন, সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, সুদহার বৃদ্ধি, মুদ্রার বিনিময় হার, আর্থিক খাতে সংস্কার তথা বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি তুলে নেওয়াসহ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। ২০২৬ সাল নাগাদ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে কোনো বাধা দেখছে না বিশ্বব্যাংক।

 

আবদৌলায়ে সেক বলেন, বাংলাদেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী দিনেও উচ্চ মূল্যস্ফীতির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এই অঞ্চলের দেশগুলোকে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য নীতি গ্রহণ করতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় কর্মক্ষম বয়সের জনসংখ্যা বৃদ্ধি অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের অঞ্চলের তুলনায় বেশি। ২০০০ সাল থেকে কর্মজীবী জনসংখ্যার অংশ হ্রাস পাচ্ছে। অন্যান্য উদীয়মান উন্নয়নশীল অর্থনীতি অঞ্চলে ৭০ শতাংশের তুলনায় ২০২৩ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় কর্মসংস্থানের অনুপাত ছিল ৫৯ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়াই একমাত্র অঞ্চল যেখানে কর্ম বয়সি পুরুষদের হার গত দুই দশকে কমেছে এবং এই অঞ্চলে সবচেয়ে কম কর্মজীবী নারী রয়েছে।

 

দক্ষিণ এশিয়ায় বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রানজিস্কা ওনসর্গ এই প্রতিবেদনে জানান, দক্ষিণ এশিয়া তার জনশক্তিকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হচ্ছে। এটি সুযোগ হাতছাড়া করার মতো। যদি এই অঞ্চল অন্যান্য উদীয়মান বাজার এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতির মতো কর্মক্ষম বয়সের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ নিযুক্ত করে, তাহলে এর আউটপুট ১৬ শতাংশের বেশি হতে পারে।

 

 

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রাইসার জানান, দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা স্বল্পমেয়াদে উজ্জ্বল থাকবে। ভঙ্গুর আর্থিক অবস্থান এবং ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ধাক্কার কারণে কালো মেঘ দেখা দেবে। প্রবৃদ্ধি আরও বাড়াতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি জোরদার করতে হবে।

 

তিনি জানান, এ অঞ্চলের দেশগুলোকে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে নীতি গ্রহণ করতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ার কর্মক্ষম বয়সের জনসংখ্যা বৃদ্ধি অন্যান্য উন্নয়নশীল অঞ্চলের তুলনায় বেশি। ২০০০ সাল থেকে কর্মরত কর্মজীবী জনসংখ্যার অংশ কমছে। অন্যান্য উদীয়মান উন্নয়নশীল অর্থনীতির অঞ্চলের ৭০ শতাংশের তুলনায় ২০২৩ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় কর্মসংস্থানের অনুপাত ছিল ৫৯ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়াই একমাত্র অঞ্চল যেখানে কর্মরত বয়সি পুরুষদের হার গত দুই দশকে কমেছে এবং এ অঞ্চলে সবচেয়ে কম কর্মজীবী নারী রয়েছে।