০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কারসাজিতে সহজ ডটকম-রেলওয়ে

• সার্ভার ডাউনেই উধাও হতো বিভিন্ন রুটের ফাঁকা আসনের টিকিট
• চাহিদা বাড়িয়ে দ্বিগুণ-চারগুণ দামে বিক্রি হতো কালোবাজারিতে shohoz 25
• মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গত ৬ মাসে ৯৮ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য
• সংস্থা দুটির কালো বিড়াল ধরতে তৎপর গোয়েন্দারা
• শর্তভঙ্গে চুক্তি বাতিলে উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা আনতে এক্সপার্ট দিয়ে মনিটরিংয়ের পরামর্শ বিশেষজ্ঞের

দরপত্রের শুরুতেই কারসাজি করে অনলাইনে টিকিট বিক্রিতে কমিশনের ভিত্তিতে রেলওয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় সহজ ডটকম। টিকিট অপারেটিং সিস্টেম নিজেদের কব্জায় রেখেছে। আর এই সুযোগে রেলওয়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা- কর্মচারীর যোগসাজসে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে একক আধিপত্য বিস্তার করে চলছে সহজ ডটকম। এরই মধ্যে রেলওয়ের এক তদন্ত প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসলেও শর্তভঙ্গে চুক্তি বাতিলের কোনো উদ্যোগ নেয়নি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে র‍্যাবের জালে চক্রের সদস্যরা ধরা পড়ার পর সহজ ডটকম ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের আসল চেহারা বেরিয়ে এসেছে। বুয়েটের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিধি অনুযায়ী অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সহজ ডটকম টিকিট বিক্রির দায়িত্ব পেলেও দুটি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে তৃতীয় পক্ষের এক্সপার্ট দিয়ে মনিটরিং করা জরুরি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অপারেটিং সিস্টেম থেকে টিকিট কালোবাজারি রোধে সংস্থা দুটির ব্যবহৃত সার্ভারে ও সন্দেহভাজনদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রেলওয়ের সাবেক কর্মকর্তারা বলছেন, রেল কর্মকর্তাদের সদিচ্ছার বড় অভাব রয়েছে। যদি সহজ থেকে টিকিট বিক্রির সিস্টেম রেলওয়েতে ফিরিয়ে আনা হয়, তাহলে কালোবাজারির সেই পুরোনো গল্পই শুনতে হবে। তবে রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক বলেছেন, রেলে যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে ও কালোবাজারি রোধে সার্বক্ষণিক কাজ করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। দরপত্রে কারসাজি ও সহজের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রেলে যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে টিকিট কালোবাজারি রোধে ২০০৭ থেকে দীর্ঘ ১৫ বছর রেলে একচেটিয়া ট্রেনের টিকিট বিক্রি করে আসছিল কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম (সিএনএস)। টিকিট বিক্রি এবং চুক্তি নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠায় সিএনএস এর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে রেলওয়ে। যা শেষ হয় ২০২২ সালের ২০ মার্চ। পরে নতুনভাবে টেন্ডার আহ্বান করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সেই টেন্ডারে কাজ পায় রাইড শেয়ারিং কোম্পানি সহজ লিমিটেড। পরে ১৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে রেলওয়ে ও সহজের মধ্যে ৫ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। সে অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরের জন্য ট্রেনের টিকিট বিক্রি করবে সহজ। সহজ এর সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের ইন্টিগ্রেটেড টিকিটিং সিস্টেম (বিআরআইটিএস) ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট, সাপ্লাই, ইনস্টল, কমিশন অপারেট, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিটি টিকিটের জন্য সহজ লিমিটেডকে ২৫ পয়সা সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। যেখানে সিএনএসকে দিতে হতো প্রায় তিন টাকা। প্রয়োজন হলে টিকিটিং সিস্টেমে পরিবর্তন আনবে এবং নিজস্ব সার্ভারে কাজ করবে বলেও চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়। যথেষ্ট যোগ্যতা না থাকলেও দরপত্রে ‘কারসাজি করে’ সহজ-সিনেসিস-ভিনসেন জেভি বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিগত ঈদুল ফিতরে রেলের ই- টিকিটিং সিস্টেম প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে সহজ। রেলওয়ের আর্থিক দরপত্র প্রস্তাব ফরম পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ফরমটিতে ৮ দশমিক শূন্য ১ পর্যন্ত সারি রয়েছে। তবে সহজের জমা দেওয়া আর্থিক প্রস্তাবে একটি সারি বাড়িয়ে ৮ দশমিক শূন্য ২ পর্যন্ত করা হয়।

যেটি দরপত্রে এক ধরনের অনিয়ম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ওই দরপত্রে সহজসহ মোট ১৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। অতীতে টিকিট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা সিএনএসও অংশ নিয়েছিল সেখানে। সিএনএস যে ব্যয় প্রস্তাব দেয় তাতে টিকিটের সার্ভিস চার্জ ছিল ১ টাকা ২২ পয়সা। তবে সহজ রেলওয়ের দরপত্রের আর্থিক প্রস্তাবে অতিরিক্ত একটি সারি তৈরি করে কারসাজির মাধ্যমে টিকিট প্রতি সার্ভিস চার্জ ১ টাকা ৫১ পয়সার পরিবর্তে মাত্র ২৫ পয়সা দেখিয়েছে। নথি ঘেটে দেখা গেছে, রেলওয়েতে জমা দেওয়া আর্থিক দরপ্রস্তাবে সহজ তাদের মোট ব্যয় দেখিয়েছে ৩০ কোটি ২৫ লাখ ১৫ হাজার ১২৯ টাকা। যার সঙ্গে ২০ কোটি টিকিট ভাগ করলে প্রতিটি টিকেটের সার্ভিস চার্জ দাঁড়ায় ১ টাকা ৫১ পয়সা। যদিও এ ব্যাপারে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) তৈরি করা একটি প্রতিবেদনের বলা হয়, সহজ-সিনেসিস-ভিনসেন জেভি পারস্পরিক যোগসাজশের মাধ্যমে আর্থিক প্রস্তাবের ৮নং মেইন হেডে একটি অতিরিক্ত লাইন সংযোজন করে বিজ্ঞাপন থেকে ২৫ কোটি ৩১ লাখ ৮২ হাজার টাকা আয় দেখিয়ে তা নিয়মবহির্ভূতভাবে তাদের মূল উদ্ধৃত দর থেকে বিয়োগ করেছে। ফরমের অতিরিক্ত ওই সারিতে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন থেকে রেল কর্তৃপক্ষের সম্ভাব্য আয় ২৫ কোটি ৩১ লাখ ৮২ হাজার টাকাকে নিজেদের আয় হিসেবে দেখায় সহজ। এরপর তা দরপ্রস্তাবের মোট দর থেকে বাদ দেওয়া হয়। এর ফলে মোট ব্যয় প্রস্তাব ৩০ কোটি ২৫ লাখ ১৫ হাজার ১২৯ টাকার পরিবর্তে নেমে আসে ৪ কোটি ৯৩ লাখ ৩৩ হাজার ১২৯ টাকায়। আর এর সঙ্গে ২০ কোটি টিকিট ভাগ করে প্রতিটি টিকিটের সার্ভিস চার্জ দেখানো হয় মাত্র ২৫ পয়সা। প্রতিবেদনে বলা হয়, সহজ-সিনেসিস- ভিনসেন জেভি ছাড়া অন্য কোনো দরদাতাই তাদের আর্থিক প্রস্তাবে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব দাখিল করেনি। যা থেকে প্রতীয়মান হয় রেলওয়ের মূল্যায়ন কমিটি ও সহজ- সিনেসিস-ভিনসেন জেভি নিজেরা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য পারস্পরিক যোগসাজশে এ ধরনের শর্তযুক্ত প্রস্তাব পেশ করে। এতে আরো বলা হয়, বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এ ধরনের বিজ্ঞাপন খাতে ৫ বছরে ২৫ কোটি ৩১ লাখ ৮২ হাজার টাকার চেয়ে আরো বহুগুণ (বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রায় ৫০০ কোটি টাকা) বেশি আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যা একান্তভাবে বাংলাদেশ রেলওয়ের তথা বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব আয়। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করার জন্যই পারস্পরিক যোগসাজশে সহজ- সিনেসিস-ভিনসেন জেভি এ ধরনের প্রস্তাব দাখিল করেছে।

কমিটি বেআইনিভাবে তা অনুমোদন করেছে। সহজের দরপত্রে অনিয়মের বিষয়টি রেলের তৎকালীন অতিরিক্ত এমডি মিয়া জাহানও চিহ্নিত করেছিলেন। সহজের দর প্রস্তাব অনুমোদনের নথিতে। পরে অবশ্য মিয়া জাহানও সেই প্রস্তাবে সই করেন। এ বিষয়ে মিয়া জাহান বলেন, টেন্ডার ডকুমেন্ট ওখানে যেভাবে ছিল সেভাবেই আছে। তবে বাংলাদেশ রেলওয়ে ইন্টিগ্রটেড টিকিটিং সিস্টেম (বিআরআইটিএস) দরপত্রের ৭/১/এ, ৭/১/৩ এর শর্ত অনুযায়ী, দরদাতা প্রতিষ্ঠানের বছরে ৫০ লাখ টিকিট ইস্যু করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কিন্তু এই শর্তও পূরণ করেনি সহজ। এদিকে র‍্যাব জানায়, ২০ বছর ধরে বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিট বিক্রির পদ্ধতি ও অপারেটর বদলেছে কয়েকবার, বদলাননি কেবল কমলাপুর রেলস্টেশনের মিজান ঢালী, দীর্ঘ সময় ধরেই সিন্ডিকেট গড়ে ‘টিকিট কালোবাজারি’ করে আসছিলেন তিনি। ঈদের আগে টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে অভিযানে নেমে গত ২১ মার্চ মিজান ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পেয়েছে র‍্যাব। র‍্যাব জানান, মিজান ঢালী রেলের অনলাইন টিকিট বিক্রির প্ল্যাটফর্ম সহজ ডটকমের কমলাপুর স্টেশনের অফিস সহকারী। সহজের আগে যেসব প্রতিষ্ঠান রেলের টিকিট বিক্রির দায়িত্বে পেয়েছে, তার সবগুলোতেই কাজ করেছেন মিজান। ২০০৩ সাল থেকে এভাবে কমলাপুরেই থেকেছেন তিনি, গড়ে তুলেছেন টিকিট ‘জালিয়াতির সিন্ডিকেট’। র‍্যাবের অভিযানে মিজানসহ ৯ জন ২১ মার্চ গ্রেপ্তার হয়েছেন। যেভাবে গায়েব রেলের টিকিট র‍্যাব কমান্ডার খন্দকার মঈন বলেন, ২০০৩ সাল থেকে সহজের মিজান ঢালী টিকিট কালোবাজারি করে আসছেন।

কিন্তু রেলের কর্মী হিসেবে পরিচয় থাকায় কখনো গ্রেপ্তার হননি। ৮ বছর আগে নিজের ভাতিজা সোহেল ঢালীকেও এ পথে নিয়ে আসেন। টিকিটের চুক্তি যখন এক কোম্পানি থেকে আরেক কোম্পানির হাতে যায়, তখন পুরোনো প্রতিষ্ঠানের ৮০ শতাংশ কর্মীর চাকরি বহাল থাকবে- এরকম শর্ত যুক্ত থাকায় মিজান বারবার চাকরি পেয়ে যান। দীর্ঘদিন কমলাপুর রেলস্টেশনে চাকরি করায় সারা দেশের স্টেশনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে কালোবাজারি করতেন মিজান। এরপর সেগুলো চড়া দামে বিক্রি করা হতো। এছাড়া কোনো টিকিটের বুকিং বাতিল হলে সেটাও সার্ভার রুম থেকে জানিয়ে দেওয়া হতো মিজান সিন্ডিকেটের লোকজনকে। এভাবেই ট্রেনের টিকিটগুলো ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গায়েব হয়ে যেত। ঈদ, পূজা, সাপ্তাহিক ছুটিসহ বিশেষ দিনগুলো ঘিরে মিজান ও তার সহযোগীরা অনেক বেশি টিকিট সংগ্রহ করতেন। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকে এভাবে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করেন। তাদের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে গত ছয় মাসে ৯৮ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম আশিকুর রহমান দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, রেলের যে অনলাইন টিকিটিং সিস্টেম সেটা একমুখী। এতে আমাদের তথ্য প্রদান করতে হয়। কতগুলো সিটি ফাঁকা আছে তা জানার সুযোগ নেই। তথ্যগুলো ডেটাবেজ সার্ভারে যোগ হয়। তথ্য দিয়ে সাবমিট করা হলে ডেটাবেজ সার্ভারে হিট করে। সে ক্ষেত্রে যারা দায়িত্বে থাকে তারা দেখতে পারে কতগুলো টিকিট যাচ্ছে। তাদের মধ্য থেকেই কেউ টিকিট হেরফের করেন। কিন্তু এটা হওয়া উচিত যাত্রী দেখতে পারবে কতগুলো টিকিট বাকি আছে।

পুরো প্রসেসে সামনে ও পিছনে দুই অংশেই নিরাপত্তা দরকার। এটার জন্য সরকার একটি মনিটরিং কমিটি রাখতে পারে। বিধি অনুযায়ী অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সহজ ডটকম টিকিট বিক্রির দায়িত্ব পেলেও দুটি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে তৃতীয় পক্ষের এক্সপার্ট দিয়ে মনিটরিং করা জরুরি। তবেই এর সুফল যাত্রীরা পেতে পারেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সহজ ডটকমের বনানীর অফিসে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি। তবে ফোনে সহজের প্রতিষ্ঠাতা এমডি মালিহা এম কাদিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তবে সহজ ডটকমের জনসংযোগ কর্মকর্তা সন্দ্বীপ দেবনাথ বলেন, সহজ টিকিট বিক্রি করে না। কালোবাজারির সঙ্গেও জড়িত নয়। সহজ সফটওয়্যার বিষয়টি দেখে। টিকিট বিক্রি করে রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা। অপর কয়েকটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি পরে জানানো হবে। কিন্তু ৩ দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো উত্তর দেননি তিনিসহ প্রতিষ্ঠানটির কোনো কর্মকর্তা। এসব অভিযোগ ও শর্তভঙ্গে সহজের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক সরদার সাহাদাত আলী দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, রেলে যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে সার্বক্ষণিক কাজ করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। টিকিট কালোবাজারি রোধে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। দরপত্রে কারসাজি ও সহজের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের বিষয়টি আমি এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারব না। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। এর পরও আরো কিছু জানার থাকলে লিখিতভাবে চিঠি জমা দিন। সেই চিঠি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আমি পাঠিয়ে দেব। উত্তর পেলে পরবর্তীতে আপনাকে বিস্তারিত জানাতে পারব। প্রসঙ্গত, এবারের ঈদযাত্রায় প্রথম ধাপে ঘরমুখো মানুষের জন্য দেশের উত্তর-পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে একসপ্তাহে ২ লাখ ২৫ হাজার টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ফিরতি পথের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে গতকাল বুধবার থেকে। যা চলবে আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত।

জনপ্রিয় সংবাদ

কারসাজিতে সহজ ডটকম-রেলওয়ে

আপডেট সময় : ১১:২৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৪

• সার্ভার ডাউনেই উধাও হতো বিভিন্ন রুটের ফাঁকা আসনের টিকিট
• চাহিদা বাড়িয়ে দ্বিগুণ-চারগুণ দামে বিক্রি হতো কালোবাজারিতে shohoz 25
• মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গত ৬ মাসে ৯৮ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য
• সংস্থা দুটির কালো বিড়াল ধরতে তৎপর গোয়েন্দারা
• শর্তভঙ্গে চুক্তি বাতিলে উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা আনতে এক্সপার্ট দিয়ে মনিটরিংয়ের পরামর্শ বিশেষজ্ঞের

দরপত্রের শুরুতেই কারসাজি করে অনলাইনে টিকিট বিক্রিতে কমিশনের ভিত্তিতে রেলওয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় সহজ ডটকম। টিকিট অপারেটিং সিস্টেম নিজেদের কব্জায় রেখেছে। আর এই সুযোগে রেলওয়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা- কর্মচারীর যোগসাজসে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে একক আধিপত্য বিস্তার করে চলছে সহজ ডটকম। এরই মধ্যে রেলওয়ের এক তদন্ত প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসলেও শর্তভঙ্গে চুক্তি বাতিলের কোনো উদ্যোগ নেয়নি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে র‍্যাবের জালে চক্রের সদস্যরা ধরা পড়ার পর সহজ ডটকম ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের আসল চেহারা বেরিয়ে এসেছে। বুয়েটের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিধি অনুযায়ী অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সহজ ডটকম টিকিট বিক্রির দায়িত্ব পেলেও দুটি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে তৃতীয় পক্ষের এক্সপার্ট দিয়ে মনিটরিং করা জরুরি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অপারেটিং সিস্টেম থেকে টিকিট কালোবাজারি রোধে সংস্থা দুটির ব্যবহৃত সার্ভারে ও সন্দেহভাজনদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রেলওয়ের সাবেক কর্মকর্তারা বলছেন, রেল কর্মকর্তাদের সদিচ্ছার বড় অভাব রয়েছে। যদি সহজ থেকে টিকিট বিক্রির সিস্টেম রেলওয়েতে ফিরিয়ে আনা হয়, তাহলে কালোবাজারির সেই পুরোনো গল্পই শুনতে হবে। তবে রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক বলেছেন, রেলে যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে ও কালোবাজারি রোধে সার্বক্ষণিক কাজ করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। দরপত্রে কারসাজি ও সহজের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রেলে যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে টিকিট কালোবাজারি রোধে ২০০৭ থেকে দীর্ঘ ১৫ বছর রেলে একচেটিয়া ট্রেনের টিকিট বিক্রি করে আসছিল কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম (সিএনএস)। টিকিট বিক্রি এবং চুক্তি নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠায় সিএনএস এর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে রেলওয়ে। যা শেষ হয় ২০২২ সালের ২০ মার্চ। পরে নতুনভাবে টেন্ডার আহ্বান করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সেই টেন্ডারে কাজ পায় রাইড শেয়ারিং কোম্পানি সহজ লিমিটেড। পরে ১৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে রেলওয়ে ও সহজের মধ্যে ৫ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। সে অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরের জন্য ট্রেনের টিকিট বিক্রি করবে সহজ। সহজ এর সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের ইন্টিগ্রেটেড টিকিটিং সিস্টেম (বিআরআইটিএস) ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট, সাপ্লাই, ইনস্টল, কমিশন অপারেট, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিটি টিকিটের জন্য সহজ লিমিটেডকে ২৫ পয়সা সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। যেখানে সিএনএসকে দিতে হতো প্রায় তিন টাকা। প্রয়োজন হলে টিকিটিং সিস্টেমে পরিবর্তন আনবে এবং নিজস্ব সার্ভারে কাজ করবে বলেও চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়। যথেষ্ট যোগ্যতা না থাকলেও দরপত্রে ‘কারসাজি করে’ সহজ-সিনেসিস-ভিনসেন জেভি বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিগত ঈদুল ফিতরে রেলের ই- টিকিটিং সিস্টেম প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে সহজ। রেলওয়ের আর্থিক দরপত্র প্রস্তাব ফরম পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ফরমটিতে ৮ দশমিক শূন্য ১ পর্যন্ত সারি রয়েছে। তবে সহজের জমা দেওয়া আর্থিক প্রস্তাবে একটি সারি বাড়িয়ে ৮ দশমিক শূন্য ২ পর্যন্ত করা হয়।

যেটি দরপত্রে এক ধরনের অনিয়ম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ওই দরপত্রে সহজসহ মোট ১৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। অতীতে টিকিট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা সিএনএসও অংশ নিয়েছিল সেখানে। সিএনএস যে ব্যয় প্রস্তাব দেয় তাতে টিকিটের সার্ভিস চার্জ ছিল ১ টাকা ২২ পয়সা। তবে সহজ রেলওয়ের দরপত্রের আর্থিক প্রস্তাবে অতিরিক্ত একটি সারি তৈরি করে কারসাজির মাধ্যমে টিকিট প্রতি সার্ভিস চার্জ ১ টাকা ৫১ পয়সার পরিবর্তে মাত্র ২৫ পয়সা দেখিয়েছে। নথি ঘেটে দেখা গেছে, রেলওয়েতে জমা দেওয়া আর্থিক দরপ্রস্তাবে সহজ তাদের মোট ব্যয় দেখিয়েছে ৩০ কোটি ২৫ লাখ ১৫ হাজার ১২৯ টাকা। যার সঙ্গে ২০ কোটি টিকিট ভাগ করলে প্রতিটি টিকেটের সার্ভিস চার্জ দাঁড়ায় ১ টাকা ৫১ পয়সা। যদিও এ ব্যাপারে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) তৈরি করা একটি প্রতিবেদনের বলা হয়, সহজ-সিনেসিস-ভিনসেন জেভি পারস্পরিক যোগসাজশের মাধ্যমে আর্থিক প্রস্তাবের ৮নং মেইন হেডে একটি অতিরিক্ত লাইন সংযোজন করে বিজ্ঞাপন থেকে ২৫ কোটি ৩১ লাখ ৮২ হাজার টাকা আয় দেখিয়ে তা নিয়মবহির্ভূতভাবে তাদের মূল উদ্ধৃত দর থেকে বিয়োগ করেছে। ফরমের অতিরিক্ত ওই সারিতে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন থেকে রেল কর্তৃপক্ষের সম্ভাব্য আয় ২৫ কোটি ৩১ লাখ ৮২ হাজার টাকাকে নিজেদের আয় হিসেবে দেখায় সহজ। এরপর তা দরপ্রস্তাবের মোট দর থেকে বাদ দেওয়া হয়। এর ফলে মোট ব্যয় প্রস্তাব ৩০ কোটি ২৫ লাখ ১৫ হাজার ১২৯ টাকার পরিবর্তে নেমে আসে ৪ কোটি ৯৩ লাখ ৩৩ হাজার ১২৯ টাকায়। আর এর সঙ্গে ২০ কোটি টিকিট ভাগ করে প্রতিটি টিকিটের সার্ভিস চার্জ দেখানো হয় মাত্র ২৫ পয়সা। প্রতিবেদনে বলা হয়, সহজ-সিনেসিস- ভিনসেন জেভি ছাড়া অন্য কোনো দরদাতাই তাদের আর্থিক প্রস্তাবে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব দাখিল করেনি। যা থেকে প্রতীয়মান হয় রেলওয়ের মূল্যায়ন কমিটি ও সহজ- সিনেসিস-ভিনসেন জেভি নিজেরা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য পারস্পরিক যোগসাজশে এ ধরনের শর্তযুক্ত প্রস্তাব পেশ করে। এতে আরো বলা হয়, বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এ ধরনের বিজ্ঞাপন খাতে ৫ বছরে ২৫ কোটি ৩১ লাখ ৮২ হাজার টাকার চেয়ে আরো বহুগুণ (বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রায় ৫০০ কোটি টাকা) বেশি আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যা একান্তভাবে বাংলাদেশ রেলওয়ের তথা বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব আয়। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করার জন্যই পারস্পরিক যোগসাজশে সহজ- সিনেসিস-ভিনসেন জেভি এ ধরনের প্রস্তাব দাখিল করেছে।

কমিটি বেআইনিভাবে তা অনুমোদন করেছে। সহজের দরপত্রে অনিয়মের বিষয়টি রেলের তৎকালীন অতিরিক্ত এমডি মিয়া জাহানও চিহ্নিত করেছিলেন। সহজের দর প্রস্তাব অনুমোদনের নথিতে। পরে অবশ্য মিয়া জাহানও সেই প্রস্তাবে সই করেন। এ বিষয়ে মিয়া জাহান বলেন, টেন্ডার ডকুমেন্ট ওখানে যেভাবে ছিল সেভাবেই আছে। তবে বাংলাদেশ রেলওয়ে ইন্টিগ্রটেড টিকিটিং সিস্টেম (বিআরআইটিএস) দরপত্রের ৭/১/এ, ৭/১/৩ এর শর্ত অনুযায়ী, দরদাতা প্রতিষ্ঠানের বছরে ৫০ লাখ টিকিট ইস্যু করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কিন্তু এই শর্তও পূরণ করেনি সহজ। এদিকে র‍্যাব জানায়, ২০ বছর ধরে বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিট বিক্রির পদ্ধতি ও অপারেটর বদলেছে কয়েকবার, বদলাননি কেবল কমলাপুর রেলস্টেশনের মিজান ঢালী, দীর্ঘ সময় ধরেই সিন্ডিকেট গড়ে ‘টিকিট কালোবাজারি’ করে আসছিলেন তিনি। ঈদের আগে টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে অভিযানে নেমে গত ২১ মার্চ মিজান ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পেয়েছে র‍্যাব। র‍্যাব জানান, মিজান ঢালী রেলের অনলাইন টিকিট বিক্রির প্ল্যাটফর্ম সহজ ডটকমের কমলাপুর স্টেশনের অফিস সহকারী। সহজের আগে যেসব প্রতিষ্ঠান রেলের টিকিট বিক্রির দায়িত্বে পেয়েছে, তার সবগুলোতেই কাজ করেছেন মিজান। ২০০৩ সাল থেকে এভাবে কমলাপুরেই থেকেছেন তিনি, গড়ে তুলেছেন টিকিট ‘জালিয়াতির সিন্ডিকেট’। র‍্যাবের অভিযানে মিজানসহ ৯ জন ২১ মার্চ গ্রেপ্তার হয়েছেন। যেভাবে গায়েব রেলের টিকিট র‍্যাব কমান্ডার খন্দকার মঈন বলেন, ২০০৩ সাল থেকে সহজের মিজান ঢালী টিকিট কালোবাজারি করে আসছেন।

কিন্তু রেলের কর্মী হিসেবে পরিচয় থাকায় কখনো গ্রেপ্তার হননি। ৮ বছর আগে নিজের ভাতিজা সোহেল ঢালীকেও এ পথে নিয়ে আসেন। টিকিটের চুক্তি যখন এক কোম্পানি থেকে আরেক কোম্পানির হাতে যায়, তখন পুরোনো প্রতিষ্ঠানের ৮০ শতাংশ কর্মীর চাকরি বহাল থাকবে- এরকম শর্ত যুক্ত থাকায় মিজান বারবার চাকরি পেয়ে যান। দীর্ঘদিন কমলাপুর রেলস্টেশনে চাকরি করায় সারা দেশের স্টেশনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে কালোবাজারি করতেন মিজান। এরপর সেগুলো চড়া দামে বিক্রি করা হতো। এছাড়া কোনো টিকিটের বুকিং বাতিল হলে সেটাও সার্ভার রুম থেকে জানিয়ে দেওয়া হতো মিজান সিন্ডিকেটের লোকজনকে। এভাবেই ট্রেনের টিকিটগুলো ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গায়েব হয়ে যেত। ঈদ, পূজা, সাপ্তাহিক ছুটিসহ বিশেষ দিনগুলো ঘিরে মিজান ও তার সহযোগীরা অনেক বেশি টিকিট সংগ্রহ করতেন। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকে এভাবে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করেন। তাদের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে গত ছয় মাসে ৯৮ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম আশিকুর রহমান দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, রেলের যে অনলাইন টিকিটিং সিস্টেম সেটা একমুখী। এতে আমাদের তথ্য প্রদান করতে হয়। কতগুলো সিটি ফাঁকা আছে তা জানার সুযোগ নেই। তথ্যগুলো ডেটাবেজ সার্ভারে যোগ হয়। তথ্য দিয়ে সাবমিট করা হলে ডেটাবেজ সার্ভারে হিট করে। সে ক্ষেত্রে যারা দায়িত্বে থাকে তারা দেখতে পারে কতগুলো টিকিট যাচ্ছে। তাদের মধ্য থেকেই কেউ টিকিট হেরফের করেন। কিন্তু এটা হওয়া উচিত যাত্রী দেখতে পারবে কতগুলো টিকিট বাকি আছে।

পুরো প্রসেসে সামনে ও পিছনে দুই অংশেই নিরাপত্তা দরকার। এটার জন্য সরকার একটি মনিটরিং কমিটি রাখতে পারে। বিধি অনুযায়ী অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সহজ ডটকম টিকিট বিক্রির দায়িত্ব পেলেও দুটি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে তৃতীয় পক্ষের এক্সপার্ট দিয়ে মনিটরিং করা জরুরি। তবেই এর সুফল যাত্রীরা পেতে পারেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সহজ ডটকমের বনানীর অফিসে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি। তবে ফোনে সহজের প্রতিষ্ঠাতা এমডি মালিহা এম কাদিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তবে সহজ ডটকমের জনসংযোগ কর্মকর্তা সন্দ্বীপ দেবনাথ বলেন, সহজ টিকিট বিক্রি করে না। কালোবাজারির সঙ্গেও জড়িত নয়। সহজ সফটওয়্যার বিষয়টি দেখে। টিকিট বিক্রি করে রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা। অপর কয়েকটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি পরে জানানো হবে। কিন্তু ৩ দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো উত্তর দেননি তিনিসহ প্রতিষ্ঠানটির কোনো কর্মকর্তা। এসব অভিযোগ ও শর্তভঙ্গে সহজের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক সরদার সাহাদাত আলী দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, রেলে যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে সার্বক্ষণিক কাজ করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। টিকিট কালোবাজারি রোধে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। দরপত্রে কারসাজি ও সহজের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের বিষয়টি আমি এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারব না। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। এর পরও আরো কিছু জানার থাকলে লিখিতভাবে চিঠি জমা দিন। সেই চিঠি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আমি পাঠিয়ে দেব। উত্তর পেলে পরবর্তীতে আপনাকে বিস্তারিত জানাতে পারব। প্রসঙ্গত, এবারের ঈদযাত্রায় প্রথম ধাপে ঘরমুখো মানুষের জন্য দেশের উত্তর-পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে একসপ্তাহে ২ লাখ ২৫ হাজার টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ফিরতি পথের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে গতকাল বুধবার থেকে। যা চলবে আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত।