১২:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বায়ুদূষণের রেকর্ডমুক্ত হতে পারছে না দেশ

◉ ইটভাটা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, খোলা নির্মাণসামগ্রী দূষণের অন্যতম কারণ
◉দেশের সবচেয়ে অস্বাস্থ্যকর শহর রংপুর, ঢাকার অবস্থান সপ্তম
◉ বায়ুদূষণে বাড়ছে শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী রোগ, অ্যাজমা, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া ও ফুসফুসের ক্যান্সার

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বায়ুমান এখন সংবেদনশীলদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আর দেশের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা রংপুর যা বায়ু অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। এ বছরের প্রথম সকাল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ছিল বায়ুদূষণের শীর্ষে। এর আগের বিকাল অর্থাৎ ২০২৩ এর শেষ বিকালটিতেও বাংলাদেশ ছিল বায়ুদূষণের শীর্ষে। এই অবস্থার পরিবর্তন হলেও এখনও ঢাকার বাতাসের দূষণমাত্রা অস্বাস্থ্যকর।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এর মাত্রা ছিল ১৫৬, যা অস্বাস্থ্যকর। আর বিকালে এর মাত্রা ছিল ১২২, যা সংবেদনশীল মানুষদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সূচকে নিচের দিকে ১২তম অবস্থানে এলেও খুব সহজেই ঢাকা ঝুঁকিপূর্ণ দূষণের শহরের তালিকা থেকে নামছে না বলেই মনে হচ্ছে। এখনও দেশের দূষণ পরিস্থিতি ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে যার প্রভাবে দেশের মানুষ শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী রোগ, অ্যাজমা, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া ও ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। যত্রতত্র ইটভাটা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, খোলা নির্মাণসামগ্রী দূষণের অন্যতম কারণ বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। এ অবস্থায় দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বায়ুদূষণের মাত্রা কমাতে জরুরিভিত্তিতে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

 

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকা বিশে^র ১২তম শহর হিসেবে বায়ুদূষণের মাত্রায় অবস্থান করছে। এ সময় সবচেয়ে অস্বাস্থ্যকর শহরের শীর্ষে অবস্থান করছে ইসরায়েলের শহর তেলআবিব যার মাত্রা ৩০৩ এবং এরপরই দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান যার মাত্রা ২৪৯। তৃতীয় অবস্থানে আছে ইসরায়েলের জেরুজালেম যার মাত্রা ১৬২, চতুর্থ অবস্থানে আছে মিসরের কায়রো যার মাত্রা ১৬২, পঞ্চম অবস্থানে জাপানের ওসাকা যার মাত্রা ১৫৯, ষষ্ঠ অবস্থানে আছে নেপালের কাঠমাণ্ডু যার মাত্রা ১৫৫, সপ্তম ও অষ্টম অবস্থানে আছে জাপানের কিয়োতো ১৫৩, ও কোবে শহর ১৪৬, নবম অবস্থানে আছে চীনের বেইজিং ১৩৮, দশম অবস্থানে আছে থাইল্যাণ্ডের চিয়াংমাই ১৩৪, একাদশ অবস্থানে আছে মিয়ানমারের ইয়াংগুন ১৩৩। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় ও সতর্ক করে।

 

এদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ুমান মাত্রা যাচাইয়ের তালিকার তথ্যানুযায়ী, দেশের সবচেয়ে বায়ুদূষণযুক্ত জেলা হচ্ছে রংপুর। আর রাজধানী ঢাকার অবস্থান ৭ নম্বর। পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিদিনের বায়ুমান তালিকায় দেখা যায়, গত ১৭ এপ্রিলের তথ্যানুযায়ী, রংপুরের বায়ুদূষণ মাত্রা ২৩৪ যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে কুমিল্লা, যার মাত্রা ২১৯। তৃতীয় অবস্থানে আছে ময়মনসিংহ যার মাত্রা ১৯৯, চতুর্থ অবস্থানে আছে বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রাম যার মাত্রা ১৬৫, পঞ্চম স্থানে আছে পরিচ্ছন্ন শহর খ্যাত রাজশাহী, যার মান ১৬৪, ষষ্ঠ অবস্থানে আছে নারায়ণগঞ্জ যার মাত্রা ১৫৪, সপ্তম অবস্থানে আছে রাজধানী ঢাকা যার মাত্রা ১৪৭, অষ্টম অবস্থানে আছে সিলেট যার মাত্রা ১৩৮, নবম অবস্থানে আছে নদীর শহর বরিশাল যার মাত্রা ১২০, দশম অবস্থানে আছে গাজীপুর যার অবস্থান ১১৯, একাদশতম অবস্থানে আছে নরসিংদী, যার মাত্রা ১১০। আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, ভালো বায়ুমানের মাত্রা হচ্ছে ০-৫০, মধ্যম মানের বায়ুমানের মাত্রা ৫১-১০০, সাবধানতা অবলম্বন বা সতর্কতা জরুরি এমন মাত্রা হচ্ছে ১০১-১৫০, অস্বাস্থ্যকর ১৫১-২০০, খুব অস্বাস্থ্যকর ২০১-৩০০, অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হচ্ছে ৩০১+ মাত্রা। যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, বায়ুদূষণে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু কমে যাচ্ছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। দেশের বাতাসের এই দূষণমাত্রায় পরিবেশ অধিদপ্তর ছোট-বড় সবাইকে ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহারের অনুরোধ করেছে।

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, দেশের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরের কাজ করা জরুরি কিন্তু আমরা বাস্তবে তাদের কোনো কার্যক্রম দেখতে পাচ্ছি না। এটা আমাদের মধ্যে হতাশা এবং উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে নির্মল বায়ু আইন-২০১৯ দ্রুত প্রণয়ন করার দাবি জানাই। নির্মাণকাজের সময় নির্মাণ স্থান ঘেরাও দিয়ে রাখার জন্য অনুরোধ করেছি। নির্মাণসামগ্রী যেমন বালু-সিমেন্ট এগুলো পরিবহনের সময় ঢাকনা দিয়ে ঢেকে বহনের কথা বলেছি। শুষ্ক মৌসুমে সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, ওয়াসা এবং পরিবেশ অধিদপ্তর এর সমন্বয়ে দূষিত শহরগুলোতে প্রতি দিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর পর পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা, রাস্তার ধারের গাছের পাতায় জমে থাকা ধুলা অনেক দূষণ বাড়ায় তাই সেগুলোকে ধোয়ার ব্যবস্থা করার জন্য বলেছি। দেশের ইটভাটাগুলো দূষণের অন্যতম কারণ। এগুলো অবিলম্বে বন্ধ করে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছি। ব্যক্তিগত গাড়ি এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করার দাবি জানিয়েছি। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের দূষণ বন্ধে তেমন উদ্যোগ না দেখে আমরা হতাশ।

তিনি বলেন, বায়ুদূষণের যে পরিস্থিতি চলছে তা অত্যন্ত ভয়াবহ। এই অবস্থার অবিলম্বে পরিবর্তন দরকার। এটি না হলে আমরা ভয়াবহ দূষণ সংকটে পড়ব। এদিকে, বন ও পরিবেশমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর ১০০ দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। কর্মসূচির আওতাধীন পরিকল্পনায় আছে, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ঢাকার চারপাশের সব ইটভাটা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রায় অবৈধ ৫০০ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া খোলা ট্রাকে করে নির্মাণসামগ্রী (বালু, সিমেন্ট ও অন্যান্য) বহনে জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, গত ২৪ মার্চ জাতীয় সংসদের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দেশের সব ধরনের দূষণ প্রতিরোধে সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। কমিটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বন্যপ্রাণি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সংরক্ষিত বনাঞ্চল সংরক্ষণসহ নতুন বনাঞ্চল সৃষ্টির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করে।

বিশ্ব বায়ুমান মাত্রায় দেশের অবস্থান চিত্র :
রংপুর ২৩৪, কুমিল্লা ২১৯, ময়মনসিংহ ১৯৯, চট্টগ্রাম ১৬৫, রাজশাহী ১৬৪, নারায়ণগঞ্জ ১৫৪, ঢাকা ১৪৭, সিলেট ১৩৮, বরিশাল ১২০, গাজীপুর ১১৯, নরসিংদী ১১০, খুলনা ১০৭।

জনপ্রিয় সংবাদ

বায়ুদূষণের রেকর্ডমুক্ত হতে পারছে না দেশ

আপডেট সময় : ০৫:৩২:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪

◉ ইটভাটা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, খোলা নির্মাণসামগ্রী দূষণের অন্যতম কারণ
◉দেশের সবচেয়ে অস্বাস্থ্যকর শহর রংপুর, ঢাকার অবস্থান সপ্তম
◉ বায়ুদূষণে বাড়ছে শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী রোগ, অ্যাজমা, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া ও ফুসফুসের ক্যান্সার

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বায়ুমান এখন সংবেদনশীলদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আর দেশের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা রংপুর যা বায়ু অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। এ বছরের প্রথম সকাল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ছিল বায়ুদূষণের শীর্ষে। এর আগের বিকাল অর্থাৎ ২০২৩ এর শেষ বিকালটিতেও বাংলাদেশ ছিল বায়ুদূষণের শীর্ষে। এই অবস্থার পরিবর্তন হলেও এখনও ঢাকার বাতাসের দূষণমাত্রা অস্বাস্থ্যকর।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এর মাত্রা ছিল ১৫৬, যা অস্বাস্থ্যকর। আর বিকালে এর মাত্রা ছিল ১২২, যা সংবেদনশীল মানুষদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সূচকে নিচের দিকে ১২তম অবস্থানে এলেও খুব সহজেই ঢাকা ঝুঁকিপূর্ণ দূষণের শহরের তালিকা থেকে নামছে না বলেই মনে হচ্ছে। এখনও দেশের দূষণ পরিস্থিতি ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে যার প্রভাবে দেশের মানুষ শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী রোগ, অ্যাজমা, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া ও ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। যত্রতত্র ইটভাটা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, খোলা নির্মাণসামগ্রী দূষণের অন্যতম কারণ বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। এ অবস্থায় দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বায়ুদূষণের মাত্রা কমাতে জরুরিভিত্তিতে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

 

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকা বিশে^র ১২তম শহর হিসেবে বায়ুদূষণের মাত্রায় অবস্থান করছে। এ সময় সবচেয়ে অস্বাস্থ্যকর শহরের শীর্ষে অবস্থান করছে ইসরায়েলের শহর তেলআবিব যার মাত্রা ৩০৩ এবং এরপরই দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান যার মাত্রা ২৪৯। তৃতীয় অবস্থানে আছে ইসরায়েলের জেরুজালেম যার মাত্রা ১৬২, চতুর্থ অবস্থানে আছে মিসরের কায়রো যার মাত্রা ১৬২, পঞ্চম অবস্থানে জাপানের ওসাকা যার মাত্রা ১৫৯, ষষ্ঠ অবস্থানে আছে নেপালের কাঠমাণ্ডু যার মাত্রা ১৫৫, সপ্তম ও অষ্টম অবস্থানে আছে জাপানের কিয়োতো ১৫৩, ও কোবে শহর ১৪৬, নবম অবস্থানে আছে চীনের বেইজিং ১৩৮, দশম অবস্থানে আছে থাইল্যাণ্ডের চিয়াংমাই ১৩৪, একাদশ অবস্থানে আছে মিয়ানমারের ইয়াংগুন ১৩৩। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় ও সতর্ক করে।

 

এদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ুমান মাত্রা যাচাইয়ের তালিকার তথ্যানুযায়ী, দেশের সবচেয়ে বায়ুদূষণযুক্ত জেলা হচ্ছে রংপুর। আর রাজধানী ঢাকার অবস্থান ৭ নম্বর। পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিদিনের বায়ুমান তালিকায় দেখা যায়, গত ১৭ এপ্রিলের তথ্যানুযায়ী, রংপুরের বায়ুদূষণ মাত্রা ২৩৪ যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে কুমিল্লা, যার মাত্রা ২১৯। তৃতীয় অবস্থানে আছে ময়মনসিংহ যার মাত্রা ১৯৯, চতুর্থ অবস্থানে আছে বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রাম যার মাত্রা ১৬৫, পঞ্চম স্থানে আছে পরিচ্ছন্ন শহর খ্যাত রাজশাহী, যার মান ১৬৪, ষষ্ঠ অবস্থানে আছে নারায়ণগঞ্জ যার মাত্রা ১৫৪, সপ্তম অবস্থানে আছে রাজধানী ঢাকা যার মাত্রা ১৪৭, অষ্টম অবস্থানে আছে সিলেট যার মাত্রা ১৩৮, নবম অবস্থানে আছে নদীর শহর বরিশাল যার মাত্রা ১২০, দশম অবস্থানে আছে গাজীপুর যার অবস্থান ১১৯, একাদশতম অবস্থানে আছে নরসিংদী, যার মাত্রা ১১০। আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, ভালো বায়ুমানের মাত্রা হচ্ছে ০-৫০, মধ্যম মানের বায়ুমানের মাত্রা ৫১-১০০, সাবধানতা অবলম্বন বা সতর্কতা জরুরি এমন মাত্রা হচ্ছে ১০১-১৫০, অস্বাস্থ্যকর ১৫১-২০০, খুব অস্বাস্থ্যকর ২০১-৩০০, অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হচ্ছে ৩০১+ মাত্রা। যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, বায়ুদূষণে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু কমে যাচ্ছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। দেশের বাতাসের এই দূষণমাত্রায় পরিবেশ অধিদপ্তর ছোট-বড় সবাইকে ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহারের অনুরোধ করেছে।

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, দেশের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরের কাজ করা জরুরি কিন্তু আমরা বাস্তবে তাদের কোনো কার্যক্রম দেখতে পাচ্ছি না। এটা আমাদের মধ্যে হতাশা এবং উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে নির্মল বায়ু আইন-২০১৯ দ্রুত প্রণয়ন করার দাবি জানাই। নির্মাণকাজের সময় নির্মাণ স্থান ঘেরাও দিয়ে রাখার জন্য অনুরোধ করেছি। নির্মাণসামগ্রী যেমন বালু-সিমেন্ট এগুলো পরিবহনের সময় ঢাকনা দিয়ে ঢেকে বহনের কথা বলেছি। শুষ্ক মৌসুমে সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, ওয়াসা এবং পরিবেশ অধিদপ্তর এর সমন্বয়ে দূষিত শহরগুলোতে প্রতি দিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর পর পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা, রাস্তার ধারের গাছের পাতায় জমে থাকা ধুলা অনেক দূষণ বাড়ায় তাই সেগুলোকে ধোয়ার ব্যবস্থা করার জন্য বলেছি। দেশের ইটভাটাগুলো দূষণের অন্যতম কারণ। এগুলো অবিলম্বে বন্ধ করে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছি। ব্যক্তিগত গাড়ি এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করার দাবি জানিয়েছি। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের দূষণ বন্ধে তেমন উদ্যোগ না দেখে আমরা হতাশ।

তিনি বলেন, বায়ুদূষণের যে পরিস্থিতি চলছে তা অত্যন্ত ভয়াবহ। এই অবস্থার অবিলম্বে পরিবর্তন দরকার। এটি না হলে আমরা ভয়াবহ দূষণ সংকটে পড়ব। এদিকে, বন ও পরিবেশমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর ১০০ দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। কর্মসূচির আওতাধীন পরিকল্পনায় আছে, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ঢাকার চারপাশের সব ইটভাটা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রায় অবৈধ ৫০০ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া খোলা ট্রাকে করে নির্মাণসামগ্রী (বালু, সিমেন্ট ও অন্যান্য) বহনে জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, গত ২৪ মার্চ জাতীয় সংসদের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দেশের সব ধরনের দূষণ প্রতিরোধে সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। কমিটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বন্যপ্রাণি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সংরক্ষিত বনাঞ্চল সংরক্ষণসহ নতুন বনাঞ্চল সৃষ্টির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করে।

বিশ্ব বায়ুমান মাত্রায় দেশের অবস্থান চিত্র :
রংপুর ২৩৪, কুমিল্লা ২১৯, ময়মনসিংহ ১৯৯, চট্টগ্রাম ১৬৫, রাজশাহী ১৬৪, নারায়ণগঞ্জ ১৫৪, ঢাকা ১৪৭, সিলেট ১৩৮, বরিশাল ১২০, গাজীপুর ১১৯, নরসিংদী ১১০, খুলনা ১০৭।