০৬:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কসবায় রাতের আঁধারে দুটি পুকুরে বিষ দিলো দুর্বূত্তরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় রাতের আঁধারে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৫০ মণ মাছ মেরে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এসব মাছের আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা । এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
বুধবার (৪ মে) রাতে উপজেলার কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের আকছিনা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভুগী মৎস্য চাষি মোহাম্মদ আলী আব্দুল মন্নান মিয়ার ছেলে। মোহাম্মদ আলী উপজেলার একটি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের উৎস হিসেবে বেছে নেন মৎস্য চাষকে।
ঘটনার পরদিন (৫ মে) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে পুকুরের মাছগুলো মরে ভেসে উঠতে দেখতে পান এলাকাবাসী। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মোহাম্মদ আলী এবং আনিছ মিয়া দেখতে পান তাদের পুকুরের বেহাল অবস্থা।
মোহাম্মদ আলী ২০২৩ সালের মার্চ মাসের মাঝামাঝিতে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বাকৃবি) থেকে ৫ লক্ষ টাকার ক্যাশ ক্রেডিট (সিসি) লোন নেন এবং মৎস্য ও গবাদিপশুর খাদ্যের চাহিদা মেটানোর জন্য ব্যক্তিগতভাবে জনতা ব্যাংক লিমিটেড থেকে ৬ লক্ষ টাকা গৃহনির্মাণ ঋণ গ্রহণ করেন। সম্পূর্ণ টাকা তিনি মৎস্য চাষে ব্যয় করেন।
দীর্ঘদিন ধরেই বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করছেন মোহাম্মদ আলী মাছ চাষ করে পরিবারের ভরণপোষণের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে ভালোই ভূমিকা রেখে আসছিলেন । মাঝেমধ্যে রাত্রি বেলায় মৎস্য খামার পরিদর্শন করেন কিন্তু ঘটনার রাতে পুকুর পাড়ে যান নি তিনি। পরদিন সকালে লোক মুখে শুনেন তার পুকুরে মাছে ভেসে উঠছে। পুকুর পাড়ে গিয়ে মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখে হতবাক হয়ে যান তিনি। তার ইজারাকৃত প্রজেক্টের পুকুরে কার্ফু, গ্রাস কার্প, সরপুঁটি, কাতল, রুই, বিগহেড, সিলভার কার্প, শিংসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৩৫ মণ মাছ মারা গেছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা।
মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি জানি না কে বা কারা রাতের আঁধারে আমার পুকুরে কীটনাশক (বিষ) প্রয়োগ করে পুকুরের সব মাছ মেরে ফেলেছে। সকালে পুকুরে মরা মাছ ভেসে উঠা দেখে আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছি। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই ক্ষতি করেছে বলে আমার ধারণা। ঋণের টাকা নিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। দূর্বৃত্তরা আমাকে রাস্তায় নামিয়ে দিলো। আমি কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি চাই প্রশাসন সঠিক তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার করুক।
মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী বলেন, আমরা স্বামী-স্ত্রী দিনরাত পরিশ্রম করে এই প্রজেক্ট করে আসছি। এ আয় থেকে আমাদের সংসার চলে। সন্তানের লেখাপড়ার খরচ দেই। কি এমন শত্রুতা যে রাতে কে বা কারা পুকুরে বিষ দিয়ে পুকুরের মাছগুলো মেরে ফেলেছে। এখন আমাদের কী হবে। যারা পুকুরে বিষ দিয়েছে তাদের বিচার চাই।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজু আহমেদ লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুড়িগ্রামে সঁাতার প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত 

কসবায় রাতের আঁধারে দুটি পুকুরে বিষ দিলো দুর্বূত্তরা

আপডেট সময় : ০৫:৪৮:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ মে ২০২৪
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় রাতের আঁধারে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৫০ মণ মাছ মেরে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এসব মাছের আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা । এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
বুধবার (৪ মে) রাতে উপজেলার কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের আকছিনা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভুগী মৎস্য চাষি মোহাম্মদ আলী আব্দুল মন্নান মিয়ার ছেলে। মোহাম্মদ আলী উপজেলার একটি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের উৎস হিসেবে বেছে নেন মৎস্য চাষকে।
ঘটনার পরদিন (৫ মে) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে পুকুরের মাছগুলো মরে ভেসে উঠতে দেখতে পান এলাকাবাসী। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মোহাম্মদ আলী এবং আনিছ মিয়া দেখতে পান তাদের পুকুরের বেহাল অবস্থা।
মোহাম্মদ আলী ২০২৩ সালের মার্চ মাসের মাঝামাঝিতে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বাকৃবি) থেকে ৫ লক্ষ টাকার ক্যাশ ক্রেডিট (সিসি) লোন নেন এবং মৎস্য ও গবাদিপশুর খাদ্যের চাহিদা মেটানোর জন্য ব্যক্তিগতভাবে জনতা ব্যাংক লিমিটেড থেকে ৬ লক্ষ টাকা গৃহনির্মাণ ঋণ গ্রহণ করেন। সম্পূর্ণ টাকা তিনি মৎস্য চাষে ব্যয় করেন।
দীর্ঘদিন ধরেই বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করছেন মোহাম্মদ আলী মাছ চাষ করে পরিবারের ভরণপোষণের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে ভালোই ভূমিকা রেখে আসছিলেন । মাঝেমধ্যে রাত্রি বেলায় মৎস্য খামার পরিদর্শন করেন কিন্তু ঘটনার রাতে পুকুর পাড়ে যান নি তিনি। পরদিন সকালে লোক মুখে শুনেন তার পুকুরে মাছে ভেসে উঠছে। পুকুর পাড়ে গিয়ে মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখে হতবাক হয়ে যান তিনি। তার ইজারাকৃত প্রজেক্টের পুকুরে কার্ফু, গ্রাস কার্প, সরপুঁটি, কাতল, রুই, বিগহেড, সিলভার কার্প, শিংসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৩৫ মণ মাছ মারা গেছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা।
মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি জানি না কে বা কারা রাতের আঁধারে আমার পুকুরে কীটনাশক (বিষ) প্রয়োগ করে পুকুরের সব মাছ মেরে ফেলেছে। সকালে পুকুরে মরা মাছ ভেসে উঠা দেখে আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছি। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই ক্ষতি করেছে বলে আমার ধারণা। ঋণের টাকা নিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। দূর্বৃত্তরা আমাকে রাস্তায় নামিয়ে দিলো। আমি কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি চাই প্রশাসন সঠিক তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার করুক।
মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী বলেন, আমরা স্বামী-স্ত্রী দিনরাত পরিশ্রম করে এই প্রজেক্ট করে আসছি। এ আয় থেকে আমাদের সংসার চলে। সন্তানের লেখাপড়ার খরচ দেই। কি এমন শত্রুতা যে রাতে কে বা কারা পুকুরে বিষ দিয়ে পুকুরের মাছগুলো মেরে ফেলেছে। এখন আমাদের কী হবে। যারা পুকুরে বিষ দিয়েছে তাদের বিচার চাই।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজু আহমেদ লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।