⦿প্রতারণায় জড়িত কর্মকর্তা-আনসাররা
⦿পুলিশ পরিচয়ে হাতিয়ে নিত অর্থ
⦿চক্রের ৯ সদস্য গোয়েন্দা জালে
বহিরাগত দালাল আর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের অপতৎপরতায় পাসপোর্ট অফিসগুলো এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। প্রতিটি পাসপোর্ট অফিস ঘিরে ক্রমেই সক্রিয় হয়ে উঠছে সংঘবদ্ধ দালাল ও প্রতারকচক্র। পাসপোর্ট তৈরি করতে আসা ব্যক্তিরাই তাদের টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন। প্রতিদিনই কেউ না কেউ এ চক্রের প্রতারণার ফাঁদে পড়ছেন। চক্রটি নিজেদের বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে পাসপোর্ট আবেদনকারীর কাছ থেকে নগদ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। সংঘবদ্ধ এমন একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, এই চক্রের সঙ্গে পাসপোর্ট অফিসের আনসার সদস্য ও কর্মকর্তারাও জড়িত। চক্রটি পুলিশ পরিচয়ে ট্রু-কলারে নম্বর সেভ করে পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীদের তথ্য নিয়ে মোবাইলে ফোন দিয়ে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। অবশেষে গোয়েন্দা জালে ধরা পড়েছে চক্রের সক্রিয় ৯ সদস্য। এরা হলেন- কাজী মো. বেলাল হোসেন, মো. জসিম উদ্দিন, মো. আল-আমিন গাজী, হাসান আহম্মেদ, মো. সোহাগ আলম, মো. হোসাইন মোল্লা, নুরুজ্জামান মিয়া, মামুনুর রহমান ও মো. রাসেল ইসলাম। গতকাল সোমবার রাজধানীর মিন্টু রোডের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এসব তথ্য তুলে ধরেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন আর রশীদ।
তিনি বলেন, সংঘবদ্ধ এই প্রতারক চক্র পাসপোর্ট অফিসের অসাধু কর্মকর্তা, কর্মচারী, পিয়ন ও আনসার সদস্যের যোগসাজশে পাসপোর্ট অফিস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীদের ডেলিভারি এবং আবেদন ফরমে দেওয়া মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ওইসব নম্বরে ফোন করে প্রথমে আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (এনআইডি ও বিদ্যুৎ বিলের কপি) হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে বলে। পরে প্রতারণা করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে।
ডিবিপ্রধান বলেন, এ বিষয়ে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন শাখা সবুজবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করে। পরে ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ অভিযান চালিয়ে কাজী মো. বেলাল হোসেন, মো. জসিম উদ্দিন, মো. আল-আমিন গাজী, হাসান আহম্মেদ, মো. সোহাগ আলম, মো. হোসাইন মোল্লা, নুরুজ্জামান মিয়া, মামুনুর রহমান ও মো. রাসেল ইসলাম নামে প্রতারক চক্রের সক্রিয় ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশের একটি দল।
হারুন আর রশীদ বলেন, গ্রেপ্তাররা দীর্ঘদিন ধরে পাসপোর্ট অফিসে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আনসার সদস্যদের মাধ্যমে পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীর গোপন তথ্য সংগ্রহ করে। পরে পুলিশের মিথ্যা পরিচয় দিয়ে ভেরিফিকেশনের কথা বলে পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল। পুলিশের ছবি ও নাম ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করে প্রতারণার কাজে বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার করে ভুয়া নামে রেজিস্ট্রেশনকৃত মোবাইল সিম সংগ্রহ করে নিজেরা প্রতারণার কাজে ব্যবহার করেন। অন্যের নামে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টযুক্ত সিম সংগ্রহ করে প্রতারণার অর্থ লেনদেন করেন তারা।
ডিবিপ্রধান আরও বলেন, গ্রেপ্তার বেলাল হোসেনের নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার মো. জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চক্রের অন্যান্যদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান হারুন অর রশীদ।

























