০৩:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বৈধভাবে না মিললেও গ্যাসের অবৈধ সংযোগ বাড়ছেই

◉ তিতাস গ্যাসে এখন আর চিহ্নিত কোনো অবৈধ সংযোগ নেই -হারুনুর রশীদ মোল্লাহ, ব্যাবস্থাপনা পরিচালক, তিতাস গ্যাস
◉ চুরি বন্ধ করে হাজার হাজার কোটি টাকার গ্যাস সাশ্রয় করা সম্ভব -ম. তামিম, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ
◉ অবৈধ সংযোগে কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা জড়িত -এম শামসুল আলম, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, ক্যাব

একযুগেরও বেশি সময় ধরে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ রেখেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকেই জ্যামিতিক হারে অবৈধ সংযোগ বেড়ে গেছে। তিতাসের কর্মকর্তা, স্থানীয় ঠিকাদার ও প্রভাবশালীরা এসব গ্যাস চুরিতে জড়িত- বলছেন সংশ্লিষ্টরা। গ্যাস বিতরণের সবচেয়ে বড় সংস্থা তিতাস রাজধানী ও আশপাশের জেলার প্রায় ২৮ লাখ গ্রাহক সেবা দিয়ে আসছে।

দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে রাজধানী ঢাকার আবাসিক এলাকা। তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন ঘর-বাড়ি, গড়ে উঠছে আকাশচুম্বী ইমারত। রাজউক ও সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের অনুমোদন নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আবাসিক ও ব্যবসা কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এসব বাড়ি ও শপিংমল বৈধ হলেও মিলছে না তিতাসের গ্যাস।

অন্যদিকে অনুমোদনহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, বাসা-বাড়ি, হোটেল-রেস্তোরাঁ এমনকি কারখানায় অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে হরদম ব্যবহার হচ্ছে তিতাসের গ্যাস। এ যেন এক দেশে দুই নীতি। বৈধরা পাচ্ছে না গ্যাস অন্যদিকে অবৈধ ভবন মালিকরা বিতরণ কোম্পানির অসাধু কর্মকর্তাদের জোগসাজশে অবৈধভাবে ব্যবহার করছেন গ্যাস।

অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও বিল খেলাপির কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে সংস্থাটি। এর পরও অবৈধ সংযোগ শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা যাচ্ছে না। যদিও দীর্ঘদিন অভিযান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানায়, অধিকাংশ অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে থাকে, এ কারণে বৈধ গ্যাস সংযোগকারীরা গ্যাস কম পাচ্ছেন। এর পরও রাতের আঁধারে একটি চক্র তিতাসের মূল সংযোগ থেকে নিম্নমানের পাইপ দিয়ে বিভিন্ন বাড়িওয়ালার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদান করে আসছে।

খবর নিয়ে জানা যায়, তিতাসের যত্রতত্র এসব অবৈধ সংযোগের সঙ্গে খোদ তিতাস কর্মকর্তারা জড়িত। এর আগে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আটজনকে বরখাস্ত, ১৬ জনকে সাময়িক বরখাস্তসহ ২২৮ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ৯১ জনকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে।

এদিকে একাধিক বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, এই সময়ে বাড়ি করে বড়ই ঝামেলায় পড়েছেন। তিতাস নতুন সংযোগ দিচ্ছে না। গ্যাস সংযোগ না থাকলে ভাড়াটিয়া পাওয়া যায় না। ভাড়াটিয়া পেলেও অনেক কম দামে ফ্ল্যাট ভাড়া দিতে হচ্ছে।

তিতাস সূত্র জানায়, অভিযানে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের পাশাপাশি বকেয়া আদায়ও করা হয়। গত বছরেই ২ লাখ ২৩ হাজার ৩২৯টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি ২২০ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার অবৈধ লাইনও অপসারণ করে তিতাস। এই সময়ে শিল্পে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে ২৯৩টি। এগুলোর মধ্যে অবৈধ ব্যবহারের দায়ে ১৮০টি এবং বকেয়ার কারণে ১১৩টির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামে চলছে অবৈধ সংযোগে।

সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযান পরিচালনা হলেও এখনো অব্যাহত রয়েছে অবৈধ সংযোগ। এর নেপথ্যে রয়েছেন স্থানীয় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অবৈধ গ্যাস লাইনের ছড়াছড়ি। নতুন করে আবাসন প্রকল্পের পাঁচ শতাধিক অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস। এ সময় জব্দ করা হয় বিপুল পরিমাণ চুলা ও রাইজার।

এসব অবৈধ সংযোগে তিন-চার লাখ টাকা পর্যন্ত নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। আর এসব অর্থের ভাগ পান প্রত্যেকে। অবৈধ গ্রাহকদেরকে এক ধরনের টোকেন না কর্মকর্তাদের ভিজিটিং কার্ড দেওয়া হয়ে থাকে। অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযান পরিচালনা করা হলে এসব অবৈধ গ্রাহক টোকেন প্রদর্শন করলে আর লাইন কাটা হচ্ছে না।

 

অবৈধ সংযোগে তিতাস গ্যাসের বার্ষিক ক্ষতি ৩০০ কোটি : তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সিস্টেম লস (ঘাটতি) গত বছর ছিল ২ শতাংশ। টাকার অঙ্কে তা প্রায় ৩২০ কোটি, যা বার্ষিক ক্ষতি হিসেবে দেখাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। আর এই সিস্টেম লসের মূল কারণ অবৈধ সংযোগ। অবৈধ সংযোগ দিয়ে থাকেন প্রতিষ্ঠানটির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

 

তিতাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে তিতাস ১৬ হাজার কোটি টাকার গ্যাস বিক্রি করেছে। কিন্তু যে পরিমাণ গ্যাস তারা বিতরণ করেছে তার দামের চেয়ে এই অর্থ ৩২০ কোটি টাকা কম। একেই তিতাস সিস্টেম লস বা ঘাটতি হিসেবে দেখায়।

 

এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে তিতাসের কী পরিমাণ অবৈধ সংযোগ আছে তার কোনো হিসাব তিতাসের কাছে নেই। তিতাসের আওতাভুক্ত অন্য জেলাগুলোতেও অবৈধ সংযোগ কম নয়। বছরের পর বছর অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের অভিযান চলে। কিন্তু কয়েক দিন পর আবার তিতাসের কর্মীরাই টাকার বিনিময়ে বিচ্ছিন্ন সংযোগ চালু করে দেন।

অপচয়ে এগিয়ে তিতাস ও বাখরাবাদ : গত অর্থবছরে তিতাসের গ্যাস অপচয় হয়েছে ৩২ কোটি ৬০ লাখ ঘনমিটার। এর আগের বছরে অপচয় হয়েছে প্রায় ৩১ কোটি ঘনমিটার। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে এ কোম্পানি। তবু অপচয় কমানো যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ও তিতাস বোর্ডে পরিচালক প্রকৌ. মো. হারুনুর রশীদ মোল্লাহ বলেন, তিতাস গ্যাসে এখন আর চিহ্নিত কোনো অবৈধ সংযোগ নেই। একটি অবৈধ সংযোগ থাকা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা জনসংযোগ করেছি, বলেছি চুরি ঠেকাতে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে ক্যাবের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম মন্তব্য করেন, গ্রাহক-তিতাস কর্তৃপক্ষের পরস্পর দোষারোপের কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা গেল তিতাস কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ঠিকাদার ও প্রভাবশালীরা জড়িত।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ম. তামিম বলেন, চুরি ছাড়া গ্যাস অপচয়ের তেমন সুযোগ নেই। অবৈধ গ্রাহকদের মাধ্যমে এটি হচ্ছে। অপচয়ের বড় অংশ আসে চুরি থেকে, আর বাকিটা লিকেজ থেকে। চুরি বন্ধ করে হাজার হাজার কোটি টাকার গ্যাস সাশ্রয় করা সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈধভাবে না মিললেও গ্যাসের অবৈধ সংযোগ বাড়ছেই

আপডেট সময় : ০৭:৩২:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মে ২০২৪

◉ তিতাস গ্যাসে এখন আর চিহ্নিত কোনো অবৈধ সংযোগ নেই -হারুনুর রশীদ মোল্লাহ, ব্যাবস্থাপনা পরিচালক, তিতাস গ্যাস
◉ চুরি বন্ধ করে হাজার হাজার কোটি টাকার গ্যাস সাশ্রয় করা সম্ভব -ম. তামিম, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ
◉ অবৈধ সংযোগে কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা জড়িত -এম শামসুল আলম, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, ক্যাব

একযুগেরও বেশি সময় ধরে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ রেখেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকেই জ্যামিতিক হারে অবৈধ সংযোগ বেড়ে গেছে। তিতাসের কর্মকর্তা, স্থানীয় ঠিকাদার ও প্রভাবশালীরা এসব গ্যাস চুরিতে জড়িত- বলছেন সংশ্লিষ্টরা। গ্যাস বিতরণের সবচেয়ে বড় সংস্থা তিতাস রাজধানী ও আশপাশের জেলার প্রায় ২৮ লাখ গ্রাহক সেবা দিয়ে আসছে।

দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে রাজধানী ঢাকার আবাসিক এলাকা। তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন ঘর-বাড়ি, গড়ে উঠছে আকাশচুম্বী ইমারত। রাজউক ও সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের অনুমোদন নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আবাসিক ও ব্যবসা কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এসব বাড়ি ও শপিংমল বৈধ হলেও মিলছে না তিতাসের গ্যাস।

অন্যদিকে অনুমোদনহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, বাসা-বাড়ি, হোটেল-রেস্তোরাঁ এমনকি কারখানায় অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে হরদম ব্যবহার হচ্ছে তিতাসের গ্যাস। এ যেন এক দেশে দুই নীতি। বৈধরা পাচ্ছে না গ্যাস অন্যদিকে অবৈধ ভবন মালিকরা বিতরণ কোম্পানির অসাধু কর্মকর্তাদের জোগসাজশে অবৈধভাবে ব্যবহার করছেন গ্যাস।

অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও বিল খেলাপির কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে সংস্থাটি। এর পরও অবৈধ সংযোগ শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা যাচ্ছে না। যদিও দীর্ঘদিন অভিযান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানায়, অধিকাংশ অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে থাকে, এ কারণে বৈধ গ্যাস সংযোগকারীরা গ্যাস কম পাচ্ছেন। এর পরও রাতের আঁধারে একটি চক্র তিতাসের মূল সংযোগ থেকে নিম্নমানের পাইপ দিয়ে বিভিন্ন বাড়িওয়ালার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদান করে আসছে।

খবর নিয়ে জানা যায়, তিতাসের যত্রতত্র এসব অবৈধ সংযোগের সঙ্গে খোদ তিতাস কর্মকর্তারা জড়িত। এর আগে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আটজনকে বরখাস্ত, ১৬ জনকে সাময়িক বরখাস্তসহ ২২৮ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ৯১ জনকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে।

এদিকে একাধিক বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, এই সময়ে বাড়ি করে বড়ই ঝামেলায় পড়েছেন। তিতাস নতুন সংযোগ দিচ্ছে না। গ্যাস সংযোগ না থাকলে ভাড়াটিয়া পাওয়া যায় না। ভাড়াটিয়া পেলেও অনেক কম দামে ফ্ল্যাট ভাড়া দিতে হচ্ছে।

তিতাস সূত্র জানায়, অভিযানে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের পাশাপাশি বকেয়া আদায়ও করা হয়। গত বছরেই ২ লাখ ২৩ হাজার ৩২৯টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি ২২০ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার অবৈধ লাইনও অপসারণ করে তিতাস। এই সময়ে শিল্পে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে ২৯৩টি। এগুলোর মধ্যে অবৈধ ব্যবহারের দায়ে ১৮০টি এবং বকেয়ার কারণে ১১৩টির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামে চলছে অবৈধ সংযোগে।

সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযান পরিচালনা হলেও এখনো অব্যাহত রয়েছে অবৈধ সংযোগ। এর নেপথ্যে রয়েছেন স্থানীয় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অবৈধ গ্যাস লাইনের ছড়াছড়ি। নতুন করে আবাসন প্রকল্পের পাঁচ শতাধিক অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস। এ সময় জব্দ করা হয় বিপুল পরিমাণ চুলা ও রাইজার।

এসব অবৈধ সংযোগে তিন-চার লাখ টাকা পর্যন্ত নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। আর এসব অর্থের ভাগ পান প্রত্যেকে। অবৈধ গ্রাহকদেরকে এক ধরনের টোকেন না কর্মকর্তাদের ভিজিটিং কার্ড দেওয়া হয়ে থাকে। অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযান পরিচালনা করা হলে এসব অবৈধ গ্রাহক টোকেন প্রদর্শন করলে আর লাইন কাটা হচ্ছে না।

 

অবৈধ সংযোগে তিতাস গ্যাসের বার্ষিক ক্ষতি ৩০০ কোটি : তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সিস্টেম লস (ঘাটতি) গত বছর ছিল ২ শতাংশ। টাকার অঙ্কে তা প্রায় ৩২০ কোটি, যা বার্ষিক ক্ষতি হিসেবে দেখাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। আর এই সিস্টেম লসের মূল কারণ অবৈধ সংযোগ। অবৈধ সংযোগ দিয়ে থাকেন প্রতিষ্ঠানটির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

 

তিতাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে তিতাস ১৬ হাজার কোটি টাকার গ্যাস বিক্রি করেছে। কিন্তু যে পরিমাণ গ্যাস তারা বিতরণ করেছে তার দামের চেয়ে এই অর্থ ৩২০ কোটি টাকা কম। একেই তিতাস সিস্টেম লস বা ঘাটতি হিসেবে দেখায়।

 

এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে তিতাসের কী পরিমাণ অবৈধ সংযোগ আছে তার কোনো হিসাব তিতাসের কাছে নেই। তিতাসের আওতাভুক্ত অন্য জেলাগুলোতেও অবৈধ সংযোগ কম নয়। বছরের পর বছর অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের অভিযান চলে। কিন্তু কয়েক দিন পর আবার তিতাসের কর্মীরাই টাকার বিনিময়ে বিচ্ছিন্ন সংযোগ চালু করে দেন।

অপচয়ে এগিয়ে তিতাস ও বাখরাবাদ : গত অর্থবছরে তিতাসের গ্যাস অপচয় হয়েছে ৩২ কোটি ৬০ লাখ ঘনমিটার। এর আগের বছরে অপচয় হয়েছে প্রায় ৩১ কোটি ঘনমিটার। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে এ কোম্পানি। তবু অপচয় কমানো যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ও তিতাস বোর্ডে পরিচালক প্রকৌ. মো. হারুনুর রশীদ মোল্লাহ বলেন, তিতাস গ্যাসে এখন আর চিহ্নিত কোনো অবৈধ সংযোগ নেই। একটি অবৈধ সংযোগ থাকা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা জনসংযোগ করেছি, বলেছি চুরি ঠেকাতে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে ক্যাবের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম মন্তব্য করেন, গ্রাহক-তিতাস কর্তৃপক্ষের পরস্পর দোষারোপের কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা গেল তিতাস কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ঠিকাদার ও প্রভাবশালীরা জড়িত।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ম. তামিম বলেন, চুরি ছাড়া গ্যাস অপচয়ের তেমন সুযোগ নেই। অবৈধ গ্রাহকদের মাধ্যমে এটি হচ্ছে। অপচয়ের বড় অংশ আসে চুরি থেকে, আর বাকিটা লিকেজ থেকে। চুরি বন্ধ করে হাজার হাজার কোটি টাকার গ্যাস সাশ্রয় করা সম্ভব।