০৫:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার নীরব সাক্ষী হতে পারে না বিশ্ব

জঘন্য এক গণহত্যার নীরব সাক্ষী আমরা। গাজায় দখলাদার ইহুদীবাদী ইসরায়েল পরিচালিত গণহত্যার দর্শক বিশ^বাসী। ভূমধ্য সাগরের তীরবর্তী গাজা উপত্যকা একটি ঐতিহাসিক জনবসতি। দখলদার ইসরায়েলে বর্বরতা আর নৃশংসতার শিকার এ গাজা উপত্যকার মানুষ। ফিলিস্তিনি স্বাধীসতাকামী প্রতিরোধ যোদ্ধা হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন গাজা মূলত: একটি অবরুদ্ধ ভূখণ্ড। বহু বছর যাবৎ ইসরায়েলি বাহিনী দ্বারা জল-স্থল-আকাশ পথে অবরুদ্ধ গাজা।

 

 

বিগত ৭৫ বছর যাবৎ ফিলিস্তিনের ভূমিপুত্র আরব জনগোষ্ঠী বিশেষত মুসলমানদের উপর ইহুদীবাদী ইসরায়েলের অব্যাহত দমন-পীড়ন, হত্যা, গণহত্যা আর নির্মূল অভিযান চলছে ফিলিস্তিনে। অবশিষ্ট ভূমি গাজা ও পশ্চিম তীর এলাকাকে ফিলিস্তিনি শূন্য করার ঘৃণ্য মিশনে রয়েছে ইসরায়েল। ২০২৩ সালে অক্টোবরের শুরুতে ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল হামাস শাসিত গাজায় হামলা শুরু করে।

 

 

বিগত ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞ ইতিহাসের সব গণহত্যা ও নির্মমতাকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় ৩৬০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের গাজা উপত্যাকায় প্রায় ২০ লক্ষ ফিলিস্তিনি বসবাস করত। কিন্তু হামাসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের নামে বিগত ছয়-সাত মাসের আক্রমণে গাজাকে বলতে গেলে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী। গাজা উপত্যাকার পানি, বিদ্যুত, খাবার, ঔষধ সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার শিশু ও বাকি প্রায় সবাই সাধারণ নারী ও পুরুষ। হাসপাতালগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। মসজিদসহ ধর্মীয় উপাসনালয়সমূহ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া লাখো ফিলিস্তিনির উপর নির্বিচার হামলা চালিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে গাজাবাসীকে। গণকবরে জীবন্ত মানুষকেও কবর দেয়ার লোমহর্ষক তথ্য এসেছে। অর্থাৎ গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা ইতিহাসের সকল বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতাকে হার মানিয়েছে। যুদ্ধের সকল নিয়ম-নীতিকে লঙ্ঘন করেছে নেতানিয়াহুর নেতৃত্ত্বাধীন ইসরায়েলি বাহিনী। যুদ্ধক্ষেতে সাধারণ নারী-শিশু হত্যা যুদ্ধাপরাধ। ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষ হত্যা যুদ্ধাপরাধ। ধর্মীয় উপসানালয় ধ্বংস করা যুদ্ধাপরাধ। গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ সীমাহীন।

 

 

হেগ কনভেনশন অনুযায়ী, যুদ্ধাপরাধ হচ্ছে কোনো যুদ্ধ বা সামরিক সংঘাত চলাকালে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক বেসরকারি জনগণের বিরুদ্ধে সংগঠিত, সমর্থিত ও নির্দিষ্ট সংজ্ঞায়িত অপরাধ কর্মকাণ্ডসমূহ। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুসারে যুদ্ধকালীন সংঘাতের সময় বেসরকারি জনগণকে খুন, লুণ্ঠন, ধর্ষণ; কারাগারে অন্তরীণ ব্যক্তিকে হত্যা; নগর, বন্দর, হাসপাতাল কোনো ধরনের সামরিক উসকানি ছাড়াই ধ্বংস প্রভৃতি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৮৯৯ ও ১৯০৭ সালের হেগ কনভেনশন সর্বপ্রথম যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত আইনসমূহ লিপিবদ্ধ করে।

 

গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা যুদ্ধাপরাধের প্রচলিত সজ্ঞার চেয়ে ধারণাতীত জঘন্য অপরাধের উদাহরণ। এ যুদ্ধ বন্ধে ইহুদীবাদী ইসরায়েল কারো কথায় ভ্রুক্ষেপ করছে না। এখন গাজাবাসীর সর্বশেষ আশ্রয়স্থল রাফা শহরে আক্রমণ শুরু করেছে। ইসরায়েলের মদদদাতা ইঙ্গ-মার্কিন প্রতিবন্ধকতার পর অবশেষে বিগ ২৬ মার্চ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব পাশ হলেও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরায়েল তা শুনছে না।

 

 

এ জঘন্য হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশে^র মানবতাবাদী মানুষ প্রতিবাদ শুরু করছে। রাস্তায়, ক্যাম্পাসে মিছিল করছে। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের বর্বরতা ঠেকাতে হলে প্রয়োজন বিশে^র মানবতাবাদী মানুষের আন্দোলন গণরূপ পরিগ্রহ করেছে। এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ইসরায়েলী জঘন্য গণহত্যার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে। আমেরিকা জুড়ে চলমান এ ছাত্র আন্দোলনে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরালের এক নম্বর অর্থ-অস্ত্র সরবারহকারী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ভীত নড়ে উঠেছে। মার্কিন সরকার এ প্রতিবাদকে সহ্য করতে পারছে না। প্রতিবাদী ছাত্র-শিক্ষকদের উপর জুলুম নির্যাতন চলাচ্ছে, গণগ্রেফতার শুরু করেছে। কিন্তু তার পরেও ফিলিস্তিনীদের পক্ষের আন্দোলন থামছে না। আমেরিকা থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পরেছে মজলুম ফিলিস্তিনিদের পক্ষের এ ছাত্র বিক্ষোভ। হাজার হাজার ছাত্র-শিক্ষককে গ্রেপ্তার পশ্চিমাদের ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতার’ বয়ানকে ফাঁকা বুলিতে পরিণত করেছে।

 

 

গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার নীরব সাক্ষী হতে পারে না বিশ^। মুসলিম বিশ^ বিশেষকরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও সর্বস্তরের মানবতাবাদী মানুষদের রাস্তায় নামতে হবে। তলে তলে যারা ইসরায়েলের পদলেহনে ব্যস্ত অথবা সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে গণ-বিস্ফোরণ ঘটাতে হবে। ইসরায়েলের ভিতরেও রক্ত পিপাসু নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা থামাতেই হবে। গাজার রাফা শহরে ইসরায়েলের হত্যাকাণ্ড ঠেকাতে হবে। অন্যথায় মহা গজব নেমে আসবে পুরো পৃথিবীতে।

 

 

চড়বঃরপ ঔঁংঃরপব বলে প্রতিশোধের যে অমোঘ বিধান রয়েছে তা থেকে যদি পৃথিবীবাসী বাঁচতে চাই, কোনো মহাবিপর্যয় থেকে যদি এ মনুষ্য বসতিকে বাঁচাতে চাই তবে মজলুম ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াতে হবে সবাইকে। ভুলে গেলে চলবে না কোভিড-১৯ অতিমারির সময় (করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে) সারাবিশ্বে প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ মারা গেছেন (প্রকৃত সংখ্যা এর তিনগুণ হতে পারে)। মজলুমের আর্তচিৎকার গজব হিসেবে ধরাধামে ফিরে আসলে পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ কারো রক্ষা নেই। পরিশেষ জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের বিজয় কামনা করছি। গণহত্যা বন্ধ হোক। আল-আকসা মুক্তি পাক। From river to the sea, Palestine will be free. (ফ্রম রিভার টু দ্যা সী, প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রি)। জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিকল্প নেই।

ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় কতটুকু প্রস্তুত পবিপ্রবি?

গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার নীরব সাক্ষী হতে পারে না বিশ্ব

আপডেট সময় : ০৪:০৬:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মে ২০২৪

জঘন্য এক গণহত্যার নীরব সাক্ষী আমরা। গাজায় দখলাদার ইহুদীবাদী ইসরায়েল পরিচালিত গণহত্যার দর্শক বিশ^বাসী। ভূমধ্য সাগরের তীরবর্তী গাজা উপত্যকা একটি ঐতিহাসিক জনবসতি। দখলদার ইসরায়েলে বর্বরতা আর নৃশংসতার শিকার এ গাজা উপত্যকার মানুষ। ফিলিস্তিনি স্বাধীসতাকামী প্রতিরোধ যোদ্ধা হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন গাজা মূলত: একটি অবরুদ্ধ ভূখণ্ড। বহু বছর যাবৎ ইসরায়েলি বাহিনী দ্বারা জল-স্থল-আকাশ পথে অবরুদ্ধ গাজা।

 

 

বিগত ৭৫ বছর যাবৎ ফিলিস্তিনের ভূমিপুত্র আরব জনগোষ্ঠী বিশেষত মুসলমানদের উপর ইহুদীবাদী ইসরায়েলের অব্যাহত দমন-পীড়ন, হত্যা, গণহত্যা আর নির্মূল অভিযান চলছে ফিলিস্তিনে। অবশিষ্ট ভূমি গাজা ও পশ্চিম তীর এলাকাকে ফিলিস্তিনি শূন্য করার ঘৃণ্য মিশনে রয়েছে ইসরায়েল। ২০২৩ সালে অক্টোবরের শুরুতে ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল হামাস শাসিত গাজায় হামলা শুরু করে।

 

 

বিগত ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞ ইতিহাসের সব গণহত্যা ও নির্মমতাকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় ৩৬০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের গাজা উপত্যাকায় প্রায় ২০ লক্ষ ফিলিস্তিনি বসবাস করত। কিন্তু হামাসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের নামে বিগত ছয়-সাত মাসের আক্রমণে গাজাকে বলতে গেলে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী। গাজা উপত্যাকার পানি, বিদ্যুত, খাবার, ঔষধ সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার শিশু ও বাকি প্রায় সবাই সাধারণ নারী ও পুরুষ। হাসপাতালগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। মসজিদসহ ধর্মীয় উপাসনালয়সমূহ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া লাখো ফিলিস্তিনির উপর নির্বিচার হামলা চালিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে গাজাবাসীকে। গণকবরে জীবন্ত মানুষকেও কবর দেয়ার লোমহর্ষক তথ্য এসেছে। অর্থাৎ গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা ইতিহাসের সকল বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতাকে হার মানিয়েছে। যুদ্ধের সকল নিয়ম-নীতিকে লঙ্ঘন করেছে নেতানিয়াহুর নেতৃত্ত্বাধীন ইসরায়েলি বাহিনী। যুদ্ধক্ষেতে সাধারণ নারী-শিশু হত্যা যুদ্ধাপরাধ। ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষ হত্যা যুদ্ধাপরাধ। ধর্মীয় উপসানালয় ধ্বংস করা যুদ্ধাপরাধ। গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ সীমাহীন।

 

 

হেগ কনভেনশন অনুযায়ী, যুদ্ধাপরাধ হচ্ছে কোনো যুদ্ধ বা সামরিক সংঘাত চলাকালে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক বেসরকারি জনগণের বিরুদ্ধে সংগঠিত, সমর্থিত ও নির্দিষ্ট সংজ্ঞায়িত অপরাধ কর্মকাণ্ডসমূহ। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুসারে যুদ্ধকালীন সংঘাতের সময় বেসরকারি জনগণকে খুন, লুণ্ঠন, ধর্ষণ; কারাগারে অন্তরীণ ব্যক্তিকে হত্যা; নগর, বন্দর, হাসপাতাল কোনো ধরনের সামরিক উসকানি ছাড়াই ধ্বংস প্রভৃতি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৮৯৯ ও ১৯০৭ সালের হেগ কনভেনশন সর্বপ্রথম যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত আইনসমূহ লিপিবদ্ধ করে।

 

গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা যুদ্ধাপরাধের প্রচলিত সজ্ঞার চেয়ে ধারণাতীত জঘন্য অপরাধের উদাহরণ। এ যুদ্ধ বন্ধে ইহুদীবাদী ইসরায়েল কারো কথায় ভ্রুক্ষেপ করছে না। এখন গাজাবাসীর সর্বশেষ আশ্রয়স্থল রাফা শহরে আক্রমণ শুরু করেছে। ইসরায়েলের মদদদাতা ইঙ্গ-মার্কিন প্রতিবন্ধকতার পর অবশেষে বিগ ২৬ মার্চ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব পাশ হলেও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরায়েল তা শুনছে না।

 

 

এ জঘন্য হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশে^র মানবতাবাদী মানুষ প্রতিবাদ শুরু করছে। রাস্তায়, ক্যাম্পাসে মিছিল করছে। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের বর্বরতা ঠেকাতে হলে প্রয়োজন বিশে^র মানবতাবাদী মানুষের আন্দোলন গণরূপ পরিগ্রহ করেছে। এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ইসরায়েলী জঘন্য গণহত্যার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে। আমেরিকা জুড়ে চলমান এ ছাত্র আন্দোলনে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরালের এক নম্বর অর্থ-অস্ত্র সরবারহকারী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ভীত নড়ে উঠেছে। মার্কিন সরকার এ প্রতিবাদকে সহ্য করতে পারছে না। প্রতিবাদী ছাত্র-শিক্ষকদের উপর জুলুম নির্যাতন চলাচ্ছে, গণগ্রেফতার শুরু করেছে। কিন্তু তার পরেও ফিলিস্তিনীদের পক্ষের আন্দোলন থামছে না। আমেরিকা থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পরেছে মজলুম ফিলিস্তিনিদের পক্ষের এ ছাত্র বিক্ষোভ। হাজার হাজার ছাত্র-শিক্ষককে গ্রেপ্তার পশ্চিমাদের ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতার’ বয়ানকে ফাঁকা বুলিতে পরিণত করেছে।

 

 

গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার নীরব সাক্ষী হতে পারে না বিশ^। মুসলিম বিশ^ বিশেষকরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও সর্বস্তরের মানবতাবাদী মানুষদের রাস্তায় নামতে হবে। তলে তলে যারা ইসরায়েলের পদলেহনে ব্যস্ত অথবা সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে গণ-বিস্ফোরণ ঘটাতে হবে। ইসরায়েলের ভিতরেও রক্ত পিপাসু নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা থামাতেই হবে। গাজার রাফা শহরে ইসরায়েলের হত্যাকাণ্ড ঠেকাতে হবে। অন্যথায় মহা গজব নেমে আসবে পুরো পৃথিবীতে।

 

 

চড়বঃরপ ঔঁংঃরপব বলে প্রতিশোধের যে অমোঘ বিধান রয়েছে তা থেকে যদি পৃথিবীবাসী বাঁচতে চাই, কোনো মহাবিপর্যয় থেকে যদি এ মনুষ্য বসতিকে বাঁচাতে চাই তবে মজলুম ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াতে হবে সবাইকে। ভুলে গেলে চলবে না কোভিড-১৯ অতিমারির সময় (করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে) সারাবিশ্বে প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ মারা গেছেন (প্রকৃত সংখ্যা এর তিনগুণ হতে পারে)। মজলুমের আর্তচিৎকার গজব হিসেবে ধরাধামে ফিরে আসলে পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ কারো রক্ষা নেই। পরিশেষ জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের বিজয় কামনা করছি। গণহত্যা বন্ধ হোক। আল-আকসা মুক্তি পাক। From river to the sea, Palestine will be free. (ফ্রম রিভার টু দ্যা সী, প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রি)। জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিকল্প নেই।