০৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দেশে দেশে ভারতীয় মশলা ক্রয়-বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা

ভারতের প্রায় সব ডিশে মশলার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। বিপুল পরিমাণ অভ্যন্তরীণ উৎপাদন এবং গত বেশ কয়েক বছর ধরে বহির্বিশ্বে তা রপ্তানির কারণে এরই মধ্যে ‘মশলা উৎপাদনের বৈশ্বিক কেন্দ্র’ তকমা পেয়েছে ভারত। বিশ্বজুড়ে মোট উৎপাদিত মশলার ১২ শতাংশের উৎপাদন করে ভারত এবং প্রায় ১৮০টি দেশে রপ্তানি হয় বিভিন্ন ভারতীয় মশলা। ভারতের অভ্যন্তরীণ মশলার বাজারের আকার এক হাজার কোটি ডলার। এছাড়া বাইরের বিভিন্ন দেশে মশলা রপ্তানি করে প্রতি বছর ৪০০ কোটি ডলার আয় করে দেশটি। ভারতীয় মশলার সবচেয়ে বড় তিন ক্রেতা চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ।

এ ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর এবং হংকংয়েও মশলা রপ্তানি করেন ভারতীয় উদ্যোক্তারা। বৈশ্বিক বাজারে ভারতীয় যেসব মশলার চাহিদা সবচেয়ে বেশি, সেগুলো হলো- মরিচ-ধনে-হলুদের গুঁড়া, এলাচ এবং মিক্সড মশলা। এসবের বাইরে হিং, জাফরান, জায়ফল, মৌরি, লবঙ্গ এবং দারুচিনিরও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বিশ্বজুড়ে। আর বিশ্বে ভারতীয় মশলা রপ্তানিতে শীর্ষে রয়েছে দেশটির দুই কোম্পানি- এমডিএইচ এবং এভারেস্ট।

 

তবে সম্প্রতি বিভিন্ন দেশে এ দু’কোম্পানির পণ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মশলায় ভেজাল ও ক্ষতিকর উপাদান মেশানোর অভিযোগে অনেক দেশ সরকারিভাবে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বাজারে ভারতীয় মশলা ক্রয়-বিক্রিয়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ার কথাও বিবেচনা করছে। গত মাসে সিঙ্গাপুর এবং হংকংয়ের সরকারি প্রশাসন নিজেদের অভ্যন্তরীণ বাজারে এমডিএইচ এবং এভারেস্টের তৈরি পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

এ সম্পর্কিত এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসন বলেছে, এ দুই কোম্পানির পণ্যে ‘এথিলিন অক্সাইড’ নামের একটি ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়েছে। মানবদেহে দীর্ঘদিন ধরে এই উপাদানটি প্রবেশ করলে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার গুরুতর ঝুঁকি থাকে। এখানেই শেষ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ বিষয়ক সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফুডস অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) পরীক্ষাতেও এমডিএইচ এবং এভারেস্টের পণ্যে এথিলিন অক্সাইডের অতিমাত্রায় উপস্থিতি দেখা গেছে।

একই অভিযোগ করেছে ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ)। ইইউ’র নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, ভারত থেকে আমদানি করা মরিচের গুঁড়া এবং গোলমরিচে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী রাসায়নিক উপাদান শনাক্ত হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ, মালদ্বীপ এবং অস্ট্রেলিয়ার খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাও আমদানিকৃত ভারতীয় মশলা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

এদিকে ইরানের চাবাহার বন্দরের উন্নয়নে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারিকে পাত্তা না দেওয়ার কথা জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, যোগাযোগের সুবিধার্থে ইরানের কৌশলগত বন্দর প্রকল্পে কাজ করবে ভারতীয় কোম্পানি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রও অতীতে এই বন্দরের বৃহৎ সুবিধার বিষয়ে প্রশংসাও করেছিল।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারির বিষয়ে এমন মন্তব্য করেছেন এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, প্রত্যেকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বোঝাতে হবে যে, এই প্রকল্প আসলে সবার উপকারে আসবে। আপনি যদি অতীতের দিকে নজর রাখেন, তাহলে চাবাহার সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মনোভাব কেমন ছিল তা জানতে পারবেন। এক সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই এই সত্য স্বীকার করেছে যে বৃহৎ পরিসরে চাবাহার বন্দরের প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। ইরানের চাবাহার বন্দর পরিচালনার জন্য ভারত ১০ বছরের চুক্তিতে স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গত মঙ্গলবার নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

ওয়াশিংটন বলছে, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিষয়ে বিবেচনা করছে, এমন যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। পাকিস্তান লাগোয়া ইরানের সীমান্তের কাছের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দরের উন্নয়নের জন্য তেহরান-নয়াদিল্লির মাঝে ২০১৬ সালে একটি প্রাথমিক চুক্তি হয়। গত সোমবার এই বন্দরের উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য ইরানের সাথে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত।

দেশে দেশে ভারতীয় মশলা ক্রয়-বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা

আপডেট সময় : ০৬:১৬:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪

ভারতের প্রায় সব ডিশে মশলার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। বিপুল পরিমাণ অভ্যন্তরীণ উৎপাদন এবং গত বেশ কয়েক বছর ধরে বহির্বিশ্বে তা রপ্তানির কারণে এরই মধ্যে ‘মশলা উৎপাদনের বৈশ্বিক কেন্দ্র’ তকমা পেয়েছে ভারত। বিশ্বজুড়ে মোট উৎপাদিত মশলার ১২ শতাংশের উৎপাদন করে ভারত এবং প্রায় ১৮০টি দেশে রপ্তানি হয় বিভিন্ন ভারতীয় মশলা। ভারতের অভ্যন্তরীণ মশলার বাজারের আকার এক হাজার কোটি ডলার। এছাড়া বাইরের বিভিন্ন দেশে মশলা রপ্তানি করে প্রতি বছর ৪০০ কোটি ডলার আয় করে দেশটি। ভারতীয় মশলার সবচেয়ে বড় তিন ক্রেতা চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ।

এ ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর এবং হংকংয়েও মশলা রপ্তানি করেন ভারতীয় উদ্যোক্তারা। বৈশ্বিক বাজারে ভারতীয় যেসব মশলার চাহিদা সবচেয়ে বেশি, সেগুলো হলো- মরিচ-ধনে-হলুদের গুঁড়া, এলাচ এবং মিক্সড মশলা। এসবের বাইরে হিং, জাফরান, জায়ফল, মৌরি, লবঙ্গ এবং দারুচিনিরও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বিশ্বজুড়ে। আর বিশ্বে ভারতীয় মশলা রপ্তানিতে শীর্ষে রয়েছে দেশটির দুই কোম্পানি- এমডিএইচ এবং এভারেস্ট।

 

তবে সম্প্রতি বিভিন্ন দেশে এ দু’কোম্পানির পণ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মশলায় ভেজাল ও ক্ষতিকর উপাদান মেশানোর অভিযোগে অনেক দেশ সরকারিভাবে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বাজারে ভারতীয় মশলা ক্রয়-বিক্রিয়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ার কথাও বিবেচনা করছে। গত মাসে সিঙ্গাপুর এবং হংকংয়ের সরকারি প্রশাসন নিজেদের অভ্যন্তরীণ বাজারে এমডিএইচ এবং এভারেস্টের তৈরি পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

এ সম্পর্কিত এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসন বলেছে, এ দুই কোম্পানির পণ্যে ‘এথিলিন অক্সাইড’ নামের একটি ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়েছে। মানবদেহে দীর্ঘদিন ধরে এই উপাদানটি প্রবেশ করলে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার গুরুতর ঝুঁকি থাকে। এখানেই শেষ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ বিষয়ক সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফুডস অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) পরীক্ষাতেও এমডিএইচ এবং এভারেস্টের পণ্যে এথিলিন অক্সাইডের অতিমাত্রায় উপস্থিতি দেখা গেছে।

একই অভিযোগ করেছে ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ)। ইইউ’র নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, ভারত থেকে আমদানি করা মরিচের গুঁড়া এবং গোলমরিচে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী রাসায়নিক উপাদান শনাক্ত হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ, মালদ্বীপ এবং অস্ট্রেলিয়ার খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাও আমদানিকৃত ভারতীয় মশলা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

এদিকে ইরানের চাবাহার বন্দরের উন্নয়নে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারিকে পাত্তা না দেওয়ার কথা জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, যোগাযোগের সুবিধার্থে ইরানের কৌশলগত বন্দর প্রকল্পে কাজ করবে ভারতীয় কোম্পানি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রও অতীতে এই বন্দরের বৃহৎ সুবিধার বিষয়ে প্রশংসাও করেছিল।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারির বিষয়ে এমন মন্তব্য করেছেন এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, প্রত্যেকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বোঝাতে হবে যে, এই প্রকল্প আসলে সবার উপকারে আসবে। আপনি যদি অতীতের দিকে নজর রাখেন, তাহলে চাবাহার সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মনোভাব কেমন ছিল তা জানতে পারবেন। এক সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই এই সত্য স্বীকার করেছে যে বৃহৎ পরিসরে চাবাহার বন্দরের প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। ইরানের চাবাহার বন্দর পরিচালনার জন্য ভারত ১০ বছরের চুক্তিতে স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গত মঙ্গলবার নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

ওয়াশিংটন বলছে, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিষয়ে বিবেচনা করছে, এমন যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। পাকিস্তান লাগোয়া ইরানের সীমান্তের কাছের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দরের উন্নয়নের জন্য তেহরান-নয়াদিল্লির মাঝে ২০১৬ সালে একটি প্রাথমিক চুক্তি হয়। গত সোমবার এই বন্দরের উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য ইরানের সাথে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত।